• শিরোনাম



    কোন এলাকার খবর দেখতে চান...


    ফ্যানে ঝুলে আত্মহত্যায় যে চিহ্ন ফুটে ওঠে তার কোনোটিই পাওয়া যায়নি রাউধার লাশে

    অনলাইন ডেস্ক | ২৩ এপ্রিল ২০১৭ | ৫:৫৬ অপরাহ্ণ

    ফ্যানে ঝুলে আত্মহত্যায় যে চিহ্ন ফুটে ওঠে তার কোনোটিই পাওয়া যায়নি রাউধার লাশে

    রোববার দুপুরে রাজশাহী প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে এ অভিযোগ করেন মালদ্বীপের এ চিকিৎসক।


    সেইসঙ্গে কলেজ কর্তৃপক্ষ ও ময়নাতদন্তের চিকিৎসকরা ঘটনা ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

    ajkerograbani.com

    তার মেয়েকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে, যার আলমত তার শরীরে রয়েছে বলে দাবি করেন আথিফ।

    লিখিত বক্তব্যে আথিফ বলেন, সিলিং ফ্যানে ঝুলে আত্মহত্যা করলে যেসব চিহ্ন চোখে-মুখে ও শরীরে ফুটে ওঠে তার কোনোটিই পাওয়া যায়নি রাউধার লাশে।

    “কিন্তু শ্বাসরোধ করে হত্যা করলে যেসব আলামত ফুটে ওঠে তার সবগুলোই রয়েছে তার শরীরে।”

    তিনি বলেন, “মেয়ে যে ফ্যানের সঙ্গে ঝুলে আত্মহত্যা করেছে বলে কলেজ কর্তৃপক্ষ বলছে তার কোনো প্রমাণই নেই। একজন মানুষ ফ্যানের সঙ্গে ঝুললে সেই ফ্যানে দাগ পড়বে বা বাঁকা হয়ে যাবে। কিন্তু তার কোনো চিহ্ন পাওয়া যায়নি।

    “আদৌ মেয়ে ফ্যানের সঙ্গে ঝুলেছিল কি না সেটা পরিষ্কার নয়; কারণ কেউ দেখেনি রাউধা ফ্যানে ঝুলে ছিল।”

    “তার মৃত্যুর পর যে ছবি পাওয়া যায় তা বিছানায় শোয়ানো অবস্থায় ছিল” উল্লেখ করে তিনি বলেন, “ছবি না থাকলে কীভাবে বাবা হিসেবে আমি বিশ্বাস করব যে আমার মেয়ে ফ্যানে ঝুলে আত্মহত্যা করেছে?

    “আত্মহত্যা করলে স্যালিভা বেরিয়ে আসে; মূত্র বেরিয়ে আসে; হাত-পা ছড়ানো থাকে। কিন্তু রাউধার হাত মুষ্টিবদ্ধ ছিল। সাধারণত শ্বাসরোধ করা হলে লাশের হাত মুষ্টিবদ্ধ থাকে।”

    তাছাড়া রাউধার গলায় হাতের আঙুলের স্পষ্ট ছাপ রয়েছে বলে দাবি করেন আথিফ।

    তিনি বলেন, সুতি কাপড়ের ওড়না দিয়ে রাউধা গলায় ফাঁস দিয়েছে বলে মেডিকেল কলেজ কর্তৃপক্ষ ও ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

    তারা ‘মিথ্যা প্রতিবেদন’ দিয়েছে অভিযোগ করে রাউধার গলায় যে দাগ রয়েছে তা ‘সুতি কাপড়ের ওড়নার নয়’ বলে দাবি করেন আথিফ।

    কলেজ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও ময়নাতদন্তের চিকিৎসকদের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে এ চিকিৎসক বলেন, রাউধার গলায় যে চিহ্ন রয়েছে তা প্রকৃতপক্ষে কিসের তা নিশ্চিত হওয়ার জন্য এক্সরে এবং এমআরআই করা প্রয়োজন; কিন্তু তা করা হয়নি।

    প্রকৃত ঘটনা ধামাচাপা দিতে ময়নাতদন্তকারী চিকিৎসকরা গাফিলতি করে এক্সরে ও এমআরআই করেননি বলেও অভিযেগ করেন তিনি।

    সোমবার দ্বিতীয় ময়নাতদন্ত

    রাউধার লাশ সোমবার কবর থেকে উত্তোলন করে দ্বিতীয় দফা ময়নাতদন্ত করা হবে বলে জানিয়েছেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও সিআইডির পরিদর্শক আসমাউল হক।

