মঙ্গলবার ২১শে সেপ্টেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ | ৬ই আশ্বিন, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

শিক্ষার্থীর অভাবে বন্ধের শঙ্কায় হাজার হাজার কিন্ডারগার্টেন

  |   শনিবার, ২৬ ডিসেম্বর ২০২০ | প্রিন্ট  

শিক্ষার্থীর অভাবে বন্ধের শঙ্কায় হাজার হাজার কিন্ডারগার্টেন

শিশু ভর্তির জন্য ভালো কিন্ডারগার্টেনে নভেম্বর-ডিসেম্বরে লাইন পড়ে যায়। কিন্তু করোনার কারণে এবারের ছবিটা একেবারেই ভিন্ন। মূলত সাধারণত প্রথম শ্রেণি থেকেই রাজধানীসহ সারা দেশের নামি-দামি স্কুলগুলোর শিক্ষা কার্যক্রম শুরু হয়। আর তৃতীয় বা চতুর্থ শ্রেণি থেকে বেশির ভাগ সরকারি মাধ্যমিকে কার্যক্রম রু হয়। ফলে তার আগ পর্যন্ত অভিভাবকদের অন্যতম পছন্দ কিন্ডারগার্টেন স্কুল। নভেম্বর-ডিসেম্বরে ভালো কিন্ডারগার্টেনে শিশু ভর্তির জন্য লাইন পড়ে যায়। কিন্তু করোনার কারণে এবার ভর্তির ভরা মৌসুমেও ওসব প্রতিষ্ঠানের একেবারেই শিক্ষার্থী ভর্তির কোনো তোড়জোড় নেই। ওসব প্রতিষ্ঠান নতুন শিক্ষার্থী খুঁজে পাচ্ছে না। এমনকি আগের শিক্ষার্থীর অভিভাবকরাও টিউশন ফি পরিশোধের ভয়ে যোগাযোগ রাখছে না। ফলে বছর শেষ হতে চললেও দুরবস্থা কাটিয়ে উঠতে পারছেন না কিন্ডারগার্টেনের শিক্ষক-কর্মচারীসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। ইতিমধ্যে বন্ধ হয়ে গেছে দেশের দুই হাজার কিন্ডারগার্টেন। আর আগামী শিক্ষাবর্ষে ভর্তিপ্রক্রিয়া চালাতে না পারলে আরো প্রায় ২০ হাজার কিন্ডারগার্টেন বন্ধ হওয়ার শঙ্কা করা হচ্ছে। এমনকি অনেকেই স্কুল বিক্রির নোটিশ দিলেও সেখানেও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। কিন্ডারগার্টেনের ১০ লাখ শিক্ষক-কর্মচারীর বেশির ভাগই বিদ্যমান পরিস্থিতিতে পেশা পরিবর্তন করেছে। কেউ কেউ ছোটখাটো নানা কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করছে। আবার কেউ গ্রামে ফিরে গেছে। কিন্ডারগার্টেন অ্যাসোসিয়েশন সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা যায়।
সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, অভিভাবকরা সাধারণত বাড়ির কাছাকাছি ভালো কিন্ডারগার্টেনে তাদের সন্তানদের ভর্তি করায়। সাড়ে ৩ থেকে৪ বছর বয়স হলেও প্লে শ্রেণিতে শিক্ষার্থী ভর্তি করিয়ে দেন অভিভাবকরা। তারপর নার্সারি ও কেজি শ্রেণিতে পড়ার পর নামি-দামি স্কুলের প্রথম শ্রেণিতে ওসব শিক্ষার্থীরা ভর্তিযুদ্ধে নামে। ফলে কিন্ডারগার্টেনগুলোর ওপরের শ্রেণিতে শিক্ষার্থী কম থাকলেও প্রথম শ্রেণির আগের তিনটি শ্রেণিতে ভরপুর শিক্ষার্থী থাকে। এমনকি অনেক কিন্ডারগার্টেনে ডিসেম্বর এলেই সিটও পাওয়া যায় না। রাজধানীর মাটিকাটায় স্কাইলার্ক মডেল স্কুলের শিক্ষার্থীর সংখ্যা পাঁচ শতাধিক। তার মধ্যে চলতি শিক্ষাবর্ষে বিভিন্ন শ্রেণিতে নতুন ভর্তি হয়েছিল মাত্র দুইশর বেশি শিক্ষার্থী। কিন্তু আগামী শিক্ষাবর্ষের জন্য এখন পর্যন্ত একজনও নতুন শিক্ষার্থী ভর্তি হয়নি। অথচ প্রতিবছর এই সময়ে দিন-রাত ওই স্কুল সরগরম থাকতো। স্কুলে অভিভাবকদের ভিড় লেগেই থাকতো। অনেকেই নানা তথ্য জানতে, খোঁজখবর নিতে আসতেন। অনেকেই ভর্তি করাতে আসতেন। কিন্তু এবার কারোর দেখা নেই। এমনকি যেসব শিক্ষার্থী রয়েছে তাদের অভিভাবকদের বারবার এসএমএস দেয়ার পরও কেউ যোগাযোগ করছে না।
