বুধবার ২৯শে সেপ্টেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ | ১৪ই আশ্বিন, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

শিক্ষক দ্বন্দ্বে আটকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র পরামর্শক নিয়োগ

ডেস্ক রিপোর্ট   |   বৃহস্পতিবার, ২৯ জুলাই ২০২১ | প্রিন্ট  

শিক্ষক দ্বন্দ্বে আটকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র পরামর্শক নিয়োগ

ছাত্র পরামর্শক ও উপদেষ্টা পদে ড. শেখ সুজন আলীর দায়িত্ব শেষ হয়েছে গত ২৩ এপ্রিল। জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ে পদটিতে দায়িত্ব শেষের তিনমাস পার হলেও পদটিতে কাউকে নিয়োগ দিতে পারেনি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। নিয়োগ আটকে থাকার জন্য শিক্ষকদের গ্রুপিং রাজনীতিকে দায়ী করেছেন সংশ্লিষ্টরা।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক ড. এএইচএম মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, শিক্ষকরা রাজনৈতিকভাবে বিভক্ত। ফলে সবকিছুর সমাধান আমার হাতে নেই। ছাত্র পরামর্শক পদে তারা পৃথকভাবে তিনজনের নাম দিয়েছেন। সবাই মিলে একটি নাম দিতে বলেছি আমি। গ্রুপিং বাদ দিয়ে একটি নাম দিক, আমরা বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করব।


তিনি আরো বলেন, শিক্ষকরা এক হতে পারেননি। আমার কাছে সবাই সমান, কাকে রেখে কাকে প্রাধান্য দেব? এজন্য আমি নিয়োগ দিচ্ছি না। পদটিতে কে আসবে, তা সিন্ডিকেট নির্ধারণ করবে।

সংশ্লিষ্টরা জানান, ২০০৬ সালের বিশ্ববিদ্যালয় আইন অনুযায়ী সিন্ডিকেটের মাধ্যমে দুই বছরের জন্য কমপক্ষে সহযোগী অধ্যাপক পদের কাউকে পরিচালক পদে নিয়োগের নিয়ম রয়েছে। তবে ছাত্র পরামর্শক ও উপদেষ্টা পদে নিয়োগের ক্ষমতা ভিসিকে দিয়েছে সিন্ডিকেট। কিন্তু শিক্ষকদের তিনটি গ্রুপ পদটিতে চারুকলা বিভাগের ড. তপন কুমার সরকার, ড. সিদ্ধার্থ দে সিধু এবং লোক প্রশাসন ও সরকার পরিচালনা বিদ্যা বিভাগের আজিজুর রহমানের (আবির) নাম প্রস্তাব করায় বিপাকে পড়েছেন ভিসি।


যদিও শিক্ষক নেতারা বলছেন, একাধিক নাম আসতেই পারে। প্রশাসক হিসেবে যোগ্য একজনকে বেছে নেবেন ভিসি। তিনি সেটি না করে শিক্ষকদের দুষছেন।
জানা গেছে, শিক্ষক সমিতির নির্বাচন ঘিরে আওয়ামীপন্থী বঙ্গবন্ধু নীল দলের শিক্ষকরা দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়েন। তাদের একটি পক্ষের নেতৃত্বে রয়েছেন শিক্ষক সমিতির সাবেক সভাপতি মো. শফিকুল ইসলাম। অন্য পক্ষের নেতৃত্বে রয়েছেন সাবেক দুই সাধারণ সম্পাদক ড. মো. তারিকুল ইসলাম ও ড. মাসুদ রানা।

এদের মধ্যে ছাত্র পরামর্শক ও উপদেষ্টা পদে ড. তপন কুমার সরকারের নাম প্রস্তাব করেছেন শফিকুল ইসলামরা। অন্যদিকে আজিজুর রহমানের নাম প্রস্তাব করেন তারিকুল ইসলামরা। আর তৃতীয় একটি পক্ষ থেকে ড. সিদ্ধার্থ দে সিধুর নাম প্রস্তাব করা হয়। যদিও এ দলের নেতৃত্বে স্বয়ং ড. সিদ্ধার্থ রয়েছেন বলে জানা গেছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের এক সহকারী অধ্যাপক জানান, শিক্ষকদের দুটি পক্ষ নিজেদের প্রভাব বিস্তারে প্রশাসনের ওপর চাপ দিচ্ছে। মূলত কলকাঠি নাড়ছেন তারিকুল ও শফিকুল ইসলাম।

গ্রুপিং ও প্রশাসনের ওপর চাপ তৈরির অভিযোগ অস্বীকার করে শফিকুল ইসলাম বলেন, আমি এখন শিক্ষক সমিতি কিংবা বঙ্গবন্ধু নীল দলের কেউ নই। আমার পক্ষে এসব করার সুযোগও নেই।

তারিকুল ইসলাম বলেন, আমি শিক্ষক সমিতির কোনো পদে নেই, বিভক্তিতেও নেই।

মাসুদ রানা বলেন, রাজনীতিতে নিজের নাম শুনে ভালোই লাগছে। আদর্শের মিল না থাকলে সংগঠন ভাঙতেই পারে। তবে প্রশাসন দুর্বল বলেই তারা ছড়ি ঘোরাতে পারছেন। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সমিতির ফোরামে আলোচনা শেষে আমরা নাম পাঠিয়েছি। তাকে নিয়োগ দেবে কিনা সে সিদ্ধান্ত প্রশাসনের । এখানে বিভক্তি টেনে আনা অযৌক্তিক।

সিদ্ধার্থ দে সিধু বলেন, দায়িত্ব থেকে সরে আসার পর আমার কোনো তৎপরতা নেই। সে সময়ে আমার সঙ্গে অনেক অন্যায় হয়েছে। নতুন করে আমি এসবে জড়াতে চাই না।

সাবেক ছাত্র পরামর্শক ও উপদেষ্টা ড. শেখ সুজন আলী বলেন, এমনিতেই পদটি গুরুত্বপূর্ণ। করোনাকালে তা আরো বেড়েছে। প্রশাসনের উচিত দ্রুত দায়িত্বশীল কাউকে নিয়োগ দেয়া।

বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) কৃষিবিদ ড. হুমায়ূন কবীর বলেন, ক্ষমতাবলে ভিসি নিয়োগ দিতে পারেন। কিন্তু ভিন্ন পরিস্থিতি তৈরির আশঙ্কায় এটি সিন্ডিকেটের ওপর দিয়েছেন। আগামী সভায় এ নিয়ে সিদ্ধান্ত আসতে পারে।

Facebook Comments Box

Posted ২:২২ অপরাহ্ণ | বৃহস্পতিবার, ২৯ জুলাই ২০২১

ajkerograbani.com |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

advertisement
advertisement
advertisement

এ বিভাগের আরও খবর

আর্কাইভ

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০
১১১২১৩১৪১৫১৬১৭
১৮১৯২০২১২২২৩২৪
২৫২৬২৭২৮২৯৩০