• শিরোনাম



    কোন এলাকার খবর দেখতে চান...


    সম্ভাবনার বাংলাদেশ

    ইঞ্জিনিয়ার এমএম আবুল হোসেন | ২৫ জুলাই ২০১৭ | ১২:৫৪ অপরাহ্ণ

    সম্ভাবনার বাংলাদেশ

    বাংলাদেশের অমিত সম্ভাবনার দেশ। বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ অনেক উজ্জ্বল। শুধু রপ্তানির ক্ষেত্রেই নয়, এ দেশের মানুষ মেধা ও সৃজনশীলতায় খুবই ব্যতিক্রমী। শিক্ষা ক্ষেত্রে বাংলাদেশ বিপ্লব সাধন করেছে। বাংলাদেশকে এশিয়ার সম্ভাবনাময় বাজার হিসেবে অভিহিত করেছে একটি আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন অর্থনৈতিক প্রতিষ্ঠান।
    বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য বহু যুগের প্রাচীন। হাজার বছরে তিলে তিলে গড়ে উঠেছে এ দেশে কৃষ্টি আর ঐতিহ্য। কোনো দেশের অর্থসম্পদ হয়তো লুটপাট করে নেয়া যায়। কিন্তু সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে কোনোক্রমে কুক্ষিগত করা যায় না। বাংলাদেশের সম্ভাবনার এ ঐতিহ্য যুগ যুগ ধরে এর বক্ষপুটে লালিত ও বিকশিত হয়েছে। বরং ইতিহাস সাক্ষী বহন করছে এ ঐতিহ্যে মুগ্ধ হয়ে অতীতে বহু জাতি বাংলাদেশের মাটিতে আজীবন বসবাস করে এ দেশের সংস্কৃতির সঙ্গে একীভূত হয়ে গেছে। দারিদ্র্য পরিস্থিতির উন্নতি ঘটছে বাংলাদেশে এবং তার স্বীকৃতি মিলেছে বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদনে। ২০০৫ সালে অতিদরিদ্র ছিল মোট লোকসংখ্যার ৪৩ শতাংশ, দশ বছরের ব্যবধানে তা কমে এসেছে ১২.৯ শতাংশে। সঙ্গত কারণেই বিশ্বের কাছে বাংলাদেশ উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। আমরা এটাও স্পষ্ট করতে পেরেছি যে, পাশ্চাত্যের যে ‘পণ্ডিত ব্যক্তিরা’ বাংলাদেশকে বাস্কেট কেস কিংবা তলাবিহীন ঝুড়ি বলেছিলেন, তারা ভুল বলেছিলেন।
    বিশ্বব্যাংকের পরিসংখ্যানে বলা হয়েছে, দক্ষিণ এশিয়ার গুরুত্বপূর্ণ দুটি দেশ ভারত ও পাকিস্তানের তুলনায় বাংলাদেশ অতিদরিদ্রের হার কমিয়ে আনায় বেশি সফলতা দেখিয়েছে। মানুষের আয় সক্ষমতা বেড়েছে। সন্দেহ নেই, সার্বিক অর্থনীতির উন্নতি এবং সরকারের কিছু দরিদ্রবান্ধব কর্মসূচি এ ক্ষেত্রে অবদান রেখেছে।
    তাই সরকার ইচ্ছে করলে গ্রামবাংলার উন্নয়নে বাজেটে বিশেষ বরাদ্দ দিতে পারেন। এনজিওগুলোর উপর একচেটিয়া নির্ভর না করে, নিজে এক্ষেত্রে কাজ করতে পারেন। মফস্বলে ব্যাংকগুলোর যেসব শাখা রয়েছে সেগুলোর মাধ্যমে বিভিন্ন সুদমুক্ত প্রকল্প বাস্তবায়ন করা যেতে পারে। এখন গ্রামের জমির মূল্য অনেক বেড়েছে। উপযুক্ত জামানত এখন গ্রামেও পাওয়া যাবে। সরকার এক্ষেত্রে গ্রামীণ জনগোষ্ঠীকেও গৃহ নির্মাণসহ উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের ক্ষেত্রে সুদমুক্ত ঋণ দিতে পারে।
    শহরগুলোর পাশাপাশি আমরা গ্রামগুলোর উন্নয়ন চাই। আর গ্রামে কৃষিভিত্তিক বিভিন্ন শিল্প গড়ে উঠার অনেক সম্ভাবনা রয়েছে। এসব ক্ষেত্রে সুদমুক্ত ঋণ দেয়া হলে কর্মসংস্থান বাড়বে। দেশের সার্বিক উন্নয়নে এর ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।
    বাংলাদেশের অধিবাসী হিসেবে আমিও চাই, বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে যে গতি সঞ্চারিত হয়েছে, সেটি যেন কোনোভাবেই ক্ষতিগ্রস্ত না হয়। কারণ উন্নয়নের গতি বাধাপ্রাপ্ত বা ব্যাহত হলে চূড়ান্তভাবে তাতে ক্ষতিগ্রস্ত। স্বাধীনতার পর দেখতে দেখতে গ্রামের অবস্থা পাল্টে গেছে অনেক। কেরোসিনের প্রদীপে যেসব গ্রাম আলোকিত হতো সেগুলো এখন বিদ্যুতের আলোতে দিনের মতো উজ্জ্বল হয়েছে। প্রায় প্রতিটি কাঁচা রাস্তা এখন পাকা হয়েছে। সেগুলোতে এখন ইঞ্জিনচালিত যানবাহন চলছে শাঁ শাঁ করে। তাই বলছি, উন্নয়নের দিক থেকে বাংলাদেশ যে আরও এগিয়ে যাবে সে কথা বলার অপেক্ষা রাখেনা।

    লেখক : যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বঙ্গবন্ধু প্রকৌশলী পরিষদ ও বিজ্ঞান প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক গোপালগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগ।


    Facebook Comments


    কোন এলাকার খবর দেখতে চান...

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০১১১২
    ১৩১৪১৫১৬১৭১৮১৯
    ২০২১২২২৩২৪২৫২৬
    ২৭২৮২৯৩০৩১  
  • ফেসবুকে আজকের অগ্রবাণী


  • Notice: ob_end_flush(): failed to send buffer of zlib output compression (0) in /home/ajkerogr/public_html/wp-includes/functions.php on line 4755