• শিরোনাম

    কোন এলাকার খবর দেখতে চান...

    রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে প্রয়োজন দেশীয় ও আন্তর্জাতিক পদক্ষেপ

    অ্যাডভোকেট শেখ সালাহ্উদ্দিন আহমেদ | ০৮ সেপ্টেম্বর ২০১৯ | ৯:২০ অপরাহ্ণ

    রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে প্রয়োজন দেশীয় ও আন্তর্জাতিক পদক্ষেপ

    সম্প্রতি কক্সবাজারে সমাবেশ করেছে লাখ লাখ মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশে আসা রোহিঙ্গা। মিয়ানমার সেনাবাহিনীর চালানো ওই জাতিগত নিধনের শিকার হয়ে প্রাণ বাঁচাতে ২০১৭ সালের ২৫ আগস্ট থেকে বাংলাদেশে পাড়ি জমাতে থাকে ৭ লাখ ৪০ হাজারের বেশি রোহিঙ্গা। বর্তমানে এই সংখ্যা বেড়ে ১১ লাখ ১৯ হাজারে দাঁড়িয়েছে। কক্সবাজারের উখিয়া-টেকনাফের পাহাড় কেটে বানানো ৩২টি ক্যাম্পে তাদের বসতি। তাদের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে গত দুই বছরে জন্ম নেয়া ৯১ হাজার শিশু। বাংলাদেশ সরকার ও বিভিন্ন দাতা সংস্থার প্রত্যক্ষ সহযোগিতায় রোহিঙ্গাদের মৌলিক চাহিদা পূরণের মহাযজ্ঞ চলছে।

    সম্পূর্ণ মানবিক কারণে রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেবার কারণে বাংলাদেশ এবং দ্রুত সিদ্ধান্ত নেবার কারণে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিশ্বজুড়ে প্রশংসিত হয়েছেন। সারাবিশ্ব এই রোহিঙ্গা পরিস্থিতিকে শতাব্দীর অন্যমত মানবিক বিপর্যয় বলে উল্লেখ করে মিয়ানমারের নিন্দা করেছে। প্রতিবেশী দেশ ভারত ও এশিয়ার অন্যতম পরাশক্তি চীনসহ বিভিন্ন দেশ এই পরিস্থিতিতে বাংলাদেশকে সমর্থন দিলেও রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের প্রশ্নে কৌশলী ভূমিকা নিয়েছে। ভূ-রাজনীতি আর কূটনৈতিক মারপ্যাঁচে মিয়ানমারও যে রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিতে চাচ্ছে না, তাও বোঝা যাচ্ছে। কূটনৈতিক তৎপরতা জারি রেখে রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে সরকার আন্তরিক হলেও খুব একটা ফলাফল আসছে না।


    ২০১৮ সালের শেষ দিকে একবার এবং এই আগস্ট মাসে আরেকবার রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনের পরিকল্পনা নিলেও ভেস্তে গেছে সেই পরিকল্পনা। এমনকি কক্সবাজারের ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ী এলাকা থেকে তাদের ভাসানচরে স্থানান্তরের পরিকল্পনা নিলে তাতে বিরোধিতা করে বিভিন্ন সংস্থা। সার্বিক প্রেক্ষাপটে রোহিঙ্গা পরিস্থিতির সমাধান যে এক বড় ধরণের গোলক ধাধায় পড়ে গেছে, তা বলা যেতেই পারে।

    গত দুই বছরে কক্সবাজারে অবস্থিত রোহিঙ্গা ক্যাম্প এলাকায় ব্যাপক পরিমাণ প্রাকৃতিক, সামাজিক ও আইনশৃঙ্খলাজনিত ক্ষতি হয়েছে। স্থানীয় জনগোষ্টির উপরেও পড়ছে বিরুপ প্রভাব। বিষয়গুলো খুবই উদ্বেগের।

    রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের জন্য ২০১৭ সালে ২৩ নভেম্বর মিয়ানমারের রাজধানী নেপিডোতে দুই দেশের মধ্যে একটি চুক্তিও স্বাক্ষর হয়েছে। চুক্তি অনুযায়ী প্রত্যাবাসন শুরু হওয়ার কথা থাকলেও তা শুরু হয়নি। রোহিঙ্গারা রাখাইন রাজ্যে ফিরে যাওয়ার ব্যাপারে মিয়ানমারের পদক্ষেপের ওপর কোনো আস্থা রাখতে পারছে না। অপরদিকে রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিতেও আন্তরিক নয় মিয়ানমার। এ পরিস্থিতিতে রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিতে তাদের নিরাপত্তার জন্য মিয়ানমারের উপযুক্ত পদক্ষেপ নেয়া জরুরি বলে কূটনৈতিক বিশ্লেষকরা অভিমত ব্যক্ত করেছেন।

