• শিরোনাম



    কোন এলাকার খবর দেখতে চান...


    ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের রায় মোকাবিলা করতে আ.লীগ ব্যর্থ : লতিফ সিদ্দিকী

    অনলাইন ডেস্ক | ১৯ আগস্ট ২০১৭ | ৯:০৪ অপরাহ্ণ

    ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের রায় মোকাবিলা করতে আ.লীগ ব্যর্থ : লতিফ সিদ্দিকী

    সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী বাতিল করে আপিল বিভাগের দেওয়া রায় কে লিখে দিয়েছেন তা জানেন বলে দাবি করেছেন আওয়ামী লীগ থেকে বহিষ্কৃত নেতা আবদুল লতিফ সিদ্দিকী।


    আজ শনিবার বিকেলে রাজধানীর সেগুনবাগিচায় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি মিলনায়তনে ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের রায়ের ওপর লিখিত সমালোচনা পাঠ শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে লতিফ সিদ্দিকী এই দাবি করেন।

    ajkerograbani.com

    আওয়ামী লীগের সাবেক এই নেতা বলেন, ‘রায় কে লিখে দিয়েছে জানি কিন্তু বলব না। সব কথা বলা যায় না।’

    ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের রায় সঠিকভাবে মোকাবিলা করতে আওয়ামী লীগ নেতৃত্ব ব্যর্থ হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন লতিফ সিদ্দিকী। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী এবং আইনমন্ত্রী পরিস্থিতি মোকাবিলায় সঠিক কৌশল নিলেও অন্যরা ষড়যন্ত্রকে উসকে দেওয়ার সুযোগ করে দিচ্ছে।

    নিজের বক্তব্যে এই নেতা বলেন, ‘এই রায় বাতিলে পক্ষে-বিপক্ষে যে দ্বন্দ্ব চলছে তাকে রাজনৈতিক ভাবতে পারলে খুশি হতাম। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের পর থেকে ক্ষমতার দ্বন্দ্বে সুবিধাভোগী পক্ষ কোনো রাজনৈতিক ধারার ধার ধারে না, তারা ক্ষমতা দখলের ষড়যন্ত্র করছে। এই রায় নিয়ে উচ্চ আদালতের কর্মকাণ্ড ষড়যন্ত্র কি না তা ইতিহাসের গবেষণার বিষয় হলেও ষড়যন্ত্রকারীদের ষড়যন্ত্রের একটি বড় অস্ত্র হয়ে দাঁড়িয়েছে এই রায়।’

    ‘আমাদের রাষ্ট্রের তিনটি বিভাগই মধ্য ও প্রবেশে নিম্নমানের ব্যক্তি দ্বারা পূর্ণ। মেধাবী ও উন্নত নৈতিক চরিত্রবান মানুষরা রাষ্ট্রের এই তিনটি নির্দিষ্ট স্থানে প্রবেশে বাধাগ্রস্ত হন। আর এ কারণেই রাষ্ট্রব্যবস্থায় অস্থিরতা-সংকট বিদ্যমান।’ যোগ করেন লতিফ সিদ্দিকী।

    সাবেক এই আওয়ামী লীগ নেতা আরো বলেন, ‘জনগণ দেশের মালিক। তাদের দ্বারা নির্বাচিত সংসদ। এই সংসদের প্রণীত আইন রাষ্ট্রের সকলকেই মানতে হবে। ষোড়শ সংশোধনী সংসদ পাস করেছে। এ নিয়ে ঘনঘটা তৈরির কোনো সুযোগ নেই। আমার কিন্তু স্বীকার করতে দ্বিধা নেই সংসদ সদস্যরা সবাই উচ্চশিক্ষিত নন। পরিশ্রমী নন। সংবিধান সংশোধনে মনোযোগ দেন না। এসব কথা তো দিবালোকের মতোই সত্য। সংসদ নেতা এবং তাঁকে বৃত্ত করে কিছু খেঁকশিয়াল মতলব আঁটে তাও সত্য। পুনরায় বলি দেশের খ্যাতিমান ও প্রাজ্ঞ আইনজীবীরাই আইনি-মারপ্যাঁচে দুষ্টের অপরাধ মোচনে সওয়াল করেন। তারাই জংলি আইনের পক্ষে ওকালতি করেন। সেই তাঁরাই যখন সংসদকে ও তার সদস্যদের মূর্খ বলেন, তখন আপামর জনগণকেই তা বলা হয়। মনে কষ্ট পাই।’

