• শিরোনাম



    কোন এলাকার খবর দেখতে চান...


    লজ্জায় মুখ দেখাতে পারছে না সেই দুই ছাত্রী

    আজকের অগ্রবাণী ডেস্ক: | ২১ মে ২০১৭ | ৪:০৭ অপরাহ্ণ

    লজ্জায় মুখ দেখাতে পারছে না সেই দুই ছাত্রী

    বনানীর হোটেল রেইন ট্রিতে ধর্ষণের শিকার বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই ছাত্রী ধর্ষণের অভিযোগে মামলা করার পর বিড়ম্বনায় পড়েছেন। তাদের একজন বলেছেন, ধর্ষণের মামলা করার পর থেকে তাঁরা সামাজিক চাপে আছেন। গণমাধ্যমে তাদের নিয়ে ব্যাপক প্রচারের পর তারা পুলিশের সমর্থন পেয়েছেন, নিরাপত্তাও পাচ্ছেন। কিন্তু কাছের স্বজন ও বন্ধুদের সমর্থন হারিয়েছেন। মামলার পর দু-একবার বিশ্ববিদ্যালয়ে গেছেন। এখন আর যাচ্ছেন না। একদিন তাঁকে ক্লাস থেকে কাঁদতে কাঁদতে বেরিয়ে আসতে হয়েছে।


    ওই ছাত্রী বলেন, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ধর্ষণের বিষয়টি এখন ধামাচাপা পড়ে যাচ্ছে। পাল্টা প্রশ্ন উঠছে, কেন তারা জন্মদিনের পার্টিতে রেস্টুরেন্টে গেলেন। তিনি বলেন, তাঁরা জানতেন না যে, ছাদের পার্টি থেকে জোর করে তাঁদের হোটেল কক্ষে নিয়ে যাওয়া হবে। তিনি বলেন, ধর্ষণের ভিডিও ‘ভাইরাল’ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় তিনি বনানী থানায় মামলা করেছিলেন। এখন অনেকেই তাঁদের অপরাধ খুঁজতে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন।

    ajkerograbani.com

    ওই ছাত্রী বলেন, ‘আপন’ জুয়েলার্সের মালিকের ছেলে শাফাত আহমেদের প্রথম স্ত্রী ফারিয়া মাহবুব পিয়াসার সম্পৃক্ততা নিয়েও কথা উঠছে। কিন্তু ভিডিও ভাইরাল হলে তারা কীভাবে বাঁচবেন, পরিবারকেই বা কী বলবেন সব চিন্তা থেকে সাফাতের সাবেক স্ত্রীকে খুঁজে বের করেন। বিচার চাওয়া ছাড়া তাঁদের আর কোনো উদ্দেশ্য ছিল না।

    মামলার বাদী বলেন, ঘটনার পর তিনি গণমাধ্যমে সাক্ষাৎকার দিতে চাননি। তারপরও সাংবাদিক পরিচয়ে দুজন তাদের বাসায় এসে সাক্ষাৎকার নেন। তারা ছবি প্রকাশ করবেন না বলে প্রতিশ্রুতি দেন। তারপরও তারা ছবিটা কিছুটা ঝাপসা করে ইউটিউবে ছেড়ে দিয়েছেন। এতে আত্মীয়স্বজন-বন্ধুবান্ধবেরা তাকে চিনে ফেলেছেন।

    জানতে চাইলে ডিএমপির গোয়েন্দা বিভাগের যুগ্ম কমিশনার আবদুল বাতেন বলেন, সামাজিক মাধ্যমে ছাত্রীর ছবি কারা আপলোড করল, তাদের খুঁজে বের করা হবে।

    ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ছিলেন ধর্ষণের শিকার দুই ছাত্রীর চিকিৎসক বন্ধু। জানা গেছে, তিনিও এখন নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। ওই চিকিৎসক তার বক্তব্য পুলিশকে জানিয়েছেন।

    এদিকে ধর্ষণ মামলার আসামিরা ২৮ মার্চ রাতে মারধরের সময় ভিডিও করেছিলেন বলে স্বীকার করেছেন। শনিবার মামলার তদন্ত-সংশ্লিষ্ট একাধিক কর্মকর্তা এ কথা জানান।

    ঢাকা মহানগর মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা বিভাগের (ডিবি) যুগ্ম কমিশনার মো. আবদুল বাতেন বলেন, ঘটনার রাতে দুই ছাত্রীর এক বন্ধুকে রেইনট্রি হোটেলে আসামিরা মারধর করেন। গাড়িচালক বিল্লাল সেই ভিডিও করেছিলেন। অবশ্য পরে তা মুছে ফেলা হয়। পুলিশ আশা করছে, তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার করে ওই ভিডিও চিত্রটি উদ্ধার করা যাবে।

    মামলার অন্যতম আসামি সাফাত আহমেদের বন্ধু নঈম আশরাফ (আবদুল হালিম) এক ছাত্রীকে ধর্ষণ করার কথা স্বীকার করেছেন। গতকাল ছিল সাত দিনের রিমান্ডের দ্বিতীয় দিন।

    নাঈমকে জিজ্ঞাসাবাদ করে তদন্ত-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানতে পেরেছেন, সাফাতের খুবই ঘনিষ্ঠ ছিলেন নাঈম। নাঈমের পরামর্শমতোই চলতেন সাফাত। তবে সাফাতের সঙ্গে পরিচিত হওয়ার আগে থেকেই তার বাবা আপন জুয়েলার্সের মালিক দিলদার আহমেদের সঙ্গে নাঈমের ঘনিষ্ঠতা ছিল। প্রায় ছয় মাস ধরে সাফাতের সব ধরনের কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন নাঈম।

    গতকাল রাতে ডিবি কার্যালয়ে নাঈমকে জিজ্ঞাসাবাদের সময় মুখোমুখি করা হয় বিল্লাল ও সাফাতের দেহরক্ষী রহমতকে। তিনজনকে একসঙ্গে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে বলে পুলিশ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। সূত্র : প্রথম আলো

    Facebook Comments Box

    কোন এলাকার খবর দেখতে চান...

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০১১১২১৩১৪১৫১৬
    ১৭১৮১৯২০২১২২২৩
    ২৪২৫২৬২৭২৮২৯৩০
  • ফেসবুকে আজকের অগ্রবাণী


  • Notice: ob_end_flush(): failed to send buffer of zlib output compression (0) in /home/ajkerogr/public_html/wp-includes/functions.php on line 4757