• শিরোনাম



    কোন এলাকার খবর দেখতে চান...


    শ্যালিকা-দুলাভাই অসম প্রেম, অতঃপর…

    মহিউদ্দিন অদুল | ২৮ মে ২০১৭ | ৯:১৪ অপরাহ্ণ

    শ্যালিকা-দুলাভাই অসম প্রেম, অতঃপর…

    মিতু আক্তার তখন ক্লাস ফোরের ছাত্রী। আর দুলাভাই জামাল খন্দকারের বয়স চল্লিশ। দুজনের অসম প্রেম। দীর্ঘ এক যুগ ধরে চলে আসা তাদের প্রেমে ঘটেছে নানা ঘটনা। এখন মিতুর বয়স সতের। এ অবস্থায় জামাল নিজেকে প্রেম থেকে সরিয়ে নেয়ার চেষ্টা করে। অন্যদিকে তাকে পাওয়ার জন্য মরিয়া মিতু। দুলাভাইকে বিয়ে করতে নানা চাপ। শুক্রবার বিকালে মিতুর ছুড়ে মারা সেলেরেসের আঘাতে প্রাণ হারায় জামাল। অসম প্রেমের বলি হলো নিজেই। আর গতকাল শনিবার সেই পূর্বাপর ঘটনার বর্ণনা দিয়ে দুলাভাইকে খুনের কথা ১৬৪ ধারায় দেয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে আদালতে স্বীকার করেছে মিতু।
    রাজধানীর কদমতলী থানার মুক্তাধারা আবাসিক এলাকায় ঘটে ওই হত্যাকাণ্ড। গত শুক্রবার বিকাল ৩টার পর বেলালের ১৬১৭ নম্বর ভাড়া বাসার নিচ তলায় ঘটনাস্থলেই জামালের মৃত্যু হয়। ওই দিন সুরতহালের পর গতকাল শনিবার ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) মর্গে লাশের ময়নাতদন্ত হয়েছে। ঘটনার দিনই মিতুকে আটক করেছে পুলিশ। গতকাল তাকে আদালতে নেয়া হয়। নিহত জামালের সৎ মা নূরজাহান বেগম বাদী হয়ে কদমতলী থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। গতকাল ঢাকা মহানগর হাকিম মুহামাদ মাজহারুল ইসলামের কাছে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়ার পর তাকে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার কেরানীগঞ্জে পাঠানো হয়েছে।
    খুনের ২০ মিনিট আগেও মিতু, জামাল, শারমিন এবং তাদের দু’শিশু কন্যা লায়সা (৯) ও জারিন (৪) এক সঙ্গে দুপুরের খাবার খায়। মিতুর বরাত দিয়ে এ বিষয়ে পুলিশ জানায়, খাওয়ার সময় জামাল বলে, ‘আমি তোমাদের দুজনের কাউকে নিয়ে থাকবো না। শারমিন গ্রামে চলে যাবে। আর মিতু যেখানে ইচ্ছে চলে যাবে।’ তখন শারমিন বলে, ‘আমি বাচ্চাদের ছাড়া থাকতে পারবো না।’ এই বলে শারমিন দ্বিতীয় তলায় একটি বাসায় যায়। জামাল মিতুকে একা পেয়ে আবারো বলে, ‘তুমি চলে যাও। তোমাকে বিয়ে দেব। গার্মেন্টে চাকরি দেব। আমাকে ছেড়ে দাও।’ তখন মিতু বলে, ‘না, আমি তোমাকে ছাড়া বাঁচবো না।’ এর জবাবে জামাল বলে, ‘তাহলে তুমি কী চাও?’ উত্তরে মিতু বলে, ‘আমি একটা জিনিস চাই। তা একটু পরেই বলবো। এই বলে এদিক-ওদিক তাকায়। পাশে সেলেরেসটা দেখতে পেয়ে হাতে তুলে নেয়। পাশে খাটে শুয়ে থাকা জামালের দিকে সজোরে ছুড়ে মারে। তার বাম কানের উপরে মাথায় আঘাত করে। এতে জামালের দু’ইঞ্চির মতো ফেটে যায়। রক্ত ঝরতে থাকে। এই আঘাতের পর সে একই অবস্থায় ছিল। কোনো আকুতি বা নড়াচড়া হয়নি। চোখ খোলা অবস্থায়ই কিছুক্ষণের মধ্যে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে জামাল। আর মিতু ছোটাছুটি করেনি। চেষ্টা করেনি পালানোর। এরপর উপর থেকে শারমিন এসে তাকে এ অবস্থায় দেখে পুলিশে খবর দিলে লাশ উদ্ধার করা হয়। আটক করা হয় মিতুকে।
