• শিরোনাম



    কোন এলাকার খবর দেখতে চান...


    সাকিব বিহীন বাংলাদেশের ক্রিকেট যেন ব্যাটারি বিহীন টস লাইট

    আর কে চৌধুরী | ৩১ অক্টোবর ২০১৯ | ৯:৩৮ অপরাহ্ণ

    সাকিব বিহীন বাংলাদেশের ক্রিকেট যেন ব্যাটারি বিহীন টস লাইট

    অন্যায় না করলেও অন্যের অন্যায় গোপন রাখার দায়ে খেসারত দিতে হলো বিশ্ববরেণ্য ক্রিকেটার, টাইগার অধিনায়ক সাকিব আল হাসানকে। জুয়াড়িদের কাছ থেকে দুই বছর আগে ম্যাচ পাতানোর প্রস্তাব পেয়েছিলেন এই বিশ্ববরেণ্য ক্রিকেটার। সে প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করলেও তা গোপন রেখেছিলেন আইসিসির অ্যান্টি করাপশন অ্যান্ড সিকিউরিটি ইউনিটের (আকসু) কাছে। তথ্য গোপন করার অভিযোগে টাইগার অধিনায়ককে সব ধরনের ক্রিকেটে দুই বছরের জন্য নিষিদ্ধ করেছে আইসিসি।

    বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার শাস্তি পেয়েছেন আইসিসির দুর্নীতিবিরোধী নীতিমালার তিনটি আইন লঙ্ঘন করার অপরাধে। বাংলাদেশের টেস্ট ও টি-টোয়েন্টি অধিনায়ক সব কটি দায় মেনে নিয়েছেন। যদি নিষেধাজ্ঞার সময় শাস্তির সব বিধিনিষেধ মেনে চলেন, তাহলে ২০২০ সালের ২৯ অক্টোবর আবারও আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ফিরতে পারবেন সাকিব। নিষিদ্ধ হওয়ায় টাইগার অধিনায়ক যেতে পারছেন না ভারত সফরে।


    তবে বিসিবি সভাপতি জানিয়েছেন, তারা সাকিবের পাশে থাকবে। প্রধানমন্ত্রীও ব্যক্ত করেছেন একই অভিব্যক্তি। দুই বছর আগে সাকিব আল হাসানকে টার্গেট করে জুয়াড়িরা। তিনি প্রস্তাবটি ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করলেও এ বিষয়ে আকসুকে অবহিত না করায় তাকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।

    আইসিসির নৈতিকতাবিষয়ক মহাব্যবস্থাপক অ্যালেক্স মার্শাল বলেছেন, সাকিব অত্যন্ত অভিজ্ঞ একজন আন্তর্জাতিক ক্রিকেটার। তিনি তার দায়িত্বের কথা ভালোভাবেই জানেন। তার উচিত ছিল তাকে দেওয়া প্রস্তাবের কথা জানানো। সাকিব অবশ্য সব দায় স্বীকার করে তদন্তে পূর্ণ সহযোগিতা করেছেন। ভবিষ্যতেও সব ধরনের সহযোগিতার প্রস্তাব দিয়েছেন। তরুণ ক্রিকেটারদের তার ভুল থেকে শিক্ষা নিতে বলবেন সাকিব। সাকিবের বিরুদ্ধে আইসিসির শাস্তিমূলক ব্যবস্থা দেশের ক্রিকেট অঙ্গনে শোকের ছায়া বিস্তার করেছে। ক্রিকেটপ্রেমীদের মাঝে ছড়িয়ে পড়েছে শোকের আবহ। সবার প্রিয় সাকিব আল হাসানের বিরুদ্ধে আইসিসির নিষেধাজ্ঞা দুঃখজনক হলেও প্রমাণিত হলো, অন্যায় করা ও সওয়া দুটিই অপরাধ। জেনে হোক আর না জেনে হোক সাকিব সে ভুল করেছেন। সদাচরণের মাধ্যমে এ দুর্দিন তিনি দ্রুত কাটিয়ে উঠবেন- এমনটিই প্রত্যাশিত।

    সাকিবের সহযোগিতায় সন্তুষ্ট হয়ে আইসিসি পরে তাঁর নিষেধাজ্ঞা শর্ত সাপেক্ষে এক বছর কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এতে আগামী বছরের ৩০ অক্টোবর থেকে আবার খেলা শুরু করতে পারবেন সাকিব। প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, সাকিব ভুল করেছে। তা সত্ত্বেও আমরা সাকিবের সঙ্গে আছি। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড বা বিসিবির এ ক্ষেত্রে করার কিছুই নেই। তার পরও তাঁরা বলেছেন, সাকিবকে তাঁরা সব ধরনের সহযোগিতা দিয়ে যাবেন। আইসিসি যদি তাদের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করে, তাহলে হয়তো সাকিবের পক্ষে আরো আগেই মাঠে নামা সম্ভব হবে। আমরা তা-ই প্রত্যাশা করি।

