• শিরোনাম



    কোন এলাকার খবর দেখতে চান...


    সংবাদপত্রের প্রতি ভালোবাসা, সাংবাদিকতা ও আজকের অগ্রবাণী প্রকাশ

    সালাহ উদ্দীন রাজ্জাক | ০৮ জুলাই ২০১৭ | ১১:৩৬ পূর্বাহ্ণ

    সংবাদপত্রের প্রতি ভালোবাসা, সাংবাদিকতা ও আজকের অগ্রবাণী প্রকাশ

    সংবাদপত্রের প্রতি আমার ভালোবাসা তৈরি হয় রাগ-কষ্ট এবং অভিমান থেকে। ব্যক্তি জীবনেও যাদের সঙ্গে আমার পরিচয়ের প্রথম দিকে ঝামেলা হয়েছে শেষে তারাই আমার আপন হয়েছে।
    যাক আসল কথায় আসি। আমি তখন খুব ছোট ক্লাস ওয়ান কি টুতে পড়ি। তখন সারা দেশে আলোচিত ইস্যু ছিলো মনিরের ফাঁসি। গোপালগঞ্জের একটি অজ পাড়াগাঁও হলেও আমাদের বাড়ি তখনও পত্রিকা যেত। আমার কাকা জাহাঙ্গীর আলম আমাকে বললো মনিরের ফাঁসির সংবাদটি পড়ে শুনাতে। কিন্তু আমি তখন বাংলা রিডিং পড়তে পারতাম না। যার কারণে আমি পড়তে পারি নাই। এ জন্য আমাকে মার খেতে হয়েছিলো। তখনই আমার প্রতি আগ্রহ তৈরি হয় কি আছে পত্রিকায় তা আমাকে শিখতে হবে।
    এর পর ১৯৯৬ সালের ১ মার্চের এক তারিখে স্থায়ী ভাবে গোপালগঞ্জ ছাড়লাম। তখন আমি পঞ্চম শ্রেণির ছাত্র। ঢাকা এসে ভর্তি হলাম পুরান ঢাকার ৭৭ শতীস সরকার রোডের জামালুল কোরআন মাদ্রাসায়। সেখান থেকে ১৯৯৮ সালে হাফেজি শেষ করলাম। হাফেজি পাশ করলেও পত্রিকার প্রতি আমার ভালোবাসা একটু কমেনি। হাফেজি পড়াকালিন সময়ে আমি লুকিয়ে পত্রিকা পড়ার কারণে অসংখ্যবার মার খেয়েছি। আমাদের মাদ্রাসার সামনে ওয়ালে ন্যাশনাল স্পেটিং ক্লাবের পক্ষ থেকে দৈনিক ইনকিলাব পত্রিকা লাগানো হতো। অসংখ্য পাঠকের মধ্যে আমি ছিলাম সেই ওয়ালে সাটানো পত্রিকার নিয়মিত পাঠক।
