শনিবার, এপ্রিল ১৭, ২০২১

লকডাউনে দায়িত্বপালন ও অভিযোগ নিয়ে যা বলল পুলিশ

  |   শনিবার, ১৭ এপ্রিল ২০২১ | প্রিন্ট  

লকডাউনে দায়িত্বপালন ও অভিযোগ নিয়ে যা বলল পুলিশ

করোনা সংক্রমণরোধে চলাচল নিয়ন্ত্রণে সরকারি আদেশ বাস্তবায়নে মাঠপর্যায়ে কর্মরত পুলিশ সদস্য কর্তৃক হয়রানি ও অসহযোগিতার কিছু অভিযোগ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে।
এসব তথ্য ও সংবাদ উঠে এসেছে গণমাধ্যমেও। যা পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সের দৃষ্টি আকৃষ্ট হয়েছে। বিষয়গুলো নিয়ে শনিবার (১৭ এপ্রিল) পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সের পক্ষে এআই‌জি (মি‌ডিয়া এন্ড পাব‌লিক রি‌লেশন্স) মো. সো‌হেল রানা সংবাদ বিজ্ঞপ্তি পাঠান।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, অতিমারির শুরু থেকেই পুলিশ সর্বতোভাবে দেশের মানুষের পাশে থেকেছে। করোনায় মৃতের জানাজা ও দাফন, খাদ্য ও ওষুধ সরবরাহ, চিকিৎসক ও জরুরি সেবাকর্মীদের যাতায়াতে সহায়তা, শিল্প উৎপাদন ও কৃষি পণ্যের পরিবহন ও বিপণনে সহায়তা করেছে পুলিশ।
কর্তব্যরত অবস্থায় আক্রান্ত হয়ে ১৬ এপ্রিল পর্যন্ত পুলিশের মোট ৯১ জন কর্মকর্তা ও সদস্য মৃত্যুবরণ করেছেন। অবসরোত্তর ছুটি ও অবসরে যাওয়া কর্মকর্তা ও সদস্য এবং পরিবারের সদস্যদের সংখ্যা বিবেচনায় নিলে নিহতের এই সংখ্যা অনেক বেশি। এ পর্যন্ত আক্রান্ত হয়েছেন বিশ হাজারেরও বেশি পুলিশ সদস্য।
এরইমধ্যে বিশ্বের অনেক দেশের মতো বাংলাদেশেও করোনার দ্বিতীয় ঢেউ আঘাত হেনেছে। ১৪ এপ্রিল ভোর থেকে ২১ এপ্রিল মাঝরাত পর্যন্ত জনসাধারণের চলাচলে কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করে সরকারি প্রজ্ঞাপন জারি হয়েছে। পুলিশ সদস্যগণ নিজেদের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে করোনা সংক্রমণ রোধের স্বার্থে অপ্রয়োজনীয় চলাফেরা নিয়ন্ত্রণ করতে সার্বক্ষণিক রাস্তায় রয়েছে। এরমধ্যে বিনা কারণে বের হওয়া এবং জরুরি সেবায় নিয়োজিত ব্যক্তির মধ্যে পার্থক্য নিরুপণ করতে গিয়ে এবং অহেতুক কাজে বের হওয়া থেকে তাদেরকে বিরত রাখতে গিয়ে গলদঘর্ম হতে হচ্ছে পুলিশ সদস্যদেরকে।
এছাড়া, বিনা জিজ্ঞাসাবাদে জরুরি প্রয়োজন নিরুপ করার কোনো উপায়ও নেই। ফলে সবাইকে কিছুটা ঝামেলায় পড়তে হচ্ছে বলেও বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়।
