• শিরোনাম



    কোন এলাকার খবর দেখতে চান...


    শহীদ জিয়া ছিলেন বিএনপি ও বহু দলীয় গণতন্ত্রের প্রতিষ্ঠাতা

    অ্যাডভোকেট জয়নাল আবেদিন মেজবাহ, সহ আইন সম্পাদক বিএনপি কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটি | ২৪ আগস্ট ২০১৭ | ৬:৪১ অপরাহ্ণ

    শহীদ জিয়া ছিলেন বিএনপি ও বহু দলীয় গণতন্ত্রের প্রতিষ্ঠাতা

    বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান। যিনি বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি, মহাণ মুক্তিযুদ্ধের ঘোষক ও একজন বীরউত্তম খেতাব প্রাপ্ত বীর মুক্তিযোদ্ধা। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) প্রতিষ্ঠাতা বহুদলীয় গনতন্ত্রের প্রবর্তক শহীদ জিয়া ছিলেন বাংলার আকাশের সবচেয়ে উজ্জল নক্ষত্র।
    শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ছিলেন বহু দলীয় গণতন্ত্রের প্রতিষ্ঠাতা। তাইতো রাজনীতিতে ঢোকার আগে ১৯৭৬ সালের ১ মে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে এক বিশাল জনসভায় জিয়া বলেন, বাংলাদেশ আজ সার্বভৌম ও স্বাধীন। এর প্রতি ইঞ্চি মাটি রক্ষায় বাংলাদেশের সেনাবাহিনী, বিমানবাহিনী, নৌবাহিনী, বিডিআর, পুলিশ ও আনসার, সাবেক মুক্তিযোদ্ধা এবং দেশের সাড়ে সাত কোটি মানুষ প্রস্তুত। মে দিবস উপলক্ষে জিয়াউর রহমান শ্রমিকদের উদ্দেশ্যে একই ভাষণ দেন। জিয়াউর রহমান বলেন, আমরা সবাই শ্রমিক। শ্রমিকদের স্বার্থ রক্ষার জন্য সরকার সর্বাত্মক প্রয়াস চালিয়ে যাচ্ছে। তিনি বলেন, মে দিবসের শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাবার জন্য সরকার এ আশ্বাস দিচ্ছে যে, শ্রমিকদের স্বার্থ সর্বদাই অক্ষুন্ন রাখা হবে। জেনারেল জিয়া বলেন, শ্রমিকদের কল্যাণের জন্য সরকার অব্যাহতভাবে প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। এসবের মধ্যে তাদের স্বাস্থ্য রক্ষার ব্যবস্থা ট্রেড ইউনিয়ন ট্রেনিং, পেশাগত ও কারিগরি, মেধা ও যোগ্যতা বৃদ্ধি, চাকরির নিশ্চয়তা বিধান, পরিবার পরিকল্পনা ব্যবস্থা প্রভৃতি রয়েছে বলে তিনি উলে­খ করেন।
    জেনারেল জিয়া আত্মনির্ভশীলতা অর্জনের প্রয়োজনের কথা উলে­খ করে বলেন, ‘অলসতা দূর করে আমাদের অধিক পরিশ্রম করতে হবে। শতকরা ২০-২৫% উৎপাদন বৃদ্ধির শপথ নিতে হবে। তিনি বলেন, ব্রিটিশ বা পাকিস্তানি আমলে আমরা ৭ ঘন্টা কাজ করতে পারলে নিজেদের দেশ গড়ার জন্যে প্রয়োজনে আমারা ২০ ঘন্টা করে কাজ করতে প্রস্তুত।’
    ১৯৭৬ সালের ৬ মে চীনের রাষ্ট্রদূত চুয়াং ইয়েন বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর স্টাফ প্রধান ও উপপ্রধান সামরিক আইন প্রশাসক মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। এ সময় চুয়াং বলেন, বাংলাদেশের প্রতি চীনের সমর্থন অব্যাহত থাকবে। তখন জিয়া বলেন, সমতার ভিত্তিতে সবার সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার করা হবে।
