• শিরোনাম



    কোন এলাকার খবর দেখতে চান...


    সেই ব্যক্তিরা এবার হতে চান নৌকার প্রার্থী

    ডেস্ক | ১৪ নভেম্বর ২০১৮ | ৯:১৩ পূর্বাহ্ণ

    সেই ব্যক্তিরা এবার হতে চান নৌকার প্রার্থী

    দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থীরা এবার নৌকার মনোনয়ন চান। এরই মধ্যে তারা দলীয় মনোনয়ন ফরম কিনে জমাও দিয়েছেন। তাদের সংখ্যা প্রায় ৫০।


    তাদের অনেকেই পদপদবি হারিয়ে সাধারণ কর্মী হিসেবে সক্রিয়। এরপরও তারা প্রভাব-প্রতাপ নিয়ে এলাকায় নিজের অবস্থান ধরে রেখেছেন। তাদের বিরুদ্ধে দলের কঠোর নীতি এখনও বহাল। এরপরও প্রত্যাশা নিয়ে নৌকার মনোনয়ন চান গতবারের বিদ্রোহীরা।
    দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০ আসনের মধ্যে ১৪৬টিতে ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। এর মধ্যে ৫৩টি আসনে আওয়ামী লীগের প্রতিপক্ষ ছিল আওয়ামী লীগ।


    এছাড়া জোটের ১২টি আসনেও বিদ্রোহী প্রার্থী ছিলেন আওয়ামী লীগের ১৫ নেতা। সিদ্ধান্ত লঙ্ঘনের দায়ে তাৎক্ষণিকভাবে তাদের বহিষ্কারও করা হয়। সেই বহিষ্কৃত নেতাদের অনেকেই ফের বর্তমান কমিটিতে স্থান করে নিয়েছেন।

    স্থানীয় পদপদবি নিয়ে তাদের অনেকেই এখন নৌকার মনোনয়ন পেতে উদগ্রীব। আজ বুধবার ধানমণ্ডির আওয়ামী লীগ সভাপতির রাজনৈতিক কার্যালয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে তাদের সাক্ষাৎকার রয়েছে।

    তবে বহিষ্কৃত নেতাদের বিষয়ে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের ভাষ্য, বহিষ্কৃত যেসব নেতা ভুল বুঝে ক্ষমা চেয়ে দলে ভিড়েছেন এবং মনোনয়ন জরিপে এগিয়ে আছেন, তারা মনোনয়ন পেতে পারেন। দলের বাইরে গিয়ে ফের কেউ নির্বাচন করলে তাদের আর ক্ষমা নেই বলেও জানান তিনি। সম্প্রতি যুগান্তরের কাছে তিনি এই মন্তব্য করেন।

    বিদ্রোহী প্রার্থীদের ক্ষেত্রে দলের প্রধানেরও বক্তব্য স্পষ্ট। ২৬ অক্টোবর আওয়ামী লীগের যৌথ সভায় আওয়ামী লীগ সভাপতি

    প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, আগামী জাতীয় নির্বাচনে দলের সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে কেউ বিদ্রোহী প্রার্থী হলে তাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হবে। বহিষ্কার মানে আজীবন বহিষ্কার। এক্ষেত্রে কোনো ছাড় নেই।

    জাতীয় সংসদের সর্বশেষ ‘পার্বত্য বান্দরবান’ আসনে দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে টেবিল ঘড়ি প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করে হেরে যান প্রসন্ন কান্তি তঞ্চঙ্গ্যা।

    আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী হওয়ায় জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতির পদটি খোয়াতে হয় তাকে। এবার তিনি নৌকা মার্কায় নির্বাচন করতে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন ফরম কিনে জমা দিয়েছেন।

    কুষ্টিয়া-৪ আসনে কলস মার্কা নিয়ে বিদ্রোহী প্রার্থী হন জেলা আওয়ামী লীগের বর্তমান সভাপতি সদর উদ্দিন খান। বহিষ্কৃত হলেও পরে কেন্দ্রীয় কয়েকজন নেতার আশীর্বাদে বহাল তবিয়তে থাকেন এবং পরবর্তী সময়ে তিনি জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি বনে যান। তিনি এবার নৌকার প্রার্থী হতে দলীয় মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করে জমা দিয়েছেন।

    বর্তমান সংসদের ১৬ জন স্বতন্ত্র এমপির ১৪ জনই আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে লড়ে জয়ী হয়েছিলেন। তারা এমপি হিসেবে দলে যোগদান করেন।

