• শিরোনাম



    কোন এলাকার খবর দেখতে চান...


    শুভদৃষ্টির সময়ে বরের অশুভ চাহনি! রাতভর অন্ধকার ছাদে আটক বরযাত্রী

    অগ্রবাণী ডেস্ক | ১১ মে ২০১৭ | ১:২৪ অপরাহ্ণ

    শুভদৃষ্টির সময়ে বরের অশুভ চাহনি! রাতভর অন্ধকার ছাদে আটক বরযাত্রী

    বিয়ের আসরে শুভ দৃষ্টির সময় বরের অশুভ আচরণে কনের বাড়ি বনাম বরের বাড়ির মধ্যে লেগে যায় ধুন্ধুমার কাণ্ড। যার জেরে নিমন্ত্রণ খেতে এসে আটকে থাকতে হল বরযাত্রীদের। রীতিমতো মুচলেকা দিয়ে তবে ছাড়া পেলেন বরযাত্রীরা।


    রাতভর অন্ধকার ছাদে আটকে থেকে, মশার কামড় খেয়ে, প্রায় এক লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণের আশ্বাস দিয়ে তবে রেহাই পেলেন বরপক্ষ৷ বিয়ে বাড়ি ঘিরে এমনই তুলকালাম কাণ্ডের সাক্ষী থাকল আসানসোলের ময়দাকল এলাকা৷ কয়েকমাস আগে এলাকার বাসিন্দা স্থানীয় এক যুবতীর সঙ্গে বিয়ে ঠিক হয় কালীপাহাড়ির বাসিন্দা মনোজ মাহাতোর৷ দু’পক্ষের সম্মতিতেই বিয়ের দিন ঠিক হয় ৯ মে, মঙ্গলবার৷ পাত্রীর বাবা একবারেই হতদরিদ্র দিনমজুর।

    ajkerograbani.com

    পাত্রীর ভাই পাড়ার ক্লাবের ছেলেরদের সঙ্গে চাঁদা তুলে ধার করে বোনের বিয়ের যথাসাধ্য আয়োজন করেছিলেন৷ মঙ্গলবার সকাল থেকে ময়দাকলের বাড়িতে ছিল সাজ সাজ রব৷ বাড়ি ভর্তি আত্মীয়স্বজন৷ রাধাবল্লভি, মটরপনির, মাংস, মিষ্টি সহকারে অতিথি আপ্যায়নের বন্দোবস্ত ছিল। সন্ধে হতে না হতেই সানাইয়ের সুর বাজতে থাকে বিয়েবাড়িতে৷ এর মধ্যেই মহাসমারোহে বর বাবাজির আগমন হয়৷ কিন্তু তার পর থেকেই কেমন যেন তাল কাটতে শুরু করল৷ বরের অস্বাভাবিক আচরণে ফিসফাস শুরু হয় বিয়েবাড়িতে৷ এর পরেই বিপত্তি৷

    বিয়ে তখন মাঝপর্বে। মালাবদল হয়ে গিয়েছে৷ একটু পরেই বর-বউয়ের শুভদৃষ্টি হওয়ার কথা৷ আচমকা বর বাবাজি নববধূর দিকে তাকিয়ে কেমন রহস্যময় চোখ করে হাসতে শুরু করে৷ নিজের মাথা ঝাঁকুনি দিয়ে ঘোরাতে থাকে৷ তার পরেই বিকট চিৎকার জুড়ে দেন৷ বরযাত্রীরা শান্ত করার চেষ্টা করলেও লাভ হয়নি৷ ততক্ষণে কনেপক্ষ বিষয়টা কিছুটা আন্দাজ করতে পেরেছেন৷

    ছাদনাতলায় বরবেশে যিনি বিয়ে করতে এসেছেন, তিনি মানসিক ভারসাম্যহীন। ব্যস বিয়ে ভণ্ডুল। চারদিকে চিৎকার, চেঁচামেচি৷ বর-সহ বরযাত্রীদের উত্তম মধ্যম দেওয়ার প্রস্তুতি নিতে শুরু করেন কনের বাড়ির লোকজন৷ বিপদের গন্ধ পেয়ে জনাকয়েক বরযাত্রী ততক্ষণে সরে পড়েছেন৷ বাকিদের তড়িঘড়ি পাকড়াও করে কনেপক্ষ৷ এক এক করে শুরু হয় জেরা।

    বরের জামাইবাবুর সাফাই, তিনি দশ বছর পর শালার বিয়েতে এসেছেন তাই তিনি কিছু জানেন না৷ বরের মা উর্মিলা মাহাতোর দাবি, ‘ছেলের মাথায় মাঝেমধ্যে দেবী ভর করে’৷ বরের মামা অবশ্য গণপিটুনির ভয়ে সব উগরে দেন৷ স্পষ্ট জানান তাঁর ভাগ্নেটি বদ্ধ পাগল৷ শুধু তাই নয়, আগেও ভাগ্নের বিয়ে হয়েছিল৷ কিন্তু বরের পাগলামি দেখে প্রথম পক্ষের বউ বিয়ের কয়েকদিনের মাথায় পালিয়ে যায়৷ বরযাত্রীদের কেউ কেউ আবার জানান, একটা নয়, এর আগে বাবাজীবনের দুটো বিয়ে হয়েছে৷ সব শুনে ক্ষেপে লাল কনে পক্ষ৷ বাড়ির ছাদে আটকে রাখা হয় বরযাত্রীদের৷ রাতভর বন্দি থাকে বরপক্ষ৷

    খবর পেয়ে সকালে ছুটে আসেন আসানসোল পুরনিগমের দুই পুরপ্রতিনিধি ভৃগু ঠাকুর ও রবিউল ইসলাম৷ ছুটে আসে আসানসোল দক্ষিণ থানার পুলিশও৷ কনের ভাইয়ের দাবি, বরপক্ষকে এখনই বর জোগাড় করে দিতে হবে নইলে দেড়লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ লাগবে৷ নেতারা পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টাও করেন৷ তাদের মধ্যস্থতাতেই গণধোলাই থেকে বাঁচেন পাত্রপক্ষ৷ পাড়া জুড়ে হইচই পড়ে যায়৷ খবর পেয়ে ততক্ষণে কয়েকশো মানুষ জড়ো হয়ে গিয়েছেন৷ বিয়ের আসর শিকেয় ওঠে৷ বিয়ের আসর বদলে যায় বিচারসভায়৷

    অসহায় বরপক্ষের কাছে অবশ্য বিকল্প বর বা ক্ষতিপূরণের টাকা— কোনওটাই ছিল না৷ বুধবার দিনভর আটকে থাকেন বরযাত্রীরা৷ সালিশি সভায় বরপক্ষ মুচলেকা দেয়, একলক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থা তাঁরা করে দেবেন৷ শেষে পুলিশকেই হস্তক্ষেপ করতে হয়৷ বর বাবাজীবন ও বরের মাকে একপ্রকার উদ্ধার করেই থানায় নিয়ে যায় পুলিশ৷

    Facebook Comments Box

    কোন এলাকার খবর দেখতে চান...

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
    ১০১১১২১৩১৪
    ১৫১৬১৭১৮১৯২০২১
    ২২২৩২৪২৫২৬২৭২৮
    ২৯৩০৩১  
  • ফেসবুকে আজকের অগ্রবাণী


  • Notice: ob_end_flush(): failed to send buffer of zlib output compression (0) in /home/ajkerogr/public_html/wp-includes/functions.php on line 4757