শনিবার, ফেব্রুয়ারি ২০, ২০২১

শহীদ মিনার বা এফডিসিতে নেওয়া হবে না অভিনেতার মরদেহ

  |   শনিবার, ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২১ | প্রিন্ট  

শহীদ মিনার বা এফডিসিতে নেওয়া হবে না অভিনেতার মরদেহ

চলে গেলেন কিংবদন্তি অভিনেতা এটিএম শামসুজ্জামান। শারীরিক বিভিন্ন অসুস্থতায় শনিবার (২০ ফেব্রুয়ারি) তিনি মৃত্যুবরণ করেন। সূত্রাপুরে দ্বিতীয় জানাজা শেষে জুরাইন কবরস্থানে তাকে দাফনের কথা রয়েছে। 
এটিএম শামসুজ্জামানের মরদেহ এফডিসি বা শহীদ মিনারে নেওয়া হবে না। তার ভাই হাজী সোলায়মান রতন সময়নিউজকে জানান, তিনি জীবিত অবস্থায় তার মরদেহ শহীদ মিনার বা এফডিসিতে নিতে নিষেধ করেছেন। তার ভাই আরও জানান, আজিমপুর আর জুরাইন দুই কবরস্থানে দাফনের কথা চিন্তা করা হচ্ছে। তবে জুরাইন কবরস্থানে দাফনের সম্ভাবনাই বেশি।
এর আগে শনিবার (২০ ফেব্রুয়ারি) সকাল ৯টা ০৬ মিনিটে কান্নাজড়িত কণ্ঠে কোয়েল আহমেদ সময়নিউজকে বলেন, ‘আব্বা আর নেই। আব্বা আর নেই। শুক্রবার বিকেলে আব্বাকে বাসায় নিয়ে আসছিলাম। উনি হাসপাতালে থাকতে চাইছিলেন না। তাই বাসায় নিয়ে আসছিলাম। আমি রাত ২টা ৩০ মিনিটে আব্বার বাসায় আসছি।’
দীর্ঘদিন ধরেই বার্ধক্যজনিত নানা অসুখে ভুগছিলেন এটিএম শামসুজ্জামান। রক্তে অক্সিজেন লেভেল কমে যাওয়ায় গত বুধবার সকালে পুরান ঢাকার আজগর আলী হাসপাতালে তাকে ভর্তি করা হয়েছিল। কিন্তু হাসপাতালে থাকতে না চাওয়ায় শুক্রবার বিকেলে তাকে বাসায় নিয়ে আসা হয়। পরে শনিবার সকাল ৯টার দিকে রাজধানীর সূত্রাপুরের নিজ বাসায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। এর আগেও একাধিকবার হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন তিনি। গতছরের ৩০ এপ্রিল তাকে লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়েছিল।
একুশে পদকপ্রাপ্ত বরেণ্য অভিনেতা এটিএম শামসুজ্জামানের মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
শোক বার্তায় রাষ্ট্রপতি বলেন, এটিএম শামসুজ্জামানের মৃত্যু দেশের সাংস্কৃতিক অঙ্গনের জন্য এক অপূরণীয় ক্ষতি। বাংলাদেশে অসাম্প্রদায়িক চেতনার বিকাশে তার অবদান মানুষ শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করবে।
আবু তাহের মোহাম্মাদ (এটিএম) শামসুজ্জামান ১৯৪১ সালের ১০ সেপ্টেম্বর নোয়াখালীর দৌলতপুরে জন্মগ্রহণ করেন। ১৯৬১ সালে পরিচালক উদয়ন চৌধুরীর বিষকন্যা সিনেমায় সহকারী পরিচালক হিসেবে প্রথম কাজ শুরু করেন।
অভিনেতা হিসেবে তার অভিষেক হয় ১৯৬৫ সালে। ১৯৭৬ সালে আমজাদ হোসেন পরিচালিত ‘নয়নমণি’ চলচ্চিত্রে খলনায়ক চরিত্রে অভিনয় করে তিনি আলোচনায় আসেন।
কিংবদন্তি এ কমেডিয়ান ও খল অভিনেতা ছয়বার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পান। ১৯৮৭ সালে কাজী হায়াৎ পরিচালিত ‘দায়ী কে’ চলচ্চিত্রে অভিনয়ের জন্য শ্রেষ্ঠ অভিনেতা বিভাগে প্রথম জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পান তিনি। ১৯৯৯ সালে ‘ম্যাডাম ফুলি’ সিনেমায় কমেডিয়ান চরিত্রে, ২০০১ সালে ‘চুড়িওয়ালা’, ২০০৯ সালে ‘মন বসে না পড়ার টেবিলে’, ২০১২ সালে ‘চোরাবালি’ ছবিতে পার্শ্বচরিত্রে অভিনয়ের জন্য এবং ২০১৭ সালে ৪২তম জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারের আজীবন সম্মাননায় ভূষিত হন এই অভিনেতা।


Posted ১২:১৬ অপরাহ্ণ | শনিবার, ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২১

ajkerograbani.com |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

advertisement
advertisement
advertisement

Archive Calendar

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
১০১১১২১৩১৪
১৫১৬১৭১৮১৯২০২১
২২২৩২৪২৫২৬২৭২৮
২৯৩০৩১