    মুক্তিযোদ্ধাদের জাতীয় ভিত্তিতে সংগঠিত করার উদ্দেশ্যে জিয়াউর রহমান একটি স্কিম প্রণয়ন করেন। ১২ জুন ’৭৬ ঢাকায় বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদের কেন্দ্রীয় দপ্তর উদ্বোধন উপলক্ষে সেনাপ্রধান জেনারেল জিয়াউর রহমান এক বাণীতে বলেন, যে উৎসাহ-উদ্দীপনা দৃঢ়তা ও সজাগ দৃষ্টি নিয়ে মুক্তিযোদ্ধারা শত্রুর মোকাবেলা করেছিলেন, তার সদ্ব্যবহার করা হয়নি। পরের দিন বেইলি রোডে মুক্তিযোদ্ধা সংসদের নতুন কার্যালয় উদ্বোধন অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, মুক্তিযোদ্ধাদের পুনর্বাসন এবং তাদের দেশগঠনের কাজে নিযুক্ত করার পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। স্বাধীনতা যুদ্ধে মুক্তিযোদ্ধারা শৌর্য-বীর্য ও আত্মত্যাগের যে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন, তা ইতিহাসে অতুলনীয়। তিনি বলেন, অতীতে নজিরবিহীন স্বজনপ্রীতি, দুর্নীতি এবং ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে শুধু মুক্তিযোদ্ধাদের খ্যাতিই বিনষ্ট করা হয়নি বরং জাতির মর্যাদা ক্ষুন্ন করা হয়েছে। তিনি বলেন, জাতীয় মুক্তির সংগ্রামে যে দেশপ্রেম দিয়ে আপনারা অংশ নিয়েছিলেন, সেই দেশপ্রেম নিয়ে এবার অর্থনৈতিক মুক্তির সংগ্রামে শামিল হবেন।
    ১৯৭৬ সালের আগষ্টের প্রথম দিকে প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান দেশে রাজনৈতিক ব্যবস্থা গড়ে তোলার জন্য সরাসরি বক্তব্য দেন। ৩ আগস্ট ’৭৬ বঙ্গভবনে পদস্থ কর্মচারীদের সমাবেশে জিয়া বলেন, সরকার দেশে এমন একটি রাজনৈতিক ব্যবস্থা গড়ে তুলতে সংকল্পবদ্ধ, যে ব্যবস্থা জনগণকে তাদের অধিকার ও ক্ষমতা প্রয়োগের পূর্ণ সুযোগ প্রদান করবে। আমাদের জনগণ দীর্ঘকাল ধরে শোষণ ও দুর্দশার স্বীকার। সৌভাগ্যবশত এখন তারা স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের সুফল লাভে সমর্থ হয়েছে। কোন অবস্থাতেই তারা স্বাধীনতা সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে আপস করে না। গোষ্ঠী ও ব্যক্তিস্বার্থ চরিতার্থ করার জন্য রাজনীতি ব্যবহার করা অনুচিত। জনগণের আশা-আকাঙ্খা বাস্তবে রূপান্তরিত করা প্রত্যেকের কর্তব্য।
    ১৯৭৮ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি জাতীয়তাবাদী গণতন্ত্রী দল (জাগদল) সরকারি অনুমোদন পায়। রাজনৈতিক দলবিবিধ (পিপিআর) ১৯৭৮ মোতাবেক এ নয়া দলের অনুমোদনের কথা ঢাকা পৌরসভা চেয়ারম্যান আবুল হাসনাতকে চিঠির মাধ্যমে ২২ ফেব্রুয়ারি জানানো হয়। বিচারপতি আব্দুস সাত্তারকে আহŸায়ক করে জাগদলের ১৯ সদস্যের আহŸায়ক কমিটি ২২ ফেব্রুয়ারি ঘোষণা করা হয়। আহŸায়ক কমিটির সদস্যরা ছিলেন- প্রফেসর সৈয়দ আলী আহাসান, আব্দুল মোমেন খান, শামসুল আলম চৌধুরী, ক্যাপ্টেন অব. নুরুল হক, এনায়েত উল­াহ খান, মওদুদ আহমদ, জাকারিয়া চৌধুরী, ড. এম আর খান, সাইফুর রহমান, জামাল উদ্দিন আহমদ, আবুল হাসনাত, এম এ হক, ক্যাপ্টেন (অব.) সুজাত আলী, আলহাজ্ব এম এ সরকার ও আবুল কাশেম।
    জিয়াউর রহমানের রাজনৈতিক দলে যোগদান: ১৯৭৮ সালের ৯ এপ্রিল সালে জিয়াউর রহমান প্রথম আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেন যে তিনি রাজনৈতিক দলে যোগদান করবেন এবং ডিসেম্বরের নির্বাচনে প্রার্থী হবেন।