    তিনি জানান, ময়নাতদন্তের জন্য সিরাজগঞ্জের শহীদ এম মনসুর আলী মেডিকেল কলেজের ফরেন্সিক বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক আমিরুল চৌধুরীকে প্রধান করে তিন সদস্যের বোর্ড গঠন করা হয়েছে।

    বোর্ডের অন্য সদস্যরা হলেন, সিরাজগঞ্জ নর্থ বেঙ্গল মেডিকেল কলেজের ফরেন্সিক মেডিসিন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মাহবুব হাফিজ ও রাজশাহী মেডিকেল কলেজের রেডিওলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক হাফিজুর রহমান।

    জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রক্তিম চৌধুরীর উপস্থিতিতে লাশ উত্তোলন করা হবে বলে জানান আসমাউল।

    গত ১৭ এপ্রিল লাশের দ্বিতীয় ময়নাতদন্তের অনুমতি চেয়ে আদালতে আবেদন করা হয়। পরের দিন শুনানি শেষে কবর থেকে লাশ উত্তোলন করে ময়নাতদন্তের আদেশ দেয় আদালত।

    গত ২৯ মার্চ ইসলামী ব্যাংক মেডিকেল কলেজ হোস্টেল থেকে রাউধার লাশ উদ্ধারের পর পুলিশ জানিয়েছিল, সিলিং ফ্যানের সঙ্গে কাপড় বেঁধে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন ২০ বছর বয়সী ওই তরুণী।

    এ ঘটনায় ওইদিনই কলেজ কর্তৃপক্ষ বাদী হয়ে নগরীর শাহ মখদুম থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা দায়ের করে।

    এরপর ৩০ মার্চ তিন সদস্যের বোর্ড গঠন করে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রাউধার লাশের ময়নাতদন্ত শেষে তার মরদেহ বাবা-মায়ের কাছে হস্তান্তর করা হয়। পরিবারের সদস্যদের উপস্থিতিতে ১ এপ্রিল রাজশাহীর হেতেমখাঁ গোরস্থানে তার দাফন সম্পন্ন হয়।

    ওইদিন রাউধা আত্মহত্যা করেছে বলে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন দেওয়া হয়। এরপর মালদ্বীপের দুই পুলিশ কর্মকর্তা রাজশাহীতে এসে রাউধার মৃত্যুর ঘটনা তদন্ত করেন।

    গত ১০ এপ্রিল রাউধার চিকিৎসক বাবা মোহাম্মদ আতিফ রাজশাহীর আদালতে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। এজাহারে বলা হয়- রাউধাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে। মামলায় রাউধার সহপাঠী সিরাত পারভীন মাহমুদকে (২০) একমাত্র আসামি করা হয়। সিরাতের বাড়ি ভারতের কাশ্মিরে।

    গত ১৩ এপ্রিল রাউধার বাবার দায়ের করা হত্যা মামলাটি তদন্তের জন্য সিআইডিতে হস্তান্তর করা হয়। মামলাটি হস্তান্তরের পর ১৫ এপ্রিল থেকে সিআইডি পুলিশ মামলাটি তদন্ত শুরু করে। ওইদিন হত্যা মামলার একমাত্র আসামি সিরাত পারভীন মাহমুদের পাসপোর্ট জব্দ করা হয়। জব্দ করা হয় সিলিং ফ্যান ও ছাত্রী হোস্টেলের সিসিটিভির ফুটেজ।

    এছাড়াও শনিবার পর্যন্ত মামলার তদন্ত কর্মকর্তা রাউধার সহপাঠীসহ ইসলামী ব্যাংক মেডিকেল কলেজের ২০ জনের জবানবন্দি নেয়।

    রাউধা রাজশাহী ইসলামী ব্যাংক মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের এমবিবিএস দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রী ছিলেন। পড়ালেখার পাশাপাশি মডেলিং করতেন তিনি। ২০১৬ সালের অক্টোবর মাসে বিশ্বখ্যাত ‘ভোগ’ ম্যাগাজিনের ভারতীয় সংস্করণের প্রচ্ছদে প্রকাশিত ছবির পাঁচ মডেলের একজন তিনি।

    Facebook Comments Box

    কোন এলাকার খবর দেখতে চান...

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
    ১০১১১২১৩১৪
    ১৫১৬১৭১৮১৯২০২১
    ২২২৩২৪২৫২৬২৭২৮
    ২৯৩০৩১  
  • ফেসবুকে আজকের অগ্রবাণী


  • Notice: ob_end_flush(): failed to send buffer of zlib output compression (0) in /home/ajkerogr/public_html/wp-includes/functions.php on line 4757