শনিবার ২৪শে জুলাই, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ | ৯ই শ্রাবণ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

শিক্ষা রসাতলে শিক্ষার্থীরা অন্ধকার পথে: সবই খোলা, লকডাউন শুধু শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে

  |   বুধবার, ২৩ জুন ২০২১ | প্রিন্ট  

শিক্ষা রসাতলে শিক্ষার্থীরা অন্ধকার পথে: সবই খোলা, লকডাউন শুধু শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে

করোনার প্রভাবে বাংলাদেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান  সোয়া এক বছরের বেশি সময় ধরে বন্ধ আছে। বাংলাদেশ ছাড়াও  আরও ১৩টি দেশে ২০২০ সালের মার্চ মাস থেকে লাগাতার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ। তবে দক্ষিণ এশিয়ায় বাংলাদেশই একমাত্র দেশ, যেখানে অব্যাহতভাবে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সোয়া এক বছরের বেশি বন্ধ রয়েছে।
দেশে প্রথম কোভিড-১৯ রোগী শনাক্তের পর ২০২০ সালের ১৭ মার্চ সরকার সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করে। গত বছরের ৩০ মের পর পর্যায়ক্রমে সবকিছু খুলে দিলেও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার বিষয়টি বারবার পিছিয়ে অবশেষে চলতি বছরের ৩০ মার্চ স্কুল-কলেজ এবং ২৩ মে থেকে বিশ্ববিদ্যালয় খোলার সিদ্ধান্ত হয়। কিন্তু মার্চের শুরুতে করোনা সংক্রমণ বাড়ায় সরকার আবারও স্কুল খোলার সিদ্ধান্ত পিছিয়ে দিচ্ছে দফায় দফায়। প্রশ্ন হচ্ছে, করোনার বর্তমান ঢেউ যদি দীর্ঘ বা তীব্র হয়, তাহলে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার সিদ্ধান্তে সরকারের অটল থাকা উচিত কি না।
এ মুহূর্তে একমাত্র শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ছাড়া আর কিছুই বন্ধ নেই। সর্বশেষ গত ১২ জুন শিক্ষা মন্ত্রণালয় এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, ৩০ জুন পর্যন্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকবে। এরই মধ্যে গত ১৬ জুন সরকার নতুন করে এক মাসের জন্য লকডাউন ঘোষণা করেছে। এখন আরেক দফায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধের ঘোষণা আসছে এটা নিশ্চিত। তবে তারপরও যে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খুলবে তা বলার সুযোগ নেই। কারণ এখন আবার প্রায় সারা দেশেই করোনা সংক্রমণ এবং মৃত্যু সংখ্যা বাড়ছে। এমন পরিস্থিতিতে আদৌ প্রকৃত অর্থে কবে নাগাদ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খোলা হবে এ নিয়ে কেউ কিছু বলতে পারছেন না। ইতিপূর্বে শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি এমন ঘোষণা দিয়েছিলেন যে, করোনা সংক্রমণ ৫ শতাংশে নামলে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খোলা হবে। তার আগে খোলা হবে না যত আন্দোলনই করুক না কেন। তাছাড়া বিভিন্ন সময়ে একথাও বলা হয়েছিলো যে, শিক্ষার্থীদের টিকা দেয়া সম্পন্ন হলে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খুলে দেয়া হবে। কিন্তু গত ৭ ফেব্রুয়ারি থেকে গণটিকা প্রদান শুরু করার পর এ পর্যন্ত ১ কোটি ২৯ হাজার ৩৪৮ ডোজ টিকা দেয়া সম্পন্ন হয়েছে ২৬ এপ্রিল পর্যন্ত। এরমধ্যে কোনো র্শিক্ষার্থী টিকা পায়নি।
