• শিরোনাম



    কোন এলাকার খবর দেখতে চান...


    সিআর৭ মৃত, বেঁচে থাক সিআর৯!

    অনলাইন ডেস্ক | ০৪ মে ২০১৭ | ৫:০৯ অপরাহ্ণ

    সিআর৭ মৃত, বেঁচে থাক সিআর৯!

    আরো একটি বড় মঞ্চ। আরো একটি হ্যাটট্রিক ক্রিস্তিয়ানো রোনালদোর। টানা দুই ম্যাচে দুইবার! বায়ার্ন মিউনিখের পর তিনবার বল পাঠালেন অ্যাতলেতিকো মাদ্রিদের জালে। চ্যাম্পিয়নস লিগের নকআউট পর্বে টানা দুই হ্যাটট্রিকের কীর্তি ছিল না এত দিন। সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে তাই নতুন ইতিহাস পর্তুগিজ যুবরাজের। পাশে বসলেন লিওনেল মেসিরও। চ্যাম্পিয়নস লিগে সবচেয়ে বেশি সাতটি হ্যাটট্রিক এখন সময়ের সেরা দুই ফুটবলারের।


    মেসি আগের সেই জাদুকর থাকলেও রোনালদো কিন্তু বদলে গেছেন অনেকখানি। ছবির মতো ড্রিবলিং, উইং ধরে চিতার গতি, প্রতি ম্যাচে ১২ কিলোমিটার দৌড়—এসব কালের গর্ভে। মাঠে রোনালদোর নতুন অবতার। উইং ছেড়ে ব্রাজিলিয়ান রোনালদোর মতোই তিনি এখন ফরোয়ার্ড। সিআর সেভেন হয়ে উঠেছেন সিআর নাইন! ম্যাচে ১২ কিলোমিটারের বদলে দৌড়াচ্ছেন ছয়-সাত কিলোমিটার। ড্রিবলিংয়ের বদলে বেশি মনোযোগ নিখুঁত ফিনিশিংয়ে। রোনালদোর এই বদলে যাওয়ার শুরুটা ২০১৩-১৪ মৌসুম কার্লো আনচেলোত্তির হাত ধরে। সেই মৌসুমে শুরুতে ফরোয়ার্ড হিসেবে দলের সেরা তারকাটিকে খেলিয়েছিলেন এই ইতালিয়ান কোচ। জায়গা বদলে অবশ্য বিবর্ণ ছিলেন। ক্ষোভ জানানোয় আবারও ফেরানো হয় পছন্দের বাঁ উইংয়ে। ১৭ গোল করে সেবার রিয়ালকে আরাধ্য ‘লা দেসিমা’ জিতিয়েছিলেন রোনালদো।

    ajkerograbani.com

    সময় আর স্রোত অপেক্ষা করে না কারো জন্য। বয়স ৩০ বছর ছাড়িয়ে যাওয়ায় আগের সেই গতি হারিয়েছিলেন রোনালদো। পুরো ৯০ মিনিট দর্শকদের মন্ত্রমুগ্ধ করে রাখার কার্যকারিতা কমছিল ক্রমেই। তাই মাদ্রিদে দাবি ওঠে রোনালদোকে বিক্রির। এখানেই বাজিটা খেলেন জিনেদিন জিদান। তাঁর ভালোই জানা রিয়ালের বর্তমান স্কোয়াডে রোনালদোর চেয়ে ভালো ড্রিবলার, ট্রিকার কিংবা পাসার আছে। অভাব বলতে ভালো ফিনিশারের। রোনালদোকে সেখানেই কাজে লাগিয়েছেন জিদান। সতেজ রাখতে অনেক ম্যাচে রেখেছেন বেঞ্চে বসিয়ে। শুরুতে আপত্তি জানালেও মেনে নিয়েছেন পুরো ৯০ মিনিটের বদলে শেষ দিকে মাঠ ছাড়তে। মাঠ দাপিয়ে না বেড়িয়ে জিদান থাকতে বলেছেন ডি বক্স বা তার আশপাশেই। অ্যাতলেতিকোর বিপক্ষে ম্যাচটিই ধরুন। পুরো ৯০ মিনিট খেলা রিয়ালের আক্রমণভাগের খেলোয়াড়দের মধ্যে সবচেয়ে কম বল স্পর্শ করেছেন রোনালদোই!

