• শিরোনাম



    কোন এলাকার খবর দেখতে চান...


    সীমান্ত হত্যার পেছনের ইতিহাস

    ইমদাদুল হক সোহাগ প্রভাষক, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় - গোপালগঞ্জ | ১৭ আগস্ট ২০১৭ | ৫:৪১ অপরাহ্ণ

    সীমান্ত হত্যার পেছনের ইতিহাস

    ১৯৯১ সালের পর বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি এবং পাকিস্তানের পররাষ্ট্রনীতি মিলে মিশে একাকার হয়ে যায়। পাকিস্তানের আদালতে বলা হয়েছে বাংলাদেশে ৯১ এর নির্বাচনে আইএসআই ৫০ মিলিয়ন রুপি বিনিয়োগ করে।


    মূলত ৭৫ এর পরেই বাংলাদেশের উল্টো যাত্রা শুরু এবং ৯১ এর পরে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতিতে মৌল পরিবর্তন আসে; যেটি আবার মূলত পাকিস্তানের পররাষ্ট্রনীতির বর্ধিতাংশ মাত্র। সেটি ছিল ভারতরে অখন্ডতা বিসর্জন দিয়ে ভারতকে খন্ড বিখন্ড করে দূর্বল করা। এরই অংশ হিসাবে সেভেন সিস্টারস এলাকাতে পাকিস্তান এবং চীনের দেওয়া অস্ত্র, গোলা, বারুদ বাংলাদেশের ভিতর দিয়ে বাংলাদেশ সরকারের গোয়েন্দাদের প্রত্যক্ষ সহোগীতায় সাপ্লাই করা হতো। ঢাকা ছিল উলফাদের নিরাপদ ঘাঁটি।

    ajkerograbani.com

    উলফাদের প্রবাসী সরকারকে ঢাকাতে বাংলাদেশ/পাকিস্তান/চীনের টাকাতে অফিস করে বাংলাদেশী পাসপোর্ট করে দিয়ে , সর্বাত্মক সহযোগীতা করা হতো। দূর্ভাগ্যজনকভাবে এই ইস্যুতে ভারত সম্পূর্ণ একা এবং কোন ঠাসা হয়ে যায়। এক দিকে কাশ্মির অন্যদিকে সেভেন সিস্টারস; ভারতের সামরিক ব্যয় বহুগুনে বেড়ে যায়। শুধু মাত্র বাংলাদেশ সীমান্তেই ভারতের ব্যয় হতো ৩০/৪০ হাজার কোটি রুপি। ভারত তখনই বাধ্য হয় সীমান্তে দেখা মাত্রই গুলি করা, প্রাণঘাতি অস্ত্রের ব্যবহার করা এবং সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া দেওয়ার বিষয়ে পররাষ্ট্রনীতি তে মৌল পরিবর্তন আনতে। ভারতের এসকল সিদ্ধান্ত নেওয়ার যৌক্তিক কারন এবং আইনগত অধিকার ছিল।

    ভারতও তাদের পররাষ্ট্রনীতিতে বাংলাদেশ বিষয়ে পরিবর্তন আনে। পার্বত্য চট্রগ্রামে শান্তি বাহীনিকে পূর্ণ সমর্থন দিতে থাকে। ভারতে তাদের আবাসন এবং প্রশিক্ষণ চলত পুরোদমে। বাংলাদেশ বাধ্য হয়ে পার্বত্য চট্রগ্রামে সামরিক শক্তি বৃদ্ধি করে, সামরিক ব্যয় বহুগুনে বেড়ে যায়।

    একদিকে বাংলাদেশের পার্বত্য চট্রগ্রাম অন্যদিকে ভারতে সেভেন সিস্টারস; একটি পূর্ণাঙ্গ রণাঙ্গনে পরিণত হয়, নিরীহ জনমানুষের উপর হত্যা, ধর্ষণ, জলুম, গুম, নির্যাতনের বিভীষিকাময় যুগ নেমে আসে।

    ১৯৯১-৯৬ সালে বিএনপির সময়ে বাংলাদেশের বিমান বাহিনীর সহায়তায় ভারতের পুরুলিয়াতে প্যারাসুটের মাধ্যমে অস্ত্র ফেলা হয়েছিল। ২০০১-০৬ সালের যে ১০ ট্রাক অস্ত্র বাংলাদেশ আটক করেছিল সেটা সামান্য অংশ মাত্র! তৎকালীন শিল্প মন্ত্রী নিজামীকে ঐ ১০ ট্রাক অস্ত্র মামলাতে আদালত দোষী সাবস্ত করে।

    প্রতিটি সীমান্তহত্যা বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বের উপর নগ্ন হামলা। এবং এই সকল হত্যাকান্ডের জন্য এখন ভারত এককভাবেই দায়ী! এই সকল সীমান্ত হত্যার জন্য ভারতকে একদিন নি:শর্ত ক্ষমা চাইতে হবে; ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারদের ক্ষতিপূরণ দিতে হবে!

    যে কারনে সামান্ত হত্যা শুরু হয়েছিল সেই সমস্যার সমাধান ইতিমধ্যেই মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ব্যক্তিগতভাবেই সমাধান করে দিয়েছেন।

    সীমান্তে অপরাধ হলে , আইন আছে, আদালত আছে, বিচার হোক। প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহার হবে না। এর বাইরে যত যুক্তিই আসুক সেসব গ্রহণযোগ্য না।

    Facebook Comments

    কোন এলাকার খবর দেখতে চান...

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০১১১২
    ১৩১৪১৫১৬১৭১৮১৯
    ২০২১২২২৩২৪২৫২৬
    ২৭২৮২৯৩০৩১  
  • ফেসবুকে আজকের অগ্রবাণী


  • Notice: ob_end_flush(): failed to send buffer of zlib output compression (0) in /home/ajkerogr/public_html/wp-includes/functions.php on line 4755