তবে করোনা যে সহজে বিদায় নিচ্ছে না, তা মোটামুটি অনুমেয়। জাতিসংঘও বলছে, মৌসুমী রোগ হিসেবে এটি পৃথিবীতে বিরাজ করতে পারে। বিশ্বগ্রামের অংশ হিসেবে তাই সারা বছর বাংলাদেশে অল্পবিস্তর করোনা রোগী থাকা অনেকটা স্বাভাবিক। আর তাই যদি হয়, তাহলে কি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান চিরতরে বন্ধ থাকবে
টিভি, অনলাইন বা রেডিওর মাধ্যমে কোথাও কোথাও শিক্ষা কার্যক্রম শুরু হলেও, দরিদ্র এবং দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের শিক্ষার্থীরা শিক্ষার অধিকার থেকে পুরোপুরিই বঞ্চিত থেকে যাচ্ছে। শহরাঞ্চলে টিভি, অনলাইনের মাধ্যমে শিক্ষা কার্যক্রম যতটা চালু আছে তাতে লাভের চেয়ে ক্ষতিই বেশি হচ্ছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। অভিভাবকদেরও মত এমনই। কারণ, অনলাইনে ক্লাস করার নামে ইন্টারনেট ব্যবহার করার সুযোগ পাচ্ছে কোমলমতি, অবুঝ কিশোর-কিশোরীরা। এতে তারা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ছাড়াও নিষিদ্ধ নানারকমের গেইম, ভিডিও, এমনকি যৌন সাইটগুলোতেই আসক্ত হয়ে পড়ছে। অনলাইন ক্লাসের কারণে অনেক দরিদ্র, এমনকি রক্ষণশীল পিতা-মাতারাও বাধ্য হয়েছেন সন্তান এন্ড্রয়েড ফোন এবং ইন্টারনেট সংযোগ দিতে। কিন্তু দেখা যাচ্ছে, লেখাপড়ার চেয়ে অন্য কিছুতেই আসক্ত হচ্ছে বেশি। কিশোর-কিশোরীদের মধ্যে নানা অপরাধ প্রবণতাও এতে বেড়ে যাচ্ছে। অনেকের মানসিক সমস্যাও দেখা দিচ্ছে। অভিভাবকরা এসব নিয়ে মহা দুশ্চিন্তার মধ্যে পড়েছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবন শেষ করে চাকরিতে ঢোকার পরিকল্পনা মাঠে মারা যাচ্ছে। তাই তারা অত্যন্ত অস্থিরতায় ভুগছেন। বার বার দাবি জানাচ্ছেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেয়ার জন্য।
সবই খোলা হলো, বন্ধ শুধু শিক্ষা প্রতিষ্ঠান
চলতি বছরের মার্চ থেকে করোনা পরিস্থিতি আবার বাড়তে থাকায় গত ৫ এপ্রিল থেকে নতুন করে লকডাউন শুরু হয়। পরবর্তীতে কঠোর লকডাউনও ঘোষণা করা হয়। এরপর ক্রমান্বয়ে একে একে ব্যাংক, বীমা, শেয়ারবাজার, শপিং মল, দোকানপাট, পরিবহন চালু করা হয়। সর্বশেষ গত ১৬ জুন থেকে সরকারি-বেসরকারি অফিসসহ অন্য সবকিছু খুলে দেয়া হয়। বর্তমানে দেশে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ছাড়া আর সবই খোলা। সরকারি-বেসরকারি অফিস, ব্যাংক-বীমা বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানসহ সব ধরনের অফিস চলছে। চলছে গণপরিবহন। শপিং মল, বিপণিবিতান, মার্কেট সবই খোলা। এখন স্বাভাবিক নিয়মেই চলছে সচিবালয়ের কাজকর্ম। ব্যাংক-বীমা ও শেয়ারবাজারেও স্বাভাবিক লেনদেন শুরু হয়েছে। অভ্যন্তরীণ সব ফ্লাইট চলছে। আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সৌদি আরব, ওমান, কাতার, জর্ডান ও সিঙ্গাপুরে ফ্লাইট চলা শুরু হয়েছে। আরও কিছু ফ্লাইট খোলার সিদ্ধান্ত হবে আগামী মাসে। উচ্চ আদালত চলছে ভার্চুয়ালে পুরোদমেই। এমনকি নি¤œ আদালতের কার্যক্রমও সশরীরে পরিচালনার ঘোষণা দেয়া হয়েছে। উল্লেখযোগ্য বিষয়ের মধ্যে এখন শুধুমাত্র বন্ধ থাকছে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। এছাড়া