    নতুন এই রোনালদো গোলের মালা গেঁথে গড়ে চলেছেন একের পর এক কীর্তি। নিজেদের চ্যাম্পিয়নস লিগ ইতিহাসে অ্যাতলেতিকো মাদ্রিদের গোল ১০০টি। সেখানে রোনালদোর একার গোল ১০৩টি! নকআউট পর্বে প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে করলেন ৫০ গোল (মোট ৫২টি)। এর ১৩টি সেমিফাইনালে, যা চ্যাম্পিয়নস লিগের সর্বোচ্চ। আছে সর্বোচ্চ ৪৯টি অ্যাওয়ে গোলও। গোলের পাশাপাশি সবচেয়ে বেশি ৩০ গোল করানোর কৃতিত্বও তাঁর। সবমিলিয়ে রিয়ালের জার্সিতে গতপরশু পা রেখেছেন ৪০০ গোলের মাইলফলকেও (মার্কার হিসাবে)। এত এত কীর্তি যাঁর, সেই রোনালদোকে কিনা বিদ্রূপ শুনতে হয় ঘরের মাঠ বার্নাব্যুতে! কোয়ার্টার ফাইনালের দ্বিতীয় লেগে বায়ার্ন মিউনিখের বিপক্ষে হ্যাটট্রিকের পর দর্শকদের কাছে আকুতি জানিয়েছিলেন বিদ্রূপ না করার। একই আবেদন আবারও, ‘আমি চাই আপনারা কেউ যেন শিস বাজিয়ে আমাকে উপহাস না করেন। সব সময় নিজের সেরাটা দেওয়ার চেষ্টা করেছি, ভবিষ্যতেও করব সেটা। ’

    ১০, ৭৩ ও ৮৬ মিনিটের গোলে হ্যাটট্রিক পূরণের আনন্দে ডানা মেলেন রোনালদো। ম্যাচ শেষে জানিয়েও দিয়েছেন তাঁর আসল কাজটা ছিল শুধু গোল করা, ‘অ্যাতলেতিকো দারুণ দল। আগামী বুধবারের ফিরতি লেগ নিয়ে সতর্ক থাকতে হবে। আমাদের পুরো দলটা ছিল অসাধারণ, বিস্ময়কর। আমার দায়িত্ব ছিল গোল করার। এটা একটা নিখুঁত ম্যাচ। ’ রোনালদোর দায়িত্ব যে শুধু গোল করা জানালেন মিডফিল্ডার টোনি ক্রোসও, ‘আপনি ভালো রক্ষণ করতে পারেন। মাঝমাঠে বলের নিয়ন্ত্রণও করতে পারেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত একজন খেলোয়াড়ের দরকার হয় যে গোল করতে পারে। রোনালদো সেই কাজটা করে চলেছে নিখুঁতভাবে। ’ সতীর্থরাও এখন জানেন রোনালদোর নতুন ভূমিকা। বুঝতেই পারছেন, সিআর সেভেন মৃত। দীর্ঘজীবী হও সিআর নাইন!

    Facebook Comments Box

    কোন এলাকার খবর দেখতে চান...

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
    ১০১১১২১৩১৪
    ১৫১৬১৭১৮১৯২০২১
    ২২২৩২৪২৫২৬২৭২৮
    ২৯৩০৩১  
  • ফেসবুকে আজকের অগ্রবাণী


  • Notice: ob_end_flush(): failed to send buffer of zlib output compression (0) in /home/ajkerogr/public_html/wp-includes/functions.php on line 4757