বৃহস্পতিবার, জুলাই ৮, ২০২১

সুযোগ কাজে লাগিয়েছেন কালো টাকার মালিকরা

ডেস্ক রিপোর্ট   |   বৃহস্পতিবার, ০৮ জুলাই ২০২১ | প্রিন্ট  

সুযোগ কাজে লাগিয়েছেন কালো টাকার মালিকরা

গত অর্থবছরে দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি কালো টাকা সাদা হয়েছে। মোট ১১ হাজার ৮৫৯ জন করদাতা ২০ হাজার ৬৪৮ কোটি টাকা সাদা করেছেন। আর এ থেকে সরকার কর পেয়েছে দুই হাজার ৬৪ কোটি ৮৩ লাখ টাকা। শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ করে, জমি, ভবন, অ্যাপার্টমেন্ট ও ফ্ল্যাট কিনে এবং নগদ টাকা আয়কর রিটার্নে ঘোষণাসহ বিভিন্ন সিকিউরিটিজে বিনিয়োগ করে টাকা সাদা করেছেন করদাতারা। এর আগে এক অর্থবছরে কখনও এত পরিমাণ কালো টাকা সাদা হয়নি। জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

কালো টাকা সাদা করলে অর্থের উৎস নিয়ে দেশের কোনো কর্তৃপক্ষ প্রশ্ন করবে না- এমন সুযোগ দিয়ে ২০২০-২১ অর্থবছরে আয়কর আইনে দুটি নতুন ধারা সংযোজন করা হয়। নতুন ধারার মাধ্যমে জমি ও ফ্ল্যাট কিনে বর্গমিটারপ্রতি কর দিয়ে কালো টাকা সাদা করার সুযোগ দেওয়া হয়। দেশের একেক এলাকার জন্য একেক ধরনের করহার নির্ধারণ করে সরকার। বর্গমিটারপ্রতি ২০০ টাকা থেকে সর্বোচ্চ ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত কর ধার্য করা হয়। আর সঞ্চয়পত্র এবং যে কোনো সিকিউরিটিজে বিনিয়োগ করে ১০ শতাংশ কর দিয়ে বিনা প্রশ্নে অর্থ প্রদর্শন করা গেছে। এমনকি নগদ টাকাও মাত্র ১০ শতাংশ কর দিয়ে আয়কর রিটার্নে ঘোষণা দেওয়ার সুযোগ দেয় সরকার। অন্যদিকে একই হারে কর দিয়ে পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ করে কালো টাকা সাদা করার সুযোগ ছিল। চলতি অর্থবছরেও এসব খাতে কালো টাকা সাদা করার সুযোগ রাখা হয়েছে। করহার বাড়িয়ে ২৫ শতাংশ করা হয়েছে। তবে কারখানা স্থাপনে ১০ শতাংশ কর দিয়ে কালো টাকা সাদা করার নতুন সুযোগ দেওয়া হয়েছে।


সরকারের দেওয়া এ সুযোগের ব্যবহার করেছেন কালো টাকার মালিকরা। এনবিআরের সাময়িক হিসাবে দেখা গেছে, ২৮৬ জন ৪০২ কোটি ৯০ লাখ টাকা শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ করে সাদা করেছেন। আর এক হাজার ৬৪৫ জন জমি কিনে সাদা করেছেন এক হাজার ৯৭১ কোটি টাকা। দুই হাজার ৮৭৩ জন বিনিয়োগ করেছেন ভবন, অ্যাপার্টমেন্ট ও ফ্ল্যাটে। এ খাতে এক হাজার ৪৪১ কোটি টাকা সাদা হয়েছে। নগদ টাকা, ব্যাংকে রাখা আমানত এবং সরকার অনুমোদিত বিভিন্ন সিকিউরিটিজে বিনিয়োগ দেখিয়ে কালো টাকা সাদা করেছেন সাত হাজার ৫৫ জন। এসব ব্যক্তি ১৬ হাজার ৮৩৪ কোটি টাকা সাদা করেছেন।