    ২ মে প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানকে চেয়ারম্যান করে ৬টি দলের সমন্বয়ে ‘জাতীয়তাবাদী ফ্রন্ট’ গঠন করা হয়। যে সকল রাজনৈতিক দল ফ্রন্ট গঠন করে, সেগুলো হলো- জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক দল (জাগদল), ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি (ভাসানী), ইউনাইটেড পিপলস পার্টি, বাংলাদেশ মুসলিম লীগ, বাংলাদেশ লেবার পার্টি, বাংলাদেশ তফশিলি জাতীয় ফেডারেশন। জাতীয়তাবাদী ফ্রন্টের ৬টি অঙ্গ দলের এক বৈঠকে আসন্ন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ফ্রন্টের প্রার্থী হিসেবে জিয়াউর রহমানকে মনোনয়ন দেয়া হয়।
    ৮ মে সালে জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক ছাত্রদলের ৩৬ সদস্য বিশিষ্ট আহŸায়ক কমিটি গঠন করা হয়। এ কমিটির আহŸায়ক করা হয় আহমেদ মির্জা খবিরকে। ১৯৭৮ সালের ২৯ মে জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক মৎস্যজীবী দলকে জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক দলের অঙ্গ সংগঠন হিসেবে অনুমোদন করা হয়।
    ১৯৭৮ সালের রাষ্ট্রপতি নির্বাচন: দেশে গণতান্ত্রিক ধারা ফিরিয়ে আনার প্রাথমিক পদক্ষেপ হিসেবে রাষ্ট্রপতি নির্বচনী অনুচ্ছেদ নং ১১৮ হতে ১২৬ অনুযায়ী ১৯৭৮ সালের ৩ জুন প্রাপ্তবয়স্কদের প্রত্যক্ষ সার্বজনীন ভোটাধিকারের ভিত্তিতে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন সম্পন্ন করেন। বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে ১৯৭৮ সালে অনুষ্ঠিত এ নির্বাচন অতীব গুরুত্বপূর্ণ ঘটনার সাক্ষ্য বহন করছে। এতে বহুদলীয় রাজনীতির ভিত্তিতেই রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় এবং প্রায় সকল রাজনৈতিক দলই এ নির্বাচনে অংশ নেয়। রাষ্ট্রপতি পদের জন্য মোট ১০ জন প্রার্থী পূর্ণ প্রস্তুতি নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন। তার মধ্যে জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক দল, ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি (ভাসানী), ইউনাইটেড পিপলস পার্টি, বাংলাদেশ মুসলিম লীগ, লেবার পার্টি, তফসীল ফেডারেশন- এ ছয়টি রাজনৈতিক দলের সমন্বয়ে গঠিত জাতীয়তাবাদী ফ্রন্টের মনোনীত প্রার্থী ছিলেন মেজর জেনারল জিয়াউর রহমান। অন্যদিকে তাঁর অন্যতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন গণতান্ত্রিক ঐক্যজোটের মনোনীত প্রার্থী জেনারেল (অব.) এম এ জি ওসমানী। আওয়ামী লীগ, জাতীয় জনতা পার্টি, ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি মোজাফফর), পিপলস পার্টি, গণআজাদী লীগ ও নিষিদ্ধ কমিউনিষ্ট পার্টির নেতাদের সমন্বয়ে গণতান্ত্রিক ঐক্যজোট গঠিত হয়েছিল। অন্যদের মধ্যে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল এবং নির্দলীয় প্রার্থী ছিলেন।
