• শিরোনাম



    কোন এলাকার খবর দেখতে চান...


    শিশুর দাঁত ও মাড়ির যত্নে করণীয়

    ডা. ফারজানা বাশার | ২০ নভেম্বর ২০১৯ | ৯:৩২ অপরাহ্ণ

    শিশুর দাঁত ও মাড়ির যত্নে করণীয়

    দাঁত আমাদের শরীরের অত্যন্ত সংবেদনশীল ও গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ। মানব দেহে দুই ধরনের দাঁত থাকে। এক সেট দুধ দাঁত যা সাধারণত ৬ থেকে ৭ মাস বয়স থেকে ওঠা শুরু হয় এই দাঁতের সংখ্যা মোট ২০টি। ৬ বছর থেকে দুধ দাঁত পরা ও স্থায়ী দাঁত ওঠা শুরু হয়। স্থায়ী দাঁতের সংখ্যা ৩২টি।
    দুধ দাঁত নিয়ে অনেকেই মনে করেন এটি অস্থায়ী দাঁত-এর যত্ন না নিলেও চলবে কিন্তু একটি শিশুর স্বাভাবিক বৃদ্ধির জন্য এই দাঁত পরিচর্যা ও সুরক্ষা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দুধ দাঁত ছোট বাচ্চার কথা বলা শেখা, খাবার চিবানো, মুখমণ্ডল ও চোয়ালের স্বাভাবিক গঠনের জন্য অপরিহার্য। এ জন্য শিশু বয়স থেকেই শিশুর দাঁত ও মাড়ির যথাযথ পরিচর্যা করতে হবে এবং শিশুর সঙ্গে সঙ্গে পরিবারে অন্যান্য সদস্যদেরও কিছু নিয়ম মেনে চলতে হবে। আমার আজকের লেখায় রয়েছে আপনার এবং আপনার শিশুর জন্য কিছু দরকারি টিপস।
    শিশু যখন মাতৃগর্ভে থাকে তখন থেকেই মাকে সচেতন হতে হবে। মার খাদ্য তালিকায় ক্যালসিয়াম ও ভিটামিন সমৃদ্ধ খাবার অবশ্যই থাকতে হবে যা শিশুর হাঁড় ও দাঁতকে মজবুত করবে।

    শিশু জন্মের পর সাধারণত মুখে কোনো দাঁত থাকে না কিন্তু সে সময় থেকেই শিশুর মাড়ির যত্ন নিতে হবে। মাকে একটি নরম সুতির কাপড় ভিজিয়ে আলতো করে শিশুর মাড়ি, চোয়াল, জিহবা পরিষ্কার করে দিতে হবে। বিশেষ করে প্রতিবার দুধ খাওয়ার পরে। এতে করে মুখে কোনো ইনফেকশন হবে না ও পরবর্তীতে সুস্থ সুন্দর দাঁত জন্মাবে।
    ৬ থেকে ৭ মাস বয়স থেকে শিশুর দাঁত ওঠা শুরু হবে। দাঁতগুলো সিরিয়াল মেনে উঠছে কিনা খেয়াল রাখতে হবে। এ সময় শিশুর নানা ধরনের সমস্যা হতে হবে যেমন, মাড়ি শিরশির করা, ব্যাথা হওয়া, জ্বর হওয়া, পাতলা পায়খানা হওয়া, কান্না করা, মেজাজ খিটখিট হওয়া, যে কোনো কিছু কামড়ানোর চেষ্টা করা। এ সময়টা বাবা মাকে সচেতন হতে হবে এবং ধৈর্য্য ধরতে হবে। মুখের ভেতর পরিষ্কার রাখতে হবে। শিশুর হাত ও খেলনা পরিষ্কার রাখতে হবে। বেশি সমস্যা হলে ডাক্তারের পরামর্শ নিতে হবে।


    দাঁত ওঠা শুরু করলে শিশুকে ব্রাশ চেনাতে হবে। ব্রাশ হতে হবে নরম ব্রিসলের এবং বাবা মাকে নিজ হাতে শিশুর দাঁত ব্রাশ দিয়ে পরিষ্কার করে দিতে হবে। এ সময় টুথপেস্টের কোনো প্রয়োজন নেই। শিশু যখন আস্তে আস্তে বড় হতে থাকবে তখন তাকে নিজে নিজে ব্রাশ করার অভ্যাস তৈরি করতে হবে। এ সময় বাবা মাকে আগ্রহী হতে হবে। তারা যখন ব্রাশ করবেন শিশুটিকেও সঙ্গে নিতে হবে। বাচ্চা দেখে দেখে শিখবে এবং আগ্রহী হবে।

    শিশুর ব্রাশ ও টুথপেস্ট নির্বাচনে সতর্ক হতে হবে। শিশুদের পেস্ট খাওয়ার প্রবণতা থাকে তাই টুথপেস্ট নির্বাচনে ডাক্তারের পরামর্শ নিন। ডাক্তার আপনার শিশুর বয়স অনুযায়ী পেস্ট নির্বাচন করবেন।
    শিশুর জন্য আকর্ষণীয় ব্রাশ ব্যবহার করতে হবে, যাতে শিশু নিজে নিজে ব্রাশিংয়ের প্রতি আগ্রহী হয়ে ওঠে।
    এছাড়া শিশুকে দাঁত বিষয়ক গল্প, ছবি, কার্টুণ দেখাতে পারেন। দিনে অন্তত দুইবার রাতে ঘুমানোর আগে ও সকালে নাস্তার পর ব্রাশ করার অভ্যাস করাতে হবে। এছাড়া ফ্লসিং করে দাঁতের ফাঁকে আটকে থাকা খাবার পরিষ্কার কথাও শেখাতে হবে।
    শিশুর জন্য সঠিক খাদ্যাভাস অত্যন্ত জরুরি চকলেট, চিপস, জুস পরিহার করতে হবে। শাক-সবজি ফল মূল খাদ্য তালিকায় রাখতে হবে। শিশুর সঠিক পুষ্টি নিশ্চিত করতে হবে।
    শিশুর দাঁত নড়া শুরু হলে অবহেলা করা যাবে না। সঠিক সময়ে দাঁত পরাও দাঁত ওঠা অত্যন্ত জরুরি। সঠিক সময়ে দাঁত না পরলে আঁকাবাকা স্থায়ী দাঁত উঠতে পারে।
    আর যদি শিশুর দাঁতে ক্ষয় রোগ হয়েই যায় সেক্ষেত্রে যত দ্রুত সম্ভব ডাক্তারের পরামর্শ মতে চিকিৎসা নিতে হবে।
    সুস্থ সুন্দরভাবে একটি শিশুর বৃদ্ধি সকলের কাম্য। তাই শিশুর দাঁতের সঠিক পরিচর্যা করুন ৬ মাস অন্তর অন্তর দন্ত চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। আজকের শিশুই আগমীর ভবিষ্যৎ।

    লেখক: ডা. ফারজানা বাশার বিডিএস(চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ) বিসিএস (স্বাস্থ্য) এম এস, রেসিডেন্ট কনজারভেটিভ ডেন্টিস্ট্রি অ্যান্ড এন্ডোডন্টিক্স বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়।

    Comments

    comments

    কোন এলাকার খবর দেখতে চান...

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০১১১২১৩
    ১৪১৫১৬১৭১৮১৯২০
    ২১২২২৩২৪২৫২৬২৭
    ২৮২৯৩০৩১  
  • ফেসবুকে আজকের অগ্রবাণী