    সাল ১৯৯৯ হাফেজি শেষ করে ভর্তি হয়েছি সেই মাদ্রাসার কিতাব বিভাগে। সেখানে আমাদের এক সহপাঠি ছিলো তৎকালিন পুরান ঢাকার ফরিদাবাদ মাদ্রাসার মোয়াজ্জিন সাহেবের ছেলে মনসুর। মনসুরের বড় ভাই ছিলো দৈনিক ইনকিলাবের সাংবাদিক। মনসুরের কাছে শুনতাম ওর ভাই সাংবাদিক। পুলিশ-ম্যাজিস্ট্রেট-উকিল-রাজনৈতিক নেতা সবাই ওর ভাইকে সালাম দেয়। ওর ভাইয়ের অনেক দাপট। সাংবাদিকদের অনেক সম্মান। ওর ভাইয়ের বিয়েতে অনেক মন্ত্রী-সচিব এসেছিলো। ওর মুখে সেই সাংবাদিকের প্রশসংসা শুনতে শুনতে আমি মনে মনে শপথ নিলাম জীবনে আর যাই করি বা না করি সাংবাদিকতা করবো।
    সাল ২০০০ আমার বয়স তখন মাত্র ১২। লেখা পড়া বলতে হাফেজি পাশ। ফরিদাবাদ মাদ্রাসায় কওমী লাইনে পড়ি। বাংলা পড়তে পারি, হাতের লেখা ভালো লিখতে পারি কিন্তু এক লাইন লিখলে ভুল হয় পাঁচ থেকে ছয়টি। পুঁজি গ্রামের স্কুলে পঞ্চম শ্রেণি পাশ।
    একদিন বাড়ি চিঠি পোস্ট করতে সদরঘাট পোস্ট অফিসে গেলাম। চিঠি পোস্ট করে ফেরার পথে চোখে পড়লো একটি সাইন বোর্ট লেখা “সাপ্তাহিক আমাদের বিক্রমপুর”। সাংবাদিক হওয়ার খায়েস নিয়ে ঢুকলাম সেই অফিসে। গিয়ে পরিচয় হলো পত্রিকার সম্পাদক ও প্রকাশক এবং বিশাকা প্রকাশনীর মালিক শহ্জাহান বাচ্চু ভাইয়ের সঙ্গে। তাকে আমার মনের কথা জানালে তিনি বললেন তুমি আমার পত্রিকায় যা পারো লিখবা। ভালো হলে ছাপা হবে, তবে টাকা পাবা না। আগামীকাল ছবি নিয়ে এসো আইডি কার্ড করে দিবো।
    আমি তো খুশিতে দিশেহারা। আমিও সাংবাদিক। মজাই আলাদা। হাতের লেখা ভালো হওয়ায় মাদ্রাসা থেকে প্রকাশ করা দেওয়াল পত্রিকায় লিখতাম। সবাইকে বলে বেড়াতাম আমিও সাংবাদিক। দেওয়াল পত্রিকায় লেখা একটি দিয়েই সঙ্গে লিখে দিতাম “সাংবাদিক সাপ্তাহিক আমাদের বিক্রমপুর।