    নির্বাচনে জাতীয়তাবাদী ফ্রন্ট প্রার্থী জিয়াউর রহমান ১ কোটিরও বেশি ভোটের ব্যবধানে নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ঐক্যজোট প্রার্থী জেনারেল (অব.) ওসমানীকে পরাজিত করে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন। এ নির্বাচনে মোট ৫৩ দশমিক ৫৪ ভাগ ভোটার ভোট দেন। এর মধ্যে ৭৩ দশমিক ৬৩ ভাগ ভোট পান জেনারেল জিয়াউর রহমান। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী এম এ জি ওসমানী পান ২১ দশমিক ৭০ ভাগ ভোট। (৫ জুন ১৯৭৮, দৈনিক ইত্তেফাক)
    ১৯৭৮ সালের ৫ জুন বিজয় উত্তর সাংবাদিক সম্মেলনে প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান বলেন, বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদকে আরো সুসংহত ভিত্তির ওপর দাঁড় করিয়ে সমগ্র জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠাই আমাদের লক্ষ্য। তিনি বলেন, এখন দলমত নির্বিশেষে সকলকে এগিয়ে আসতে হবে এবং জাতি গঠনে উদ্যোগী হতে হবে। আমাদের সকলের লক্ষ্য হতে হবে দেশ ও জাতিকে শক্ত ভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠা করা।
    ১৯৭৮ সালের ১২ জুন নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট হিসেবে জিয়াউর রহমান বঙ্গভবনের দরবার হলে এক অনাড়ম্বর অনুষ্ঠানে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নেন।
    ১৯৭৮ সালের ২৯ জুন প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান উপদেষ্টা পরিষদ ভেঙ্গে দিয়ে ২৮ সদস্যের একটি মন্ত্রী পরিষদ গঠন করেন। বিচারপতি আবদুস সাত্তারকে ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসেবে নিয়োগ দেন। মন্ত্রী পরিষদের সিনিয়র মন্ত্রী হিসেব শপথ নেন মশিউর রহমান যাদু মিয়া। মন্ত্রী পরিষদের অন্য সদ্যস্যরা হলেন,- ড. মির্জা নুরুল হুদা, শাহ আজিজুর রহমান, কাজী আনোয়ারুল হক, অধ্যাপক মোহাম্মদ শামসুল হক, আজিজুল হক, এসএম শফিউল আজম, আবদুল মোমেন খান, মেজর জেনারেল (অব. মাজিদুল হক, ক্যাপ্টেন (অব.) আবদুল হালিম চৌধুরী, বি এম আক্কাস, লে. কর্নেল (অব.) আবু সালেহ মোহাম্মদ মোস্তাফিজুর রহমান, রসরাজ মন্ডল, মোহাম্মদ সাইফুর রহমান, জামাল উদ্দিন আহমেদ, ডা. এ কিউ এম বদরুদ্দোজা চৌধুরী, কাজী জাফর আহমদ, শামসুল হুদা চৌধুরী, ক্যাপ্টেন (অব.) নুরুল হক, এ জেড এম এনায়েতউল­াহ খান, মওদুদ আহমদ, এস এ বারী এটি, ড. মিসেস আমিনা রহমান, মির্জা গোলাম হাফিজ, কে এম ওবায়দুর রহমান, আবদুল আলীম, হাবিবুল­াহ খান ও আবদুর রহমান। প্রতিমন্ত্রী হন দু’জন ডা. অসিউদ্দীন মাহাতাব ও ডা. এম এ মতিন।
    এই মন্ত্রী পরিষদেও প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান বহুদলীয় গণতন্ত্রের ধারণা বাস্তবায়ন করেন। মন্ত্রী পরিষদে ২৮ জন মন্ত্রীর মধ্যে ১৮ জন ছিলেন জাগদলের, ৪ জন ন্যাপ ভাসানীর, ২ জন ইউপিপির, ১ জন তপশিলী ফেডারেশনের। বিশেষত ৪ জন ছিলেন সাবেক সামরিক অফিসার, ৮ জন বেসামরিক অফিসার, ১ জন সাংবাদিক ও বাকীরা হলেন রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ।
    ৯ আগস্ট প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ১৯ দফা বাস্তবায়নে সারাদেশে ১৮টি কমিটি গঠন করেন। প্রত্যেকটির কমিটি প্রধান হিসেবে একজন মন্ত্রীকে দায়িত্ব দেয়া হয়।
