• শিরোনাম



    কোন এলাকার খবর দেখতে চান...


    সেই অভি এখন কোথায়?

    অনলাইন ডেস্ক | ০৯ জুন ২০১৭ | ১০:২৪ অপরাহ্ণ

    সেই অভি এখন কোথায়?

    এক সময়ের আলোচিত-সমালোচিত ছাত্রনেতা গোলাম ফারুক অভি এখন লোকচক্ষুর অন্তরালে। কোথায় আছেন, কেমন আছেন তা যেন কেউ জানে না। এক সময়ের তার সতীর্থ হিসেবে পরিচিতরাও রয়েছেন অন্ধকারে। তবে এতটুকু তারা জানিয়েছেন, অভি মামলা জটিলতার কারণে এখনো কানাডায় আত্মগোপনে রয়েছেন।


    এ কারণে দীর্ঘ এক যুগেরও বেশি সময় আগে দেশত্যাগ করা সাবেক এই ছাত্রনেতাকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না কোনো খবরেই। দেখাও মিলছে না কোথাও। পারিবারিক সূত্রগুলোও তার অবস্থানের বিষয়টি এড়িয়ে যাচ্ছেন। মডেল তিন্নি হত্যা মামলার খড়গ মাথায় নিয়ে দেশছাড়া সাবেক এই ছাত্রনেতাকে নিয়ে সংশ্লিষ্ট মহলগুলোতে কৌতূহল বাড়ছেই।

    ajkerograbani.com

    আশি ও নব্বই দশকের ছাত্রনেতারা জানান, অভি ছিলো অত্যন্ত মেধাবী একজন ছাত্র। সে মেট্রিক (এসএসসি) ও ইন্টামিডিয়েট (এইচএসসি) পরীক্ষায় সারাদেশের মেধাতালিকায় স্থান অর্জন করেছিলেন। এই মেধাবী ছাত্রই যখন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষাজীবন শুরু করেন তখন রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়ে বহুল আলোচিত উক্তি করেছেন- ‘অস্ত্রকে তিনি শিল্পে পরিণত করবেন’।

    ১৯৮৮ সালেই অভি আলোচনায় আসেন একজন অস্ত্রবাজ হিসেবে। তৎকালীন সময় তিনি ছিলেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক। একটি হত্যা মামলার অভিযোগে ওই বছরের ডিসেম্বরের শেষের দিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাস থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। হত্যা মামলা ছাড়াও ১৯৭৪ সালের বিশেষ ক্ষমতা আইনে তার বিরুদ্ধে আটকাদেশ দেওয়া হয়। সাবেক ছাত্রদল নেতা সানাউল হক নীরুও তখন একই মামলায় জেলখানায়।

    ১৯৯০ সালের শেষ ভাগে এরশাদ সরকারবিরোধী আন্দোলন যখন তুঙ্গে, তখন এরশাদ সরকারের মন্ত্রী কাজী জাফর আহমেদের মাধ্যমে সমঝোতায় এরশাদ সরকারের পক্ষে কাজ করার শর্তে অভি জেল থেকে বের হন। অভির সতীর্থ হিসেবে পরিচিত কয়েকজন ছাত্রনেতা এ অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ওই সময়ে এরশাদ বিরোধী আন্দোলন বেগমান করার কারনেই স্বৈরাচার এরশাদ অভি-নীরুকে গ্রেফতার করে। কিন্তু তথাকথিত অন্যান্য ছাত্রনেতার বিরুদ্ধে তখন কোনো মামলা পর্যন্ত ছিলো না। দলের জন্য নিবেদিত এই দুই ছাত্রনেতা জেল-জুলুম নির্যাতন সহ্য করলেও তাদেরকে বাদ দিয়ে নব্বইয়ের সর্বদলীয় ছাত্র ঐক্য সংগঠন গড়ে তোলা হয়।

    এটাকে অভি অপমান আর কষ্ট হিসেবে নিয়েছিলো বলে সে ওই সময়ে সর্বদলীয় ছাত্র ফোরামের বাইরে অবস্থান নিয়েছিলো।
    কিন্তু ওই সময়ের ডাকসু নেতৃবৃন্দ জানান, ১৯৯০ সালের ২৭ নভেম্বর অপরাজেয় বাংলায় অ্যাম্বুলেন্সে করে অভি ক্যাডার বাহিনী নিয়ে এসে সর্বদলীয় ছাত্র-ঐক্যের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে লিপ্ত হন। অভির ক্যাডার বাহিনীর গুলিতে নিহত হন তৎকালীন বিএমএর মহাসচিব ডা. মিলন।