    মনে মনে ভাবতে লাগলাম শুধুই কি সাপ্তাহিক পত্রিকার সাংবাদিক হলেই চলবে? না ভালো পত্রিকায় ঢুকতে হবে। তবে আমি যে মাদ্রাসার বাইরে কোথাও পড়িনি। মায়ের সঙ্গে কথা বললাম। বললাম আমি এসএসসি পরীক্ষা দিবো। মা বললো তুই তো ক্লাস ফাইভের পরে আর পড়িস নাই। সিক্স-সেভেন-এইট না পড়ে কেমনে পরীক্ষা দিবি। আর পরীক্ষা দিতে গেলে তো রেজিস্ট্রেশন লাগে তোর তো সেটা নাই। কিন্তু আমি তো নাছোড় বান্দা এসএসসি পরীক্ষা দিতেই হবে। মা ছোট চাচা আব্দুর রহিম কে দিয়ে জয়নগর মাদ্রাসায় একটি রেজিস্ট্রেশন করালেন। মাওলানা ফারুকুজ্জামান মোল্যা ও ছোট চাচা আব্দুর রহিম মিলে আমার নাম দিয়ে দিলেন সালাহউদ্দিন মিয়া। যা আমার কিতাবি নাম। মিয়া না হয়েও মিয়া শব্দটি বয়েই চলছি। ব্যাক ডেটে রেজিস্ট্রেশন করায় এসএসসি (দাখিল) পরীক্ষার আগে সময় পেলাম তিন মাস। কিন্তু তিন মাসে কি পাশ করা সম্ভব? চেষ্টা চালিয়ে পরীক্ষা দিয়ে খালি পাশ না একটা ভালো রেজাল্ট করলাম। ভর্তি হলাম যাত্রাবাড়ীর তামিরুল মিল্লাত মাদ্রাসায়।
    এখন আমার হাতে এসএসসির সার্টিফিকেট আমাকে কে আটকায়। এখন সাংবাদিকতায় জোরে শোরে নামলাম। তখন দৈনিক নয়া দিগন্ত পত্রিকা নতুন বাজারে আসছে। খুব জমজমাট। একদা বিকালে গেলাম নয়া দিগন্ত অফিসে। মাগরিবের নামাজ নয়া দিগন্ত অফিসে পড়লাম। ইমাম না থাকায় পঞ্জাবি টুপি দেখে সবাই আমাকে ইমামতির জন্য ঠেলে দিলেন। মাগরিবের নামাজ পড়ার পর দৈনিক নয়া দিগন্তের এক পিয়নকে আমার মনের কথা জানালাম। বললাম টাকা পয়সা কিছুই লাগবেনা। আমাকে একটু নয়াদিগন্তে কাজ করার সুযোগ দেন। সে বললো আমি পিয়ন আমি কেমনে আপনাকে সুযোগ দিবো। তবে আমি বলতে পারি আমি মফস্বল সম্পাদক সাইফুল স্যারের রুমে যান সে আপনাকে একটা ব্যবস্থা করে দিবে।
    সেই ভদ্র লোকই আমাকে সাইফুল ভাইয়ের রুমে নিয়ে গেলেন। সালাম দিয়ে রুমে ঢুকতেই সাইফুল বললেন আরে ইমাম সাহেব। আমি বুঝলাম ভাই তাহলে মাগরিব আমার পেছনে পড়েছে। মনে মনে সাহস পেলাম। সব কথা বললেই সে বললো তোমার বাড়ি কোথায়। বললাম কাশিয়ানী। ভাই বললেন চিন্তা করো না। আমি তোমাকে কাশিয়ানী সংবাদদাতা করে দিচ্ছে। এলাকায় খোঁজ খবর নিয়ে কাশিয়ানীর নিউজ গুলো পাঠাবা। সঙ্গে সঙ্গে নয়াদিগন্তের প্যাডে একটি অনুমতি পত্র দিয়ে দিলেন।
    শুরু হলো পথ চলা। এক বেলায় ক্লাস এক বেলায় সাংবাদিকতা। দেখতে দেখতে (এইচএসসি) আলিম শেষ করে সাংবাদিকতায় অনার্সে ভর্তি হলাম। সাইফুল ভাইকে বললাম ভাই আর নয় সংবাদদাতা। এবার আমি স্টাফ হতে চাই। তিনি বললেন আমাদের এখানে সুযোগ নেই তুমি অন্য কোথাও চেষ্টা করো। কি আর করার। বলে রাখি ছোট বেলায় সাংবাদিকতা শুরু করলেও কাজের পাশাপাশি দেশের সবোর্চ্চ বিদ্যাপীঠ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে উচ্চতর পোস্ট গ্রাজুয়েশন শেষ করেছি। সেই সঙ্গে ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয় কুষ্টিয়া থেকে কামিলও (এমএ) করেছি।
    সাল ২০০৭ বিএনপি বিদায় নিয়ে মঈনুদ্দিন-ফকরুদ্দিনরা ক্ষমতায় এলেন। আমি একদিন আর্মি সরকারের ক্ষমতায় বলিয়ান হওয়া কিংস পার্টি পিডিপির অফিসে সংবাদ সম্মেলনে গেলাম। পরিচয় হলো সিনিয়র সাংবাদিক আ ক ম রুহুল আমিনের সঙ্গে। অনেক কথা হলো। তিনি তখন ইসলামিক টিভির উপদেষ্টা। তিনি আমাকে বললেন এদিক সেদিক না ঘুরে আমার সঙ্গে কাজ শুরু করো। তিনি আমাকে সুযোগ দিলেন ইসলামিক টিভিতে অনুষ্ঠান বানানোর। তার সঙ্গে থেকে আচরণ শিরোনামে ১৫৬টি টিভি অনুষ্ঠান বানালাম। সময় কেটে গেল ২ বছর। ইসলামিক টিভির অর্থনৈতিক অবস্থা ভালো ছিলো না। ঠিক মতো বিল পাচ্ছিলাম না।

