• শিরোনাম



    কোন এলাকার খবর দেখতে চান...


    ‘শাফাতের মাকে পতিতা বলে ডাকে ওর বাবা’

    স্টাফ রিপোর্টার | ১৪ মে ২০১৭ | ৫:৩৩ অপরাহ্ণ

    ‘শাফাতের মাকে পতিতা বলে ডাকে ওর বাবা’

    আপন জুয়েলার্সের মালিকের ছেলে ধর্ষক শাফাত আহমেদ

    দুই বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রীকে ধর্ষণের মামলার আসামিদের মধ্যে একজন আপন জুয়েলার্সের মালিকের ছেলে শাফাত আহমেদ।


    ইয়াবা আসক্ত সাফাত ও তার বন্ধুরা বনানীর এক রেস্তোরাঁয় নিয়মিত নেশার আসর বসাতেন। ওই হোটেলের ‘যে কোনো ওয়েটারকে জিজ্ঞাসা করলেই’ তাদের কর্মকাণ্ডের বিবরণ পাওয়া যাবে।

    ajkerograbani.com

    সাফাতের জন্মদিনের অনুষ্ঠানের দাওয়াত পেয়ে গুলশানের ‘দি রেইনট্রি’ হোটেলে গিয়ে ঢাকার দুই বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রীর ধর্ষণের শিকার হওয়ার অভিযোগে গত ৬ মে মামলা হয় ঢাকার বনানী থানায়। এজাহারে সাফাত ছাড়াও এক ঠিকাদারের ছেলে নাঈম আশরাফ (৩০), পিকাসো রেস্তরাঁর অন্যতম মালিক মোহাম্মদ হোসেন জনির ছেলে সাদমান সাকিফ (২৪) এবং সাফাতের দেহরক্ষী ও গাড়িচালককে আসামি করা হয়।

    দুই ছাত্রীর অভিযোগ, ওই হোটেলে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে রাতভর আটকে রেখে সাফাত ও নাঈম তাদের ধর্ষণ করেন। অন্য তিনজন তাতে সহায়তা করেন।

    শাফাতের সঙ্গে সম্পর্ক ও বিয়ে নিয়ে তার সাবেক স্ত্রী পিয়াসা বলেন, শাফাতের সঙ্গে আমার চার বছরের সম্পর্ক। দুই বছর প্রেম করার পর ২০১৫ সালের ১ জানুয়ারি তাকে আমি বিয়ে করি। আমাকে অনেকেই অনেকবার বলেছে ওর সঙ্গে না জড়াতে। আমি শুনিনি। আমাকে বারবার বলা হয়েছে শাফাত মানুষ ভালো নয়। ওর বাবাও প্রচ- আত্মঅহঙ্কারী, চরিত্রহীন একজন মানুষ। ওর পরিবারের অর্থ-বিত্ত থাকলেও মানমর্যাদা বলতে কিছু নেই। আমি শুনিনি। ভালোবাসার টানে শাফাতকে বিয়ে করেছিলাম। ভেবেছিলাম, ভালোবাসার জন্য মানুষ নিজেকে বদলে নিতে পারে। শাফাতও পারবে। কিন্তু আমি ভুল ভেবেছিলাম।’
    তিনি আরও বলেন, পচে যাওয়া মন কোনোদিন বদলায় না। শাফাত ছোট থেকে বড়ই হয়েছে নোংরা পরিবেশে। ওর বাবা প্রচণ্ড বদরাগী আর বাজে লোক। স্ত্রীকে তিনি সকাল-বিকাল ‘প্রস্টিটিউট’ বলে গালি দেন। মারধর করেন। এমন পরিবেশে কোনো মানুষই মনুষত্ব, বিবেকবোধ নিয়ে বেড়ে উঠতে পারে না।
    পিয়াসা বলেন, বিয়ের পর আমি ওই পরিবার সম্পর্কে যতই জেনেছি ততই অবাক হয়েছি, আহত হয়েছি। তবুও আমি চেষ্টা করেছি মানিয়ে নিতে। বাঙালি মেয়ে, স্বামীর বাড়িই তো ঠিকানা। কিন্তু বারবার ক্ষত-বিক্ষত হয়েছি। শাফাত ছিল ইয়াবায় আসক্ত। পরনারীতে তার দুর্বলতা আছে। মিডিয়ার অনেকেই তা জানেন। ওর বাবাও মর্যাদাহীন একজন মানুষ।’
    এশিয়ান টিভির সাবেক এ কর্মকর্তা বলেন, ‘আমি এও শুনেছি এক পার্টিতে একজন মহিলাকে কুপ্রস্তাব দিয়ে অপমানিত হয়েছিল শাফাতের বাবা। ওই মহিলা উনাকে স্যান্ডেল দিয়ে আঘাত করেছিলেন। আমি তার ছেলের বউ! আমার সঙ্গে তার ব্যবহার, কথাবার্তা শুনলে যে কেউ লজ্জায় মরে যাবে।’
    তিনি শাফাত ও তার পরিবারের প্রতি অভিযোগ এনে বলেন, কোনো এক অজানা কারণে শাফাতের বাবা আমাকে তার ছেলের বউ হিসেবে মেনে নিতে পারেননি। উনি আমার ওপর মানসিক অত্যাচার করেছেন। ওনার এ যন্ত্রণায় একসময় আমি শাফাতকে নিয়ে ভাটারা থানায় নিরাপত্তার জন্য জিডি করতে বাধ্য হই।

    ‘আমি অনুধাবন করেছি, টাকা দিয়ে সব নিয়ম ওরা ভাঙতে পারে। ডিভোর্স পেয়ে আমি কষ্ট পেয়েছিলাম। অনেক কিছুর পরও আমি শাফাতকে ভালোবাসতাম। এভাবে বিনা কারণে, বিনা নোটিশে ডিভোর্স লেটার পাব ভাবতেই পারিনি। আমি তার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও পারিনি। খোঁজ নিয়ে জানতে পারি তারা সবাই কলকাতায়। এর কিছুদিন পরই একটি ভিডিও ফেসবুকে ভাইরাল হয় শাফাতের। সেখানে দেখা যায় একজন মডেল ও অভিনেত্রীকে নিয়ে একটি রেস্টুরেন্টে বসে মদ খাচ্ছে শাফাত। তখন ডিভোর্স পাওয়া নিয়ে আমার কষ্ট হলেও এ মুহূর্তে আমি নিজেই একজন ধর্ষকের স্ত্রী হিসেবে ভাবতে পারছি না। ধর্ষক স্বামীর কাছ থেকে আমিই ডিভোর্স চাইব। সেটা নিয়ম-রীতি মেনেই।’

    Facebook Comments Box

    কোন এলাকার খবর দেখতে চান...

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
    ১০১১১২১৩১৪
    ১৫১৬১৭১৮১৯২০২১
    ২২২৩২৪২৫২৬২৭২৮
    ২৯৩০৩১  
  • ফেসবুকে আজকের অগ্রবাণী


  • Notice: ob_end_flush(): failed to send buffer of zlib output compression (0) in /home/ajkerogr/public_html/wp-includes/functions.php on line 4757