• শিরোনাম



    কোন এলাকার খবর দেখতে চান...


    রোহিঙ্গা ইস্যুতে নোবেল শান্তি পুরস্কার শেখ হাসিনাকে দেওয়া হোক

    ডক্টর শেখ সালাহ্উদ্দিন আহমেদ | ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৭ | ৭:৫৫ অপরাহ্ণ

    রোহিঙ্গা ইস্যুতে নোবেল শান্তি পুরস্কার শেখ হাসিনাকে দেওয়া হোক

    আধুনিক বাংলাদেশের রূপকার শেখ হাসিনা আজ বাংলাদেশের প্রতিচ্ছবি হয়ে উঠেছেন। তার কারণেই বাংলাদেশ আজ শিখর স্পর্শ করতে সক্ষম হয়েছে। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের হাত দিয়ে যেমন বাংলাদেশের স্বাধীনতা এসেছে তেমনি তার কন্যা শেখ হাসিনার হাত ধরে এসেছে অর্থনৈতিক স্বনির্ভরতা। সাফল্য স্বীকৃতি স্বরুপ প্রধানমন্ত্রী দেশরত্ম শেখ হাসিনা অর্জন করেছেন অসংখ্য আন্তর্জাতিক পুরস্কার।
    ১৯৯৬ সালের নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ সরকার মাত্র পাঁচ বছরে বাংলাদেশকে অমিত সম্ভাবনাময় দেশ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করে। পার্বত্য চট্টগ্রামে শান্তি প্রতিষ্ঠা, গঙ্গার পানি বণ্টন চুক্তি, খাদ্যে আত্মনির্ভরশীলতা এবং দারিদ্র্য হ্রাসে বিপুল সাফল্য প্রভৃতি সেই সময় বাংলাদেশকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন মর্যাদার আসনে অভিষিক্ত করে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সেই সময়ে অর্জন করেন ইউনেস্কো শান্তি পুরস্কার ও ফাও এর সেরেস পদকসহ বহু সংখ্যক সম্মাননা। ২০০৯ এবং ২০১৪ সালে দ্বিতীয় ও তৃতীয় দফায় রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বভার গ্রহণের পর গত সাড়ে ছয় বছরের অর্জিত সাফল্য জননেত্রী শেখ হাসিনাকে বিশ্ব নেতৃত্বের আসনে অধিষ্ঠিত করেছে। তিন দফায় শেখ হাসিনা ২৭টি আন্তর্জাতিক পুরস্কার ও সম্মাননা অর্জন করেছেন। তার গতিশীল নেতৃত্বে আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন, দারিদ্র্য বিমোচন, শিক্ষার প্রসার, নারীর ক্ষমতায়ন, খাদ্য নিরাপত্তা, কর্মসংস্থান, জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলা, বিদ্যুত্ উত্পাদন, ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ে তোলা, এমডিজি লক্ষ্যমাত্রা অর্জন, জনগণের গড় আয়ুষ্কাল ৭০ বছরে উন্নীতকরণ, শিশু ও মাতৃমৃত্যু হার হ্রাসে দক্ষিণ এশিয়ায় প্রথম স্থান অধিকার, খাদ্যে আত্মনির্ভরশীলতা অর্জন, নিজ অর্থায়নে পদ্মা সেতু নির্মাণে ব্রতী হওয়া, মধ্যম আয়ের দেশ হিসেবে গড়ে ওঠার লক্ষ্যে ইতোমধ্যেই নিন্ম মধ্যম আয়ের দেশের সীমা অতিক্রম এবং অব্যাহতভাবে সাড়ে ৬ শতাংশ প্রবৃদ্ধি ধরে রাখা প্রভৃতির মাধ্যমে বাংলাদেশ ইতোমধ্যেই তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলোর কাছে ‘উন্নয়নের রোল মডেল’ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
    এসব অভাবিত সাফল্যের কারণেই বাংলাদেশ অতীতের নেতিবাচক ভাবমূর্তির ফাঁদ থেকে বেরিয়ে আসতে সক্ষম হয়েছে। নিঃসন্দেহে এসব সাফল্যের পেছনে রয়েছে বাংলাদেশের ১৬ কোটি মানুষের শ্রম, সৃজনশীলতা ও উদ্যম। কিন্তু জনগণের এই শ্রমশক্তি ও সুপ্ত সৃজনশীলতাকে উন্নয়নের মহোত্সবে যিনি সংগঠিত করেছেন, তাদের সঠিক দিক-নির্দেশনা দিয়ে নেতৃত্ব দিয়েছেন এবং জীবনের ঝুঁকি নিয়ে উন্নয়ন ও গণবিরোধী শক্তির সকল ষড়যন্ত্র, অপচেষ্টা নস্যাত্ করে দিয়ে বাংলাদেশের এগিয়ে যাওয়া নিশ্চিত করেছেন, তিনি আর কেউ নন, তিনি আমাদের সকলের প্রিয় প্রধানমন্ত্রী, বঙ্গবন্ধু-কন্যা দেশরত্ন শেখ হাসিনা। শেখ হাসিনা, আপনাকে বাঙালি জাতির অভিনন্দন!
    তার মধ্যে উল্লেখ যোগ্য হচ্ছে,
