• শিরোনাম



    কোন এলাকার খবর দেখতে চান...


    সুন্দরবনে সুন্দরী গাছ বোঝাই নৌকা আটক

    অগ্রবাণী ডেস্ক: | ০৮ এপ্রিল ২০১৭ | ৮:২৮ অপরাহ্ণ

    সুন্দরবনে সুন্দরী গাছ বোঝাই নৌকা আটক

    সুন্দরবনের কর্তন নিঘিদ্ধ সুন্দরী কাঠ ও অতিরিক্ত গোলপাতা আহরণের অভিযোগে চারটি নৌকা আটকের পর নামমাত্র জরিমানা করে ছেড়ে দেয়ার অভিযোগ উঠেছে বন বিভাগের বিরুদ্ধে। পূর্ব সুন্দরবন বিভাগের উর্ধতন কর্মকর্তা মোটা অংকের উৎকোচ নিয়ে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি নেতাদের ওই চারটি নৌকা ছেড়ে দেয় বলে জানা গেছে।


    বৃহস্পতিবার দুপুরে পূর্ব সুন্দরবনের শরণখোলা রেঞ্জ থেকে গোলপাতা আহরণ মৌসুম শেষের ১০ দিন পর বন থেকে বেরিয়ে আসার সময় নৌকা চারটি আটক করা হয়।


    অন্যদিকে সুন্দরবন বিভাগের কর্মকর্তাদের সহয়তায় শরণখোলা রেঞ্জ থেকে গোলপাতার আড়ালে সুন্দরী গাছ বোঝাই করে পিরোজপুরের স্বরূপকাঠী মোকামে গেলে বৃহস্পতিবার বিকেল একটি নৌকা কোস্টগার্ডর আটক করে। এসময় নৌকায় থাকা লোকজন নৌকাটি নদীতে ডুবিয়ে দিয়ে তারা পালিয়ে যায়। ওই নৌকায় অতিরিক্ত গোলপাতাসহ বিপুল পরিমান সুন্দরী গাছ রয়েছে বলে কোস্টগার্ড নিশ্চিত করেছে।

    পরিচয় গোপন রাখার শর্তে একাধিক বনকর্মী জানান, ২৮ মার্চ গোলপাতা আহরণের পাসের মেয়াদ শেষ হয়েছে। কিন্তু নির্দিষ্ট মেয়াদের ১০দিন পার হলেও এখনো অনেক নৌকা সুন্দরবনে অবস্থান করছে। শেষ মুহূর্তে ব্যবসায়ীদের অনৈতিক সুবিধা দেওয়ার জন্যই এমনটা করা হচ্ছে।
    পূর্ব সুন্দরবন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) মো. সাইদুল ইসলাম, শরণখোলা রেঞ্জে এসিএফ মোহাম্মদ হোসেন ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে শরণখোলা গোলপাতা কুপ কর্মকর্তা আমজাদ হোসেনের মাধ্যমে মোটা অংকের উৎকোচ নিয়ে কর্তন নিঘিদ্ধ সুন্দরী কাঠ ও অতিরিক্ত গোলপাতা আহরণের সুযোগ করে দিয়েছে।

    সূত্র আরো জানায়, একেকটি নৌকার বিএলসির ধারণ ক্ষমতা ৫০০ মন। সুন্দরবন বিভাগ সরকারি রাজস্বও আদায় করা হয় ৫০০ মনের। অথচ প্রত্যেক নৌকা থেকে বন বিভাগের ওই অসাধু কর্মকর্তা ২০ থেকে ৩০ হাজার টাকা উৎকোচ নিয়ে একেক নৌকায় ২ হাজার থেকে ৩ হাজার মন গোলপাতা আহরণের সুযোগ করে দেন। এই সুযোগে ব্যবসায়ীরা সুন্দরীসহ অন্যান্য গাছ কেটে গোলপাতার নিচে আড়ালে নিয়ে আসেন। এতে সুন্দরবন বিভাগের উর্ধতন কর্মকর্তারা লাভবান হলেও লাখ লাখ টাকা রাজস্ব হারাচ্ছে সরকার।

    নামপ্রকাশ না করার শর্তে সুন্দরবন সংশ্লিষ্ট একাধিক ব্যক্তি জানান, ডিএফও মো. সাইদুল ইসলাম ও এসিএফ মোহাম্মদ হোসেন দায়িত্ব নেওয়ার পর গাছ পাচার ও হরিণ শিকারের মাত্র বেড়ে গেছে। ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত উৎকোচ নিয়ে এসব নৌকায় সুন্দরী গাছ কাটার সুযোগ করে দিচ্ছেন। এছাড়া প্রতিটি নৌকায় ৫০০ মন গোলপাতা আহরণের অনুমোতি থাকলেও ২ হাজার থেকে ৩ হাজার মন পাতা বোঝাই করা হচ্ছে ওই সকল নৌকায়।

    বিভিন্ন মহল থেকে এমন অভিযোগ পাওয়ার পরে বনবিভাগ লোক দেখানো ভাবে নৌকা চারটি আটক করে। আটক আওয়ামী লীগ ও বিএনপি নেতাদের ওই ৪টি নৌকার গোলপাতা নিচে সুন্দরী কাঠ রয়েছে কিনা তা আনলোড না করে তার পরিবর্তে অতিরিক্ত গোলপাতা বোঝাই করার অপরাধে নৌকা মালিকদের মাত্র ৬৭ হাজার টাকা জরিমানা করে ছেড়ে দেওয়া হয়।

    গোলপাতা আহরনকালীণ দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (কুপ কর্মকর্তা) আমজাদ হোসেন জানান, পারমিটের বাইরে অতিরিক্ত গোলপাতা কাটার দায়ে চার নৌকার মালিককে ৬৭ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

    শরণখোলা রেঞ্জের এসিএফ মোহাম্মদ হোসেন বলেন, অভিযোগ পেয়ে নৌকাগুলো আটক করা হয়েছিল। কিন্তু চেক করে তাতে অন্য কিছু পাওয়া যায়নি। তবে অতিরিক্ত গোলপাতা বোঝাই করার অপরাধে তাদের জরিমানা করা হয়েছে। নৌকা ৪টি কেন আনলোড করে গোলপাতার নিচে সুন্দরী কাঠ রয়েছে কিনা তা কেন দেখা হয়নি সেবিষয়ে কোন সদুত্তর দিতে পারেন এই বন কর্মকর্তা।

    মংলা কোস্টগার্ড পশ্চিম জোনের অপারেশন অফিসার মো. ফরিদুজ্জামান জানান, শুক্রবার স্বরূপকাঠীতে কোস্টগার্ড সদস্যদের দেখে গোলপাতা বোঝাই একটি নৌকা ডুবিয়ে দিয়ে লোকজন পালিয়ে যায়। স্থানীয় সূত্রে আমরা জানতে পেরেছি নৌকাটিতে বিপুল পরিমান সুন্দরীসহ অন্যান্য কাঠ রয়েছে। নৌকাটি পানির নিচে ওঠাবার পরেই সুন্দরীসহ অবৈধ্য কাঠের পরিমান জানা যাবে।

    [LS]

    Facebook Comments

    কোন এলাকার খবর দেখতে চান...

    webnewsdesign.com

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০১১
    ১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
    ১৯২০২১২২২৩২৪২৫
    ২৬২৭২৮২৯৩০  
  • ফেসবুকে আজকের অগ্রবাণী


  • Notice: ob_end_flush(): failed to send buffer of zlib output compression (0) in /home/ajkerogr/public_html/wp-includes/functions.php on line 4669