• শিরোনাম



    কোন এলাকার খবর দেখতে চান...


    সমুদ্রসুন্দরী জেলিফিশ

    অনলাইন ডেস্ক | ২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৭ | ৪:৫০ অপরাহ্ণ

    সমুদ্রসুন্দরী জেলিফিশ

    জেলিফিশের বেশ দুর্নাম আছে৷ বেশিরভাগ মানুষই একে ঘেন্না করেন, অনেকে আবার ভয়ও পান৷ কিন্তু এই সামুদ্রিক জীবটি আসলে ভয়ঙ্কর সুন্দর৷ এবং সাগরজুড়ে ভেসে বেড়াতে তাদের মস্তিষ্কেরও প্রয়োজন পড়ে না৷

    মস্তিষ্কই নেই? তাতে কি!
    প্রায় ৫০ কোটি বছর ধরে সাগরের বুকে ভেসে বেড়াচ্ছে জেলিফিশ৷ কোথায় যাচ্ছে, কোনদিকে যাচ্ছে, তা বোঝার জন্য যে বুদ্ধিটুকু থাকা দরকার, তাও নেই তাদের৷ থাকবেই বা কিভাবে? বুদ্ধির জন্য মস্তিষ্ক তো থাকতে হবে! জেলিফিশের তাও নেই৷ তবে তাদের জটিল স্নায়ুতন্ত্র মস্তিষ্ক ছাড়াই সবকিছু নিয়ন্ত্রণ করতে পারে৷


    সাগরের মেডুসা
    গ্রিক পুরাণের এক পিশাচির নাম মেডুসা, চুলের বদলে যার মাথা ভর্তি সাপ৷ জেলিফিশও দেখতে অনেকটা সেরকম৷ মূল শরীর থেকে কিলিবিল করে বের হয়ে এসেছে সাপের মতো কিছু অঙ্গপ্রত্যঙ্গ৷ এজন্য তাদের বৈজ্ঞানিক নাম রাখা হয়েছে মেডুসোজোয়া৷

    হাত-পাওয়ালা ছাতা
    আমরা অনেকেই জানি যে, মানুষের শরীরের ৬৩ শতাংশ পানি৷ এবার চিন্তা করে দেখুন, একটা জেলিফিশের শরীরের ৯৯ শতাংশই পানি৷ তাদের শরীরের একটা বড় অংশ দেখতে ছাতার মতো৷ এর সাথে থাকে হাত-পায়ের মতো শত শত কর্ষিকা৷ কিছু কিছু জেলিফিশের ক্ষেত্রে এই কর্ষিকাগুলো কয়েক মিটার লম্বা হয়ে থাকে৷ শিকার ও খাবার আহরণের জন্য জেলিফিশ এই কর্ষিকাগুলো ব্যবহার করে৷

    এই মাছ, মাছ নয়
    নাম জেলিফিশ হলেও, এরা কিন্তু মোটেও ফিশ বা মাছ নয়৷ জীববিজ্ঞানিরা তাদের বিশ্লেষণ করে অন্তর্ভূক্ত করেছেন স্নিডারিয়া পর্বে৷ এই পর্বের অন্যান্য জীবদের মধ্যে আছে প্রবাল এবং এনেমোন নামের এক ধরনের সামুদ্রিক শিকারি ফুল৷

    দৈত্যাকার জেলিফিশ
    বেশিরভাগ জেলিফিশই সাদা এবং স্বচ্ছ হয়৷ কিন্তু আছে কিছু ব্যতিক্রমও৷ এশিয়ান নমুরা জেলিফিশ খুব একটা রঙচঙে না হলেও, আকারে হয়ে থাকে বিশাল৷ কোনো কোনো ক্ষেত্রে ২ মিটার ব্যাসের এক একটি জেলিফিশের ওজন ২০০ কেজি পর্যন্ত হতে পারে৷

    চলো স্রোতের সাথে তাল মিলিয়ে
    সবসময় সমুদ্রের স্রোতের সাথে ভেসে চলায় বিজ্ঞানীরা জেলিফিশকে প্ল্যাঙ্কটন হিসেবেই বিবেচনা করেন৷ নিজে থেকে কোথাও যাওয়া জেলিফিশের কাজ না৷ মাঝে মাঝে অবশ্য ঘণ্টায় ১০ কিলোমিটার পর্যন্ত গতি তুলতে পারে জেলিফিশ৷ তবে যে কোনো ছোট আকারের পোকাও এর চেয়ে জোরে হাঁটতে পারে৷

    বিষাক্ত সুন্দরী
    জলে ভেসে বেড়ানোর সময় রঙিন জেলিফিশকে দেখতে অসাধারণই লাগে৷ কিন্তু এদের অনেকেরই আছে ভয়ঙ্কর কর্ষিকা৷ ছবির লায়নস মেইন জেলিফিশ কর্ষিকা দিয়ে বিষ ঢুকিয়ে শিকারকে মেরেও ফেলতে পারে৷ প্ল্যাঙ্কটন, শ্যাওলা, ছোট ছোট কাঁকড়া এবং মাছের পোনা আছে জেলিফিশের খাবারের তালিকায়৷

    আগুনের মতো জ্বলুনি
    লায়নস মেইন জেলিফিশের সংস্পর্শে মানুষের চামড়ায় আগুনের মতো জ্বলুনি হয়৷ লাল লাল ফোসকাও পড়ে চামড়ায়৷ এই জেলিফিশের বিষ অবশ্য প্রাণঘাতী না৷ কিন্তু বক্স জেলিফিশ বা সি ওয়াসপ জেলিফিশের ক্ষেত্রে তা এতটা জোর দিয়ে বলা যায় না৷ প্রাণিজগতে সবচেয়ে বিষধরদের একটি এই জেলিফিশ৷

    স্পেশাল ইফেক্ট
    সামান্য এই জেলিফিশেরও আছে অসামান্য ক্ষমতা৷ পেলাগিয়া নকটিলুকা নামের এক ধরনের জেলিফিশ সাগর উত্তাল হলে উজ্জ্বল আলো ছড়ায়৷ এই প্রক্রিয়াকে বলা হয় বায়োলুমিনেসেন্স৷ অসাধারণ, তাই না?

    Comments

    comments

    কোন এলাকার খবর দেখতে চান...

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০১১১২১৩
    ১৪১৫১৬১৭১৮১৯২০
    ২১২২২৩২৪২৫২৬২৭
    ২৮২৯৩০৩১  
  • ফেসবুকে আজকের অগ্রবাণী