নাইট ক্লাবগুলো পর্যন্ত আগে থেকেই খোলা। এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা চলছে। এরই মধ্যে পরীমনির ঘটনা নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। শাহজাহান চৌধুরী নামের একজন তার ফেইসবুক পেইজে এমন মন্তব্য করেছেন যে, “যে দেশে নাইট ক্লাব খোলা আর বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ, সেই দেশে জ্ঞানচর্চা না হয়ে যৌনচর্চা হওয়া স্বাভাবিক।”
পাবলিক পরীক্ষা অনিশ্চিত
করোনার কারণে গত বছরের এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা না নিয়ে অটোপাস দেওয়া হয়েছে। স্কুল-কলেজ বন্ধ থাকায় এখনো এসএসসি ও এইচএসসিতে পরীক্ষা নিতে পারেনি সরকার। সাধারণত প্রতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে এসএসসি ও এপ্রিলে এইচএসসি পরীক্ষার আয়োজন করে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। কিন্তু চলতি বছর স্কুল-কলেজ বন্ধ থাকায় কবে এসব পরীক্ষা নেওয়া হবে তা জানেন না সরকারের কর্তাব্যক্তিরাও। এমনকি পরীক্ষা না নেওয়ারও সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। সম্প্রতি শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি এক বক্তব্যে বলেছেন, এসএসসি-এইচএসসি পরীক্ষা নেওয়া সম্ভব না হলে বিকল্প পদ্ধতিতে মূল্যায়ন করা হবে। সব মিলে করোনার কারণে এ বছরের এ দুই পাবলিক পরীক্ষা গ্রহণ অনেকটাই অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকা ও পাবলিক পরীক্ষা নিয়ে অনিশ্চয়তার কারণে এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষার্থীসহ সব শিক্ষার্থীই তাদের ভবিষ্যৎ নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন।
শিক্ষার্থীদের উপর মনস্তাত্ত্বিক প্রভাব
গত একবছরে বাংলাদেশে কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের ছাত্র-ছাত্রীদের মনস্তত্বের ওপর করোনার প্রভাব নিয়ে বেশ কিছু গবেষণা হয়েছে। অনলাইনভিত্তিক সেসব গবেষণায় সীমাবদ্ধতা থাকলেও, প্রায় সকল জরিপেই উঠে এসেছে এদেশের ছাত্র-ছাত্রীরা বিষণœনতা, উদ্বেগ আর মানসিক চাপে ভুগছে। প্রায় এক তৃতীয়াংশ অংশগ্রহণকারী এরকম মানসিক অসুবিধায় ভুগছেন বলে উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়াও আত্মহত্যা এবং আত্মহত্যা-প্রবণতার মতো জটিল মানসিক ব্যাধিও লক্ষ করা গেছে।
দেশব্যাপী ৩৯৯৭ ছাত্রছাত্রীর মধ্যে চালানো এক গবেষণায় উঠে এসেছে শতকরা ৫২.৮৭ ভাগের মধ্যে বিষণœতার উপসর্গ এবং শতকরা ৪০.৯১ ভাগের মধ্যে দুর্ঘটনা পরবর্তী মানসিক বৈকল্যের উপসর্গ ছিল। ১৮ থেকে ২৮ বছর বয়সি ৩৩৩১ শিক্ষার্থীর মধ্যে চালানো আরেক জরিপে দেখা গেছে, শতকরা ১২.৮ ভাগের মধ্যে আত্মহত্যার প্রবণতা রয়েছে।
বিষণœতা, উদ্বেগ আর মানসিক চাপ ছাড়াও স্কুলের ছাত্র-ছাত্রীদের মধ্যে অতিরাগ, জেদ এবং একাকীত্ববোধে ভোগার মতো মানসিক অসুবিধা দেখা যাচ্ছে। বন্ধ স্কুল আর লকডাউনের মতো কর্মসূচির ফলে তাদের সামাজিকীকরণ প্রক্রিয়াও ব্যাপকভাবে বাধাগ্রস্থ হচ্ছে। শিশুর সুস্থ মানসিক ও শারীরিক বিকাশে পরিবার এবং স্কুল উভয়ের গুরুত্বপূর্ণ অবদান থাকে। যেহেতু স্কুল বন্ধ রয়েছে, তাই পরিবারের কাঁধে পুরো দায়িত্ব এসে পড়েছে।
