• শিরোনাম



    কোন এলাকার খবর দেখতে চান...


    সাজু আহমেদ’র “মহেশপাড়ার সেই ছেলেটি”

    হাবিব মোস্তফা | ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২০ | ১:১১ অপরাহ্ণ

    সাজু আহমেদ’র “মহেশপাড়ার সেই ছেলেটি”

    সাজু আহমেদ’র সর্বজনজ্ঞাত পরিচয় তিনি একজন সংবাদকর্মী, একজন মঞ্চ অভিনেতা ও নির্দেশক।এর বাইরে তার যে পরিচয়টুকু খুব কাছের মানুষ ছাড়া বেশীরভাগ সংস্কৃতিকর্মীর কাছে অজানা: সেটি হল- তিনি একজন স্বভাব কবি।কাব্য চর্চার শুরু কৈশোর থেকে।কাঁচা হাতের তাজা আবেগযুক্ত প্রথম কাব্যগ্রন্থ প্রকাশিত হয়ে ‘স্মৃতি কেন কাঁদায়’ শিরোনামে ২০০২ সালে।


    কাঠখর পুড়িয়ে দিনে দিনে অনেক সময় গড়িয়েছে, পূর্বের নরম সূর্য আজ মাথার উপরে; কবি আজ যৈবনের প্রেম ময়দানে হাজির।কোটি দু:খ-বেদনা আজ ডালাপালা- শাখা নিয়ে পরিণত বৃক্ষ হয়ে বুকের জমিনে দাঁড়িয়ে।কবির ভাষাও তাই অনেক শানিত।“মহেশপাড়ার সেই ছেলেটি” শিরোনামে ২০২০ সালে প্রকাশিত হল সাজু আহমেদ এর দ্বিতীয় কাব্যগ্রন্থ।বইটিতে কবিতার সংখ্যা-৩৫টি। কয়েকটি কবিতার চুম্বক অংশ নিয়ে আলোকপাত করার লোভ সামলাতে পারছি না।


    “মহেশপাড়ার সেই ছেলেটি” শিরোনামের টাইটেল কবিতায় কবি নিজের শৈশবে বেড়ে উঠার হাজার স্মৃতি, নদীর সাথে, গাছের সাথে প্রেম বর্ণনার পাশাপাশি নাগরিক জীবনে প্রবেশের পর করুন বাস্তবতা ফুটিয়ে তুলেছেন।জীবনের অনেকটা পথ পাড়ি দিয়ে ক্লান্ত মুসাফিরের মত তার মনে প্রশ্ন- সুখের দিগন্ত সীমানা কোথায়? দিনবদলের দিন আর কত দূর, দীর্ঘশ্বাসে পোড়া সকাল দুপুর, আস্থাহীনতার দিন কেটে যায় অমলিন, ফিরে আসে না সেই সোনালী সকাল…

    মানব জীবনের এক নির্মম বাস্তবতার ছবি এঁকেছেন কবি ‘জীবনের সরল অংকগুলো’ কবিতায়।যাকে ভালবাসে সেই তাকে পৌঁছে দেয় ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে, ছুঁড়ে ফেলে মৃত্যুকূপে বিনা শুশ্রূষায়।জীবন সেতো বড় প্রতিদানহীন এক মর্মযাতনার নাম, নিয়ত ক্ষয়ে যাওয়া, পুড়ে যাওয়া এক বিস্তর সবুজ মাঠের নাম।যেখানে-নির্বাচিত নৈর্ব্যক্তিক দু:খগুলো, নির্ধারিত কষ্টগুলো, প্রাপ্য যন্ত্রনাগুলো, সীমাহীন নষ্টামিগুলো কুরে কুরে খায় কবিকে।অস্তিত্বিই এখন বিলীনের পথে, অস্থিমজ্জা নি:শেষ, অবিশিষ্ট শুধু গায়ের পুড়ে যাওয়া চামড়া।

    ‘সৌন্দর্যের আড়ালে’ কবিতায় কবি প্রিয়তমার মুখোশ উন্মোচন করেছেন।মেকী হাসির আড়ালে, কৃত্রিম প্রসাধনের আচ্ছাদনে যে তার ভিতরের কুৎসিত রূপ ঢেকে রাখতে চায়, সে কিরে জীবনযুদ্ধে অবর্তীর্ণ ঘামে ভেজা যুবকের চলার পথের ক্লান্তি দূর করবে? সেই প্রশ্নই রেখেছেন কবি।

    প্রকৃত গুণীদেরকে তাদের জীবদ্দশাতেই প্রাপ্য সম্মান জানাতে হবে, মরে যাওয়ার পর তাকে স্মরণ করে গ্লিসারিনযুক্ত অশ্রুতে বুক ভাসিয়ে, তার কবরে সোনার মেডেল, পদক ও ফুল সাজিয়ে কী হবে? এই যৌক্তিক দাবীটি তুলেছেন ‘অ্যাওয়ার্ড চাইনা’ কবিতায়।

    সময় কবিতায় পৃথিবীতে চিরসত্যের নাম ‘মৃত্যু’, বাকী সব মায়া, মিথ্যে, প্রহেলিকা।এই মৃত্যুর মধ্য দিয়ে পরমাত্মার সাথে মিলন ঘটে জীবাত্মার।তাই বইটির সমাপ্তীর কবিতা ‘সময়’তে কবি মৃত্যুর জন্য অধীর আগ্রহ প্রকাশ করেছেন।কে যেন ডাকে আমায়, কানে শুনি- চোখে দেখি না…

    -কবির পিতা ফিরোজ উদ্দিন আহমেদ, মাতা (প্রয়াত) রাবেয়া বেগম, মহেশপাড়া গ্রাম এবং ঢাকা মৌলিক নাট্টদলকে যৌথভাবে উৎসর্গ করা বইটি মেলায় এনেছে রায়োরা বুক কর্ণার, স্টল নম্বর-২৪৩ এবং শুভেচ্ছা মূল্য রাখা হয়েছে ১৬০ টাকা মাত্র।

    লেখক
    হাবিব মোস্তফা
    গীতিকার, সুরকার, সংস্কৃতি সমালোচক

    Facebook Comments

    কোন এলাকার খবর দেখতে চান...

    webnewsdesign.com

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০১১১২১৩১৪১৫১৬
    ১৭১৮১৯২০২১২২২৩
    ২৪২৫২৬২৭২৮২৯৩০
    ৩১  
  • ফেসবুকে আজকের অগ্রবাণী


  • Notice: ob_end_flush(): failed to send buffer of zlib output compression (0) in /home/ajkerogr/public_html/wp-includes/functions.php on line 4669