    বাংলাদশে জাতীয়তাবদী দল (বিএনপি) গঠন: জাতীয়তাবাদী ফ্রন্টের শরীক দলগুলির সমন্বয়ে ‘বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল’ নামে একটি নতুন রাজননৈতিক দল গঠনের উদ্যোগ নেন প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান। এ পরিস্থিতিতে ২৮ আগস্ট বিচারপতি সাত্তার এক জরুরি আদেশে জাগদল ও এর সকল অঙ্গদলকে বিলুপ্ত ঘোষণা করেন। ১৯৭৮ সালের ১ সেপ্টেম্বর প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) নামে একটি নতুন দল ঘোষণা করেন। ঢাকার রমনা গ্রীনে সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি এ ঘোষণা দেন।
    সংবাদ সম্মেলনে জিয়াউর রহমান ঘোষিত বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের ঘোষণাপত্রে বলা হয়- বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদের ভিত্তিতে ইস্পাত কঠিন গণঐক্য, জনগণ ভিত্তিক গণতন্ত্র ও রাজনীতি প্রতিষ্ঠা, ঐক্যবদ্ধ ও সুসংগঠিত জনগণের অক্লান্ত প্রয়াসের মাধ্যমে জাতীয় অর্থনৈতিক মুক্তি, আত্মনির্ভরশীলতা ও প্রগতি অর্জন এবং সাম্রাজ্যবাদ, স¤প্রসারণবাদ, নয়া উপনিবেশবাদ ও আধিপত্যবাদের বিভীষিকা থেকে মুক্তির লক্ষ্যকে নিশ্চিত করার উদ্দেশ্যে ‘বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল’ গঠিত হয়েছে। এই চারটি লক্ষ্যকে ‘জনগণের মৌলিক দাবি।
    পরিশেষে বলতে হয়, ১৯৭১ সালের ২৫শে মার্চ পাকিস্তানী হানাদার বাহিনী যখন এদেশের নিরস্ত্র মানুষের ওপর বর্বরের মতো ঘৃণ্য হামলা চালায় তখন এর আকস্মিকতায় দিশেহারা হয়ে পড়ে সবোর্স্তরের জনগণ। ১৯৭১-এর ২৬ মার্চ ঢাকায় পাকিস্তানী বাহিনীর বর্বর আক্রমণের পর পাকিস্তান সেনাবাহিনীর সাথে সম্পর্ক ত্যাগ করে ২৭ মার্চ চট্টগ্রামস্থ কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে স্বাধীনতার ঐতিহাসিক ঘোষণা দেন।
    স্বাধীনতা যুদ্ধে জিয়াউর রহমান যুদ্ধের পরিক্লপনা ও তার বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা পালন করেন। ১৯৭১ এর জুন পর্যন্ত ১ নং সেক্টর কমান্ডার ও তারপর জেড-ফোর্সের প্রধান হিসেবে তিনি যুদ্ধে অংশগ্রহন করেন। স্বাধীনতা যুদ্ধে বীরত্বে জন্য তাকে বীর উত্তম উপাধিতে ভূষিত করা হয়।
    শেখ মুজিবুর রহমান প্রথম রাষ্ট্রপতি হলেও তিনি জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচিত নন। এর বিপরীতে ১৯৭৮ সালের ৩০ মে গণভোটের মাধ্যমে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হয়েছিলেন জিয়াউর রহমান। গণভোটে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ঘটনা ওইবারই প্রথম ঘটেছিল।


    Facebook Comments


    কোন এলাকার খবর দেখতে চান...

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০১১১২
    ১৩১৪১৫১৬১৭১৮১৯
    ২০২১২২২৩২৪২৫২৬
    ২৭২৮  
  • ফেসবুকে আজকের অগ্রবাণী


  • Notice: ob_end_flush(): failed to send buffer of zlib output compression (0) in /home/ajkerogr/public_html/wp-includes/functions.php on line 4755