    এ হত্যার অভিযোগে অভিসহ তার ক্যাডার বাহিনীকে আসামি করে রমনা থানায় মামলা দায়ের করা হয় (নং-১২৬, ধারা-৩০২)। পরে এ মামলার সব আসামিই খালাস পায়। এরশাদ সরকারের পতনের পর অভি ভারতে পালিয়ে যান।
    এদিকে ডা. মিলন হত্যা মামলা থেকে নিজেকে বাঁচানোর জন্য ছাত্রলীগের আরেক ক্যাডার হেমায়েত উল্লাহ আওরঙ্গের মাধ্যমে ১৯৯১ সালের ২১ মে অভির ক্যাডার বাহিনী আওয়ামী লীগে যোগ দেয়। নিজে কাজ শুরু করেন ছাত্রলীগের উপদেষ্টা হিসেবে। অভি সর্বশেষ গ্রেফতার হয়েছিলেন ১৯৯২ সালের ১৮ মে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জগন্নাথ হলের গেস্ট রুম থেকে একটি কাটারাইফেল ও বিদেশি পিস্তলসহ সে সময় তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ ব্যাপারে তৎকালীন রমনা থানায় তার বিরুদ্ধে অস্ত্র মামলা দায়ের করা হয় (মামলা নম্বর ৭৪, ধারা ১৯(এ) এফ)।

    ১৯৯৩ সালের ২১ আগস্ট ওই মামলায় ১৭ বছরের কারাদণ্ড হয় তার। তিন বছর কারাভোগের পর উচ্চ আদালতে আপিল করে জামিন পান তিনি। প্রায় দেড় যুগ ধরে অনিষ্পন্ন অবস্থায় আছে অভির সেই আপিল। পরবর্তী সময়ে ডা. মিলন হত্যাসহ দুটি হত্যা মামলায় খালাস পান তিনি। ’৯৬-এর নির্বাচনে বরিশাল-২ আসনে জাতীয় পার্টি থেকে এমপি নির্বাচিত হন গোলাম ফারুক অভি।
    এমপি হয়ে এলাকায় ব্যাপক উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড করেন। রাজনীতিতেও অবস্থান শক্ত করেন তিনি। তবে এসবের কোনো কিছুই আর কাজে আসেনি ২০০১-এর ভোটে। জেপি (মঞ্জু)’র প্রার্থী হিসেবে হেরে যান তিনি। এরপর ২০০২ সালের ১১ নভেম্বর ঢাকায় উদ্ধার হয় মডেল কন্যা তিন্নির লাশ। চীন-বাংলাদেশ মৈত্রী সেতুর পিলারের উপর পড়ে ছিল তা। পরিচয় না মেলায় বেওয়ারিশ হিসেবে দাফন হয় তিন্নির লাশ। কয়েক দিন পর মেলে তার প্রকৃত পরিচয়। দাফন হয়ে গেলেও লাশটি তিন্নির বলে শনাক্ত হয় পত্রিকায় প্রকাশিত ছবির সূত্র ধরে।