শিশুর বিকাশের জন্য কোনো পরিবারই আদর্শ নয়। প্রায় সকল পরিবারে কোনো না কোনো সীমাবদ্ধতা, যেমন, কলহ, অর্থনৈতিক টানাপড়েন, অপর্যাপ্ত আবাসস্থল, বিদ্যমান থাকে, তার উপর পূর্ণ মাত্রায় শিশুর পড়ালেখার দায়িত্ব পরিবারের ঘাড়ে পড়ায় অনেক বাবা-মাকেও অতিরিক্ত মানসিক চাপে পড়তে হচ্ছে। এই অতিরিক্ত মানসিক চাপ পরিবারের সদস্যদের কথাবার্তা এবং আচরণে প্রকাশিত হচ্ছে। ফলে শিশুর মধ্যে অতিমাত্রায় রাগ, জেদ এবং হিংসাত্মক আচরণ লক্ষ্য করা যাচ্ছে। শিশুদের মতে, বাসায় থাকতে আর ভালো লাগছে না, বোরিং লাগছে। দীর্ঘদিন ঘরবন্দি অবস্থা শিশুদের মানসিক বিকাশে সুদূরপ্রসারী নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে মনোবিজ্ঞানীরা আশঙ্কা করছেন।
মনোবিজ্ঞানীরা বলছেন, দীর্ঘ সময় স্কুলের বাইরে থাকার কারণে অনেক শিশুর মধ্যেই আচরণগত পরিবর্তন আসতে পারে। তারা বলছেন, এমন পরিস্থিতি একদিকে যেমন তাদের সঠিক মানসিক বিকাশে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করতে পারে অন্যদিকে নিয়মতান্ত্রিক জীবনে অনভ্যস্ত হওয়ার প্রবণতা তৈরি হতে পারে শিশুদের মধ্যে।
মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের ন্যাশনাল ট্রমা কাউন্সিল সেন্টারের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজিস্ট ইসরাত শারমিন রহমান বলেন, অনেক বাবা-মাই তাদের কাছে আসছেন যারা বলছেন যে, প্রযুক্তি আসক্তি বাড়ছে। হঠাৎ করে জীবনযাপনের পরিবর্তন শিশুদের উপর প্রভাব ফেলে।
“অনেক সময় আমরা দেখি যে, অনেকের আচরণগত সমস্যা হচ্ছে, অনেকে প্রচণ্ড জেদ করছে, ইমোশনাল রিঅ্যাকশন হচ্ছে, কান্নাকাটি করছে কেউ কেউ, কেউ হয়তো জেদ করে কোন কাজ করা বন্ধ করে দিচ্ছে, ইন্টারনেট ও মোবাইল ব্যবহার বাড়ছে, বলেন তিনি।
তিনি বলেন, বয়সে কিছুটা বড় বা কিশোরদের মধ্যে এই প্রতিক্রিয়া কিছুটা ভিন্ন হচ্ছে।
একটু বড়রা পরিবারের অন্যদের সাথে দূরত্ব তৈরি করছে, আইসোলেটেড হয়ে আছে, তারা তাদের রুমেই বেশি সময় কাটাচ্ছে, এই বিষয়গুলো হচ্ছে।
মনোবিজ্ঞানীরা বলছেন, এ ধরণের আচরণগত পরিবর্তন শিশুদেরকে মহামারি পরবর্তী জীবনেও তাদের খাপ-খাইয়ে নিতে অসুবিধার সৃষ্টি করবে। স্কুলে একটানা দীর্ঘ অনুপস্থিতির কারণে শিক্ষার্থীদের মধ্যে নানা সমস্যা হতে পারে বলে আশংকা করা হচ্ছে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খুললেও সেখানে অন্য শিশুদের সাথে খাপ খাওয়ানো এবং শ্রেনীকক্ষে মনোযোগ বজায় রাখা কষ্টকর হবে শিশুদের জন্য। বছর খানেক ধরে বাচ্চারা যদি একটা রুটিনে অভ্যস্ত হয়ে যায়, তারপর যদি আবার আগের অবস্থায় ফিরে যায়, সেখানে কিন্তু তাকে খাপ-খাওয়াতে বেগ পেতে হবে। কারণ তখন তারা একা থাকতে থাকতে অভ্যস্ত হয়ে পড়বে। অনেকেই তখন স্কুলে যেতে চাইবে না, বন্ধুদের সাথে মেলামেশা এবং সামাজিকীকরণেও এক ধরণের সমস্যা তৈরি হতে পারে।
সমাজবিজ্ঞানীরা বলছেন, করোনাভাইরাসের কারণে পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে শিশুদের মানসিক এবং সামাজিক উন্নয়ন ও বিকাশে বাবা-মাকেই সবচেয়ে বেশি ভূমিকা পালন করতে হবে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক অধ্যাপক ড. ফাতেমা রেজিনা বলেন, একদিকে তাদেরকে যেমন পাশে থাকতে হবে, অন্যদিকে শিশুরা যাতে পরিবারে থেকেই নিয়মতান্ত্রিক জীবনে অভ্যস্ত থাকে সেটি নিশ্চিত করতে হবে।