    বাংলাদেশের ক্রিকেটপ্রেমী প্রত্যেকের কাছে এই সংবাদটি ছিল একটি বড় আঘাতস্বরূপ। খবরটি জানা যায় ২৯ অক্টোবর সন্ধ্যা ৬টার পর। বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের সাবেক অধিনায়ক হাবিবুল বাশার মনে করেন, আজকের (২৯ অক্টোবর) দিনটি ‘বাংলাদেশের ক্রিকেটের জন্য সবচেয়ে দুঃখের দিন।’ সন্ধ্যায় সাকিবের অনেক সমর্থক জড়ো হয়েছিলেন মিরপুর মাঠে। বৈঠক থাকায় বোর্ড কর্মকর্তারাও ছিলেন সেখানে। সাকিবও গিয়েছিলেন। সাকিবের অনেক সমর্থক সংবাদটি শুনে আবেগ ধরে রাখতে পারেননি। তাঁরা আইসিসির সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে স্লোগানও দিতে থাকেন। রাতে সেখানেই সংবাদ সম্মেলন করেন সাকিব আল হাসান। তিনি নিজের দোষ স্বীকার করে আইসিসির শাস্তি মাথা পেতে নেন এবং জানান ‘আরো শক্তভাবে’ ফিরে আসার প্রতিজ্ঞার কথা।

    বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন বলেন, ‘ভেঙে পড়ার কোনো কারণ নেই। আমরা পাশেই থাকব।’ বাংলাদেশের এমন দুঃখের দিন আগেও এসেছিল। ছয় বছর আগে ম্যাচ পাতানোর অপরাধে নিষিদ্ধ হয়েছিলেন মোহাম্মদ আশরাফুল। সেবার সাক্ষ্য দিয়ে আইসিসিকে সহযোগিতা করেছিলেন সাকিব আল হাসান। এবারও সহযোগিতা করেছেন আইসিসিকে, তবে তা নিজেরই বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিয়ে। যত দূর জানা যায়, আন্তর্জাতিক জুয়াড়ি দীপক আগরওয়াল অতীতে বিভিন্ন সময় সাকিবের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন। সাকিব বরাবরই তাঁর প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছেন। কিন্তু আইসিসিকে সে ব্যাপারে কিছু জানাননি। আইসিসির আইনে এই না জানানোটাও অপরাধ হিসেবে গণ্য হয়। আর সে কারণেই এই শাস্তি। আইসিসির আইনেও প্রদত্ত শাস্তি প্রত্যাহার করার বিধান নেই। তা সত্ত্বেও দীর্ঘ সময়ের ভালো আচরণ বিবেচনায় নিয়ে যদি কিছু করার সুযোগ থাকে, তা করা হবে বলেই আমাদের বিশ্বাস।

    সাকিব শুধু বাংলাদেশে নয়, আন্তর্জাতিক ক্রিকেট অঙ্গনেও একটি প্রিয় মুখ। বাংলাদেশের ক্রিকেটকে তিনি অনেক কিছু দিয়েছেন। অনেক উপলক্ষে তাঁর ভূমিকা বাংলাদেশকে গৌরবান্বিত করেছে। আমরা আশা করি, ভবিষ্যতেও তিনি বাংলাদেশকে আরো গৌরবান্বিত করবেন। সাকিব বাংলাদেশ ক্রিকেটের জন্য অপরিহার্য। সাকিব বিহীন বাংলাদেশের ক্রিকেট যেন ব্যাটারি বিহীন টস লাইটের সমান।
    লেখক ঃ মুক্তিযোদ্ধা ও শিক্ষাবিদ, সাবেক চেয়ারম্যান রাজউক, প্রতিষ্ঠাতা ও সভাপতি আর কে চৌধুরী বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ, সভাপতি বাংলাদেশ ম্যাচ ম্যানুফ্যাকচারার এসোসিয়েশন, সদস্য এফবিসিসিআই, মহান মুক্তিযুদ্ধে ২ ও ৩ নং সেক্টরের রাজনৈতিক উপদেষ্টা।

    Comments

    comments

    কোন এলাকার খবর দেখতে চান...

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০১১১২১৩১৪১৫
    ১৬১৭১৮১৯২০২১২২
    ২৩২৪২৫২৬২৭২৮২৯
    ৩০  
  • ফেসবুকে আজকের অগ্রবাণী