মঙ্গলবার, মে ১৭, ২০২২

লক্ষ্য নির্ধারণ করতে হবে শুরু থেকেই

ডেস্ক রিপোর্ট   |   মঙ্গলবার, ১৭ মে ২০২২ | প্রিন্ট  

লক্ষ্য নির্ধারণ করতে হবে শুরু থেকেই

শিকাগোর ইউনিভার্সিটি অব ইলিনয়েস-এর শিক্ষাবিষয়ক প্রফেসর হার্বার্ট ওয়ালবার্গ-এর মতে, সবচেয়ে মেধাবী ছাত্রছাত্রীরা সব সময় টপ রেজাল্ট করতে পারে না। দেখা গেছে, বেশি মেধাবী ছাত্রছাত্রীদের তুলনায় ভালো রেজাল্ট করে অপেক্ষাকৃত কম মেধাবীরা। কারণ অতিরিক্ত মেধাবীদের মধ্যে ‘অল্প পড়ালেখা করলেই ভালো রেজাল্ট করতে পারি’ এমন মনোভাব কাজ করে। এই দম্ভের জন্যে তার মধ্যে কাজে লেগে থাকার গুণটি থাকে না। সে ক্লাসে পড়াশোনায় কখনো ১ম হলেও পরবর্তী জীবনে এই ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে পারে না।

আর এমনটি ভাবতে না পারার কারণ হচ্ছে দুর্দশার বৃত্ত। এবং এই বৃত্ত ভাঙার দায়িত্ব নিতে হবে আপনাকেই।


লক্ষ্য নির্ধারণ করুন

প্রতিনিয়ত আমরা অবচেতন মনে যা ভাবি, বাস্তবতা আমাদের সে দিকেই নিয়ে যায়। ভবিষ্যতে আমরা আত্মপ্রকাশ করি সেভাবেই। আসলে মন যা ভাবতে পারে, যা বিশ্বাস করতে পারে তা অর্জন করতে পারে। আর এখানেই মনছবির শক্তি।


তবে অধিকাংশ মানুষ সত্যিকার অর্থে বুঝতে পারে না তার মনের ইচ্ছাটাকে। নির্ধারণ করতে পারে না তার লক্ষ্যকে। প্রকৃত লক্ষ্যের খোঁজে সে ছুটে চলে এক পথ থেকে আরেক পথে। শুধু খুঁজে দেখে না তার মনের ভেতরে। এ দিকে ফুরাতে থাকে তার শক্তি শ্রম সময়ের মত আরও অনেক মূল্যবান সম্পদ। তাই সাফল্যের জন্যে লক্ষ্য নির্ধারণ করাটা খুব গুরুত্বপূর্ণ।

সময়কে নিয়ন্ত্রণে রাখুন

ভালো শিক্ষার্থীরা এই বিষয়টির গুরুত্ব বোঝে। তাই তারা অগ্রাধিকার ভিত্তিতে দৈনন্দিন কাজের একটি রুটিন তৈরি করে। এভাবে তাদের জীবনে সৃষ্টি হয় কর্মছন্দ। ফলে পড়ালেখায় সাফল্য আসে সহজ স্বতঃস্ফূর্ততায়। আর এই রুটিন অনুযায়ী প্রতিটি কাজ সময়মতো করার অভ্যাস যদি আপনি গড়তে পারেন তবে লাভবান হবেন সামগ্রিক জীবনে।

বড় স্বার্থের জন্যে ক্ষুদ্র স্বার্থ ত্যাগ করুন

আমরা সবাই ভালো কিছু করতে চাই। সফল হতে চাই। কিন্তু আমাদের অধিকাংশের কাছে এই চাওয়াটা শুধু চাওয়াতে সীমাবদ্ধ। আমরা চাই মাঝে মাঝে পড়ালেখা করব, টিভি-সিনেমা দেখব, আড্ডা দেবো, গান শুনব, গল্পের বই পড়ব। জীবনটাকে তো উপভোগ করতে হবে! তারপর যদি পরীক্ষায় এ প্লাস না পাই তাহলে পরে হায় হায়।

কিন্তু একজন ফার্স্টবয় কি এভাবে ভাবে? ভাবে না। তার কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে, পড়ালেখা এবং ফার্স্ট হওয়া। এর জন্যে যা যা করা দরকার, যেভাবে করা দরকার এবং যা বর্জন করা দরকার, সে তা-ই করে। তাই আপনিও ঠিক করুন, প্রয়োজনে কোনটি আপনি ত্যাগ করবেন?

এজন্যে মনকে বোঝাতে হবে যে, মন, এখন আমার জীবন গড়ার সময়। পড়ালেখা করা ছাড়া অন্য কিছু করার জন্যে সামনে অনেক সময় আছে। এখন যদি কষ্ট স্বীকার করি তাহলে আমার শেষ ভালো হবে। তখন এ কষ্ট শতগুণে আমার আনন্দের কারণ হবে।

সমস্যাকে সম্ভাবনা মনে করুন

ভালো স্টুডেন্টদের সাফল্যের পেছনে রহস্য হচ্ছে তাদের প্রো-একটিভ দৃষ্টিভঙ্গি। আসলে জীবনের পথচলা সব সময় সহজসরল নয়। প্রতিটি দিন নতুন নতুনভাবে আসে। কখনো আসে সফলতা নিয়ে আবার কখনো ভরপুর থাকে ব্যর্থতায়। সফল মানুষদের জীবনও এর ব্যতিক্রম নয়। তারা ব্যর্থতাকে শক্তিতে রূপান্তরিত করে সামনে এগিয়ে যায়।

আসলে জীবনের এই চ্যালেঞ্জগুলোকে সঙ্গে নিয়ে এগোলেই সমাধান পাওয়া যাবে। এটা সম্ভব হবে তখন যখন কেউ অনেক বাধা-বিপত্তির মুখেও ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি লালন করতে পারবেন। শুকরিয়া আর আনন্দের সঙ্গে চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় প্রত্যয়ী থাকবেন। জীবনের প্রতিটি পর্যায়ে প্রতিটি সমস্যাকে তাই সম্ভাবনা হিসেবে মনে করুন।

Posted ২:১০ অপরাহ্ণ | মঙ্গলবার, ১৭ মে ২০২২

ajkerograbani.com |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

advertisement
advertisement
advertisement

Archive Calendar

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০১১১২১৩১৪১৫
১৬১৭১৮১৯২০২১২২
২৩২৪২৫২৬২৭২৮২৯
৩০৩১  
মুহা: সালাহউদ্দিন মিয়া সম্পাদক ও প্রকাশক
মুহা: সালাহউদ্দিন মিয়া কর্তৃক তুহিন প্রেস, ২১৯/২ ফকিরাপুল (১ম গলি) মতিঝিল, ঢাকা-১০০০ থেকে মুদ্রিত ও প্রকাশিত।
বার্তা ও সম্পাদকীয় কার্যালয়

২ শহীদ তাজউদ্দিন আহমেদ সরণি, মগবাজার, ঢাকা-১২১৭।

হেল্প লাইনঃ ০১৭১২১৭০৭৭১

E-mail: [email protected] | [email protected]