শুক্রবার, ফেব্রুয়ারি ১৯, ২০২১

সাবেক রেজিস্ট্রারের মৌখিক আদেশের বলি শিক্ষার্থীরা

  |   শুক্রবার, ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২১ | প্রিন্ট  

সাবেক রেজিস্ট্রারের মৌখিক আদেশের বলি শিক্ষার্থীরা

সাভারের গণ বিশ্ববিদ্যালয়ের (গবি) সাবেক রেজিস্ট্রার মো. দেলোয়ার হোসেনের গত বছরের জুনে দেয়া জরিমানা সংক্রান্ত এক মৌখিক আদেশের বাস্তবায়ন না হওয়ায় ভোগান্তিতে পড়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।
বৃহস্পতিবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীরা বিষয়টি সাংবাদিকদের অবগত করেন।
জানা যায়, গত বছরের ১ জুলাই অনলাইনে শুরু হওয়া সেমিস্টার ফাইনাল পরীক্ষার এক সপ্তাহ পূর্বে ২৪ জুন সম্পূর্ণ বকেয়া পরিশোধের আহ্বান জানিয়ে বিজ্ঞপ্তি দেয় প্রশাসন।
বকেয়া পরিশোধ না করলে পরীক্ষায় অংশ নিতে পারবে না মর্মে বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়। এর দুদিন পর ২৭ জুন বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রারের সাথে অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন, ছাত্র সংসদ, সাংবাদিক সমিতি, ছাত্র পরিষদসহ অন্যান্যরা আলোচনায় বসে।
jagonews24
তখন রেজিস্ট্রার জানান, বকেয়ার ৫০% পরিশোধ করে শিক্ষার্থীরা পরীক্ষায় অংশ নিতে পারবে এবং ১০ জুলাইয়ের মধ্যে যারা বকেয়া পরিশোধ করবে তাদের জরিমানা দিতে হবে না। একইসঙ্গে যারা ইতোমধ্যে পাঁচ হাজার জরিমানাসহ বকেয়া পরিশোধ করেছেন, তাদের জরিমানার টাকা পরবর্তী সেমিস্টারে যুক্ত করা হবে বলে জানান তিনি। রেজিস্ট্রারের এ সিদ্ধান্তের বিষয়ে তখন একাধিক পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশিত হয়।
কিন্তু সাত মাস পেরিয়ে গেলেও তৎকালীন রেজিস্ট্রারের এই ঘোষণার বাস্তবায়ন হয়নি বলে অভিযোগ ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীদের।
তারা বলেন, আমরা ২৭ জুন তারিখে দেয়া ওই ঘোষণার আগেই জরিমানাসহ টাকা পরিশোধ করেছি। কিন্তু জরিমানার পাঁচ হাজার টাকা পরের সেমিস্টারে যুক্ত করা হয়নি। ফলে তারা পরীক্ষার ফল দেখা এবং পরবর্তী সেমিস্টারের ক্লাসে অংশগ্রহণ করা নিয়ে চিন্তায় আছেন বলে জানান।
ভেটেরিনারি অ্যান্ড অ্যানিমেল সায়েন্সেস অনুষদের শিক্ষার্থী ইহসানুল কবির জরিমানাসহ বকেয়া পরিশোধ করেন গত বছরের ২২ জুন। একই অনুষদের মো. সাগর সরকার রকি রেজিস্ট্রারের ঘোষণার পূর্বেই জরিমানার পাঁচ হাজারসহ বকেয়া পরিশোধ করেন।
jagonews24
ঘোষণা অনুযায়ী, তাদের উভয়েরই জরিমানার টাকা পরের সেমিস্টারে যুক্ত হওয়ার কথা। কিন্তু সর্বশেষ ২৭ জানুয়ারি প্রকাশিত বকেয়া তালিকায় তাদের উভয়েরই পাঁচ হাজার টাকা বাকি দেখানো হচ্ছে।
এ বিষয়ে হিসাব ও অর্থ বিভাগের পরিচালক মো. আব্দুল কাদের জানান, লিখিত না পেলে মৌখিক আদেশে তো আমরা কোনো সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করতে পারি না।
কিন্তু শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, তৎকালীন সময়ে রেজিস্ট্রারের মুখের কথাতেই অনেক কিছু বাস্তবায়ন হতো। লিখিত নোটিশ তিনি কমই দিতেন।
তৎকালীন রেজিস্ট্রারের এই আদেশের বিষয়ে কি সিদ্ধান্ত হবে, জানতে পরপর দুইদিন বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগ করার চেষ্টা হয়। কিন্তু তারা ফোন রিসিভ করেননি।
প্রসঙ্গত, গত বছরের ৮ সেপ্টেম্বর ছাত্রীর সাথে অশ্লীল ফোনালাপ ফাঁসের পর ১২ সেপ্টেম্বর তৎকালীন রেজিস্ট্রার মো. দেলোয়ার হোসেনকে অব্যাহতি দেয় ট্রাস্টি বোর্ড।


Posted ২:২৪ অপরাহ্ণ | শুক্রবার, ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২১

ajkerograbani.com |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

advertisement
advertisement
advertisement

Archive Calendar

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
১০১১১২১৩১৪
১৫১৬১৭১৮১৯২০২১
২২২৩২৪২৫২৬২৭২৮
২৯৩০৩১