শুক্রবার ১৭ই সেপ্টেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ | ২রা আশ্বিন, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

শিরোনাম >>
শিরোনাম >>

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে এরদোয়ান সরকারের প্রতিশ্রুতি

  |   বুধবার, ২৩ ডিসেম্বর ২০২০ | প্রিন্ট  

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে এরদোয়ান সরকারের প্রতিশ্রুতি

রোহিঙ্গা শরণার্থীদের নিজ দেশ মিয়ানমারে প্রত্যাবাসনে তুরস্ক বাংলাদেশ সরকারকে সব ধরনের সহযোগিতা দেবে বলে পুনর্ব্যক্ত করেছেন তুর্কি পররাষ্ট্র মন্ত্রী মেভলুত কাভুসৌগলু।  বাংলাদেশে আশ্রয়ে থাকা ঝুঁকিপূর্ণ রোহিঙ্গা শরণার্থীদের ফেরাতে নিজ দেশের সমর্থনের কথা তুলে ধরেন তিনি।
বুধবার (২৩ ডিসেম্বর) দুপুর সাড়ে ১২টায় রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আবদুল মোমেনের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে বসেন তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মেভলুত কাভুসৌগলু। দেড় ঘণ্টাব্যপী বৈঠকে তারা বাংলাদেশ-তুরস্কের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের সম্ভাবনার বিভিন্ন দিক নিয়েও আলোচনা করেন। বৈঠকে শেষে এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে বিভিন্ন বিষয় তুলে ধরেন দুই দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী। অন্যান্য বিষয়ের পাশাপাশি রোহিঙ্গা ইস্যু তুলে ধরেন কাভুসৌগলু।
বিশ্বের অন্যতম শরণার্থী শিবির এখন কক্সবাজারের উখিয়ায়। দীর্ঘ তিন বছরেও নিজ দেশে ফিরিয়ে না নেওয়ায় এখন বাংলাদেশের জন্য গলার কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছে ১১ লাখের বেশি রোহিঙ্গা।  বাংলাদেশ সরকার বারবার তাগিদ দিয়ে আসলেও এ নিয়ে টালবাহানা করছে মিয়ানমারের সূ চি সরকার।
মিয়ানমারের নয় ছয়ের জন্য বিশ্বের কাছে সহযোগিতা চেয়ে আসছে ঢাকা। এর মধ্যেই বাংলাদেশ সরকারকে আশার কথা শোনাল তুরস্ক। রোহিঙ্গা শরণার্থী ইস্যুতে তুর্কি পররাষ্ট্রমন্ত্রী কাভুসৌগলু বাংলাদেশকে আশ্বাস দিয়ে বলেন, ‘রোহিঙ্গাদের ঘরে ফেরা উচিত বিষয়টি অনুধাবন করছে আঙ্কারা। সব রোহিঙ্গাকে নিজ দেশে স্বেচ্ছায়, নিরাপদ এবং মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনে প্রতিটি স্তরে আলোচনা চালিয়ে যাব। কিন্তু অগ্রগতির জন্য মিয়ানমারের সরকারের সঙ্গেও আমাদের জোরালভাবে আলোচনা চালিয়ে যাওয়া দরকার।’
জাতিসংঘ কর্তৃক বিশ্বের সবচেয়ে বেশি নিপীড়িত মানুষ হিসেবে বর্ণিত রোহিঙ্গা সম্প্রদায়। দেশটিতে ২০১২ সালে সাম্প্রদায়িক সহিংসতায় প্রাণ হারান অনেকে। রাখাইন, শানসহ বেশ কয়েকটি রাজ্যে রোহিঙ্গাদের ওপর অমানবিক নির্যাতন চালায় মিয়ানমারের সেনাবাহিনী। সংঘবদ্ধ ধর্ষণ, বাড়িঘরে অগ্নিসংযোগ, লুটপাটের মুখে জীবন বাঁচিয়ে পালিয়ে ২০১৭ সালের আগস্টে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয় সাড়ে সাত লাখের বেশি রোহিঙ্গা। বিভিন্ন সময় সীমান্তে পাড়ি দিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গা সংখ্যা ১১ লাখ ছাড়িয়েছে বলে জানিয়েছে মানবাধিকার সংস্থা আ্যমনেস্টি। টেকনাফ এবং উখিয়ায় ৩০টির বেশি ক্যাম্পে আশ্রয় নিয়ে আছেন তারা।
অনটারিও ইন্টারন্যাশনাল ডেভলপমেন্ট এজেন্সির (ওআইডিএ) তথ্য মতে, ২০১৭ সালের ২৫ আগস্ট থেকে মিয়ানমারের রাষ্ট্রীয় বাহিনীর হাতে এ পর্যন্ত ২৪ হাজার রোহিঙ্গা মুসলিমকে হত্যা করা হয়েছে। আগুনে নিক্ষেপ করা হয় ৩৪ হাজারের বেশি রোহিঙ্গাকে। এই গোষ্ঠীটির এক লাখ ১৪ হাজারে মতো মানুষের ওপর অমানবিক নির্যাতন চালানো হয়। একই সময়ে ১৮ নারীকে ধর্ষণ করে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী ও পুলিশ। জ্বালিয়ে দেওয়া হয় এক লাখ ১৫ হাজার ঘরবাড়ি।

Facebook Comments Box


Posted ৯:৪৭ অপরাহ্ণ | বুধবার, ২৩ ডিসেম্বর ২০২০

ajkerograbani.com |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

advertisement
advertisement
advertisement

এ বিভাগের আরও খবর

আর্কাইভ

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০
১১১২১৩১৪১৫১৬১৭
১৮১৯২০২১২২২৩২৪
২৫২৬২৭২৮২৯৩০