• শিরোনাম



    কোন এলাকার খবর দেখতে চান...


    শেখ সেলিম-ফারুক খানসহ আ.লীগের প্রেসিডিয়ামে থাকছেন যারা

    ডেস্ক | ২০ ডিসেম্বর ২০১৯ | ১:০৮ অপরাহ্ণ

    শেখ সেলিম-ফারুক খানসহ আ.লীগের প্রেসিডিয়ামে থাকছেন যারা

    কাউন্সিল এবং জাতীয় কমিটির পর আওয়ামী লীগের সবচেয়ে শক্তিশালী ফোরাম হলো প্রেসিডিয়াম। প্রেসিডিয়ামকেই বলা হয় আওয়ামী লীগের নীতি নির্ধারক সংস্থা। আওয়ামী লীগ সভাপতির পরেই প্রেসিয়ামের অবস্থান। আওয়ামী লীগের গঠনতন্ত্র অনুসারে প্রেসিডিয়াম হলো সিদ্ধান্ত গ্রহণের কেন্দ্রবিন্দু।


    এবার আওয়ামী লীগের কাউন্সিলে কারা প্রেসিডিয়ামের সদস্য থাকবেন আর কারা থাকবেন না এ নিয়ে নানা জল্পনা কল্পনা চলছে।

    ajkerograbani.com

    আওয়ামী লীগের দায়িত্বশীল সূত্র বলছে, সংগঠনকে শক্তিশালী এবং আরো গতিশীল করতে প্রেসিডিয়ামকে আরো কার্যকর এবং অর্থবহ করা হবে। দলের সংগঠক এবং যারা দলকে সময় দেন এমন অনেককে প্রেসিডিয়ামে অন্তনর্ভুক্ত করা হবে।

    সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে , প্রেসিডিয়ামে যে সব সদস্যার আছেন তাদের মধ্যে অনেকেই বার্ধ্যকের কারণে দলের দায়িত্ব যথাযথ ভাবে পালন করতে পারেন না। অনেকেই দীর্ঘদিন ধরে দলের কার্যক্রমে নিষ্ক্রিয়। এ কারণেই এবার প্রেসিডিয়ামে বেশ কিছু পরিবর্তন আসতে পারে বলে আওয়ামী লীগের দায়িত্বশীল সূত্রগুলো জানিয়েছে।

    সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, দলের সংসদ উপনেতা এবং প্রেসিডিয়ামের এক নম্বর সদস্য বেগম সাজেদা চৌধুরী শারীরিক ভাবে অসুস্থ। শেষ পর্যন্ত তিনি প্রেসিডিয়ামে নাও থাকতে পারেন বলে একাধিক দায়িত্বশীল সূত্র নিশ্চিত করেছে। কিন্তু অন্য একটি সূত্র বলেছে, সাজেদা চৌধুরীর অতীতের যে অবদান, বিশেষ করে ৭৫ এর ১৫ আগস্টের পর তাঁর যে ভূমিকা, সেজন্য তাঁর প্রতি সম্মান জানিয়ে তাকে প্রেসিডিয়ামে রাখা হতে পারে।

    আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়ামের তৃতীয় সদস্য হলেন শেখ ফজলুল করিম সেলিম। সাম্প্রতিক সময়ে নানা কারণে শেখ ফজলুল করিম সেলিম শেষ পর্যন্ত প্রেসিডিয়ামে থাকবেন কিনা তা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছিল। যদিও সে অনিশচয়তা অনেকাংশে কেটে গেছে তারপরেও সে প্রেসিডিয়ামে থাকবেন সেটা নিঃসঙ্কোচে কেউ বলতে পারবে না। তবে আওয়ামী লীগের একাধিক সূত্র মনে করছে যে, শেষ পর্যন্ত শেখ ফজলুল করিম সেলিম প্রেসিডিয়াম সদস্য হিসেবে থাকবেন।

    আরেক প্রেসিডিয়াম সদস্য বেগম মতিয়া চৌধুরী এবারের প্রেসিডিয়ামে না থাকার সম্ভাবনা বেশি। অন্য একটি অংশ মনে করছে, বেগম মতিয়া চৌধুরীর অতীত ভূমিকা, বিশেষ করে ওয়ান ইলেভেনের সময় তাঁর ভূমিকার কারণে তাকে প্রেসিডিয়ামে রাখা হলেও হতে পারে।

    প্রেসিডিয়ামের আরেক সদস্য মোহাম্মদ নাসিম প্রেসিডিয়ামে যে থাকবেন তা মোটামুটি নিশ্চিত। মোহাম্মদ নাসিম জাতীয় চার নেতার সন্তান এবং তিনি এবার মন্ত্রীত্ব পাননি- সেই বিবেচনায় তাঁর প্রেসিডিয়ামে থাকার সম্ভাবনা বেশি। কাজী জাফর উল্লাহ আওয়ামী লীগ সভাপতির ঘনিষ্ঠ এবং আস্থাভাজন ব্যক্তি। সে হিসেবে তিনি প্রেসিডিয়ামে যে আবার থাকছে তা একপ্রকার নিশ্চিত।

    এডভোকেট সাহারা খাতুন দলীয় কর্মকাণ্ডে এখন সেরকম সময় দিতে পারেন না এবং বার্ধক্যজনিত কারণে তিনি অসুস্থ- এ কারণে প্রেসিডিয়াম সদস্য হিসেবে তাঁর বাদ পড়ার সম্ভাবনা বেশি।

    ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন বার্ধক্যজনিত অসুস্থতায় ভুগছেন। তবে শুধু এই কারণে তাকে প্রেসিডিয়াম থেকে বাদ দেয়া হবেনা বলে অনেকে মনে করেন। শেষ পর্যন্ত হয়তো তিনি প্রেসিডিয়ামে থাকবেন।

    প্রয়াত সৈয়দ আশরাফুল হোসেন এমপির জায়গায় নতুন মুখ প্রেসিডিয়ামে আসবে তা মোটামুটি নিশ্চিত। প্রেসিডিয়ামের আরেক সদস্য শ্রী পীযুশ কান্তি ভট্টাচার্য প্রেসিডিয়ামে থাকবেন না বলে একাধিক দায়িত্বশীল সূত্র মনে করছে। আরেক প্রেসিডিয়াম সদস্য নুরুল ইসলাম নাহিদ যে প্রেসিডিয়ামে থাকছেন না তা মোটামুটি নিশ্চিত। ড. আব্দুর রাজ্জাক এমপি যদি অন্য কোথাও না যান সেক্ষেত্রে তিনি যে প্রেসিডিয়ামে বহাল থাকছেন তা নিশ্চিত করে বলা যায়।

    একই অবস্থা লে. কর্নেল ফারুক খানের অবস্থাতেও। তিনি যে প্রেসিডিয়ামে থাকবেন তা মোটামুটি নিশ্চিত। শ্রী রমেশ চন্দ্র সেন এবার প্রেসিডিয়ামে থাকবেন কিনা তা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে। অনেকে মনে করছেন, শেষ পর্যন্ত হয়তো তিনি প্রেসিডিয়ামে থাকবেন না। অ্যাডভোকেট আব্দুল মান্নান খান এবার প্রেসিডিয়ামে থাকছেন না এটা মোটামুটি নিশ্চিত। কারণ গত মেয়াদে প্রেসিডিয়ামের সদস্য হিসেবে তাকে পুরস্কৃত করা হলেও তিনি সেই পুরস্কারের প্রতি সুবিচার করতে পারেননি। আব্দুল মতিন খসরু হয়তো এবার প্রেসিডিয়ামে থাকবেন।

    প্রেসিডিয়ামে নতুন মুখ কারা আসবেন তা নিয়েও জল্পনা কল্পনা রয়েছে। একাধিক দায়িত্বশীল সূত্র বলছে, আওয়ামী লীগের বর্তমানে যে চারজন যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক রয়েছেন তাদের অন্তত তিনজন এবার প্রেসিডিয়ামে অন্তর্ভূক্ত হতে পারেন। একজন যুগ্ন সাধারণ সম্পাদকের বিরুদ্ধে কিছু অভিযোগের প্রেক্ষিতে তিনি কেন্দ্রীয় কমিটি থেকেই বাদ পড়তে পারেন বলে একাধিক সূত্র আভাস দিয়েছেন। এছাড়া প্রেসিডিয়াম করার ক্ষেত্রে যে রীতি আওয়ামী লীগ অনুসরণ করে যে, বিভিন্ন তৃণমূলের নেতৃবৃন্দ প্রেসিডিয়ামে অন্তর্ভূক্ত করা হয় সেই বিবেচনায় এবার তৃণমূল থেকেও প্রেসিডিয়ামে নতুন মুখ আসতে পারে বলে একাধিক সূত্র মনে করছে। বিশেষ করে চট্টগ্রাম অঞ্চল থেকে এবার প্রেসিডিয়ামে চমক আসতে পারে। খুলনা অঞ্চল থেকেও আলোচিত একজন নেতা এবার প্রেসিডিয়ামে অন্তর্ভূক্ত হতে পারেন। একইভাবে রাজশাহী থেকে আলোচিত একজনকেও প্রেসিডিয়ামে অন্তর্ভূক্ত করা হতে পারে বলে আওয়ামী লীগের দায়িত্বশীল সূত্রগুলো নিশ্চিত করেছে।

    আওয়ামী লীগের একাধিক নেতা বলছে, একটা সময় আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্যরা ডাকসাইটে নেতা ছিলেন এবং তারা দলের অনেক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখতেন। সংগঠনের জন্য কাজ করতেন। ক্রমশ সেই অবস্থার পরিবর্তন হয়েছে। আওয়ামী লীগের গত মেয়াদে প্রেসিডিয়ামের কাজগুলো ছিল খুবই সীমিত। যেহেতু মুজিববর্ষ পালন করবে আওয়ামী লীগ এবং দল গুছিয়ে সেটা করতে চায় সেই বিবেচনায় এবার প্রেসিডিয়ামের ভূমিকা অনেক গুরুত্বপূর্ণ হবে বলে আওয়ামী লীগের দায়িত্বশীল সূত্রগুলো মনে করছে।

    Facebook Comments Box

    কোন এলাকার খবর দেখতে চান...

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
    ১০১১১২১৩১৪
    ১৫১৬১৭১৮১৯২০২১
    ২২২৩২৪২৫২৬২৭২৮
    ২৯৩০৩১  
  • ফেসবুকে আজকের অগ্রবাণী


  • Notice: ob_end_flush(): failed to send buffer of zlib output compression (0) in /home/ajkerogr/public_html/wp-includes/functions.php on line 4757