এনবিআরের তথ্য অনুযায়ী, ঢাকা, চট্টগ্রাম, খুলনা, রাজশাহী, রংপুর, বরিশাল, সিলেট, নারায়ণগঞ্জ, গাজীপুর, কুমিল্লা, ময়মনসিংহ ও বগুড়ার ৩১টি কর অঞ্চলের করদাতারা এ সুযোগ নিয়েছেন। বিভিন্ন খাতের ব্যবসায়ী, রাজনীতিবিদ, চিকিৎসক, প্রকৌশলীসহ বিভিন্ন পেশাজীবী এবং সরকারি চাকরিজীবীরা প্রধানত টাকা সাদা করেছেন। এনবিআর বলছে, এর আগে কালো টাকা সাদা করার করদাতার সংখ্যা বেশি ছিল।


২০০৭ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় ৩২ হাজার ৫৫৮ জন করদাতা কালো টাকা সাদা করার সুযোগ নেন। তখন অবশ্য সাড়ে তিন হাজারের বেশি কালো টাকা সাদা হয়েছিল। টাকার অঙ্কে এবার সবচেয়ে বেশি টাকা সাদা হয়েছে। ২০০৫-০৬ অর্থবছর থেকে ২০১৯-২০ অর্থবছর পর্যন্ত ১৫ বছর ধরে মোট ১৪ হাজার ৫৯৩ কোটি ৪৩ লাখ টাকা সাদা করেছেন কালো টাকার মালিকরা।

প্রধানত তিন কারণে কালো টাকা সাদা করা বেড়েছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। এর মধ্যে প্রথম ও প্রধান কারণ হচ্ছে, যারা এ সুবিধা নেবেন, তাদের টাকার উৎস নিয়ে এনবিআরের পাশাপাশি দুর্নীতি দমন কমিশনসহ দেশের অন্য কোনো সংস্থা প্রশ্ন করতে পারবে না। দ্বিতীয়ত, করহার মাত্র ১০ শতাংশ, যা সাধারণ করহারের তুলনায় কম। অনেকে এ সুযোগকে কালো টাকা সাদা করার ‘প্রণোদনা’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। এ ছাড়া করোনার কারণে মানুষের দেশের বাইরে যাওয়া কমে গেছে। কমে গেছে হুন্ডির সুযোগ। ফলে কালো টাকার মালিকরা নির্দি্বধায় এ সুবিধা নিয়েছেন।

এ বিষয়ে বেসরকারি গবেষণা সংস্থা পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের নির্বাহী পরিচালক আহসান এইচ মনসুর সমকালকে বলেন, গত অর্থবছরে যত উদারভাবে কালো টাকা সাদা করার সুযোগ দেওয়া হয়েছে, তা আগে কখনও দেওয়া হয়নি। করহারে যেমন প্রণোদনা ছিল, তেমনি প্রশ্ন তোলার সুযোগ বন্ধ করে আইনি সহায়তা দেওয়া হয়েছে। সরকারের এ উদারতার সুযোগ নিয়েছেন কালো টাকার মালিকরা। এ ধরনের সুবিধার লাভ-ক্ষতি নিয়ে মতপার্থক্য আছে। তবে অবশ্যই লাভের তুলনায় ক্ষতি বেশি। কারণ এতে অপরাধ উৎসাহিত হয়।

Posted ১১:৪৭ পূর্বাহ্ণ | বৃহস্পতিবার, ০৮ জুলাই ২০২১

ajkerograbani.com |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

advertisement
advertisement
advertisement

Archive Calendar

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০১১১২১৩
১৪১৫১৬১৭১৮১৯২০
২১২২২৩২৪২৫২৬২৭
২৮২৯৩০৩১  
মুহা: সালাহউদ্দিন মিয়া সম্পাদক ও প্রকাশক
মুহা: সালাহউদ্দিন মিয়া কর্তৃক তুহিন প্রেস, ২১৯/২ ফকিরাপুল (১ম গলি) মতিঝিল, ঢাকা-১০০০ থেকে মুদ্রিত ও প্রকাশিত।
বার্তা ও সম্পাদকীয় কার্যালয়

২ শহীদ তাজউদ্দিন আহমেদ সরণি, মগবাজার, ঢাকা-১২১৭।

হেল্প লাইনঃ ০১৭১২১৭০৭৭১

E-mail: [email protected] | [email protected]