    সাল ২০১০। মার্চের ১০ তারিখে বাংলাদেশ প্রতিদিনের সহকারী সম্পাদক সিনিয়র সাংবাদিক কালাম আজাদ (সুমন পালিত) কে ফোন করলাম। বললাম সাংবাদিকতায় পড়া শেষ করলাম। এখন কি করবো। ইসলামিক টিভির অবস্থা ভালো না। বললেন বসুন্ধরা একটি পত্রিকা বের করবে, নাম বাংলাদেশ প্রতিদিন। তুমি কাল ৭১০ বড় মগবাজারের অফিসে এসো। তিনিই আমাকে তৎকালিন সম্পাদক শাহাজান সরদার ও ব্যবস্থাপনা সম্পাদক বর্তমান সম্পাদক নঈম নিজাম ভাইয়ের রুমে নিয়ে গেলেন এবং ওই দিনই চাকরির ব্যবস্থা করে দিলেন। দেখতে দেখতে ৮ বছর পারলাম বাংলাদেশ প্রতিদিনে। গর্ব করে বলছি বাংলাদেশ প্রতিদিনই আমার জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছে। বলতে গেলে এটাই আমার প্রথম ফুলটাইম জব। আল্লাহর রহমতে যতদিন চাকরি করবো এটাই করবো। এটাই ফাস্ট এন্ড লাস্ট জব।
    বাংলাদেশ প্রতিদিনে চাকরির সুবাদে অসংখ্য গুণিজনের সঙ্গে মেশার সুযোগ হয়েছে। বলতে গেলে জীবনে যাদের একনজর দেখার জন্য রাস্তায় দাঁড়িয়েছিলাম তারাই আমাকে ফোন করতো। যেখানে আমার পরিবারে একজনও আর্মির সৈনিক নাই সেখানে আর্মির রানিং মেজর জেনারেল, সাবেক একাধিক সেনা প্রধানের কল পেয়েছি। মিশার সুযোগ হয়েছে। মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আলী শিকদার ভাইতো তার আপন ভাইয়ের চেয়েও বেশি ভালোবাসেন। যখনই দেশের বাইরে আসবেন বা ঈদে আমাকে এবং আমার গিন্নিকে গিফট দিবেনই।
    আমলাদের মধ্যে বলতে গেলে বাংলাদেশের সবচেয়ে প্রভাবশালী আমলা এবং স্বাধীন বাংলার প্রথম ঢাকার ডিসি পরবর্তীতে স্বরাষ্ট্র-তথ্য ও যোগাযোগ সচিব মরহুম সৈয়দ রেজাউল হায়াত ছিলেন আমার সবচেয়ে কাছের মানুষ। মরহুম সৈয়দ রেজাউল হায়াতের মিসেস প্রায়ই বলতেন হায়াত দেখ তোমার ছোট্ট বন্ধু আসছে। স্যার আর আমি যে ধানমন্ডির কত জায়গায় এক সঙ্গে ঘুরেছি তার হিসাব নেই। ম্যাচে থাকার কারণে অনেক দিনের রাতের খাবার তার বাসয় খেয়ে মিল বাঁচিয়েছি। প্রভাবশালী সচিব ওয়ালি উর রহমান, কারার মাহমুদুল হাসান এখনো জীবত আছেন তাদের সঙ্গে সম্পর্ক যেন ছোট ভাই বড় ভাই।



