বুধবার ৪ঠা আগস্ট, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ | ২০শে শ্রাবণ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

সরকারের ভাবমূর্তি নষ্ট করে মানুষকে ক্ষেপিয়ে তোলার চেষ্টা করছে বিএনপি, জামায়াত

মশিউর রহমান মোমিন, নিজস্ব প্রতিবেদকঃ   |   বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২০ | প্রিন্ট  

সরকারের ভাবমূর্তি নষ্ট করে মানুষকে ক্ষেপিয়ে তোলার চেষ্টা করছে বিএনপি, জামায়াত

দেশে হঠাৎ করে চাল চোর, চাল চোর এমন একটা বিষয় মানুষের মাথায় ঘুরপাক খাচ্ছে। হিসাব করলে দেখা যায় দেশে মেম্বার রয়েছে ৪১১৩৯ জন, মহিলা মেম্বার ১৩৭১৩ জন, ইউপি চেয়ারম্যান ৪৫৭১ জন, উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান পুরুষ/মহিলা ৯৮৪ জন, উপজেলা চেয়ারম্যান ৪৯২ জন, পৌর মেয়র ৩৩০ জন, এমপি ৩৫০ জন। মোট জনপ্রতিনিধির সংখ্যা ৬১,৫৭৯ জন।
এই ৬১,৫৭৯ জন জনপ্রতিনিধির মাঝে ১৫-২০ জন চাল চোর ধরা পড়েছে। অর্থনৈতিকভাবে পিছিয়ে থাকা এই দেশের জন্য সংখ্যাটা কিন্তু খুব বড় নয়। ইতিমধ্যে ৬-৭ জন বরখাস্ত হয়েছে। বাকি গুলোর বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে, তারাও শাস্তিসহ বরখাস্ত হবে।
আরেকটা বিষয় লক্ষ করলে দেখা যায়, জাতির এই চরম দুঃসময়ে মানুষের পাশে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছে শেখ হাসিনা সরকার, আওয়ামী লীগের সকল অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ। কিছু স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন এবং ব্যক্তিগত উদ্যোগে কাজ করছে কিছু মহান হৃদয়ের মানুষ।
এর বাইরে বাংলাদেশে আরও অনেক নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল রয়েছে তারা ঠিক এ মুহূর্তে কোথায়? কি করছে তা বোধগম্য নয়।
গত দিন একটি পত্রিকার শিরোনামে দেখা যায়, শান্তিতে নোবেল বিজয়ী বাংলাদেশের ডা. ইউনুসের পক্ষ থেকে গ্রামীণ ব্যাংক ২৪৫ পরিবারের মাঝে ত্রাণ বিতরণ করেছে। আপনার কি মনে হয় ডা. ইউনুস চাইলে এক কোটি মানুষের পাশে দাঁড়াতে পারত না? জনগণের কাছ থেকে ছলে বলে কৌশলে সুদের টাকা কিন্তু ঠিকই নিয়ে যাচ্ছে। (ডঃ ইউনুসকে দিয়ে উদাহরণ দিলাম এমন আরও অনেক ইউনুস আত্মগোপনে রয়েছে)।
বিএনপি, জামাত নিয়ন্ত্রিত কিছু ফেসবুক গ্রুপ থেকে বার বার এই চাল চুরির খবর সাধারণ মানুষের সামনে তুলে ধরে এটাই বোঝানোর চেষ্টা করছে যে, গোটা আওয়ামী লীগের সবাই এই মুহূর্তে চুরিতে ব্যস্ত। আসলেই কি তাই হচ্ছে? আওয়ামীলীগের লক্ষ লক্ষ নেতাকর্মী মানুষের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছে। বাংলাদেশ দেশটা গরিব, একটি এলাকায় ৫০০ মানুষের ত্রাণ দরকার। সেখানে হয়তো দিতে পেরেছে মাত্র ২০০ জনকে। এ কারণে কিছু সমালোচনাও হচ্ছে কিন্তু তার মানে এই নয় যে সবাই চুরি করছে?
১৯৭৪/৭৫ সালে ঠিক এভাবেই বঙ্গবন্ধুর সরকারের ভাবমূর্তি নষ্ট করার চেষ্টা করা হয়েছে। রাতারাতি বাসন্তিকে জাল পরিয়ে লজ্জা নিবারণের কথা বলা হয়েছে। খাদ্যের জন্য বুভুক্ষা মিছিলও করা হয়েছে। তাদের প্রেতাত্মারা আবারও ঘোলাজলে মাছ শিকারে তৎপর। যারা ৭৫ পটপরিবর্তন দেখেনি তারা বুঝবেন না ওরা কত ভয়ংকর। যেসব আওয়ামীলীগের নেতাকর্মীরা ঐ সব বর্ণচোরাদের সমর্থন দিচ্ছেন তারা সতর্ক হোন। ওরা ঢালাও ভাবে বলছে ওদের বাপ দাদারা কম্বল চুরি করেছে তাদের সন্তানরা ত্রাণ চুরি করছে।
নব্য কিছু আওয়ামীলীগ নাম ধারি ত্রাণ চুরিতে জড়িত তা অস্বীকার করার সুযোগ নেই। তাদেরকে চিহ্নিত করে দল থেকে বহিস্কার করে আইনের হাতে তুলে দিতে হবে। মনে রাখবেন দেশের ৫০/৬০ ভাগ ব্যবসা এখনো জামাত বিএনপি হাতে। তাই সবাই সতর্ক হোন। বিষয়টি মানুষকে বুঝিয়ে বলুন।
এখানে কোন চোরের পক্ষে কথা বলা হচ্ছে না , সত্য কথাগুলো বললাম। আরেকটা কথা চাল চোর যদি একজনও ধরা পড়ে তাকে ক্রসফায়ার দিন, তার লাশ দুইদিন রাস্তায় পড়ে থাকুক, সবাই দেখুক জননেত্রী শেখ হাসিনার সরকার অন্যায় সহ্য করে না। আমরা যদিও আমি বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড সমর্থন করি না। তারপরেও লক্ষ লক্ষ মানুষের চোখের কান্না থেকে বললাম। ইনশাল্লাহ আমরা এই মহামারী কাটিয়ে উঠব। আল্লাহ আমাদের সবার সহায় হবেন।

Facebook Comments Box


Posted ৯:২২ পূর্বাহ্ণ | বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২০

ajkerograbani.com |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

advertisement
advertisement
advertisement

আর্কাইভ

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০১১১২১৩
১৪১৫১৬১৭১৮১৯২০
২১২২২৩২৪২৫২৬২৭
২৮২৯৩০৩১