বুধবার, আগস্ট ৩, ২০২২

সাদা কাগজে স্বাক্ষরে ‘বিয়ে’, ৫ দিন আটকে রেখে শিশুর সর্বনাশ

ডেস্ক রিপোর্ট   |   বুধবার, ০৩ আগস্ট ২০২২ | প্রিন্ট  

সাদা কাগজে স্বাক্ষরে ‘বিয়ে’, ৫ দিন আটকে রেখে শিশুর সর্বনাশ

যশোরের অভয়নগরে সাদা কাগজে স্বাক্ষর নিয়ে বিয়ের ফাঁদে ফেলে স্কুলছাত্রীকে পাঁচদিন ধরে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে এক যুবকের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় মামলার পর অভিযুক্ত হাফিজুর রহমান ও তার সহযোগী রুহুল আমিনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

মঙ্গলবার আদালতে তোলা হলে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন গ্রেফতাররা। পরে তাদের কারাগারে পাঠান সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট সম্পা বসু।


গ্রেফতার হাফিজুর রহমান অভয়নগর উপজেলার বুইকারা জগবাবুর মোড়ের শাহ আলমের ছেলে ও রুহুল আমিন একই এলাকার খোরশেদ আহমেদের ছেলে। তিনি আল হেলাল ইসলামী একাডেমির শিক্ষক।

ভুক্তভোগীর বাবা জানান, আল হেলাল ইসলামী একাডেমিতে পঞ্চম শ্রেণিতে লেখাপড়া করছিল তার মেয়ে। তিনি বেঙ্গল টেক্সটাইল মিলে কাজ করেন। হাফিজুর রহমানেরও স্ত্রী ও ৯ বছরের একটি মেয়ে রয়েছে। এরপরও বেশ কিছুদিন ধরে তার মেয়েকে বিয়ের প্রস্তাব দেন হাফিজুর। এতে রাজি হননি মেয়েটির বাবা। এজন্য মাঝে মধ্যে মেয়েটিকে উত্ত্যক্ত করতেন হাফিজুর।


তিনি বলেন, ১৩ জুলাই আমার বাড়িতে আসেন হাফিজুরের খালা। তিনিও হাফিজুরের সঙ্গে মেয়ের বিয়ের প্রস্তাব দেন। বরাবরের মতোই আমি নারাজ ছিলাম। এ সময় হাফিজুরের সঙ্গে বিরোধ রাখার দরকার নেই বলে জানান রোকেয়া। বিষয়টি মীমাংসার উদ্দেশ্যে হাফিজুরের বাড়িতে আমাদের বাবা-মেয়েকে দাওয়াত দিয়ে নিয়ে যান।

ওই সময় হাফিজুরের বাড়িতে উপস্থিত ছিলেন মেয়েটির স্কুলের ধর্মীয় শিক্ষক রুহুল আমিন। তিনি স্কুলের প্রয়োজনের কথা বলে একটি সাদা কাগজে মেয়ে ও তার মায়ের স্বাক্ষর করান। এরপর বলেন হাফিজুরের সঙ্গে মেয়ের বিয়ে সম্পন্ন হয়েছে। এখন থেকে মেয়েটি হাফিজুরের স্ত্রী। এ সময় মেয়েসহ মেয়ের মা প্রতিবাদ করলে হাফিজুর ও তার সহযোগীরা হত্যার হুমকি দেন। এরপর মেয়েকে রেখে তার মাকে বাড়ি থেকে তাড়িয়ে দেন।

পাঁচদিন পর ১৬ জুলাই রাত ১১টার দিকে অসুস্থ অবস্থায় মেয়েটিকে বাড়ির সামনে ফেলে রেখে চলে যান আসামিরা। এরপর মেয়েটিকে চিকিৎসা করিয়ে অভয়নগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে জানানো হয়। নির্বাহী কর্মকর্তা তাদের থানায় যাওয়ার পরামর্শ দেন।

এ ঘটনায় মামলা করা হলে মঙ্গলবার সকালে হাফিজুর রহমান ও শিক্ষক রুহুল আমিনকে গ্রেফতার করে পুলিশ। এদিনই তাদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়। পাশাপাশি মেয়েটি আদালতে জবানবন্দি দিয়েছে।

বিয়ের কথা স্বীকার করে হাফিজুর রহমান বলেন, উভয় পরিবারের সম্মতিতে বিয়ে হয়েছে। জোর করে বিয়ে করা হয়নি। পঞ্চম শ্রেণির ছাত্রী ও বাল্যবিয়ে করার বিষয়ে প্রশ্ন করলে তিনি কোনো কথা বলেননি।

আল হেলাল ইসলামী একাডেমির ধর্মীয় শিক্ষক রুহুল আমিন বলেন, হাফিজুরসহ কয়েকজন সন্ত্রাসী আমাকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে এ কাজ করিয়েছিল। প্রাণ বাঁচানোর স্বার্থে আমি বাধ্য হয়েছিলাম। তবে বিয়ের কোনো রেজিস্ট্রি হয়নি।

অভয়নগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) একেএম শামীম হাসান বলেন, সোমবার মধ্যরাতে মামলার পর অভিযুক্ত দুজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। মঙ্গলবার বিকেলে তাদের আদালতে পাঠানো হয়। পরে তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন বিচারক।

Posted ১২:৫৯ অপরাহ্ণ | বুধবার, ০৩ আগস্ট ২০২২

ajkerograbani.com |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

advertisement
advertisement
advertisement

Archive Calendar

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০১১১২
১৩১৪১৫১৬১৭১৮১৯
২০২১২২২৩২৪২৫২৬
২৭২৮২৯৩০৩১  
মুহা: সালাহউদ্দিন মিয়া সম্পাদক ও প্রকাশক
মুহা: সালাহউদ্দিন মিয়া কর্তৃক তুহিন প্রেস, ২১৯/২ ফকিরাপুল (১ম গলি) মতিঝিল, ঢাকা-১০০০ থেকে মুদ্রিত ও প্রকাশিত।
বার্তা ও সম্পাদকীয় কার্যালয়

২ শহীদ তাজউদ্দিন আহমেদ সরণি, মগবাজার, ঢাকা-১২১৭।

হেল্প লাইনঃ ০১৭১২১৭০৭৭১

E-mail: [email protected] | [email protected]