বুধবার, জুন ৩০, ২০২১

শ্বাসরোধ করে হত্যার পর মাঠে ফেলে দেওয়া হয় শিহাবের লাশ

  |   বুধবার, ৩০ জুন ২০২১ | প্রিন্ট  

শ্বাসরোধ করে হত্যার পর মাঠে ফেলে দেওয়া হয় শিহাবের লাশ

৬ বছর পর শিশু শিহাব হত্যার মোটিভ ও ক্লু উদ্ধার করেছে ঝিনাইদহ পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। সেই সঙ্গে আসামীদের গ্রেফতারের পর আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি ও সুনির্দিষ্ট সাক্ষ্যপ্রমাণ উপস্থাপন করা হয়েছে বলে জানান ঝিনাইদহ পিবিআইয়ের পুলিশ সুপার মোঃ মাহবুবুর রহমান।
মঙ্গলবার বিকালে ঝিনাইদহ পিবিআইয়ের পুলিশ সুপার মোঃ মাহবুবুর রহমান সাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ খবর জানানো হয়।
পিবিআই সুত্রে জানা গেছে, ২০১৫ সালের ২৮ অক্টোবর চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার কুতুবপুর গ্রামের প্রবাসি তোয়াজ উদ্দীনের শিশু সন্তান শিহাব নিখোঁজ হয়। নিখোঁজের দুই দিন পর, ৩০ অক্টোবর, শিহাবের লাশ উদ্ধার করা হয় পার্শ্ববর্তী শিবপুর গ্রামের ওসমান আলীর জমিতে। এ ঘটনায় নিহতর মা বিলকিস খাতুন ৬ জনকে আসামী করে চুয়াডাঙ্গা সদর থানায় মামলা দায়ের করেন।
মামলাটি প্রথমে থানা পুলিশ তদন্ত করে চুয়াডাঙ্গা ডিবি পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে। সর্বশেষ মামলাটি নতুন ভাবে তদন্তের জন্য চুয়াডাঙ্গার আদালত ঝিনাইদহ পিবিআইকে নির্দেশ দেন।
ঝিনাইদহ পিবিআইয়ের এসআই তহিদুল ইসলাম মামলাটির তদন্তভার নিয়ে হত্যার রহস্য উদঘাটন করতে সক্ষম হন এবং শিশু শিহাব হত্যার প্রধান আসামী ও তার সহায়তাকারীদের গ্রেফতার করেন। পরবর্তীতে আসামিরা আদালতে দায় স্বীকার করে সেচ্ছায় স্বীকারোক্তিমুলক জবানবন্দি দেন।
মামলার সুত্রে জানা গেছে, ঘটনার দিন শিহাব বাড়ির পাশে ইমরানের দোকানে মিষ্টি কিনতে যায়। ফেরার পথে আসামী নয়ন শিহাবকে তার চাচাতো ভগ্নিপতি জমির উদ্দীন পিন্টুর কাছে নিয়ে যায়। পিন্টু নয়নকে ৫০০ টাকা দিয়ে শিহাবের বিষয়ে কাউকে কিছু না জানাতে শাসিয়ে দেয়। পিন্টুর ঘরে শিহাবকে আটকে রেখে চক্রটি গ্রামে নিখোঁজ মাইকিং করে। পরিকল্পনামাফিক প্রধান আসামী লাল্টু শিশু শিহাবের মালয়েশিয়া প্রবাসি পিতা তোয়াজ উদ্দীনের কাছে মুক্তিপণ দাবী করেন। পরে চাচাতো ভগ্নিপতি পিন্টুর ঘরের মধ্যে শিশু শিহাবকে শ্বাসরোধ করে হত্যার পর লাশ শিবপুর গ্রামের মাঠে ফেলে আসে। লাশ টানার কাজে ব্যবহৃত পাকিভ্যানটি পিবিআই উদ্ধার করেছে।
ঝিনাইদহ পিবিআইয়ের এসআই তহিদুল ইসলাম জানান, মুলত শিশু শিহাবের প্রবাসি পিতার কাছ থেকে মুক্তিপণ আদায় করার জন্যই অপহরণ ও পরবর্তীতে হত্যার ঘটনা ঘটায় আসামীরা। এই মামলার মুল আসামী লাল্টুকে বাদ দিয়ে আদালতে চার্জসীট দেয়া হয়েছিল। পিবিআইয়ের তদন্তে এজাহারের বাইরে আরো তিনজন আসামীর সন্ধান মেলে।
এসআই তহিদুল বলেন, মামলাটির তদন্তভার গ্রহনের পর গত ২ মে প্রধান আসামী শিবপুর গ্রামের শুকুর আলীর ছেলে লাল্টুকে কুষ্টিয়ার খোকসা উপজেলার সমোশপুর গ্রাম থেকে গ্রেফতার করা হয়। তার স্বীকারোক্তি অনু্যায়ী ৩ মে কুতুবপুর গ্রাম থেকে জিয়ারত আলীর ছেলে জমির উদ্দীন পিন্টু ও ১৩ জুন মথুর দাসের ছেলে অসিত দাসকে একই গ্রাম থেকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃতরা আদালতে দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি প্রদান করেন বলে এসআই তহিদুল ইসলাম জানান।
৬ বছর পর শিশু শিহাব হত্যার প্রকৃত ঘাতকদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনতে পরা ঝিনাইদহ পিবিআইয়ের আরেকটি সাফল্য বলে তিনি দাবী করেন।


Posted ৮:৩৬ পূর্বাহ্ণ | বুধবার, ৩০ জুন ২০২১

ajkerograbani.com |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

advertisement
advertisement
advertisement

Archive Calendar

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০১১১২১৩
১৪১৫১৬১৭১৮১৯২০
২১২২২৩২৪২৫২৬২৭
২৮২৯৩০৩১  
মুহা: সালাহউদ্দিন মিয়া সম্পাদক ও প্রকাশক
মুহা: সালাহউদ্দিন মিয়া কর্তৃক তুহিন প্রেস, ২১৯/২ ফকিরাপুল (১ম গলি) মতিঝিল, ঢাকা-১০০০ থেকে মুদ্রিত ও প্রকাশিত।
বার্তা ও সম্পাদকীয় কার্যালয়

২ শহীদ তাজউদ্দিন আহমেদ সরণি, মগবাজার, ঢাকা-১২১৭।

হেল্প লাইনঃ ০১৭১২১৭০৭৭১

E-mail: [email protected] | [email protected]