• শিরোনাম



    কোন এলাকার খবর দেখতে চান...


    সম্ভাবনার অপর নাম বাংলাদেশ

    সৈয়দ এম হোসেন সজল | ০৯ অক্টোবর ২০১৮ | ২:১৪ অপরাহ্ণ

    সম্ভাবনার অপর নাম বাংলাদেশ

    বাংলাদেশ অমিত সম্ভাবনার দেশ। বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ অনেক উজ্জ্বল। শুধু রপ্তানির ক্ষেত্রেই নয়, এ দেশের মানুষ মেধা ও সৃজনশীলতায় খুবই ব্যতিক্রমী। শিক্ষা ক্ষেত্রে বাংলাদেশ বিপ্লব সাধন করেছে।
    এক সময়ে বাংলাদেশ মানেই ছিলো জরাজীর্ণ ঘর-দুয়ার আর দারিদ্র্যের আঘাতে জর্জরিত জীবনের প্রতিচ্ছবি। দেশের জনসংখ্যার শতকরা ৮০ জনই ছিল দরিদ্র শ্রেণির। ‘নুন আনতে পান্তা ফুরায়’ তাদের নিয়তির লিখন বলে বিবেচিত হতো।
    সময়ের বিবর্তনে সেই ছবি বদলে যাচ্ছে। ছাপ্পান্ন হাজার বর্গমাইলজুড়ে লেগেছে দিন বদলের ছোঁয়া। এখন গ্রামে কুঁড়েঘর খুঁজে পাওয়া কঠিন। তার বদলে গড়ে উঠেছে টিনের ঘর ও পাকা বাড়ি। হাড্ডিসার মুখগুলোও নেই। এর বদলে কর্মজীবী মানুষ আছে, তাদের অর্থ-সম্পদও আছে। ঘরে আছে এলইডি টেলিভিশন, ফ্রিজ। কারও আবার কম্পিউটার, তাতে জুড়ে দেওয়া ইন্টারনেট। ঘরে বসে এখন বাংলাদেশের কোনো এক প্রান্তের মানুষ হাতের মোবাইল টিপে মুহূর্তেই যোগাযোগ করছে প্রবাসের প্রিয়জনের সঙ্গে। স্বাধীনতার পর বাংলাদেশের মোট দেশজ উৎপাদন বা জিডিপি প্রবৃদ্ধির হার ছিল ৩ শতাংশের কাছাকাছি। শতকরা ৮০ ভাগের বেশি মানুষ ছিল দরিদ্র শ্রেণির। মানুষের গড় আয়ু ছিল ৪৬ বছর। বেশির ভাগ বাড়িতে ছিল কুঁড়েঘর ও মাটির গৃহ। স্বাস্থ্যসম্মত সেনিটেশন ছিল না বললেই চলে। নিরাপদ পানি ব্যবহারের হারও ছিল নগণ্য। সেই দেশের মানুষের গড় আয়ু এখন ৭০ বছর। জিডিপি প্রবৃদ্ধি গত এক দশক থেকেই ৬ শতাংশ ছাড়িয়ে সাম্প্রতিক বছরে ৭ শতাংশে উন্নীত হয়েছে। সর্বশেষ খানা জরিপের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৬ সালে খানা বা পরিবারপ্রতি মাসিক আয় দাঁড়িয়েছে ১৫ হাজার ৯৪৫ টাকা। দারিদ্র্যের হার নেমে এসেছে ২৪ শতাংশে। একজন মানুষের দৈনিক খাদ্য গ্রহণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ১ হাজার গ্রাম।
    ২০১৬ সালের জরিপ অনুযায়ী, ছাপ্পান্ন হাজার বর্গমাইলের প্রায় অর্ধেক বাড়িঘর টিন ও কাঠের তৈরি। উপরন্তু প্রায় ৩০ শতাংশ রয়েছে পাকা বাড়ি। প্রায় ৯৫ শতাংশ পরিবার নিরাপদ পানি পান করছে। বেড়েছে বিদ্যুৎ ব্যবহারের হারও। ২০১০ সালে সাক্ষরতার হার ছিল ৫৭ দশমিক ৯ ভাগ; ২০১৬ সালে এ হার বেড়ে হয়েছে ৬৫ দশমিক ৬ ভাগ। বাংলাদেশের এই সাফল্য অর্জিত হয়েছে সাধারণ মানুষের পরিশ্রমের ফসল হিসেবে। হানাহানির রাজনীতিকে বিদায় দিতে পারলে পাল্টে যাওয়ার এ প্রক্রিয়া আরও জোরদার হবে।