তিনি বলেন, শিশুরা হতাশ হয়ে গেলে বাবা-মাকে তার পাশে থাকতে হবে। পরিবারের বিকল্প কিন্তু কিছু নেই। আর এই পরিস্থিতিতে সবচেয়ে বড় দায়িত্ব পরিবারের উপরই এসে পড়বে।
তিনি বলেন, ‘বাচ্চাদের পাশে, কিশোর-কিশোরীদের পাশে দাঁড়ানো, তাদের বোঝানো, তাদের সময় দেয়া-পরিবারকেই করতে হবে।
ড. ফাতেমা রেজিনা মনে করেন, স্কুল বন্ধ থাকলেও শিশুদের নিয়মতান্ত্রিক জীবনে অভ্যস্ত রাখতে হলে তাদের দৈনন্দিন কাজের একটি রুটিন করে দেয়া যেতে পারে।
শ্রেণীকক্ষের পাঠদান না থাকায় শিক্ষার্থীরা শিশু শ্রম, তথ্য প্রযুক্তির অপব্যবহার, অসৎ সঙ্গসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের দিকে ঝুঁকে পড়া ছাড়াও হতদরিদ্র, মধ্যবিত্ত পরিবারের অনেক মেধাবী ছাত্রীরা হচ্ছে বাল্য বিয়ের শিকার। বাল্য বিয়ের কারণে বিবাহ বিচ্ছেদ ও মামলার হার দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। যার প্রভাব পরিবার থেকে সমাজে পড়ছে। এতে শিক্ষার্থীরা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি অনেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান শিক্ষার্থীর অভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। শিক্ষকদেরও বিষয়ভিত্তিক অভিজ্ঞতার ঘাটতি দেখা দিচ্ছে।
অভিজ্ঞজনরা যা বলছেন
বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সাবেক আঞ্চলিক উপদেষ্টা অধ্যাপক ডা. মোজাহেরুল হক গণমাধ্যমকে বলেছেন, ‘যেভাবে এখন দেশজুড়ে লকডাউন দেওয়া হচ্ছে তার বিজ্ঞানসম্মত কোনো যুক্তি নেই। অফিস, গণপরিবহন সবই চলছে। যে এলাকায় সংক্রমণ সে এলাকায় লকডাউন থাকা উচিত। সে এলাকায় কাউকে ঢুকতে দেওয়া হবে না, বের হতে দেওয়া হবে না। এখন আবার সংক্রমণের হার বাড়ছে বিশেষ করে সীমান্ত এলাকায়। সরকার এখন স্বাস্থ্যবিধি মেনে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার চিন্তাভাবনা করতে পারে।’
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাস্থ্য অর্থনীতি ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক ড. সৈয়দ আবদুল হামিদের মতে, ‘এ কথা হয়তো সত্য যে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় দেশে করোনা সংক্রমণের হার আশঙ্কার তুলনায় কম। কিন্তু আমাদের জানা নেই, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলা থাকলে সংক্রমণের হার কত হতো। ইউরোপে স্কুল খোলার পর করোনা সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় আবার স্কুল বন্ধ করতে হয়েছে। তবে সংক্রমণের এই বৃদ্ধি যে স্কুল খোলার কারণে হয়েছে, তার গবেষণাভিত্তিক সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্যউপাত্ত আছে বলে মনে হয় না। ধরুন, বাংলাদেশে যদি ফেব্রুয়ারিতে স্কুল খুলে দেওয়া হতো, তাহলে আমরা অনেকেই হয়তো করোনার বর্তমান বৃদ্ধির হারের সঙ্গে স্কুল খোলার একটা যোগসূত্র স্থাপনের চেষ্টা করতাম।’