    ১,এজেন্ট অফ চেঞ্জ পুরস্কার, ২০১৬: গত ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৬ তারিখে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ‘এজেন্ট অফ চেঞ্জ’ পুরস্কারে ভূষিত করে গ্লোবাল পার্টনারশিপ ফোরাম। নারীর ক্ষমতায়নে অসামান্য ও সাহসী ভূমিকা পালনের স্বীকৃতি হিসেবে তাঁকে এই পুরস্কার দেওয়া হয়। প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের সকল নারীকে এই অর্জন উত্সর্গ করেন।
    ২, প্লানেট ৫০-৫০ চ্যাম্পিয়ন, ২০১৬: নারীর ক্ষমতায়নে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতি স্বরূপ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে “প্লানেট ৫০-৫০” পুরস্কারে ভূষিত করেছে জাতিসংঘের অঙ্গসংগঠন ‘ইউএন ওম্যান’। গত ২১ সেপ্টেম্বর নিউ ইয়র্কে জাতিসংঘের সদর দপ্তরে এক উচ্চ পর্যায়ের অনুষ্ঠানে তাঁর হাতে এই পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়।
    ৩, চ্যাম্পিয়নস অফ দ্যা আর্থ: ২০১৫ সালের ১৪ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘের পরিবেশবিষয়ক সর্বোচ্চ সম্মান ‘চ্যাম্পিয়নস অফ দ্যা আর্থ’ পুরষ্কারে ভূষিত হয়েছেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলায় বিভিন্ন নীতি প্রণয়ন, জলবায়ু ট্রাস্ট ফান্ড গঠনের মাধ্যমে অর্থ বিনিয়োগ ইত্যাদিসহ তাঁর নেতৃত্বাধীন সরকারের সামগ্রিক পদক্ষেপের কথা বিবেচনা করে ‘পলিসি লিডারশিপ’ শাখায় তাকে এই পুরষ্কার দেওয়া হয়।
    ৪, সাউথ-সাউথ ভিশনারি পুরষ্কার, ২০১৪: ২০১৪ সালের ২১শে নভেম্বর, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে জাতিসংঘের সাউথ-সাউথ ভিশনারি পুরষ্কারে ভুষিত করা হয়। বাংলাদেশে তৃণমূলপর্যায়ে তথ্যপ্রযুক্তির প্রসার, সর্বজনীন শিক্ষাব্যবস্থা চালু, সর্বসাধারণের কাছে স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়া, সীমিত সম্পদের সর্বোচ্চ ব্যবহার করে বাংলাদেশের উন্নয়ন অগ্রযাত্রাকে বিশ্বের দরবারে রোল মডেল হিসেবে উপস্থাপনের জন্য তাঁকে এই সম্মাননা দেওয়া হয়। প্রধানমন্ত্রী তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয় এই পুরষ্কার গ্রহণ করেন।
    ৫, শান্তি বৃক্ষ, ২০১৪: নারী শিক্ষায় অনবদ্য অবদানের জন্য ২০১৪ সালে ইউনেস্কো, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাতে ‘শান্তি বৃক্ষ’ স্মারক তুলে দেয়। ৮ই সেপ্টেম্বর ইউনেস্কোর মহাপরিচালক ইরিনা বোকোভা তাঁর হাতে এই পুরষ্কার তুলে দেন। ইউনেস্কোর মহাপরিচালক স্মারকটি হস্তান্তর করার আগে বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নারী শিক্ষায় আন্তর্জাতিক অঙ্গনে একজন জোড়ালো বক্তা। রাজনৈতিক ও নারীর ক্ষমতায়নের জন্য তিনি দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।
    ৬, M K Gandhi পুরস্কার: সাম্প্রদায়িক ভ্রাতৃত্ব, অহিংসা, সামাজিক বোঝাপড়া এবং তৃণমূল পর্যায়ে গণতন্ত্রের উত্থানের স্বীকৃতিস্বরূপ অসলোভিত্তিক M K Gandhi Foundation,, ১৯৯৮ সালে শেখ হাসিনাকে M K Gandhi পুরস্কারে ভূষিত করে।
    ৭, CERES মেডেল: শেখ হাসিনা নিরলস সংগ্রামের স্বীকৃতিস্বরূপ জাতিসংঘ খাদ্য এবং কৃষি সংস্থা (FAO) ২রা আগস্ট, ১৯৯৯ সালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে সম্মানজনক CERES মেডেল দিয়ে ভূষিত করে।
    ৮, Pearl S. Buck পুরস্কার: ২০০০ সালের ৯ই এপ্রিল যুক্তরাষ্ট্রের Randolph Macon Womens College শেখ হাসিনাকে রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক এবং মানবিক ক্ষেত্রে তার লক্ষ্য, সাহস এবং অর্জনের জন্য Pearl S. Buck পুরস্কার প্রদান করে।
