• শিরোনাম



    কোন এলাকার খবর দেখতে চান...


    সবাই নেতা, কর্মী কে?

    ইয়াছিন আরাফাত রুবেল, | ১৭ জুলাই ২০১৭ | ১১:৫৭ অপরাহ্ণ

    সবাই নেতা, কর্মী কে?

    স্বঘোষিত 'শিশুলীগ' নেতা রিপন

    সব মানুষ সব বিষয়ে পারদর্শী কিংবা সফল হবে এমনটা বলা যায় না। কেউ রাজনীতিতে সফল হন। কেউ ব্যবসায়। কেউ আইন পেশায়। কেউ চাকরিতে। আবার কেউ লেখালেখিতে। কেউ ভালো বক্তা হন। আবার কেউ কাজে। কাজে ভালো এমন লোকরা যে কথায় পটু হবেন তা বলা যায় না। অনেকে কাজের নামে ঠন ঠন; কিন্তু কথায় যেন খই ফোটে! এবার এক নজরে তাকিয়ে দেখুন ঘাটে-মাঠে-শহর-বন্দরে বিলবোর্ডের দিকে। নেতার ছড়াছড়ি। বিলবোর্ডের যেমন শেষ নেই। নেতারও কোনো কমতি নেই। হালে নেতার অনেক বিশেষণ। কেউ আতি নেতা, কেউ পাতি নেতা, কেউ বড় নেতা, ছোট নেতা, সিকি নেতা, হাইব্রিড নেতা, কালো টাকার নেতা, মোসাহেবি নেতা, আত্মীয়ের নেতা। এ রকম অসংখ্য নেতা। এক কথায় নেতায় নেতায় দেশ ফাউল। হালে নেতার ভিড়ে পোস্টার লাগাতে কর্মী খুঁজে পাওয়া যায় না।
    যদিও এককালের প্রখ্যাত ছাত্রনেতা ও মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এক সভায় ভিন্ন কথা বলেছেন। তিনি বলেছেন ‘বাংলাদেশ নেতা উৎপাদনের বিরাট কারখানা’। কথাটি শতভাগ সত্য। আসল নেতা হালে আকাল। কারণ রাজনীতির রঙ্গালয়ে বিষময় পরিস্থিতি দেখে আসল নেতারা হারিয়ে গেছেন। স্বেচ্ছায় অবসরে চলে গেছেন। অনেকে যাচ্ছেন। তাই অন্তঃসার শূন্য মেধাহীন নকল নেতা নিয়ে এতো টানাটানি। এতো মোসাহেবি। এতো আনন্দ, এতো উল্লাস। কিন্তু কেন, আমাদের মধ্যে এই পরিবর্তন? কেন মানসিকতার বৈকল্য। কেন আদর্শিক চেতনার অভাব? জাতির ললাটে এসব বিশেষণে ভূষিত হবার কথা নয়। কারণ ইতিহাস-ঐতিহ্যের দেশ বাংলাদেশ। প্রতিবাদের দেশ বাংলাদেশ। অনুপম সম্প্রদায়-সম্প্রীতির দেশ বাংলাদেশ। দক্ষিণ এশিয়ার ছোট একটি দেশ প্রিয় বাংলাদেশ।
    ১৬ কোটি জনগণের দেশ বাংলাদেশ। মিছিলের দেশ বাংলাদেশ। আন্দোলনের দেশ বাংলাদেশ। সংগ্রামের দেশ বাংলাদেশ। গাজী-শহীদের রক্তেভেজা বাংলাদেশ। যুগ শ্রেষ্ঠ মহান পথিকৃতদের দেশ বাংলাদেশ। এখানকার মানুষ রাজনৈতিকভাবে সচেতন বহু পূর্বে থেকে। তবে দুর্ভাগ্য! দাঙ্গা-হাঙ্গামা কলহ-বিবাদ মানুষের নিত্যদিনের এক সঙ্গি। এ যেন তাদের ভাগ্যের নির্মম এক লিখন। এখনকার যুগে কাজের চেয়ে চাপার জোর বড় বেশি। অনেকে কাজ করতে করতে জীবন ক্ষয় করেও বসের প্রশংসা কুড়াতে পারেন না। আর কেউ কেউ কাজ না করেও চাপার জোরে বসের বাহবা কুড়ান। তেলের কাছে যেমন মেধাবীরা অসহায়, তেমনি চাপার কাছে কাজের লোকরা অসহায়। এ এক অদ্ভুত জমানায় আছি আমরা। এ কথা সত্য যে, প্রথার ওপর ভিত্তি করে তাদের জীবন ব্যবস্থা কখনও গড়ে উঠেনি। তাই দেখা গেছে নানা বৈরিতার কারণে বাঙালিরা কোনো কোনো ক্ষেত্রে বিশৃঙ্খল হয়ে উঠেছে। উগ্র মূর্তি ধারণ করেছে। আবার কোনো কোনো ক্ষেত্রে তাদের মধ্যে কোমল হৃদয়ের প্রকাশ পেয়েছে। তাই তারা হয়ে উঠেছে অসহিষ্ণু। এতোসব উগ্রতা এবং অসহিষ্ণুতার কারণে দু’জন জনপ্রিয় রাষ্ট্র প্রধানকে আমরা হারিয়েছি। মুদ্দা কথা আদর্শকে আমরা লালন করি না। নেতার নির্দেশ পালন করি না। যার ফলে সবাই নেতা। কেউ তাত্তি্বক নেতা