    আদালতের স্বীকারোক্তি ও পুলিশ সূত্র জানায়, জামাল ও শারমিনের বাড়ি মাদারীপুর জেলায়। জামাল তার খালাতো বোন শারমিন আক্তারকে প্রেম করে বিয়ে করেছিল ২০০১ সালে। শারমিনেরা ৩ ভাই ও ২ বোন। শারমিন মেজ ও মিতু সবার ছোট। বিয়ের পর থেকে পেশায় ইলেক্ট্রিক মিস্ত্রি জামাল মিতুর সঙ্গেও প্রেমের আবেগী নানা আচরণ করতে থাকে। তখন মিতু পড়তো চতুর্থ শ্রেণিতে। বুঝতো না দুলা ভাইয়ের প্রেম-ভালোবাসা। তবে সহ্য করতো। এক পর্যায়ে বেশ কয়েক বছর পরে অষ্টম শ্রেণিতে পড়ার সময় মিতুও জামালের প্রেমে ঝুঁকে পড়ে। এরপর উভয়ে বিভিন্ন জায়গায় ঘুরাঘুরি করতো। হাত ধরাধরি করে চলতো। উভয়ের পরিবার ও স্ত্রী শারমিন আক্তারের অগোচরে তা গড়ায় শারীরিক সম্পর্কে। নানা জায়গায় তাদের অভিসার চলতে থাকে। কয়েক বছর আগে থেকে পরিবার নিয়ে জামাল ঢাকায় থাকে। ৭ মাস আগে বর্তমান ভাড়া বাসাটিতে উঠেছিল জামাল। আগে অন্য বাসায় ছিল। এদিকে গত এক বছর আগে কাউকে কিছু না বলে মিতুকে সে ঢাকায় নিয়ে আসে। পরিবারের লোকজন খোঁজাখুঁজি করে না পেয়ে ভাবে মিতু হারিয়ে গেছে। আর স্ত্রী পরিচয় দিয়ে সানারপাড়ে একটি বাসা ভাড়া নিয়ে তাকে সেখানে রাখে জামাল। যাওয়া- আসা করতো উভয় বাসায়। এক পর্যায়ে গত তিন মাস আগে মিতুকে খুঁজে পাওয়ার নাম করে মুক্তাধারা আবাসিক এলাকায় নিজের বাসায় নিয়ে যায়। সেখানে তাদের প্রেমের বিষয় লুকিয়ে অভিনয় করে দিন কাটায় কয়েক মাস। মিতু জামালকে বিয়ের জন্য চাপ দিতে থাকে। এ নিয়ে তর্কের মধ্যে সে মিতুকে বিভিন্ন সময় মারধর করলেও কী কারণে মারধর হচ্ছে তা কেউ প্রকাশ করতো না। গত প্রায় ২০ দিন ধরে মিতু বিয়ের জন্য জামালকে বার বার চাপ দিয়ে যাচ্ছিল। তারপর থেকে জামালও তাকে নিজের বাসা থেকে বের করে দেয়ার জন্য চাপ দিতে থাকে। এ নিয়ে ঝগড়াও হচ্ছিল। শারমিন এসবের কিছুই বুঝতে পারেনি। মনে করতো দুলাভাই হিসেবে শ্যালিকাকে শাসন করছে। সর্বশেষ গত এক সপ্তাহ আগে বাসা থেকে বের করে দেয়ার জন্য বেশ মারধর করে শ্যালিকাকে। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে শ্যালিকা এই দীর্ঘ দিনের গোপন প্রেমের কাহিনী তার বড় বোন শারমিনের কাছে বলে দেয়। তাজ্জব বনে যায় সে। স্বামীর কাছে জানতে চাইলে সেও স্বীকার করে। এসব কথা শারমিন তার পিতা ও বড় ভাইকে জানায়। তারা গত শুক্রবার রাতে মুক্তাধারার বাসায় এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়ার জন্য বৈঠকের আয়োজন করে। কিন্তু তার আগে বিকালেই ঘটে যায় হত্যাকাণ্ডটি। নিহত জামাল খন্দকারের বাড়ি মাদারীপুর জেলার শিবচর থানার সরকারচর গ্রামে। তার পিতার নাম মৃত একবার উদ্দিন খন্দকার। আর মিতুর বাড়ি একই জেলার হাজরাপুর গ্রামে। নিজের অসম প্রেমের ফাঁদে কেবল জামালই বলি হলো না, বিনা অপরাধে পিতৃহারা হলো দু’সন্তান লাইসা ও জারিন।


    Facebook Comments Box


    কোন এলাকার খবর দেখতে চান...

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০১১১২১৩১৪১৫১৬
    ১৭১৮১৯২০২১২২২৩
    ২৪২৫২৬২৭২৮২৯৩০
  • ফেসবুকে আজকের অগ্রবাণী


  • Notice: ob_end_flush(): failed to send buffer of zlib output compression (0) in /home/ajkerogr/public_html/wp-includes/functions.php on line 4757