এদিকে, মুভমেন্ট পাস চালু হওয়ায় মানুষের চলাচল নিয়ন্ত্রণ করা সহজ হয়েছে, যা করোনার ভয়ানক সংক্রমণ রোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। তবুও, অনেক মানুষ নিয়ম ভেঙে বাইরে বেরিয়েছেন। অনেকেই জিজ্ঞাসাবাদে বাইরে বেরোনোর স্বপক্ষে উপযুক্ত কোনো প্রমাণ উপস্থাপন করতে ব্যর্থ হচ্ছেন। আবার কোনো কোনো নাগরিক মাঠ পর্যায়ে দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যদের নিকট পরিচয়পত্র প্রদর্শনেও তীব্র অনীহা দেখাচ্ছেন। অনেকে ব্যর্থ হচ্ছেন পরিচয়পত্র প্রদর্শন করতে।
ফলে, সরকারি নিষেধ থাকা সত্বেও সরকারি দায়িত্বে নিয়োজিত কোনো কোনো ব্যক্তি নিজ কর্মস্থল ত্যাগ করার সময় পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদের মুখে পড়েছেন। জরুরি চিকিৎসা সেবায় নিয়োজিত স্টিকারযুক্ত গাড়িতে ব্যক্তি বিশেষের জন্য উপহার সামগ্রী বয়ে বেড়িয়েছেন, এমন সংবাদও মিডিয়ায় এসেছে। গাড়িতে চিকিৎসক নেই; চিকিৎসকের গাড়ি বলে দাবি করা হয়েছে; গাড়ির কাগজপত্র বলছে গাড়ি অন্যের নামে। ঘটছে এমন ঘটনাও। এছাড়া, জিজ্ঞাসাবাদে পুলিশের সাথে অপ্রয়োজনীয় তর্কে জড়িয়েছেন কেউ কেউ । এর ফলে, তার গাড়ির পেছনে লম্বা গাড়ির সারি তৈরি হয়েছে কোনো কোনো ক্ষেত্রে।
এসব বিষয়ে কেউ কেউ অনাবশ্যক ক্ষিপ্ত হয়ে ফেসবুকে একতরফাভাবে পুলিশের ওপর দায় চাপিয়েছেন। মিডিয়া ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পোস্ট দিয়ে তা ভাইরাল করেছেন। অনেকেই জরিমানার অভিযোগ করেছেন। চলতি বিধিনিষেধের বাইরে সুনির্দিষ্ট আইনের আওতায় জরিমানা করেছেন পুলিশ সদস্যরা। এক্ষেত্রে পুলিশ সদস্য আইনের প্রয়োগ করেছেন মাত্র। জরিমানা আরোপকারী পুলিশ সদস্যের এতে ব্যক্তিগত কোনো স্বার্থ নেই।
পুলিশ চেকপোস্টে মিডিয়াকর্মীদের পরিচয়পত্র দেখতে চাইলে কেউ কেউ পরিচয়পত্র দেখাতে অনীহা দেখিয়েছেন। পরিচয়পত্র দেখতে চাওয়া পুলিশের দায়িত্বেরই অংশ। এটিকে হয়রানি মনে না করতে বিজ্ঞপ্তিতে অনুরোধ করা হয়।
বলা হয়, পেশাগত বৈচিত্র্যের কারণে পুলিশের দায়িত্ব পালন অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং। দায়িত্ব পালনকালে পুলিশকে সহায়তা করা প্রয়োজন । তাই, করোনাকালে দেশের স্বা‌র্থে ও মানুষের জীবন রক্ষার্থে ও করোনার বিভীষিকা থেকে মুক্তি পেতে পুলিশের কাজে সবাই সহযোগিতা করবেন, এটাই আমাদের প্রত্যাশা।


Posted ৯:১৬ অপরাহ্ণ | শনিবার, ১৭ এপ্রিল ২০২১

ajkerograbani.com |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

advertisement
advertisement
advertisement

এ বিভাগের আরও খবর

Archive Calendar

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০
১১১২১৩১৪১৫১৬১৭
১৮১৯২০২১২২২৩২৪
২৫২৬২৭২৮২৯৩০৩১