    রাজনীতিবীদদের মধ্যে কাদের সিদ্দিকী সাহেব আমাকে নিজের ছেলের চেয়ও বেশি ভালোবাসেন। তিনি আমার গ্রামের বাড়ি গোপালগঞ্জের কাশিয়ানীর হোগলাকান্দীতে স্ত্রী সন্তানদের নিয়ে তিন বার গেছেন। একটানা দুই দিনও বেড়িয়েছেন। তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু, সাবেক পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আবুল হাসান চৌধুরী, আওয়ামী লীগের সাবেক প্রেসিডিয়াম সদস্য তোফায়েল আহমদ, সুরঞ্জিত সেন গুপ্ত, নূহ উল আলম লেনিন, তথ্য গবেষণা সম্পাদক অ্যাডভোকেট আফজাল ভাই বিএনপির মির্জা আব্বাস, কামাল ইউসুফ, আব্দুল্লা আল নোমান, যুব বিষয়ক সম্পাদক মীর নেওয়াজ, খালেদা জিয়ার প্রেস উইং এর সদস্য শাইরুল কবির খান, ২০ দলীয় জোটের (খালেদা জিয়ার পরে যার অবস্থান) এলডিপির প্রেসিডেন্ট কর্নেল অলি, কল্যাণ পার্টির জেনারেল ইব্রাহিম, এনডিপির গোলাম মোর্তুজা, ন্যাপের জেবেল গাণি, নাগরিক ঐক্যের মাহমুদুর রহমান মান্না, জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মোহাম্মদ এরশাদ, মহাসচি রুহুল আমিন হাওলাদার, লিয়াকত হোসেন খোকা এমপি, সালাউদ্দিন মুক্তি এমপির সঙ্গে সম্পর্ক আত্মার। কে কি বলতে কেয়ার করি না। আমার বাসার তিনটি খাট তার একটি খাট নাগরিক ঐক্যের মাহমুদুর রহমান মান্নার ভাইয়ের দেওয়া, জাজিমসহ।
    ব্যবসায়ীদের মধ্যে ইফাদের চেয়ারম্যান ইফতেখার আহমেদ টিপু, আমিন জুয়েলার্সের কাজী সিরাজুল ইসলাম, ডায়মন্ড ওয়াল্ডের দীলিপ কুমার, মডার্ণ হারবালের ডা. আলমগীর মতি, এফবিসিসিআই এর পরিচালক হেলেনা জাহাঙ্গীর, আর কে চৌধুরী কলেজের প্রতিষ্ঠাতা ও রাজউকের সাবেক চেয়ারম্যান আর কে চৌধুরী আমার মাথার উপর বটগাছ। হলি আর্টিজানের মালিক পরাগ ভাইয়ের মা নার্গিস আলমগীর আমার মায়ের মতো।
    আইনজীবিদের মধ্যে ড. শাহদীন মালিক, ড. তুহিন মালিক, ড. শেখ সালাহউদ্দির আহমেদ, ব্যারিস্টার সাইফুর রহমান, ব্যারিস্টার মীর হেলাল, সহকারী অ্যার্টনি জেনারেল আসলাম আমার বিপদের বন্ধু।
    এবার আসি আজকের অগ্রবাণী প্রকাশ প্রসঙ্গে। একটি পত্রিকা প্রকাশ করার ইচ্ছে আমার অনেক দিনের। আল্লাহর রহমতে সেটা করতে সক্ষম হয়েছি। প্রশ্ন কেন আমি পত্রিকা প্রকাশ করলাম। একটু পেছনে ফিরি। আমার আব্বার দাদা আজিজুল হক মোল্যা ছিলেন খুব নাম করা ব্যক্তিত্ব। আজিজেল মোল্যা নামে তাকে সবাই চিনতেন। তিনি মারা গেছেন ১৯৬৫ সালে। তিনি এলাকায় বিচার সালিশ করতেন। একবার একটি বিচার করার জন্য আমাদের বাড়ি থেকে ৬৫ কিলোমিটার দূরে গোপালগঞ্জ সদরে যান। ওই সালিশে উনার যেতে একটু দেরি হয়। ততক্ষণে পাকিস্তান সরকারের তৎকালিন বাণিজ্যমন্ত্রী ওয়াহিদুজ্জামান বিচার শুরু করেন। আমার আব্বার দাদা যখন সেখানে উপস্থিত হন, তখন তাকে দেখে দাঁড়িয়ে যান পুরো পাকিস্তানের প্রভাবশালী বাণিজ্যমন্ত্রী। বলেন মামুজান আপনার সামনে আমার বিচার করা সাজে না। আপনি বিচার করেন, আমি গেলাম। ঘটনার স্বাক্ষী আমার আব্বা আব্দুর রাজ্জাক মোল্যা ও পাকিস্তান সরকারের তৎকালিন বাণিজ্যমন্ত্রী ওয়াহিদুজ্জামানের ভাই ফায়েকুজ্জামানের ছেলে সাবেক এমপি শারফুজ্জামন জাহাঙ্গীর।

