• শিরোনাম

    কোন এলাকার খবর দেখতে চান...

    শেখ হাসিনার ঈর্ষণীয় সাফল্যে সারা বিশ্ব রীতিমতো বিস্মিত

    অ্যাডভোকেট শেখ সালাহ্উদ্দিন আহমেদ | ১১ সেপ্টেম্বর ২০১৯ | ১২:০২ অপরাহ্ণ

    শেখ হাসিনার ঈর্ষণীয় সাফল্যে সারা বিশ্ব রীতিমতো বিস্মিত

    এক বিস্ময়কর সাফল্য দেখিয়ে অনন্য ও ঈর্ষণীয় অবস্থান তৈরি করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বিচক্ষণতা ও নেতৃত্বের দৃঢ়তা দিয়ে এক নতুন বাংলাদেশ তৈরির লক্ষ্য নিয়ে এগিয়ে চলেছেন তিনি। তার হাত ধরে সফলতা এসেছে কূটনীতি, অর্থনীতি ও সামাজিক উন্নয়নের মতো সব ক্ষেত্রেই। বাংলাদেশের বন্ধন তৈরি করেছেন বিশ্বব্যাপী।
    একদিকে ভারত, অন্যদিকে চীন, যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের সঙ্গে সম্পর্ক ও উন্নয়ন অংশীদারিত্বে স্থাপিত হয়েছে মাইলস্টোন। অবকাঠামো উন্নয়নের ক্ষেত্রে নজরকাড়া সাফল্য হিসেবে দেখা দিচ্ছে পদ্মা সেতু। পাশাপাশি চার লেন মহাসড়ক, উড়ালসড়ক এখন আর স্বপ্ন নয়, রীতিমতো বাস্তবতা। শেখ হাসিনার পরিকল্পনাতেই বাংলাদেশ এখন প্রায় সব ক্ষেত্রে ডিজিটাল। পাওয়া যাচ্ছে পর্যাপ্ত বিদ্যুৎ। তার প্রযুক্তিবান্ধব কৃষিনীতির কারণেই বাংলাদেশ ইতিমধ্যে খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতার পর রপ্তানির সক্ষমতাও অর্জন করেছে।
    রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, উন্নয়নের জন্য সবার আগে প্রয়োজন স্থিতিশীলতা। আর এখনকার মতো রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বাংলাদেশে নিকট অতীতে দেখা যায়নি। দেশের বর্তমান রাজনৈতিক অঙ্গনের প্রায় পুরোটাই আওয়ামী লীগ সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নিয়ন্ত্রণে। তাকে কেন্দ্র করেই আবর্তিত হচ্ছে সব রাজনৈতিক কর্মসূচি ও কর্মকাণ্ড।

    লিঙ্গসমতা, নারীর ক্ষমতায়ন, শিশু ও মাতৃমৃত্যু হার কমানোর সূচকে শেখ হাসিনার সাফল্যে বিশ্ব রীতিমতো বিস্মিত। যার স্বীকৃতিস্বরূপ সাউথ সাউথ পুরস্কার পেয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। পেয়েছেন ইউএনএমডিজি পুরস্কারও। জাতিসংঘের পরিবেশবিষয়ক সর্বোচ্চ পুরস্কার ‘চ্যাম্পিয়ন্স অব দ্য আর্থ’ও পেয়েছেন তিনি। অবশ্য শুধু এসবই নয়, বাংলাদেশের বিভিন্ন সেক্টরের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখার জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ১৯৯৭ সাল থেকে এ পর্যন্ত আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ৩০টির অধিক পুরস্কার ও পদক অর্জন করেছেন। শুধু পুরস্কারপ্রাপ্তিতেই নয়, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সফলতার কথা এখন বিশ্বনেতারা জানতে চান বিভিন্ন ফোরামে। বহুপাক্ষিক সম্মেলনগুলোয় শেখ হাসিনা উপস্থিত হলেই অন্যান্য রাষ্ট্রনায়ক ও সরকারপ্রধানরা কাছে এসে অভিনন্দন জানান। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের পর আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে এমন পরিচিতি বাংলাদেশের আর কোনো নেতা পাননি।