    প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রোহিঙ্গা সংকট সমাধানের বিষয়ে জাতিসংঘে পাঁচ দফা প্রস্তাব উত্থাপন করেছেন। চীন, ভারত, জাপানের মতো দেশগুলো চায় এ সংকট এ অঞ্চলের মধ্যেই সমাধান হোক। বর্তমান প্রেক্ষাপটে রোহিঙ্গাদের নাগরিক পরিচয়ের স্বীকৃতি, তাদের ওপর নিপীড়ন বন্ধ করা ও নিরাপদ বসবাসের নিশ্চয়তা দেয়ার জন্য মিয়ানমারের ওপর চাপ প্রয়োগে বিশ্ব সম্প্রদায়ের জোরালো ভূমিকা রাখতে হবে। মানবিক কারণেই প্রতিবেশী মিয়ানমারের নাগরিকদের বাংলাদেশে আশ্রয় দেয়া হয়েছে। এই বিপুলসংখ্যক মানুষের বাড়তি দায়িত্ব বাংলাদেশের জন্য অবশ্যই বড় বোঝা। আমরা আশা করছি, দ্রুত এই সংকটের সমাধান হবে।

    বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ওআইসি তথা ইসলামী সহযোগিতা সংস্থার ১৪তম সম্মেলনে এশীয় গ্রুপের পক্ষে ভাষণ দিতে গিয়ে রোহিঙ্গা ইস্যুটি তুলে ধরেন। বাংলাদেশে শরণার্থী হিসেবে আশ্রয়প্রাপ্ত ১১ লক্ষাধিক রোহিঙ্গার মিয়ানমারে সম্মানজনক পুনর্বাসনে তিনি ওআইসির সহযোগিতা কামনা করেন। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাতিসংঘের সদর দফতরে রোহিঙ্গা শরণার্থী সমস্যা-সঙ্কট সমাধানে তিন দফা প্রস্তাব বা সুপারিশ উপস্থাপন করেন। প্রথমত, মিয়ানমারকে অবশ্যই বৈষম্যমূলক আইন ও নীতি বিলোপ এবং রোহিঙ্গাদের প্রতি নিষ্ঠুরতা বন্ধ করে সে দেশ থেকে বাস্তুচ্যুত করার প্রকৃত কারণ খুঁজে বের করতে হবে। দ্বিতীয়ত, সব রোহিঙ্গাকে নাগরিকত্ব দেয়ার সঠিক উপায়, নিরাপত্তা নিশ্চিত করাসহ আস্থার পরিবেশ সৃষ্টি করতে হবে। তৃতীয়ত, রোহিঙ্গাদের প্রতি নির্যাতন-নিপীড়ন রোধে সংশ্লিষ্ট অপরাধীদের জবাবদিহি, বিচার, বিশেষ করে জাতিসংঘের তথ্যানুসন্ধানী মিশনের সুপারিশের আলোকে বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড় করাতে হবে। আর তা হলেই কেবল সব রোহিঙ্গার নিরাপদে প্রত্যাবাসন ও পুনর্বাসন নিশ্চিত হবে মিয়ানমারে। এক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্যসহ ইউরোপীয় ইউনিয়নের সাহায্য-সহযোগিতা অবশ্যই কাম্য। রাশিয়া ও চীনের সমর্থনও প্রত্যাশিত বৈকি। রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে মিয়ানমারের ওপর আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সর্বাত্মক চাপ সৃষ্টি এখন সময়ের দাবি।
    লেখক: অ্যাডভোকেট, বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্ট, সভাপতি, সাউথ এশিয়ান ল’ ইয়ার্স ফোরাম ও নারী নির্যাতন প্রতিরোধ আন্দোলন এবং প্রধান সম্পাদক দৈনিক আজকের অগ্রবাণী।

    Comments

    comments

    কোন এলাকার খবর দেখতে চান...

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০১১১২১৩
    ১৪১৫১৬১৭১৮১৯২০
    ২১২২২৩২৪২৫২৬২৭
    ২৮২৯৩০  
  • ফেসবুকে আজকের অগ্রবাণী