শনিবার ৩১শে জুলাই, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ | ১৬ই শ্রাবণ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

শেখ ফজলে নূর তাপসের আসনে প্রার্থী হতে আগ্রহী যারা

ডেস্ক   |   মঙ্গলবার, ২৮ জানুয়ারি ২০২০ | প্রিন্ট  

শেখ ফজলে নূর তাপসের আসনে প্রার্থী হতে আগ্রহী যারা

ঢাকার দুই সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে কাপছে পুরো ঢাকা মহানগরী। এই নির্বাচনের আর মাত্র দুইদিন বাকি রয়েছে। কিন্তু এই সিটি নির্বাচনের ডামাঢোলের মাঝেও ধানমণ্ডি আসনে কে প্রার্থী হবে তা নিয়ে শুরু হয়েছে আওয়ামী লীগের মধ্যে জল্পনা কল্পনা, প্রতিযোগিতা, লবিং, তদ্বির। আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে ঢাকা দক্ষিণের মেয়রপ্রার্থী হয়েছেন শেখ ফজলে নূর তাপস। তিনি ঢাকা ধানমণ্ডি আসনের এমপি ছিলেন। সিটি নির্বাচন করার জন্য তিনি এই আসন থেকে পদত্যাগ করেছেন। আইনানুযায়ী পদত্যাগের নব্বই দিনের মধ্যে এই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।
নির্বাচন কমিশন সূত্রে বলা হয়েছে যে, সিটি নির্বাচনের পরপরই ধানমণ্ডির শুন্য আসনের জন্য তফসিল ঘোষণা করা হবে। আওয়ামী লীগের মদ্যে একাধিক ব্যক্তি এই নির্বাচনে ধানমণ্ডির অভিজাত এই আসনে প্রার্থী হওয়ার জন্য উদগ্রীব হয়ে আছেন। নির্বাচনের প্রচারণার মধ্যেও এই আসনে প্রার্থীতা যেন হয় সেজন্য বিভিন্ন মহলে দেনদরবার করছেন। যদিও আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, সিটি নির্বাচন শেষ হওয়ার আগে ধানমণ্ডির আসন নিয়ে কোন কথাবার্তা বলা যাবে না। এই আসনের প্রার্থীতা নিয়েও কেউ ইচ্ছা প্রকাশ করবেন না। কারণ এতে সিটি নির্বাচন ক্ষতিগ্রস্থ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। কিন্তু এরকম যতই নির্দেশনা থাকুক না কেন, অনেকেই এই আসনের জন্য ইতিমধ্যেই প্রভাবশালী ব্যক্তিদের কাছে ধর্ণা দিয়েছেন এই প্রভাব পাওয়া গেছে। ধানমণ্ডির আসনের জন্য যারা প্রার্থী হতে ইচ্ছুক বা বিভিন্ন মহলে দেনদরবার করছেন বলে খবর পাওয়া গেছে তাদের মধ্যে রয়েছেন ঢাকা দক্ষিণের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক এবং শেখ ফজেলে নূর তাপসের নির্বাচনী পরিচালনায় সার্বক্ষণিক সহযোগি এডভোকেট কাজী মোর্শেদ হোসেন কামাল। তিনি প্রার্থী হওয়ার জন্য ইতিমধ্যেই আওয়ামী লীগের বিভিন্ন হেভিওয়েট নেতাদের সঙ্গে তার অভিপ্রায় ব্যক্ত করেছেন বলে একাধিক শীর্ষ নেতা জানিয়েছেন।
তবে আওয়ামী লীগের একজন শীর্ষ নেতা জানিয়েছেন, ঢাকার ধানমণ্ডির আসনটি একটি স্পর্শকাতর এবং অভিজাত আসন। কাজেই মোর্শেদ কামালকে শেষ পর্যন্ত এই আসনে দেওয়া হবে নাকি কোন হেভিওয়েট নেতাকে দেওয়া হবে সে ব্যাপারে এখন পর্যন্ত তারা চিন্তাভাবনা করেনি।