ড. হামিদের মতে, ‘পুরো এক বছরের বেশি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধের অর্থনৈতিক, সামাজিক ও রাজনৈতিক ক্ষতি আমাদের তেমন ভাবিয়ে তুলেছে বলে মনে হচ্ছে না। কারণ, এ ক্ষতি কলকারখানা, রাস্তাঘাট, গণপরিবহন, হোটেল, রেস্তোরাঁ, বিনোদন কেন্দ্র কিংবা বইমেলা বন্ধ থাকার যে ক্ষতি, তার মতো সহজে প্রকাশ করা যায় না। যেমন ধরুন, আমরা গত বছর লকডাউনের তিন মাসের অর্থনৈতিক ক্ষতির যে হিসাব করেছিলাম, তাতে কিন্তু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকার ক্ষতির হিসাব বিবেচনায় আনা হয়নি। কেননা শিক্ষার বহুমাত্রিক দিক থাকায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধের ক্ষতি সহজে পরিমাপ করা যায় না। আর জিডিপির ভিত্তিতে ক্ষতির হিসাব করলে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় বড় কোনো ক্ষতি হয়েছে, এমন কোনো সুনির্দিষ্ট প্রমাণই পাওয়া যাবে না। কারণ, কিছু কিন্ডারগার্টেন স্কুল ছাড়া আর সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে টিউশন ফিসহ অন্যান্য লেনদেন যথারীতি করোনাপূর্ব অবস্থায় আছে। তাহলে কেউ হয়তো বলতে পারেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এক বছর বন্ধ থাকার ফলে তেমন তো কোনো ক্ষতি হয়নি। তাই আরও কিছুকাল বন্ধ থাকলেই–বা কী হয়? দেখুন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধের ক্ষতি একদিকে যেমন ধীরগতি, অন্যদিকে তেমনই সুদূরপ্রসারী। আর তাই দীর্ঘ এক বছর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধের সুদূরপ্রসারী প্রভাব হয়তো এখন আমরা পরিমাপ করতে পারছি না। তাই বলে এটা যে অনুপস্থিত, এমনটা ভাবার কোনো যুক্তি নেই। একটু ভাবুন তো, একটি স্কুলপড়ুয়া ছেলে বা মেয়ে কীভাবে দীর্ঘ ১২ মাস পার করল। শহরে না হয় অনলাইনের কল্যাণে স্কুলের সঙ্গে ছাত্রছাত্রীরা সংযুক্ত আছে। কিন্তু লাখ লাখ ছাত্রছাত্রী যারা গ্রামে বসবাস করে, তাদের কথা কেউ কি কখনো ভেবে দেখেছি? বেশির ভাগ নি¤œ আয়ের পরিবারের সন্তানেরা হয়তো আর স্কুলেই ফিরতে পারবে না। অনেকেই হয়তো উপার্জনের পথ বেছে নিয়েছে। তাদের বেশির ভাগই মুঠোফোনসহ বিভিন্ন নেশায় আসক্ত হয়েছে। আর এর সামাজিক ক্ষতির দিকগুলো একটু ভাবুন তো? তারা স্কুলে ফিরলেও তাদের শিক্ষার মান কী রকম হবে, তাও সহজেই অনুমেয়।’
রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (আইইডিসিআর) উপদেষ্টা ডা. মুশতাক হোসেন বলেন, ‘শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এভাবে দীর্ঘমেয়াদে বন্ধ রাখা উচিত হবে না। ঝুঁকিটা যত কমানো যায় সে চেষ্টাই করতে হবে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার প্রস্তুতি নেওয়া উচিত। ধাপে ধাপে স্বাস্থ্যবিধি মেনে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মৌখিক পরীক্ষা বা অন্য পরীক্ষা নেওয়া দরকার। এগুলো পরীক্ষামূলকভাবে চালু করা যেতে পারে। তবে প্রাইমারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সবার পরে খুলতে হবে।’