    তবে বিষয়টিকে ভালোভাবে নেয়নি স্থানীয় আওয়ামী লীগ। তাদের মধ্যে কুমিল্লা-৩ আসনের ইউসুফ আবদুল্লাহ হারুন (আনারস প্রতীক), গাইবান্ধা-৪ আসনের আবুল কালাম আজাদ (আনারস প্রতীক), নরসিংদী-৩ আসনের সিরাজুল ইসলাম মোল্লা (হাঁস প্রতীক), নওগাঁ-৩ আসনের ছলিম উদ্দীন তরফদার (কলস প্রতীক), মেহেরপুর-২ আসনের মকবুল হোসেন (ফুটবল প্রতীক), কুষ্টিয়া-১ আসনের রেজাউল হক চৌধুরী (আনারস প্রতীক), ঝিনাইদহ-২ আসনের তাহজীব আলম সিদ্দিকী (আনারস প্রতীক), যশোর-৫ আসনের স্বপন ভট্টাচার্য (কলস প্রতীক), ঢাকা-৭ আসনের হাজী মোহাম্মদ সেলিম (হাতী প্রতীক), মৌলভীবাজার-২ আসনের আবদুল মতিন (আনারস প্রতীক), কুমিল্লা-৪ আসনের রাজী মোহাম্মদ ফখরুল (হাতি প্রতীক) এবং ফরিদপুর-৪ আসনের মজিবুর রহমান চৌধুরী নিক্সন (আনারস প্রতীক) আওয়ামী লীগের মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করে জমা দিয়েছেন।

    আওয়ামী লীগের মনোনয়ন ফরম কিনে জমা দিয়েছেন চাঁপাইনবাবগঞ্জ-২ আসনে আনারস প্রতীকে নির্বাচন করা খুরশিদ আলম, নওগাঁ-৫ আসনে জেলা যুবলীগের সাবেক সভাপতি রফিকুল ইসলাম রফিক (কলস মার্কা)।

    রাজশাহী-৩ আসনে কলস প্রতীকে বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করা জেলা আওয়ামী লীগের বর্তমান সহসভাপতি মেরাজ উদ্দিন মোল্লা, রাজশাহী-৬ আসনে প্রজাপতি মার্কা নিয়ে রাহেনুল হক রায়হান নৌকার মনোনয়ন পেতে দলীয় মনোনয়ন ফরম কিনে জমা দিয়েছেন।

    সিরাজগঞ্জ-৫ আসনে দোয়াত-কলম প্রতীকে নির্বাচন করে বহিষ্কার হন আতাউর রহমান। তিনি বেলকুচি উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। এবার দলীয় মনোনয়ন কিনে জমা দিয়েছেন।

    এছাড়া পাবনা-১ আসনে তালা প্রতীকে অধ্যাপক আবু সাইয়িদ, পাবনা-৩ আসনে আনারস প্রতীকে ফরিদপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি আবুল কালাম আজাদ, মেহেরপুর-১ আসনে ফুটবল মার্কা নিয়ে মেহেরপুর পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ইয়ারুল ইসলাম, মেহেরপুর-২ আসনে ফুটবল প্রতীকে গাংনী উপজেলা আওয়ামী লীগের বহিষ্কৃত সাধারণ সম্পাদক মকবুল হোসেন বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করেন। তারা এবার নৌকার মনোনয়ন ফরম কিনে জমা দিয়েছেন।

    ঝিনাইদহ-১ আসনে ফুটবল প্রতীকে জেলা আওয়ামী লীগের নির্বাহী সদস্য নায়েব আলী জোয়ারদার, ঝিনাইদহ-৩ আসনে কলস মার্কায় ৯ম সংসদের আওয়ামী লীগের এমপি শফিকুল আজম খান দলের বাইরে গিয়ে নির্বাচন করেন।

    প্রতীক বরাদ্দের পর আজম খান সংবাদ সম্মেলন করে নির্বাচন না করার ঘোষণা দিলেও তার প্রতীকেও ভোট পড়েছে বেশ। এ দু’জনও এবার আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেতে আবেদন করেছেন।

    যশোর-২ আসনে কলস মার্কা নিয়ে আওয়ামী লীগ নেতা এবং সাবেক বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী রফিকুল ইসলাম, যশোর-৪ আসনে কলস মার্কা নিয়ে অভয়নগর আওয়ামী লীগের নেতা ও সাবেক এমপি শেখ আবদুল ওহাব নির্বাচন করে বহিষ্কৃত হন।

    পরে মুচলেকা ও ক্ষমা প্রার্থনা করে দলে ভেড়েন তারা। একাদশ জাতীয় নির্বাচনে নৌকার মনোনয়ন পেতে আবেদন করেছেন তারাও।