    পরে ছয় তদন্ত কর্মকর্তার হাত ঘুরে শুধু গোলাম ফারুক অভিকে আসামি করে চার্জশিট দাখিল করে সিআইডি। সিআইডির ওই সময়ের সহকারী কমিশনার মোজাম্মেল হক ২০০৮ সালের ৮ নভেম্বর আদালতে চার্জশিটটি দাখিল করেন। অভির বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির পর তার বরিশালের উজিরপুর থানার ধামুরা গ্রামের বাড়িতে আর ঢাকার ঠিকানায় ওই পরোয়ানা পাঠানো হয়। কিন্তু ওই ঠিকানায় তাকে পাওয়া যায়নি।
    অভির সংশ্লিষ্টতার বিষয়টি গণমাধ্যমে প্রকাশ হতে থাকলে ভারতে পালিয়ে যান। সেখান থেকে কানাডায় পাড়ি জমান। তাকে গ্রেফতারের জন্য বিশ্বব্যাপী পরোয়ানা জারি করেছে ইন্টারপোল।
    বহুল আলোচিত তিন্নি হত্যা মামলার একমাত্র আসামি গোলাম ফারুক অভি ২০০২ সাল থেকে পলাতক। মামলাটি ঢাকার সপ্তম জেলা ও দায়রা জজ আদালতে বিচারাধীন। উচ্চ আদালতের স্থগিতাদেশে আলোচিত এ হত্যা মামলার বিচারকাজ বন্ধ আছে।
    সূত্রগুলো বলছে, কানাডায় রাজনৈতিক আশ্রয় নিয়ে বসবাস করা অভি দেশে ফিরতে মরিয়া ছিলেন। যে কোনো উপায়ে তিনি দেশে ফিরতে শুরু করেছিলেন লবিং-তদবির। আর এ জন্য কয়েক বছর ধরে দফায় দফায় তিনি চেষ্টা করেন। প্রশাসনের শীর্ষ পর্যায় থেকে সবখানেই দেশে ফেরার লক্ষ্যে যোগাযোগ করেছিলেন। তবে সরকারে বিভিন্ন পর্যায়ে তদবির করেও এ ব্যাপারে এখনো কোনো ইতিবাচক সাড়া পাননি। এর আগেও ২০০৯ সালে মহাজোট সরকারের যাত্রা শুরুর পর গোলাম ফারুক অভি দেশে ফেরার উদ্যোগ নেন ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের শীর্ষপর্যায়ের কয়েক নেতার সহযোগিতায়। কিন্তু বিষয়টি তখন গণমাধ্যমে প্রকাশ হয়ে পড়ে। আওয়ামী লীগের ওই নেতারা অভিকে দেশে ফেরানোর বিষয়ে পিছু হঠেন।

    একপর্যায়ে দেশে ফেরার জন্য ২০০৯ সালের ৯ অক্টোবর অভি রাষ্ট্রপতির কাছেও আবেদন করেন।
    সূত্র জানায়, পরের বছর ফের চেষ্টা করেন অভি দেশে ফিরতে। ২০১০ সালের ১০ আগস্ট ঢাকার হাইকোর্টে একটি রিট করেন অভির মা আমিনা বেগম। বিচারপতি মামুনুর রহমান এবং বিচারপতি সৈয়দা আফসার জাহানের বেঞ্চে দায়ের হয় ওই রিট। এতে অভি দেশে আসার পথে বিমানবন্দরে তাকে বাধা না দেওয়া কিংবা গ্রেফতার না করার নির্দেশ চান তিনি। রিট দায়েরের দিনই অনুষ্ঠিত হয় প্রথম দিনের শুনানি। ১২ আগস্ট রিটের ওপর দ্বিতীয় দফা শুনানির কথা থাকলেও শেষ পর্যন্ত তা হয়নি।
    সূত্র জানায়, ২০০৬ সালেও চেষ্টা ছিল দেশে ফেরার। অভির ঘনিষ্ঠ একাধিক সূত্রে পাওয়া তথ্যানুযায়ী, মূলত বিএনপির বাধার কারণেই আসতে পারেননি তিনি। বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্বের একটি অংশের সঙ্গে চরম বিরোধ রয়েছে তার। ওই বছর ২৫ জানুয়ারির আগে তিনি দেশে ফিরতে চাইলেও বিরোধিতার কারণে তিনি ফিরতে পারেননি। ঝুঁকি নিয়ে ফিরলে বিমানবন্দরেই গ্রেফতার হতেন তিনি। ২০০৭ সালের ওয়ান ইলেভেনের পর অবশ্য ফেরার সুযোগ ছিল। কিন্তু সেনা নিয়ন্ত্রিত প্রশাসনের কথা ভেবে আসেননি তিনি।
    অভির নিজ এলাকা বরিশালে তার এখনো সমান জনপ্রিয়তা রয়েছে এমন দাবি করে তার কর্মী মামুনুর রহমান জানান, অভি রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার। একসময়ে সত্যটা বের হয়ে আসবে বলেও তিনি মনে করেন। সূত্র : পূর্বপশ্চিম

    Facebook Comments Box

    কোন এলাকার খবর দেখতে চান...

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০১১১২১৩১৪১৫১৬
    ১৭১৮১৯২০২১২২২৩
    ২৪২৫২৬২৭২৮২৯৩০
  • ফেসবুকে আজকের অগ্রবাণী


  • Notice: ob_end_flush(): failed to send buffer of zlib output compression (0) in /home/ajkerogr/public_html/wp-includes/functions.php on line 4757