    ষড়যন্ত্রের আভাস পাচ্ছেন জানিয়ে লতিফ সিদ্দিকী বলেন, ‘ষোড়শ সংশোধনী কোনো বিষয় নয়, আমার ধারণা বিষয়টি অন্য কোথাও আড়াল করে রাখা হয়েছে। আমরা দূর থেকে হাত-পা ছুড়ছি, আসল বিষয়টি দেখতে পাচ্ছি না। ব্যাপারটা কি এমন? মানুষ হত্যা যানবাহন পোড়ানো, ককটেল-বোমা ফোটানো, বৃক্ষনিধন, নির্বাচন বর্জন, সড়ক অবরোধ, পুলিশ হত্যা, জেএমবি জঙ্গিবাদ ও হোলি আর্টিজান হত্যা তাণ্ডব করে কিছু হলো না, অসাংবিধানিক শক্তিকেও ব্যবহার করার ‍সুযোগ কমে গেছে। বারবার ব্যবহার করে অস্ত্রটি ভোঁতা হয়ে গেছে। তাই সাংবিধানিক পন্থায় শেখ হাসিনাকে কাত করা। ভেবে দেখা দরকার।’

    সাবেক এই মন্ত্রী বলেন, ‘প্রধান বিচারপতি তাঁর পর্যবেক্ষণে সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিল গঠনের যৌক্তিকতা হিসেবে বলেছেন, কাউন্সিল না হলে অধস্তনরা তাঁর কর্তৃত্ব মানবেন না। ফলে অনিয়ম-শৃঙ্খলায় ব্যাঘাত ঘটবে। প্রধান বিচারপতি ছোট্ট পরিধি নিয়ে যদি শঙ্কায় থাকেন, তখন তিনিই কেন বিবেচনা করেন না সমগ্র রাষ্ট্র যাকে চালাতে হয় সেই রাষ্ট্রনেতারও কর্তৃত্ব থাকা প্রয়োজন। দ্বিচারিতা কেন- বোধগম্য নয়।’

    রায়ে স্বাধীনতাযুদ্ধে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের অবস্থানের প্রসঙ্গে লতিফ সিদ্দিকী বলেন, ‘ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে স্বাধীনতাযুদ্ধ পর্যন্ত তিনি নেতৃত্বের চূড়ান্ত পর্যায়ে ছিলেন। স্বাধীনতাযুদ্ধের সবটাই শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্ব-নির্দেশনায়। এখানে কোনো দাবিদার নেই। সুপ্রিম কোর্টের রায়ে অপ্রাসঙ্গিক ও অযাচিতভাবে বঙ্গবন্ধুর একক নেতৃত্ব নিয়ে অসঙ্গত ইঙ্গিত দেওয়া হয়। যে ইঙ্গিত ঘোষক বিতর্কের অনুকূলে যায় বলে ভাবলে দোষের কিছু নেই।’

    নিজের সম্পর্কে লতিফ সিদ্দিকী বলেন, ‘বাঙালির ভাষা সংগ্রাম থেকে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার সংগ্রামের প্রবাহের মধ্যে আমার অবস্থান ছিল। কখনো আমি জনবিচ্ছিন্ন নই, বিদ্যমান অবস্থায় দলবিচ্ছিন্ন। তাই বলে দায়িত্ব এড়াতে পারি না। দায়িত্ববোধ-তাড়িত হয়ে আমার ব্যক্তিগত অভিমত স্পষ্ট করতে চাই।’

    লতিফ সিদ্দিকী বলেন, সংবিধানের ৯৬ ধারা ১৯৭২ সালে কী ছিল, আজকে কী হবে সময়ই বলে দেবে। এর বিচার করার এখতিয়ার সরকার কিংবা বিচার বিভাগের নয়। রাষ্ট্রের মূলনীতি কী হবে তা জনগণই নির্ধারণ করবে। তিনি বলেন, “বঙ্গবন্ধু, বঙ্গবন্ধু, বলে যে লাখো কণ্ঠ উচ্চকিত-সবাই সৎ ও আন্তরিক? মতলবিদের উদ্দেশ্য ভিন্ন। এ দুই রায়ে বঙ্গবন্ধু, জাতির জনক বহুবার বলা হলেও শেষ পর্যন্ত তাঁকে আস্তাকুঁড়ে নিক্ষেপ করা হয়েছে। আইনমন্ত্রীর মতো আমারও মনে হয় ব্যাপারটা অবজ্ঞা-অবহেলাজাত বিরূপতা-ষোড়শ সংশোধনী আনায় বিরূপতা বিদ্বেষরূপে কদর্য প্রকাশ ঘটেছে।”

    সংবাদ সম্মেলনে লতিফ সিদ্দিকীর স্ত্রী লায়লা সিদ্দিকী উপস্থিত ছিলেন।

    Facebook Comments

    কোন এলাকার খবর দেখতে চান...

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০১১১২
    ১৩১৪১৫১৬১৭১৮১৯
    ২০২১২২২৩২৪২৫২৬
    ২৭২৮২৯৩০৩১  
  • ফেসবুকে আজকের অগ্রবাণী


  • Notice: ob_end_flush(): failed to send buffer of zlib output compression (0) in /home/ajkerogr/public_html/wp-includes/functions.php on line 4755