সূত্র জানায়, করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে গত ১৭ মার্চ থেকে দেশের সব ধরনের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে। আগামী ১৫ জানুয়ারি পর্যন্ত ওই ছুটি বলবৎ রয়েছে। এই সময়ে বেশির ভাগ কিন্ডারগার্টেনের শিক্ষার্থীদের স্কুলের সঙ্গে কোনো যোগাযোগ নেই। এমনকি মার্চ থেকে ওই স্কুলগুলো কোনো টিউশন ফিও পায়নি। ফলে দেশের প্রায় ৬০ হাজার কিন্ডারগার্টেনের মধ্যে অনেক স্কুল ইতিমধ্যে বন্ধ হয়ে গেছে। আর প্রায় ১০ লাখ শিক্ষক-কর্মচারী মানবেতর জীবন যাপন করছেন।
সূত্র আরো জানায়, দেশেএখনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ। ফলে যেসব অভিভাবক তাদের সন্তানদের কিন্ডারগার্টেনে ভর্তি করাতে চায তারা আসছে না। কারণ আগে ভর্তি করলে যদি টিউশন ফি দিতে হয়। তাছাড়া বর্তমানে কিন্ডারগার্টেন পড়ুয়া বেশির ভাগ শিক্ষার্থীই ফেব্রুয়ারি-মার্চ থেকে বেতন দেয়নি। তারাও স্কুলের সঙ্গে কোনো যোগাযোগ রাখছে না। কারণ তারাও মনে করছে, যোগাযোগ করলে যদি বকেয়া টিউশন ফি দিতে হয়। সেজন্য সবাই সাধারণত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলা পর্যন্ত অপেক্ষা করছে। অনেকেই টিউশন ফি দেয়ার ভয়ে স্কুল পরিবর্তন করে অন্য স্কুলে ভর্তিরও পরিকল্পনা করছে।
এদিকে এ বছর জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট (জেএসসি), প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী (পিইসি) ও উচ্চ মাধ্যমিক (এইচএসসি) পরীক্ষা নেয়া হয়নি। তাছাড়া স্কুলগুলোতেও বার্ষিক পরীক্ষা হয়নি। তাতে কিন্ডারগার্টেন স্কুলগুলো আরো বেশি সমস্যায় পড়েছে। কারণ ওসব স্কুলে যেহেতু নিম্নবিত্ত পরিবারের সন্তানরা বেশি পড়ে তাই পরীক্ষা না হওয়ায় কেউ আর টিউশন ফি দিচ্ছে না। আর যখনই স্কুল খুলুক না কেন, অনেকেই টিউশন ফি দেয়ার ভয়ে অন্য স্কুলে চলে যাবে।
এদিকে বিদ্যমান পরিস্থিতি প্রসঙ্গে বাংলাদেশ কিন্ডারগার্টেন স্কুল অ্যান্ড কলেজ ঐক্য পরিষদের চেয়ারম্যান এম ইকবাল বাহার চৌধুরী জানান, ইতিমধ্যে ২ হাজার কিন্ডারগার্টেন বন্ধ হয়ে গেছে। যাদের নিজেদের পুঁজি ছিল, তারা তা ভেঙে কোনো রকমে স্কুল টিকিয়ে রেখেছে। এখন ডিসেম্বর মাস চলছে; কিন্তু শিক্ষার্থীর দেখা মিলছে না। কেউ ভর্তির তথ্য জানতেও আসছে না। প্রধানমন্ত্রীর কাছে আবেদন অন্তত এক মাসের জন্য হলেও স্কুল খুলে দিন। স্কুলে ক্লাস-পরীক্ষা কিছুই নেয়া হবে না। তবে শুধু ভর্তি কার্যক্রমটা যেন চালানো যায়। যাতে আগামী বছর কিন্ডারগার্টেন স্কুলগুলো টিকে থাকতে পারে এবং ১০ লাখ শিক্ষক-কর্মচারী জীবন ধারণ করতে পারেন।

Facebook Comments Box


Posted ৯:১৪ পূর্বাহ্ণ | শনিবার, ২৬ ডিসেম্বর ২০২০

ajkerograbani.com |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

advertisement
advertisement
advertisement

আর্কাইভ

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০
১১১২১৩১৪১৫১৬১৭
১৮১৯২০২১২২২৩২৪
২৫২৬২৭২৮২৯৩০