• শিরোনাম



    কোন এলাকার খবর দেখতে চান...


    শাড়ি কিনতে হলে মিরপুরের বেনারসিপল্লি- কাতান, বেনারসির সঙ্গে ভারতীয় শাড়ি

    অগ্রবাণী ডেস্ক | ০৩ জুন ২০১৭ | ১:৩৮ অপরাহ্ণ

    শাড়ি কিনতে হলে মিরপুরের বেনারসিপল্লি- কাতান, বেনারসির সঙ্গে ভারতীয় শাড়ি

    একসঙ্গে অনেক রকম শাড়ি পাওয়া যায়। এখানে বাড়তি দামও রাখে না, আর তেমন ভিড়ভাট্টা নেই। দোকানগুলোর পরিসরও বেশ বড়। এসব কারণেই শাড়ি কিনতে হলে মিরপুরের বেনারসিপল্লি থেকেই কেনাকাটা করি’—বলছিলেন চিকিৎসক সানজিদা আহমেদ। গতকাল বৃহস্পতিবার তিনি শাশুড়ির জন্য ঈদের শাড়ি কিনলেন মিরপুর ১০ নম্বরের বেনারসিপল্লির তাওছিফ বেনারসি ফ্যাশন থেকে। তবে তসরের এই শাড়িটি মিরপুরের নয়, ভারতীয়।


    খোঁজখবর নিয়ে দেখা গেল, মিরপুর ১০ ও ১১ নম্বরে বেনারসিপল্লির দোকানগুলোতে মিরপুরের কাতান বেনারসির সঙ্গে ভারতের শাড়ি বিক্রি হচ্ছে প্রায় সমানে সমান। পল্লির কর্মচারী সমিতির সভাপতি সৈয়দ রিয়াজউদ্দিনের মতে, দেশি ও ভারতীয় কাপড়ের পরিমাণ প্রায় আধাআধি। ১০ নম্বরে দেড় শতাধিক দোকান নিয়ে বিশাল এলাকাজুড়ে মিরপুর বেনারসির শাড়ির বাজার। প্রতিটি দোকানই বেশ বড়। তবে গতকাল দুপুর পর্যন্ত অধিকাংশ দোকানে বেচাকেনা খুব কমই দেখা গেল।


    বিক্রেতারা জানালেন, ১০ রোজার পর থেকে বিক্রি শুরু হবে বলে তাঁরা আশা করছেন। ‘পরশমণি শাড়ি’র ব্যবস্থাপক কাজী শাহ আলম জানালেন, এখানকার শাড়ির বাজার ঈদকেন্দ্রিক নয়, এটি বিয়েকেন্দ্রিক বাজার। নভেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত চার মাস তাঁদের মূল ব্যবসার মৌসুম। এ সময় বিয়েশাদি বেশি হয়। ঈদে এখানে খুচরা বিক্রি খুব বেশি বাড়ে না। তবে ঈদের সময় পাইকারি বিক্রি কিছুটা বাড়ে।

    ঈদে লোকে একসঙ্গে অনেক রকম কেনাকাটা করেন। বেনারসিপল্লিতে কেবল এক রকম পণ্যের দোকান। তার ওপর ঈদে সবাই কাতান-বেনারসি কিনতে আগ্রহ দেখান না। সে কারণে অনেকেই এখন থ্রি–পিস, মিরপুরের বাইরের দেশের বিভিন্ন এলাকা যেমন পাবনা, টাঙ্গাইল, রূপগঞ্জের সুতি, সিল্ক, জামদানি শাড়ি লুঙ্গি এসবও এখন দোকানে তুলছেন।

    ক্রেতাদের চাহিদার কারণেই কিছু কিছু ভারতীয় শাড়িও রাখা হয় বলে জানালেন আল-হামদ বেনারসির ব্যবস্থাপক মো. নাসিম। তবে এবার ঈদে মিরপুরের কাতান-বেনারসি শাড়ির মধ্যে ঐতিহ্যবাহী নকশার শাড়িগুলোই বেশি চলছে বলে জানালেন দিয়া ফ্যাশনের ব্যবস্থাপক মো. আদিল। এসব কাতান-বেনারসি শাড়ির মধ্যে রয়েছে কাঞ্জিভরম, কাঞ্জিলাল, গাদোয়াল, খাড্ডি, পৌরি, অপেরা, লাচ্ছা, কোরা ইত্যাদি। দাম ৩ হাজার টাকা থেকে ৩০ হাজার টাকা পর্যন্ত। দাম নির্ভর করে শাড়ির সুতা ও কাজের ওপর।

    মিরপুর ১১ নম্বর বেনারসিপল্লিতে দোকানের সংখ্যা কম। এখানে হানিফ সিল্কের দোকানে ঈদের শাড়ি কিনতে এসেছিলেন লাইফ ইনস্যুরেন্স কর্মকর্তা মণিরা খাতুন। তিনি এখানকার নিয়মিত ক্রেতা। বললেন, নিশ্চিন্তে দেশি শাড়ি কেনা যায়। এরা ভারতীয় শাড়ি দেশি বলে চালিয়ে দেয় না। এই মার্কেটে দামও খুব বেশি রাখে না। স্বত্বাধিকারী মোহাম্মদ হানিফ জানালেন, এবার ঈদ উপলক্ষে রূপসী বাংলা ও বাংলার রূপ বিশেষ ধরনের নকশার দুই রকমের বেনারসি শাড়ি এনেছেন তাঁরা। এর দাম ৫ হাজার থেকে ১২ হাজার টাকা পর্যন্ত। শাড়ির দাম গতবারের চেয়ে বাড়েনি।

    ঈদের বাজারে মিরপুর-বেনারসিপল্লির কর্মচারীরা অবশ্য তেমন খুশি নন। কর্মচারী সমিতির সভাপতি সৈয়দ রিয়াজ উদ্দিন জানালেন, এখানে সাপ্তাহিক ছুটি মানা হয় না। রোববার মার্কেট বন্ধ রাখার কথা। কিন্তু অধিকাংশ মালিকই দোকান খোলা রাখেন। বাজারে জিনিসপত্রের চাম চড়া অথচ কর্মচারীদের বেতন বাড়ানো হয় না। বোনাসও হয় একেবারে চাঁদরাতে, অনেকে বোনাস দেনও না। এ কারণে পল্লির কর্মচারীরা একটু ক্ষুব্ধ। তারপরও ঈদের মৌসুম বলে কথা, তাই একরকম আনন্দঘন ব্যস্ততা রয়েছে পল্লির দোকানগুলোতে।

    Facebook Comments

    কোন এলাকার খবর দেখতে চান...

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০১১
    ১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
    ১৯২০২১২২২৩২৪২৫
    ২৬২৭২৮২৯৩০৩১  
  • ফেসবুকে আজকের অগ্রবাণী


  • Notice: ob_end_flush(): failed to send buffer of zlib output compression (0) in /home/ajkerogr/public_html/wp-includes/functions.php on line 4673