    প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এখন ক্ষমতায় থাকা বিশ্বের সবচেয়ে দীর্ঘমেয়াদি নারী নেত্রী। ভারতের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী, ব্রিটেনের মার্গারেট থ্যাচার, জার্মানির অ্যাঙ্গেলা মের্কেল এবং শ্রীলঙ্কার চন্দ্রিকা কুমারাতুঙ্গাকেও টপকে গেছেন শেখ হাসিনা। উইকিলিকসের সর্বশেষ গবেষণা মতে, শেখ হাসিনা বর্তমান বিশ্বের পুনরুত্থান করা সবচেয়ে আইকনিক নেত্রী।
    প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা টানা তৃতীয় ও চতুর্থবারের মতো প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করছেন। ১৯৯৬ সাল থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত প্রথম মেয়াদে তিনি দেশ পরিচালনা করেছেন, ২০০৮ সালে ফের ক্ষমতায় আসেন। ২০১৪ ও ২০১৮ সালের জাতীয় নির্বাচনে নিরঙ্কুশ ভোট পেয়ে তার দল আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হয়। ২০১৯ সালের ৭ জানুয়ারী তিনি চতুর্থবারের মতো প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পান। তিনি ইতিমধ্যে ১৫ বছর ক্ষমতায় রয়েছেন। চতুর্থবার ক্ষমতায় বসে তার একবছর শেষ করলেন সফলতার সঙ্গে। শেখ হাসিনা তার চতুর্থমেয়াদও সফলতার সঙ্গে শেষ করবেন তা হলফ করে বলা যায়। বর্তমান হিসেবে শেখ হাসিনা বিশ্বের সবচেয়ে দীর্ঘমেয়াদে ক্ষমতায় থাকা নারী নেত্রী। শেখ হাসিনা নানা ইস্যুতে বর্তমান বিশ্বের অন্যতম জনপ্রিয় রাষ্ট্রপ্রধানও।
    এ দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম অব্যাহত রাখার পাশাপাশি দল ও সরকারের নেতৃত্বে থেকে বাংলাদেশের জন্য বড় বড় অর্জনও বয়ে এনেছেন শেখ হাসিনা। আজকের ডিজিটাল বাংলাদেশ তার নেতৃত্বেই এগিয়ে যাচ্ছে। এই ডিজিটাল বাংলাদেশের ধারণা তিনিই দিয়েছেন। মানুষের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে তার গৃহীত বিভিন্ন কর্মসূচি জাতীয় আন্তর্জাতিকভাবে প্রশংসিত হচ্ছে। শুধু বাংলাদেশই নয়, বৈশ্বিক নানা সংকট নিয়ে কথা বলা এবং মতামত দেওয়ার মধ্য দিয়ে আন্তর্জাতিক পরিসরেও শেখ হাসিনার পরিচিতি বেড়েছে।

    ’৮১ সালে দেশের মাটিতে ফিরে এলে ঢাকায় লাখো জনতা তাকে স্বাগত জানায়। এ সময় শেরেবাংলা নগরে আয়োজিত সমাবেশে লাখো জনতার সংবর্ধনার জবাবে শেখ হাসিনা সেদিন বলেছিলেন, ‘সব হারিয়ে আমি আপনাদের মাঝে এসেছি; বঙ্গবন্ধুর নির্দেশিত পথে তাঁর আদর্শ বাস্তবায়নের মধ্য দিয়ে জাতির জনকের হত্যার প্রতিশোধ গ্রহণে আমি জীবন উৎসর্গ করতে চাই।’

    ‘পিতা-মাতা, ভাই রাসেল সকলকে হারিয়ে আমি আপনাদের কাছে এসেছি, আমি আপনাদের মাঝেই তাদেরকে ফিরে পেতে চাই। আপনাদের নিয়েই আমি বঙ্গবন্ধুর নির্দেশিত পথে তার আদর্শ বাস্তবায়ন করে বাংলার দুঃখী মানুষের মুখে হাসি ফুটাতে চাই, বাঙালি জাতির আর্থ-সামাজিক তথা সার্বিক মুক্তি ছিনিয়ে আনতে চাই।’

    এর পর থেকেই শুরু হয় শেখ হাসিনার নতুন করে আরেক সংগ্রামের পথ চলা। তার নেতৃত্বে দ্বিধা বিভক্ত আওয়ামী লীগ ঐক্যবদ্ধ হয়ে বাংলাদেশের মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার আদায়ে সামরিক স্বৈরশাসকের বিরুদ্ধে আন্দোলনে নামে।
    তার নেতৃত্বে চারবার রাষ্ট্র ক্ষমতার মধ্যে বর্তমানে টানা তৃতীয়বার আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় রয়েছে। আর চার বার প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করছেন। এছাড়া তিনি তিন বার বিরোধী দলের নেতাও ছিলেন।

    শেখ হাসিনা নীতি ও আদর্শের প্রশ্নে পিতার মতোই অবিচল, দৃঢ় ও সাহসী। তিনি দেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন এবং সকল শ্রেণি-পেশার মানুষের কল্যাণে যুগান্তকারী অবদান রেখে চলেছেন। ‘রূপকল্প ২০২১’ এর মধ্যম আয়ের বাংলাদেশকে ‘রূপকল্প ২০৪১’ এর বাস্তবায়নের মাধ্যমে একটি উন্নত, আধুনিক, সমৃদ্ধ, অসাম্প্রদায়িক কল্যাণকামী রাষ্ট্র গঠনে বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা দৃঢ় প্রতীজ্ঞ।

    লেখক: অ্যাডভোকেট, বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্ট, সভাপতি, সাউথ এশিয়ান ল’ ইয়ার্স ফোরাম ও নারী নির্যাতন প্রতিরোধ আন্দোলন এবং প্রধান সম্পাদক দৈনিক আজকের অগ্রবাণী।

    Comments

    comments

    কোন এলাকার খবর দেখতে চান...

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০১১১২১৩
    ১৪১৫১৬১৭১৮১৯২০
    ২১২২২৩২৪২৫২৬২৭
    ২৮২৯৩০  
  • ফেসবুকে আজকের অগ্রবাণী