• শিরোনাম



    কোন এলাকার খবর দেখতে চান...


    শেখ হাসিনাকে হত্যার ষড়যন্ত্র হিসেবেই চালানো হয় ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা

    ইঞ্জিনিয়ার এম এম আবুল হোসেন | ২০ আগস্ট ২০১৭ | ১১:২৩ অপরাহ্ণ

    শেখ হাসিনাকে হত্যার ষড়যন্ত্র হিসেবেই চালানো হয় ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা

    ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে সন্ত্রাসবিরোধী সমাবেশের ডাক দেয় তৎকালীন বিরোধী দল আওয়ামী লীগ। ওই সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন তৎকালীন বিরোধী দল আওয়ামী লীগ সভানেত্রী ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সমাবেশের শেষদিকে ট্রাকের ওপর তৈরি অস্থায়ী মঞ্চে দলের সভানেত্রী বক্তব্য দেয়া শুরু করতেই চারদিক থেকে শুরু হয় গ্রেনেড হামলা। উপর্যুপরি গ্রেনেড হামলায় একের পর এক ছিন্নভিন্ন হতে থাকে সমাবেশে যোগ দেয়া আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের দেহ। ঘটনার আকস্মিকতায় সমাবেশস্থল থেকে যে যার মতো পালাতে থাকেন। এ সময় তৎকালীন মেয়র হানিফসহ আওয়ামী লীগের শীর্ষ কয়েকজন নেতা মানবঢাল তৈরি করে তৎকালীন বিরোধীদলীয় নেতা শেখ হাসিনাকে নিরাপদে গাড়িতে তুলে দেন। তবে গ্রেনেডের প্রচণ্ড শব্দে তিনি সাধারণ শ্রবণশক্তি হারান। ওই ঘটনায় গ্রেনেডের স্পি­ন্টারে আহত হয়ে দীর্ঘদিন চিকিৎসার পর মারা যান তৎকালীন মেয়র হানিফ।
    ইতিহাসের বর্বরোচিত ওই গ্রেনেড হামলায় নিহতদের মধ্যে উলে­খযোগ্যরা হলেন- প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিল­ুর রহমানের স্ত্রী ও আওয়ামী লীগ নেত্রী আইভী রহমান, সাবেক মেয়র মোহাম্মদ হানিফ, তৎকালীন বিরোধীদলীয় নেত্রী শেখ হাসিনার ব্যক্তিগত নিরাপত্তাকর্মী ল্যান্স কর্পোরাল (অব.) মাহবুবুর রশীদ, আবুল কালাম আজাদ, আওয়ামী লীগ কর্মী রেজিনা বেগম, নাসির উদ্দিন সরদার, আতিক সরকার, আবদুল কুদ্দুস পাটোয়ারী, আমিনুল ইসলাম, মোয়াজ্জেম, বেলাল হোসেন, মামুন মৃধা, রতন শিকদার, লিটন মুনশী, হাসিনা মমতাজ রিনা, সুফিয়া বেগম, রফিকুল ইসলাম (আদা চাচা), মোশতাক আহমেদ সেন্টু, আবুল কাশেম, জাহেদ আলী, মোমেন আলী, এম শামসুদ্দিন এবং ইসাহাক মিয়া। বাকি একজনের পরিচয় দীর্ঘ ১৩ বছরেও জানা যায়নি।
    নারকীয় হামলা প্রতিহতে সেই সময়ে কোনই ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি তৎকালীন বিএনপি-জামায়াত জোটের পুলিশ বাহিনী। শত শত রক্তাক্ত-ছিন্নভিন্ন হওয়া মানুষগুলোকে উদ্ধারের পরিবর্তে পরিকল্পিতভাবে চতুর্দিক থেকে টিয়ারগ্যাস ছুড়ে নির্বিঘেœ ঘাতকদের পালিয়ে যেতে সাহায্য করা হয়। এমনকি অবিস্ফোরিত গ্রেনেড উদ্ধার করা হলেও আলামত নষ্ট করতে সেগুলোর বিস্ফোরণ ঘটানো হয়। হামলাস্থলে থাকা সকল আলামত একে একে ধ্বংস করা হয়।
    এমনকি শত শত আহত যেন চিকিৎসা না পায় সেজন্যও উপরের নির্দেশে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ, তৎকালীন পিজি হাসপাতালসহ সরকারী হাসপাতালগুলোর চিকিৎসকদের অলিখিত নিষেধাজ্ঞাও দেয়া হয়েছিল। হামলার পর অগণিত আহতকে নিয়ে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের সামনে নেয়া হলেও মূল প্রবেশদ্বার বন্ধ করে রাখা হয়। বিএনপি-জামায়াত জোট সমর্থক ড্যাবের নেতারাও চিকিৎসা দিতে গড়িমসি করে। ফলে আহত বেশিরভাগ নেতাকর্মীই সরকারী হাসপাতালের পরিবর্তে শিকদার মেডিক্যাল কলেজ, মিটফোর্ড হাসপাতালসহ নানা ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়। এমনকি নিহতদের লাশের ময়নাতদন্ত নিয়েও নানা ষড়যন্ত্র-চক্রান্ত ঘটেছে ওই ভয়াল সময়েও।
    বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে তৎকালীন বিরোধীদলীয় নেতা শেখ হাসিনাকে হত্যার সুপরিকল্পিত ষড়যন্ত্র হিসেবে যে এ হামলা চালানো হয় তা দিবালোকের মতো স্পষ্ট। কিন্তু দলের নেতাকর্মীরা মানবঢাল রচনা করে গ্রেনেড হামলা থেকে বঙ্গবন্ধুকন্যাকে যেভাবে নিশ্চিত মৃত্যুর হাত থেকে রক্ষা করেছেন তা বিশ্বে দৃষ্টান্ত হয়েই থাকবে।
    লেখক : যুগ্ম সম্পাদক, বঙ্গবন্ধু প্রকৌশলী পরিষদ, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক গোপালগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগ।


     


    Facebook Comments

    কোন এলাকার খবর দেখতে চান...

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০১১১২
    ১৩১৪১৫১৬১৭১৮১৯
    ২০২১২২২৩২৪২৫২৬
    ২৭২৮২৯৩০৩১  
  • ফেসবুকে আজকের অগ্রবাণী


  • Notice: ob_end_flush(): failed to send buffer of zlib output compression (0) in /home/ajkerogr/public_html/wp-includes/functions.php on line 4755