• শিরোনাম



    কোন এলাকার খবর দেখতে চান...


    সাত দফার মধ্যে প্রধানমন্ত্রী যা মানলেন

    ডেস্ক | ০২ নভেম্বর ২০১৮ | ১০:৩৮ পূর্বাহ্ণ

    সাত দফার মধ্যে প্রধানমন্ত্রী যা মানলেন

    বহুল আলোচিত সংলাপ চলমান থাকবে বলে জানানো হলেও গণভবনে অনুষ্ঠিত সাড়ে তিন ঘণ্টার আলোচনায় বড় ধরনের কোনো ফল বেরিয়ে আসেনি। তবে সভা-সমাবেশে বাধা না দেওয়া, গণগ্রেপ্তার বন্ধ করা এবং এখন থেকে আর নতুন মামলা না দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাতীয় ঐক্যফ্রন্টকে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।


    তিনি বলেছেন, নির্বাচনে তিনি কোনো হস্তক্ষেপ করবেন না। এ ছাড়া তিনি বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলার তালিকাও চেয়েছেন। সংলাপ শেষে দুই পক্ষের নেতারা এসব তথ্য জানিয়েছেন।
    সাত দফার মধ্যে প্রধানমন্ত্রী যা মানলেন : বিরোধী দলগুলোর উত্থাপিত ১ নম্বর দাবির মধ্যে বিএনপিসহ বিরোধী দলের নেতাদের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত মামলা প্রত্যাহারের আশ্বাস দিয়ে এ বিষয়ে তালিকা চান। একই সঙ্গে তিনি এ-ও বলেন, নতুন আর কোনো মামলা দেওয়া হবে না। নির্বিঘ্নে সভা-সমাবেশ করতে পারবেন বলেও আশ্বাস দেন প্রধানমন্ত্রী। এ বিষয়ে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে নির্দেশ দেওয়া হবে। সংলাপে ঐক্যফ্রন্টের ৬ নম্বর দাবির একাংশ অর্থাৎ দেশীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক নিয়োগের ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হবে বলে প্রধানমন্ত্রী জানান।


    না মানা দাবি : সংলাপে অংশ নেওয়া নেতারা জানান, জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের ১ নম্বর দাবি—অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের লক্ষ্যে সরকারের পদত্যাগ, জাতীয় সংসদ বাতিল, আলোচনা করে নিরপেক্ষ সরকার গঠনের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এগুলো সংবিধানবিরোধী।

    ঐক্যফ্রন্টের এক নেতা বলেন, ‘‘ওই দাবি প্রসঙ্গে শেখ হাসিনা বলেন, ‘আপনারা আমার সঙ্গে সংলাপ করতে এসে আমারই মাথা কেটে নিতে চান! ঠিক আছে আমি থাকলাম না, কিন্তু আনবেন কাকে?’ ঐক্যফ্রন্টের নেতারা তখন বলেন, চাইলে এ বিষয়ে আলোচনা করে সংবিধানের মধ্যে থেকেই একটা পথ বের করা যায়। ফ্রন্টের নেতারা তখন মত দেন, নির্বাচনের জন্য একটি স্থায়ী ব্যবস্থা করা দরকার। এ জন্য একটা কমিটি করার দাবি তোলেন তাঁরা। ড. শাহদীন মালিক এবং ড. আসিফ নজরুলকে যুক্তফ্রন্টের পক্ষে কমিটির সদস্য প্রস্তাব করে কমিটি গঠনের কথা বলেন ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী। ”
    জানা যায়, এ ব্যাপারে প্রবীণ নেতা তোফায়েল আহমেদও সায় দেন। পরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, কমিটি গঠন করে এ বিষয়ে আলোচনা করা যায়। নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠন, ইভিএম ব্যবহার না করার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী কোনো প্রতিশ্রতি দেননি। তিনি বলেন, সার্চ কমিটি গঠন করে এই নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠন করা হয়েছে। কোটা সংস্কার ও নিরাপদ সড়কের দাবিতে আন্দোলন, সামাজিক গণমাধ্যমে মতপ্রকাশের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় কোনো নীরিহ লোক আছে কি না সে বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হবে বলে প্রধানমন্ত্রী জানান।

    ঐক্যফ্রন্টের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক নেতা বলেন, “ঐক্যফ্রন্টের পাঁচ নম্বর দাবির বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা উপস্থিত নেতাদের পাল্টা প্রশ্ন উত্থাপন করে বলেন, ‘সেনাবাহিনী নিয়োগের দাবি আপনারা কিভাবে করেন? সেনাবাহিনী আসলে যেতে চায় না। ’ এ প্রসঙ্গে তিনি ওয়ান-ইলেভেনের কথা উল্লেখ করেন। ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরীকে এ প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এই যে আপনারা কত ফ্রিডম ভোগ করছেন। সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে কথা বলেও কোনো সমস্যা হয়নি। খালেদা জিয়া থাকলে এত দিনে আপনাকে গ্রেপ্তার করে নিয়ে যেত। ’”

    একটি সূত্রে জানা যায়, যুক্তফ্রন্টের পক্ষ থেকে নির্বাচনের তফসিল পেছানোর দাবি করা হলেও প্রধানমন্ত্রী তাতে সায় দেননি। তিনি বলেন, এটা নির্বাচন কমিশনের ব্যাপার। নির্বাচনকালীন সরকার ছোট করার বিষয়েও প্রধানমন্ত্রী রাজি হননি। বৈঠকে জঙ্গিবাদ নিয়ে দীর্ঘ বত্তৃদ্ধতা করেন হাসানুল হক ইনু ও মইন উদ্দীন খান বাদল। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও এ বিষয়ে কথা বলেন। তিনি কথা প্রসঙ্গে খালেদা জিয়ার ছেলে আরাফাত রহমান কোকোর মৃত্যুতে সহানুভূতি জানাতে গুলশানে যাওয়ার প্রসঙ্গ তুলে বলেন, তাঁকে সেদিন অপমান করা হয়েছে। বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য মওদুদ আহমদের প্রতি ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, ‘আপনি সেদিন গুলশান কার্যালায়ে দাঁড়িয়ে ছিলেন। আমাকে ভেতরে গিয়ে বসতে বলতে পারতেন। ’

    Facebook Comments

    কোন এলাকার খবর দেখতে চান...

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০১১১২১৩১৪১৫১৬
    ১৭১৮১৯২০২১২২২৩
    ২৪২৫২৬২৭২৮২৯৩০
    ৩১  
  • ফেসবুকে আজকের অগ্রবাণী


  • Notice: ob_end_flush(): failed to send buffer of zlib output compression (0) in /home/ajkerogr/public_html/wp-includes/functions.php on line 4669