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের সাবেক পরিচালক অধ্যাপক ড. ছিদ্দিকুর রহমান বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, ‘করোনা সংক্রমণের কারণে গত বছরের মার্চে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ছুটি ঘোষণার পাঁচ-ছয় মাস পর সংক্রমণের হার অনেক কম ছিল। তখন স্বাস্থ্যবিধি মেনে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলা যেত, কিন্তু খোলা হয়নি। কারণ হিসেবে বলা হয়েছিল শীতে সংক্রমণ বাড়বে। কিন্তু শীতে করোনার সংক্রমণ বাড়েনি। তখনো স্কুল-কলেজ খোলা হয়নি। এখন সংক্রমণ ফের ঊর্ধ্বমুখী।’ এই শিক্ষাবিদ বলেন, ‘সংক্রমণের হার কমে এলে স্বাস্থ্যবিধি মেনে স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয় খুলে দিতে হবে। সবাইকে করোনার ভ্যাকসিন নিশ্চিত করা গেলে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলা আরও নিরাপদ হবে।’
উদ্বিগ্ন অভিভাবকরা
একদিকে শিক্ষা থেকে দূরে সরে যাচ্ছে, অন্যদিকে অপরাধসহ নানা খারাপ দিকগুলোতে জড়িয়ে পড়ছে কোমলমতি সন্তানরা। এমন পরিস্থিতিতে অত্যন্ত উদ্বিগ্ন হয়ে পড়ছেন অভিভাবকরা।
বি আইজিডির গবেষণায় বেরিয়ে এসেছে. আগে যেখানে গ্রামের শিক্ষার্থীরা দিনে ম্কুল, কোচিং ও বাড়িতে নিজেদের পড়ালেখা মিলে ১০ ঘণ্টা ব্যয় করত, এখন তা নেমে এসেছে মাত্র ২ ঘণ্টায়, অর্থ্যাৎ ৮০% সময় কমেছে পড়াশোনার। ব্র্যাক ইন্সটিটিউট অব গভর্ন্যান্স অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (বি আইজিডি) আয়োজিত একটি ওয়েবিনারে গবেষণার এসব ফল তুলে ধরা হয়। যদিও মনে হতে পারে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকার সময়ে শিক্ষার্থীদের বাড়িতে নিজেদের পড়াশোনার সময় বৃদ্ধি হওয়ার কথা। কিন্তু গবেষণায় উঠে এসেছে, বাড়িতে শিক্ষার্থীদের নিজেদের পড়ালেখার হার কমেছে অনেকটাই। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধের সময়ে সরকারিভাবে টেলিভিশন ও অনলাইনে ক্লাসের ব্যবস্থা করা হয়েছে। তবে তাতেও শিক্ষার্থীরা খুব বেশি মানিয়ে নিতে পারেনি। তাছাড়া এর সুবিধা তো সবাই পাচ্ছে না। গবেষণায় দেখা যায়, মাত্র ১৬ শতাংশ শিক্ষার্থী টেলিভিশনে ‘ঘরে বসে শিখি’ ও ‘আমার ঘরে আমার স্কুল’ এই দুইটি অনুষ্ঠান দেখছে এবং ১ শতাংশ শিক্ষার্থী অনলাইন ক্লাসে অংশগ্রহণ করেছে। যারা টিভি ক্লাসে অংশগ্রহণ করছে তারা আবার টেলিভিশনে ক্লাস অনুসরণ করাকে বেশ কঠিন বলে মনে করছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধের এই সময় পড়াশোনার সময় কমার বিপরীতে বেড়েছে শিশু শ্রমের হার। গবেষণায় দেখা গেছে- শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধের আগে যেখানে ৪ শতাংশ শিক্ষার্থী ২ দুই ঘণ্টার বেশি আয়মূলক কাজে জড়িত ছিল এখন তার হার দাঁড়িয়েছে ১৬ শতাংশে। এই তথ্যগুলো, গ্রামের শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে পাওয়া গিয়েছে। শহরের বস্তি এলাকাও চিত্রটা মোটামুটি একইরকম।
অভিভাবক মনির হোসেন আশংকা প্রকাশ করে বলেন, অনলাইন ক্লাসের কারণে শিশুদের মোবাইল এবং ইন্টানেটের প্রতি আসক্তি বাড়ছে। এতে সন্তানরা বিপথে চলে যাচ্ছে। তাদের আর ভালো দিকে সম্ভব হবে না।
রাজধানীর রামপুরা এলাকার বাসিন্দা নুরুন্নাহার লাকী। তার দুই সন্তান স্কুলে পড়ে। তিনি অনেকটা অভিযোগের সুরেই বলেন, করোনা ভাইরাসের কারণে স্কুল বন্ধ থাকায় সারাক্ষণই বাসায় থাকছে তার সন্তানেরা। আসক্ত হয়ে পড়ছে মোবাইল এবং ইন্টারনেটের প্রতি। মনোযোগ হারাচ্ছে পড়াশুনার ক্ষেত্রেও।