    অফুরন্ত সম্ভাবনার অপর নাম বাংলাদেশ। এ দেশের রয়েছে অমিত সম্ভাবনাময় ষোল কোটি মানুষের বত্রিশ কোটি হাত। ষোল কোটি মানুষ বাংলাদেশের জন্য অভিশাপ নয়, আশীর্বাদ। কেননা আবহমান কাল থেকেই এ দেশের মানুষেরা কর্মনিষ্ঠ, পরিশ্রমী। ইতিমধ্যেই এ দেশ পরিণত হবে পৃথিবীর অন্যতম বৃহৎ পোশাক, জুতা, ওষুধ, সিরামিক ও চামড়াজাত পণ্যের রপ্তানিকারক দেশে। সৃষ্টিকর্তার অপার কৃপায় ধন্য এদেশে রয়েছে পৃথিবীর সবচেয়ে উর্বর মাটি আর দূষণমুক্ত পানি। গ্যাস ও কয়লার প্রাচুর্যের পাশাপাশি এ দেশে বছরে তিনবার ফসল উৎপাদিত হয়। ফলে ঘনবসতিপূর্ণ দেশ হওয়া সত্ত্বেও ইতোমধ্যেই খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জিত হয়েছে, এ দেশে এখন আর কেউ না খেয়ে মারা যায় না।
    কৃষিতে বৈপ্লবিক পরিবর্তনের পাশাপাশি দেশের দরিদ্র, শ্রমজীবী, প্রান্তিক জনগোষ্ঠী নির্ভর প্রবাসী আয়কে পুঁজি করে বাংলাদেশ ঘুরে দাঁড়িয়েছে। অন্যদিকে ঘামঝরা শ্রমের ফসল পোশাকশিল্প উন্নয়নের ধারাকে করেছে আরও বেগবান। দেশে যেভাবে প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছে, অর্থনীতি এগিয়েছে, যেভাবে বিশ্বমন্দা ও রাজনৈতিক
    অস্থিরতা মোকাবিলা করেছে, তাতেই বোঝা যায় বাংলাদেশের মানুষ অপরিসীম ক্ষমতার অধিকারী
    সত্তর দশকের ‘ষড়যন্ত্রমূলক’ তলাবিহীন ঝুড়ি, নব্বই দশকের বিশ্ব পরিমন্ডলে তুলনামূলক অচেনা বাংলাদেশ এখন বিশ্বব্যাপী এক বিস্ময়ের নাম। উন্নয়ন নিয়ে ভাবনা-চিন্তা করা মানুষদের কপালে ভাঁজ ফেলে রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্যেও সম্ভাবনার দিগন্তে সাফল্যের পতাকা উড়িয়ে দেশ এগিয়ে যাচ্ছে।
    বাংলাদেশের অধিবাসী ও মুক্তিযুদ্ধার সন্তান হিসেবে আমি চাই, বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে যে গতি সঞ্চারিত হয়েছে, সেটি যেন কোনোভাবেই ক্ষতিগ্রস্ত না হয়। কারণ উন্নয়নের গতি বাধাপ্রাপ্ত বা ব্যাহত হলে চূড়ান্তভাবে আমরা ক্ষতিগ্রস্ত হবো। উন্নয়ন ধারা অব্যাহত রাখতে তাই নৌকা মার্কায় ভোট দেওয়ার বিকল্প নেই।

    লেখক : প্রধান নির্বাহী এনজেল গ্রুপ, উপদেষ্টা আজকের অগ্রবাণী এবং প্রধান সমন্বয়ক নৌকা মার্কায় ভোট দিন ডটকম।


    Facebook Comments


    কোন এলাকার খবর দেখতে চান...

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০১১১২১৩১৪১৫১৬
    ১৭১৮১৯২০২১২২২৩
    ২৪২৫২৬২৭২৮২৯৩০
    ৩১  
  • ফেসবুকে আজকের অগ্রবাণী


  • Notice: ob_end_flush(): failed to send buffer of zlib output compression (0) in /home/ajkerogr/public_html/wp-includes/functions.php on line 4670