আওয়ামী লীগের মনোনয়ন কমিটির একজন প্রভাবশালী সদস্য বলেছেন, এখন পর্যন্ত ধানমণ্ডির আসন নিয়ে আওয়ামী লীগের মধ্যে চিন্তাভাবনা আলাপ আলোচনা কিছুই হয়নি।
ধানমণ্ডিতে আরেকজনের বিষয় আলোচিত হচ্ছে, তিনি হচ্ছেন জাহাঙ্গীর কবির নানক। ২০০৮ এবং ২০১৪ সালে তিনি মোহাম্মদপুরের একটি আসন থেকে নির্বাচন করেছিলেন। কিন্তু ২০১৮ সালের ৩০ ডিসেম্বর নির্বাচনে তাকে মনোনয়ন বঞ্চিত করা হয়। মনোনয়ন বঞ্চিত করার পর এবার কাউন্সিলে তিনি পুরস্কৃত হয়েছেন। যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক থেকে আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্যও হয়েছেন। কিন্তু তারপরও তিনি ধানমণ্ডির এই আসনের জন্য আগ্রহী বলে তার ঘনিষ্ঠদের জানিয়েছেন। সাম্প্রতিক সময়ে অসুস্থ হয়ে তিনি সিঙ্গাপুর থেকে চিকিৎসা করে এসেছেন।
কিন্তু আওয়ামী লীগের একজন নেতা বলেছেন, জাহাঙ্গীর কবির নানককে মনোনয়ন না দেওয়ার প্রেক্ষিতে যে পুরস্কার দেওয়ার কথা ছিল সেই পুরস্কার তাকে ইতিমধ্যেই দেওয়া হয়েছে। নতুন করে তাকে ধানমণ্ডির আসন দেওয়ার প্রশ্নই আসে না।
আরেকজন আগ্রহ প্রকাশ করেছেন তিনি হলেন সাবেক এফবিসিসিআইয়ের সভাপতি শফিউল ইসলাম মহিউদ্দিন। যিনি ২০১৮ সালের ৩০ ডিসেম্বর নির্বাচনে ব্যবসায়ীদের ঐক্যবদ্ধ করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। তিনি নির্বাচনে আগ্রহী। ব্যবসায়ী মহলে তিনি ধর্ণা দিচ্ছেন তাকে প্রার্থী করার জন্য আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনাকে যেন বোঝানো হয়।
কিন্তু আওয়ামী লীগের একাধিক নেতার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, তারা ধানমণ্ডি আসনে চমক হিসেবে একটা পরিচিত মুখ চাইছেন। যিনি সকলের কাছে গ্রহণযোগ্য। ধানমণ্ডিতে যেহেতু ৩২ নাম্বার, বঙ্গবন্ধু ভবন, জাতির পিতার স্মৃতি বিজড়িত এলাকা। কাজেই এখানে তারা অনেক ভেবেচিন্তে প্রার্থী দেবেন এবং এমনভাবে দেবেন যার জাতীয়ভাবে একটি পরিচিতি রয়েছে। সবচেয়ে বড় কথা হলো সিটি নির্বাচন নিয়ে আওয়ামী লীগের নেতারা ব্যস্ত। ধানমণ্ডি আসরে ব্যাপারে তাদের মাথায় এখন কোন চিন্তা নেই। সিটি নির্বাচনের পরই এ ব্যাপারে আলাপ আলোচনা শুরু হবে। তখন নিশ্চয়ই আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা এমন একজনকে বেছে নিবেন যিনি ধানমণ্ডির জন্য একজন যোগ্য প্রার্থী।

Facebook Comments Box


Posted ১১:৫৩ অপরাহ্ণ | মঙ্গলবার, ২৮ জানুয়ারি ২০২০

ajkerograbani.com |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

advertisement
advertisement
advertisement

আর্কাইভ