নুরুন্নাহার লাকী বলেন, “সারাক্ষণই ওদের মাথায় থাকে যে কখন মোবাইলটা নিয়ে গেমস খেলতে বসবে। পড়াশুনার কথা বললে সেখানে কোন কান দেয় না।
রাজধানীর মনিপুর উচ্চ বিদ্যালয় নামে একটি স্কুলের ষষ্ঠ শ্রেণীর শিক্ষার্থী সুমাইয়া রাইদা। স্কুল বন্ধ থাকায় ঘরে থাকতে থাকতে বিরক্ত হয়ে পড়েছে সুমাইয়া। দ্রুত স্কুলে ফিরতে সে উদগ্রীব। “বিরক্ত লাগে এখন। ফোন নিয়ে বসে থাকতে হয়। মোবাইলে এডিক্টেড হয়ে গেছি। কম্পিউটার দেখি, ল্যাপটপ দেখি, গান শুনি, পড়াশোনা অবশ্য হচ্ছে না।
ময়মনসিংহের মুনছুর রহমান জানান, তার ছেলে ষষ্ঠ শ্রেণীর ছাত্র। করোনার কারণে স্কুল বন্ধ থাকায় তার ছেলে বিপথগামী হয়ে যাচ্ছিলো। এখন তার ছেলে মৎস্য ঘেরে শ্রম দিচ্ছে। সে এখন প্রতিদিন দু’শ টাকা আয় করে থাকে।
থমকে গেছে উচ্চ শিক্ষার্থীদের স্বপ্ন
অনির্দিষ্টকালের জন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকাকে কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীদের মধ্যে মানসিক অসুবিধার অন্যতম কারণ হিসেবে গবেষণাগুলো চিহ্নিত করছে। কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ থাকায় তাদের মধ্যে ক্যারিয়ার নিয়ে চরম অনিশ্চয়তা আর হতাশা দেখা দিয়েছে। এই বয়সে একজন ব্যক্তি ভবিষ্যতের জন্য প্রস্তুত হয়, সঙ্গী নির্বাচনের জন্য উদ্যোগী হয়। জীবনের এই ধাপকে বলা হয় নিজেকে আবিষ্কার করা এবং প্রতিষ্ঠিত হওয়ার সময় (ঝবষভ-ফবভরহরহম ঢ়বৎরড়ফ)। এই সময়ের অভিজ্ঞতা অনেকাংশে নির্ধারণ করে একজন মানুষের পরবর্তী জীবন কেমন হবে। অথচ, অতি গুরুত্বপূর্ণ এই সময়ে দেখা যাচ্ছে পরিকল্পনামাফিক কোনো কিছুই হচ্ছে না। যেন সবকিছু থমকে গেছে।
‘সংসদে পরীমনি নিয়ে আলোচনা হয় কিন্তু শিক্ষা নিয়ে হয় না, এ লজ্জা রাখি কোথায়’
সরকার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধে রেখে জাতিকে মেরুদণ্ডহীন করে দিচ্ছে বলে মন্তব্য করে গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ও ট্রাস্টি ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেছেন, এ সরকারের সবচেয়ে বড় ভুল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখা। বিশ্ববিদ্যালয় পরীক্ষা নেবে কিন্তু হল খুলবেন না। এর থেকে বড় ভুল কি হতে পারে? ছাত্ররা কি মাঠে থাকবে? মাটিতে বসে থাকবে?
ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, সংসদে আজ পরীমনি নিয়ে আলোচনা হয় কিন্তু শিক্ষা নিয়ে একটা কথাও হয় না। এই লজ্জা আমরা কোথায় রাখি? এই ভুলের সংশোধন কীভাবে হবে? এই ভুলের সংশোধন তারা (সরকার) করবে না। বর্তমান সরকার বিনা ভোটের সরকার, ভোট ডাকাতির সরকার। এই সরকারের সব সিদ্ধান্ত ভুল হবে, এটায় স্বাভাবিক। আজ সব কিছু খোলা। বাজার খোলা, ব্যাংক খোলা, অফিস খোলা। শুধু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ।

Facebook Comments Box


Posted ১২:১৯ অপরাহ্ণ | বুধবার, ২৩ জুন ২০২১

ajkerograbani.com |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

advertisement
advertisement
advertisement

আর্কাইভ

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০১১১২১৩১৪১৫১৬
১৭১৮১৯২০২১২২২৩
২৪২৫২৬২৭২৮২৯৩০
৩১