সাজতে যান। আবার অনেকে লাগামহীন বড় বড় কথা বলেন। বাহবা নিতে যান। কর্মীরা থাকেন স্টেজে । নেতা চলে যান বনে। একজন কর্মীকে স্টেজে র সামনে পাওয়া যায় না। মাঠে খুঁজে পাওয়া যায় না। তবে মাইকে বক্তৃতা দিতে তথাকথিত এসব নেতারা বড়ই পটু। নেই কোনো শ্রদ্ধাবোধ এদেশের মানুষ সব সময় অন্যায়-অসত্যের বিরুদ্ধে লড়াই করেছে। তাদের কণ্ঠে একদিন বিপ্লবের দানা ধূমায়িত হয়েছিল। তখন তারা ছিল পরাধীন। পরাধীনতার শৃঙ্খল ভেঙে অন্যায়, অপশাসনের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়ে ছিলেন। তারা মাঠে-প্রান্তে একদিন বিপ্লবের ডাক দিয়েছিলেন। গেয়েছেন স্বাধীনতার জয়গান। বীরদর্পে উচ্চারণ করেছেন ‘লড়াই লড়াই লড়াই চাই, লড়াই করে বাঁচতে চাই’। প্রশ্ন এসে যায়, এখন কার বিরুদ্ধে, কার লড়াই।
    স্বাধীন দেশ। স্বাধীনতার বয়স গড়াতে গড়াতে পঞ্চাশ বছর হতে গেল। তবুও ভাগ্যের চাকা ঘুরেও ঘুরছে না। এ সবের মূলে কারণ কী? একমাত্র কারণ পরস্পরের মধ্যে বিদ্বেষ, হানাহানি, রক্তারক্তি। তাদের কাছে দেশ বড় কথা নয়। আদর্শ বড় কথা নয়। ক্ষমতাই বড় কথা। চেয়ার দখলই বড় কথা। তাই ক্ষমতার লড়াইয়ে তারা পরস্পর অসম প্রতিযোগিতায় মাঠে নেমেছে। আমজনতাকে এড়িয়ে চলে। স্বার্থের মোহে চোরাগলিতে পা বাড়াতে থাকে। এক নেতা আর এক নেতাকে শ্রদ্ধা করে না। জুনিয়র-সিনিয়রকে মানে না। একে অপরকে সহ্য করতে পারে না। মুখ দেখাদেখি করে না। ফলে সর্বত্রই স্থবিরতা। চরম এক বিশৃঙ্খলা। এক কথায় সর্বত্রই হ-য-ব-র-ল। গণতন্ত্রের কোনো প্র্যাকটিস নেই। পরস্পর ভিন্ন মতকে সহ্য করতে পারে না। ফলে প্রকৃত নেতা তৈরি হচ্ছে না। এক সময় স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয় থেকে নেতা তৈরি হতো। তারাই হতো ভবিষ্যৎ নেতৃত্বের কর্ণধার। এখন এ সবের কোনো বালাই নেই। নেতা তৈরির কোনো ধারাবাহিকতা নেই। তবে কালো টাকার জোরে তৃণমূল থেকে কেন্দ্র পর্যন্ত নেতা তৈরির চেষ্টা চলছে। এরা মেধাবান কিনা, নেতৃত্ব দেবার যোগ্যতা রাখেন কিনা এ সবের কোনো বিচার নেই। নেতাদের পকেটে টাকা গেলে সব খেল খতম। ফলে মেধাহীন-অযোগ্যদের চলছে সর্বত্র মহড়া। নেতৃত্ব নিয়ে চলছে লংকা-ডংকা। এক রক্তক্ষয়ী দাঙ্গা। যার ফলে রাজনীতির এই রঙ্গালয়ে চলছে এখন হ-য-ব-র-ল। বাঁকা পথে সব নেতা হচ্ছেন। তাই এদের বলা হচ্ছে অতি নেতা, পাতি নেতা, বড় নেতা, নেতা, সেল্ফি নেতা, হাইব্রিড নেতা,তেলবাজ নেতা, কালো টাকার নেতা। এসব নেতারা প্রকৃত ইতিহাসকে বিকৃত করছেন। মাঝে মধ্যে নিজের ইচ্ছে অনুযায়ী নতুনভাবে ইতিহাসের সজ্ঞা দিচ্ছেন। আদর্শিক চেতনার অভাব সুবিধাবাদী, হাইব্রিড নেতাদের কারণে পোড়খাওয়া সৎ নেতারা রাজনীতি থেকে ছিটকে পড়েছেন। তাঁদের কোনো ভাত নেই। কালো টাকার খপ্পরে রাজনীতি কলুষিত হয়ে পড়েছে।


    Facebook Comments


    কোন এলাকার খবর দেখতে চান...

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০১১১২
    ১৩১৪১৫১৬১৭১৮১৯
    ২০২১২২২৩২৪২৫২৬
    ২৭২৮  
  • ফেসবুকে আজকের অগ্রবাণী


  • Notice: ob_end_flush(): failed to send buffer of zlib output compression (0) in /home/ajkerogr/public_html/wp-includes/functions.php on line 4755