    মাগুরা-১ আসনে হরিণ প্রতীকে কুতুবুল্লাহ হোসেন মিয়া, মাগুরা-২ আসনে হরিণ প্রতীকে আবদুল মান্নান, বাগেরহাট-৪ আসনে আনারস প্রতীকে আবদুর রহিম খান নৌকার বিরুদ্ধে নির্বাচন করে হেরে যান। এবার আওয়ামী লীগের মনোনয়ন ফরম কিনে জমা দিয়েছেন তারা।

    খুলনা-১ আসনে দলের মনোনয়ন না পেয়ে ৯ম সংসদের এমপি ননীগোপাল মণ্ডল চাকা প্রতীকে নির্বাচন করেন। তিনি দলীয় মনোনয়ন জমা দিয়েছেন। আবারও বিদ্রোহী প্রার্থী হবেন কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, এখনই বলা যাবে না।

    বরগুনা-১ আসনে বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করেন দেলোয়ার হোসেন। তার প্রতীক ছিল মোরগ। সাতক্ষীরা-১ আসনে জেলা আওয়ামী লীগের কৃষিবিষয়ক সম্পাদক এসএম মিজানুর রহমান দলের বাইরে গিয়ে নির্বাচন করেন। এবার তারাও আওয়ামী লীগের মনোনয়ন ফরম কিনে জমা দিয়েছেন।

    টাঙ্গাইল-৬ আসনে আনারস প্রতীকে কেন্দ্রীয় কৃষক লীগের সহসভাপতি কাজী এটিএম আনিসুর রহমান বুলবুল, শেরপুর-২ আসনে আনারস প্রতীকে জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য বদিউজ্জামান বাদশা, ময়মনসিংহ-৩ আসনে হরিণ প্রতীকে নাজনীন আলম, ময়মনসিংহ-১১ আসনে আনারস প্রতীকে শাহাদাত ইসলাম চৌধুরী, নেত্রকোনা-১ আসনে আনরস প্রতীকে ৯ম সংসদের এমপি মোশতাক আহমেদ রুহী, নেত্রকোনা-২ আসনে আনারস প্রতীকে কর্নেল (অব.) আবদুন নূর খান দলের বাইরে গিয়ে নির্বাচন করেন। এখন তারা দলীয় মনোনয়ন পেতে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করে জমা দিয়েছেন।

    বিশাল শোডাউন নিয়ে ঢাকা-১৫ আসনে এবার দলীয় মনোনয়ন ফরম কিনেছেন ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের নেতা এখলাস উদ্দিন মোল্লা। তিনি দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে হাতি মার্কা নিয়ে নির্বাচন করেন। ঢাকা-৪ আসনে হাতি মার্কা নিয়ে বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছিলেন আওয়ামী লীগের আওলাদ হোসেন। তিনিও বিশাল শোডাউন নিয়ে মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করে জমা দিয়েছেন।

    এছাড়া সিলেট-৪ আসনে আনারস মার্কা নিয়ে নির্বাচন করেন প্রবাসী আওয়ামী লীগ নেতা ফারুক আহমদ, কুমিল্লা-১ আসনে কলস মার্কা নিয়ে নির্বাচন করেন নাঈম হাসান, কুমিল্লা-৬ আসনে মাসুদ পারভেজ খান নির্বাচন করেন আনারস প্রতীকে, নোয়াখালী-৬ আসনে হরিণ মার্কা নিয়ে আমীরুল ইসলাম নির্বাচন করেন। এবার তারা নৌকার মনোনয়ন চেয়ে আবেদন করেছেন।

    এছাড়া সাতক্ষীরা-১ আসনে এসএম মুজিবর রহমান (হরিণ), ময়মনসিংহ-৭ আসনে হাফেজ রুহুল আমীন মাদানী (আনারস), কিশোরগঞ্জ-৩ আসনে আওয়ামী লীগের ড. মিজানুল হক (হরিণ), কুমিল্লা-৩ আসনে আওয়ামী লীগের আহসানুল আলম কিশোর (ফুটবল), কুমিল্লা-৪ আসনে আওয়ামী লীগের রোশন আলী (আনারস) ও রাজী মোহাম্মদ ফখরুল (হাতি) মার্কা নিয়ে বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করেন। তাদের প্রত্যেকে একাদশ জাতীয় নির্বাচনে নৌকার মনোনয়ন পেতে দলীয় মনোনয়ন ফরম তুলে জমা দিয়েছেন।

    Facebook Comments

    কোন এলাকার খবর দেখতে চান...

    webnewsdesign.com

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০১১১২১৩১৪১৫১৬
    ১৭১৮১৯২০২১২২২৩
    ২৪২৫২৬২৭২৮২৯৩০
    ৩১  
  • ফেসবুকে আজকের অগ্রবাণী


  • Notice: ob_end_flush(): failed to send buffer of zlib output compression (0) in /home/ajkerogr/public_html/wp-includes/functions.php on line 4669