    ৯, পার্বত্য চট্টগ্রামের ২৫ বছরব্যাপী পাহাড়ী-বাঙ্গালী সংঘাতের শান্তি পূর্ণ সমাধানের স্বীকৃতিস্বরূপ ১৯৯৮ সালে ইউনেস্কো, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কে এই পুরস্কার প্রদান করে।
    ১০, ইন্দিরা গান্ধী শান্তি পুরস্কার: ২০১০ সালের ১২ জানুয়ারী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে শান্তি, নিরস্ত্রীকরন এবং উন্নয়ন এর জন্য তার নিরন্ত্রর সংগ্রামের স্বীকৃতিস্বরূপ ইন্দিরা গান্ধী শান্তি পুরস্কার প্রদান করা হয়। ভারতের তত্কালীন রাষ্ট্রপতি প্রতিভা পাতিল তার হাতে এই পুরস্কার তুলে দেন।
    ১১, জাতিসংঘ পুরস্কার- ২০১০: শিশুমৃত্যুর হার ৫০% কমিয়ে সহস্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্য অর্জনের জন্য জাতিসংঘ বাংলাদেশ সরকারকে ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০১০ সালে এই স্বীকৃতি প্রদান করে। জাতির পক্ষ থেকে এই পুরস্কার গ্রহন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
    বাংলাদেশ আজ উন্নয়নের রোল মডেল, গোটা দেশ আজ উন্নয়নে ভাসছে। দেশীয় ও আন্তর্জাতিক সংকটের জাল ছিন্ন করে উন্নয়নের অগ্রযাত্রায় বাংলাদেশ এখন বিশ্বে নিম্ন মধ্যম আয়ের দেশের তালিকায় স্থান করে নিয়েছে। সব বাধা-বিপত্তি অতিক্রম করে বাংলাদেশ আজ উন্নয়নের মহাসড়কে। দেশ আজ খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করেছে। ২০১৬-১৭ অর্থবছরে চাল উত্পন্ন হয়েছে ৩৯০ লাখ মেট্রিক টন। দেশের দরিদ্র পরিবারের শতভাগ শিশু শিক্ষার্থীকে উপবৃত্তির আওতায় আনা হয়েছে। প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষা স্তরে ভর্তির ক্ষেত্রে জেন্ডার সমতা অর্জন করা সম্ভব হয়েছে। শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আমরা সমৃদ্ধির পথে হাঁটছি, সোনা ছড়ানো সমৃদ্ধি আমাদের হাতছানি দিয়ে ডাকছে। সময় এসেছে সাহসী রাষ্ট্রনায়ক শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আলোর পথে অভিযাত্রার।
    শেখ হাসিনা একজন বিশ্ব নেতা। তার সুষ্ঠু নেতৃত্ব বাংলাদেশকে অনেক দূর এগিয়ে নিয়ে গেছে। আন্তর্জাতিক পরিমন্ডলে তিনি বাংলাদেশের ভাবমূতি উজ্জ্বল করেছেন। তার জন্য বাংলাদেশেকে অনেকে উদাহরণ হিসেবে দেখিয়ে মডেল হিসেবে নিচ্ছেন। তিনি দেশেকে দরিদ্রতার অভিশাপ থেকে মুক্ত করেছেন। তার নেতৃত্বের পেছনে যারা কাজ করছেন তাদের স্বচ্ছতার সঙ্গে কাজ করতে হবে।
    রোহিঙ্গা ইস্যুতে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অসামান্য অবদান রেখেছেন। ঝড় বৃষ্টি উপেক্ষা করে তিনি ছুটে গেছেন তাদের কাছে। তাদের বসবাসের জায়গা ও খাবারের ব্যবস্থা করেছেন। তাই বলছি মানবিকতা এবং শান্তির অনন্য নজির স্থাপনের জন্য বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে নোবেল শান্তি পুরস্কারে ভূষিত করা হোক।
    লেখক: অ্যাডভোকেট, বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্ট ও সভাপতি, সাউথ এশিয়ান ল’ ইয়ার্স ফোরাম এবং প্রধান সম্পাদক দৈনিক আজকের অগ্রবাণী।
    e-mail: advahmed@outlook.com


    Facebook Comments


    কোন এলাকার খবর দেখতে চান...

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০১১১২১৩১৪১৫
    ১৬১৭১৮১৯২০২১২২
    ২৩২৪২৫২৬২৭২৮২৯
    ৩০৩১  
  • ফেসবুকে আজকের অগ্রবাণী


  • Notice: ob_end_flush(): failed to send buffer of zlib output compression (0) in /home/ajkerogr/public_html/wp-includes/functions.php on line 4673