মঙ্গলবার ৩রা আগস্ট, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ | ১৯শে শ্রাবণ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

সড়ক দুর্ঘটনায় আহত হয়ে আইসিইউতে ভর্তি বশেমুরবিপ্রবির শিক্ষার্থী

শেখ ফাহিম, বশেমুরবিপ্রবি প্রতিনিধি   |   বৃহস্পতিবার, ২৬ মার্চ ২০২০ | প্রিন্ট  

সড়ক দুর্ঘটনায় আহত হয়ে আইসিইউতে ভর্তি বশেমুরবিপ্রবির শিক্ষার্থী

সড়ক দুর্ঘটনায় অাহত হয়ে ঢাকায় আইসিইউতে ভর্তি হয়ে অাছেন বশেমুরবিপ্রবির ১ শিক্ষার্থী।
গত ২৩ মার্চ সড়ক দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন গোপালগঞ্জের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী খায়রুল ইসলাম।তবে চিকিৎসার অভাবে বেগ পেতে হয়েছে খায়রুল এবং তার পরিবারকে। খায়রুলের জ্বর এবং শ্বাসকষ্ট থাকায়, করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ ভেবে চিকিৎসা প্রদান করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসহ রাজধানীর বেশ কয়েকটি বেসরকারি হাসপাতাল।তিনি বর্তমানে মহাখালী ইউনিভার্সাল মেডিকেল কলেজ এন্ড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
আহত শিক্ষার্থীর ফুফু হাসনা আক্তার জানান, গত ২৩ মার্চ সড়ক দূর্ঘটনায় পা এবং মাথায় আঘাত পাওয়ার পর খায়রুলকে কুমিল্লার মুন হাসপাতালে ভর্তি করি। কিন্তু ২৫ তারিখে তার অবস্থার অবনতি হয় এবং শ্বাসকষ্ট শুরু হয়। এসময় ডাক্তাররা বলেন তার লক্ষনসমূহ করোনা ভাইরাসের এবং তাকে আইসিইউতে নিতে হবে আর এরপরই শুরু হয় আমাদের তীব্র ভোগান্তি।’’
হাসনা বেগম অভিযোগ করেন, করোনার লক্ষণ রয়েছে বলার পরপরই তাদের সাথে দুর্ব্যবহার শুরু করে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। তিনি বলেন, ‘‘মুন হাসপাতালে আইসিইউ না থাকায় আমাদের ঢাকায় আসতে বলা হয়। কিন্তু হাসপাতালের বেড থেকে এম্বুলেন্সে তুলতে প্রয়োজনীয় সহায়তাটুকুও কেউ করতে রাজি হচ্ছিলোনা। সকলেই দুর্ব্যবহার করছিলো।’’
এসময় হাসনা আক্তার আরো বলেন, ‘‘চিকিৎসকরা প্রেসক্রিপশনে উল্লেখ করে দিয়েছিলেন রোগীর করোনা ভাইরাসের লক্ষণ রয়েছে আর এটা দেখে কোনো হাসপাতাল আমাদের রোগীকে ভর্তি নিতে চাচ্ছিলোনা। ফলে এই মুমূর্ষু অবস্থা নিয়েই আমাদের একের পর এক হাসপাতালে ছুটে বেড়াতে হচ্ছিলো। অবশেষে ৫ থেকে ৬ টি হাসপাতাল ঘুরে অনেক ধরনের পরীক্ষার পর মহাখালীর হাসপাতালে রোগীকে ভর্তি করার সুযোগ পাই। এসময় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এটিও নিশ্চিত হয় যে খায়রুল করোনা আক্রান্ত নয়।’’
এদিকে ছোটোবেলায় বাবাকে হারানো খায়রুলের চিকিৎসা চালাতে গিয়ে হিমশিম খেতে হচ্ছে তার পরিবারকে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনসহ সকলের সহযেগিতা কামনা করে হাসনা আক্তার বলেন, ‘‘ছোটোবেলাতেই বাবাকে হারানো খায়রুল চাচাদের কাছেই বড় হয়েছে। কিন্তু বর্তমানে তার জীবন-মরণ সংকট তৈরি হয়েছে। এমতাবস্থায় যদি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনসহ সকলে আমাদের পাশে দাড়াতো তাহলে খুব উপকৃত হতাম
এদিকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সভাপতি মোঃ আবদুর রহমান বলেন, যেহেতু আগামী দুইদিন শুক্র-শনি হওয়ায় ব্যাংক বন্ধ থাকবে। তাই তাকে ডিপার্টমেন্ট থেকে কোন সাহায্য আপাতত দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না না। তবে
তাঁকে ব্যক্তিগতভাবে আর্থিক সহযোগিতা করা হয়েছে। আনুমানিক ৫০ হাজার টাকার মত অর্থ দিয়ে সাহায্য করা হয়েছে। সম্পূর্ণ অর্থ ব্যক্তিগতভাবে তোলা তোলা হয়েছে।পরবর্তীতে আরো অর্থের প্রয়োজন হলে রবিবার ব্যাংক খুললে ডিপার্টমেন্ট থেকে সাহায্য করা হবে। এছাড়া বিভিন্ন শিক্ষক-শিক্ষিকা পর্যায়ক্রমে অর্থ দিয়ে সাহায্য করবে বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।
তিনি আরো বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর, অফিসের সকল কার্যক্রম বন্ধ থাকায় কোন অর্থ প্রদান করে সহযোগিতা করতে সক্ষম হচ্ছেন না, তবে স্বাভাবিক ভাবে ভাবে আর্থিক সহযোগিতা করবেন বলে প্রতিশ্রুতি দেন।
উল্লেখ্য, আইসিইউতে প্রতি ১২ ঘন্টা পরপর ৪০,০০০ টাকা বিল প্রদান করতে হচ্ছে খায়রুলের পরিবারকে।

Facebook Comments Box


Posted ১০:৪৯ অপরাহ্ণ | বৃহস্পতিবার, ২৬ মার্চ ২০২০

ajkerograbani.com |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

advertisement
advertisement
advertisement

আর্কাইভ

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০১১১২১৩
১৪১৫১৬১৭১৮১৯২০
২১২২২৩২৪২৫২৬২৭
২৮২৯৩০৩১