মঙ্গলবার, অক্টোবর ৫, ২০২১

সংবাদ প্রকাশের জেরে সাংবাদিকের নামে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানির অভিযোগ

আলফাডাঙ্গা (ফরিদপুর) প্রতিনিধিঃ   |   মঙ্গলবার, ০৫ অক্টোবর ২০২১ | প্রিন্ট  

সংবাদ প্রকাশের জেরে সাংবাদিকের নামে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানির অভিযোগ

সংবাদ প্রকাশ করায় ক্ষিপ্ত হয়ে উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গায় সাংবাদিক মিয়া রাকিবুলের বিরুদ্ধে কল্পিত কাল্পনিক কাহিনী সাজিয়ে আদালতে মামলা দায়ের করে হয়রানি করার অভিযোগ উঠেছে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে।

ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলার দেউলি গ্রামের কাদের চাকলাদারের ছেলে আরিফুজ্জামান চাকলাদার আপেল নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে এ অভিযোগ উঠেছে। সাংবাদিক মিয়া রাকিবুল মাল্টিমিডিয়া নিউজ পোর্টাল ‘বার্তা বাজার’ এর ফরিদপুর প্রতিনিধি ও দৈনিক গণমানুষের আওয়াজ পত্রিকার আলফাডাঙ্গা প্রতিনিধি। এ মামলায় আশিকুর রহমান (হৃদয় আশিক) নামে আরো এক ব্যক্তিকেও অভিযুক্ত করা হয়েছে।


খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গত ১৯ আগস্ট জেলার আলফাডাঙ্গায় আরিফুজ্জামান চাকলাদার আপেল সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং বিভিন্ন নানা অপ-কৌশল অবলম্বন করে বিল্লাল সরদার নামে এক ব্যক্তির নিকট চাঁদা দাবি করেন। তারই পরিপেক্ষিত ওই ব্যক্তি বাদী হয়ে আরিফুজ্জামান চাকলাদার ও মো. লায়েকুজ্জামান নামে দুই ব্যক্তির বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগ এনে থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। এরপর অভিযোগের ভিত্তিতে আলফাডাঙ্গা থানা পুলিশ আরিফুজ্জামান চাকলাদারকে গ্রেপ্তার করে আদালতে প্রেরণ করেন। এরপর এ ঘটনাটি থানা থেকে তথ্য নিয়ে সাংবাদিক মিয়া রাকিবুল বার্তা বাজার ও দৈনিক গণমানুষের আওয়াজ পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশ করেন।

পরবর্তীতে ১৭ দিন পর জেল থেকে আরিফুজ্জামান চাকলাদার জামিনে মুক্তি পায়। এই সংবাদ প্রকাশ করার কারণে সাংবাদিক মিয়া রাকিবুলের ওপর ক্ষিপ্ত হয়ে আরিফুজ্জামান চাকলাদার তার ব্যক্তিগত আক্রোশ চরিতার্থ করার উদ্দেশ্যে অসত্য, বানোয়াট ও ভিত্তিহীন কল্প কাহিনি তৈরি করে ফরিদপুর বিজ্ঞ অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ৭নং আমলী আদালতে একটি মানহানি মামলার আবেদন করেন। পরবর্তীতে আদালত মামলাটি আলফাডাঙ্গা থানা কর্তৃপক্ষকে তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেন।


বাদী আরিফুজ্জামান চাকলাদার তার অভিযোগে উল্লেখ করেন, গত ২১ আগস্ট মিয়া রাকিবুল মোবাইল হতে একটি পোস্ট প্রদান করেন। যেখানে আমি (আরিফুজ্জামান চাকলাদার) হাতকড়া পড়া অবস্থায় পুলিশ হেফাজতে ও আমার ছবির নিচে মাদক মামলায় অভিযুক্ত দুই আসামী আলামিন ও সুজনকে হাতকড়া পরা অবস্থায় মাদকদ্রব্যসহ ছবি পোস্ট করেন। এতে আমার মানসম্মানের হানি হয়েছে। এই অভিযোগের প্রমাণস্বরূপ তিনি একটি ডকুমেন্ট সংযুক্ত করেন। সেখানে দেখা যায়, ‘Sadia Zaman’ নামে একটি ফেসবুক আইডি থেকে পোস্টটি করা হয়েছে। কিন্তু; সেখানে সাংবাদিক মিয়া রাকিবুলের কোন সম্পৃক্ততা নেই।

আবার তিনি অভিযোগে উল্লেখ করেছেন, ১নং এডমিন ও ২নং এডমিন আমাকে হুমকি দিয়েছেন। কিন্তু কিসের এডমিন? তার কোন নাম তিনি অভিযোগের কোথাও উল্লেখ করেননি।

অভিযোগের শুরুতে আরিফুজ্জামান চাকলাদার ঘটনার স্থান উল্লেখ করেছেন, সাংবাদিক মিয়া রাকিবুলের বসতবাড়ী ও মোবাইল ফোনে। কিন্তু তিনি অভিযোগের বিবরণীতে ঘটনার স্থান উল্লেখ করেছেন আলফাডাঙ্গা বাজারে।

শুধু তাই নয়, মামলায় তিনজনকে স্বাক্ষী করেছেন। যার ২য় জন মো. লায়েকুজ্জামান। তিনিও চাঁদাবাজি মামলার ২য় এজাহারভুক্ত আসামী। মামলার ৩য় স্বাক্ষী করেছেন পাবেল নামে এক ব্যক্তিকে। যার বাড়ি ফরিদপুর শহরের ঝিলটুলী।

এ বিষয়ে সাংবাদিক মিয়া রাকিবুল বলেন, ‘আরিফুজ্জামান চাকলাদার আপেল চাঁদাবাজির মামলায় গ্রেপ্তার হওয়ার ঘটনায় সংবাদ প্রকাশ করার কারণে আমার ওপর ক্ষিপ্ত হয়ে উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে মামলাটি করেছেন। যার শতভাগই মিথ্যা। আমি আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই মামলাটি আইনগতভাবেই মোকাবেলা করবো।

এবিষয়ে আলফাডাঙ্গা থানা অফিসার ইনচার্জ মো. ওয়াহিদুজ্জামান জানান, ‘আদালত থেকে তদন্ত প্রতিবেদন চেয়েছে। আমরা তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনার ওপর আদালতে প্রতিবেদন জমা দিবো।’

ফরিদপুর জেলা পুলিশ সুপার মো. আলিমুজ্জামান জানান, ‘নিরপরাধ ভাবে কাউকে হয়রানি করার কোন সুযোগ নেই। ঘটনার সত্যতা যাচাই-বাছাই করে আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করা হবে।’

Posted ৭:০৩ পিএম | মঙ্গলবার, ০৫ অক্টোবর ২০২১

ajkerograbani.com |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

advertisement
advertisement
advertisement