    আমার নানা ছিলেন ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গার সর্বজন শ্রদ্ধেয় ব্যক্তিত্ব। বলতে দিধা নেই তিনি বিএনপি করতেন। রাষ্ট্রপতি থাকা অবস্থায় জিয়াউর রহমান যখন আলফাডাঙ্গায় জনসভা করলেন সেই সভার সভাপতিত্ব করেছিলেন আমার নানা আলহাজ আলী আহমদ মৃধা। তিনি ছিলেন বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা সদস্য শাহ আব্দুল হালিম সাহেবের বাল্য বন্ধু।
    আমাদের পরিবারের লোকদের চাকরি করা ছিলো নিষেধ। আমার দাদা কোন দিন চাকরি করেননি। আমার আব্বা ১৯৭৪ ডিগ্রী। তৎকালিন সময়ে দারোগা ও সরকারি স্কুলের প্রধান শিক্ষকের চাকরি পেয়েও একদিনের জন্যও করেননি। রক্তে নাই, করবে কিভাবে। অভাবে চলেছেন, গায়ে খেটেছেন, কারো পায়ের কাছে বসেননি। সময় এমন জায়গায় এনে ঠেকিয়েছে যে আমরা বসছি।
    কথায় আছে বসে খেলে সাত রাজার ধন শেষ হয়। আমাদের শেষ হয়নি তা বলবো না। তবে এখনো যা আছে বসে খেলে খেতে পারবো। আমার আপন ভাই মার্কেটিং এ মাস্টার্স পাশ করেও গরুর ফার্ম শুরু করছে কিন্তু কারো গোলামিতে আত্মনিয়োগ করেনি। আমি করছি, কারণ সবাই বলে আমার রক্ত ওদের মতো গরম নয়, ঠাণ্ডা। আমি আগেই বলছি, বাংলাদেশ প্রতিদিনই আমান ফাস্ট এন্ড লাস্ট জব। তাই নিজেই শুরু করলাম প্রকাশনা ব্যবসা। হয়েছি আজকের অগ্রবাণীর সম্পাদক ও প্রকাশক। কতদূর যেতে পারবো জানি না। তবে ইচ্ছা আছে অনেক দূর যাওয়ার।
    আমার লেখা কারো ভালো লাগবে। কারো লাগবে না। কেউ রাজনৈতিক স্বার্থ হাসিল করার জন্য এ লেখা নিয়ে এদিক সেদিক উল্টা পাল্টা বলে বেড়াবেন। বলে বেড়ান। আমি কাউকে কেয়ার করি না।
    কষ্ট করে লেখাটি পড়ার জন্য ধন্যবাদ। দৈনিক আজকের অগ্রবাণী অনেক দূর যাক সেই প্রত্যাশাই আজ এখানেই। লিখবো অন্যদিন আরো অনেক কিছু নিয়ে। সেই পর্যন্ত ভালো থাকুন। আল্লাহ হাফেজ।

    ajkerograbani.com

    লেখক : সম্পাদক ও প্রকাশক, দৈনিক আজকের অগ্রবাণী।

    Facebook Comments Box

    কোন এলাকার খবর দেখতে চান...

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০১১১২১৩১৪১৫১৬
    ১৭১৮১৯২০২১২২২৩
    ২৪২৫২৬২৭২৮২৯৩০
  • ফেসবুকে আজকের অগ্রবাণী


  • Notice: ob_end_flush(): failed to send buffer of zlib output compression (0) in /home/ajkerogr/public_html/wp-includes/functions.php on line 4757