• শিরোনাম

    কোন এলাকার খবর দেখতে চান...

    সেদিন গ্রেনেড হামলায় মারত্মকভাবে আহত হয়েছিলেন উম্মে রাজিয়া কাজল

    বিশেষ প্রতিবেদক | ২১ আগস্ট ২০১৯ | ১১:৪১ পূর্বাহ্ণ

    সেদিন গ্রেনেড হামলায় মারত্মকভাবে আহত হয়েছিলেন উম্মে রাজিয়া কাজল

    ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের সমাবেশে গ্রেনেড হামলায় মারত্মকভাবে আহত হন সাবেক এমপি ও স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেত্রী উম্মে রাজিয়া কাজল।

    গ্রেনেড হামলায় আহত স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেত্রী উম্মে রাজিয়া কাজল বলেন, ‘আইভি আপা ছিলেন অনন্য ব্যক্তিত্বের অধিকারী। তিনি সংগঠন আর কর্মী ছাড়া কিছুই বুঝতেন না। তার মধ্যে কোনও অহঙ্কার ছিল না। তিনি আমাদের মহিলা কর্মীদের আগলে রাখতেন।


    ২১ আগস্টের ঘটনা বর্ণনা করে কাজল বলেন, নেত্রীর (শেখ হাসিনা) বক্তব্য যখন শেষ পর্যায় তখন মতিয়া আপা মঞ্চ থেকে নেমে মিছিলের জন্য সামনের দিকে যেতে লাগলেন। তার সঙ্গে মহিলা কর্মীরাও গেলো। এ সময় আইভি আপাও মিছিলে যাওয়ার জন্য উঠে দাঁড়ালেন। তার পায়ে ব্যথা ছিলো। এজন্য দাঁড়িয়ে কিছুটা রেস্ট নিচ্ছিলেন। আমরাও তাঁর পাশে কয়েকজন দাঁড়িয়ে আছি এক সঙ্গে যাবো বলে। এমন সময় বিকট শব্দ। অনেকের চিৎকার চেঁচামেচি শুনতে পেলাম। আমরাও চিৎকার শুরু করলাম। যে যেদিক পারে ছোটাছুটি শুরু করলো। আমিও মারাত্মক আহত হলাম। কে বা কারা আমাকে হাসপাতালে নিয়ে গেলো সেটা আর মনে করতে পারিনি।
    কাজল বলেন, এ সময় কীভাবে জানি না পিছিয়ে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের পাশের বাটার দোকানের সামনে এসে দাঁড়িয়েছিলাম। এক সময় পেছন থেকে গুলির আওয়াজ শুনতে পেলাম। ভীষণ মাথা ঘুরতে শুরু করে। বারবার বাবা-মা আর বাসায় রেখে আসা মেয়ে, ছোট ছেলে আর ছোট চাচাতো ভাইয়ের কথা মনে পড়ছিল। আমার মৃত্যুর আগে যেন ওদের দেখে যেতে পারি- আল্লাহর কাছে সেই প্রার্থনাই করছিলাম।
    এরপর আর কিছু মনে নেই। অজ্ঞান হয়ে পড়ি। পরে শুনেছি কার্যালয়ের প্রবেশপথে পড়া অবস্থায় আমাকে পাওয়া যায়। স্বেচ্ছাসেবক লীগের তৎকালীন আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক সাইমুম সরওয়ার কমলসহ কয়েক নেতাকর্মী আমাকে উদ্ধার করে ট্যাক্সিক্যাবে করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে অনেক আহত মানুষকে নিয়ে আসা হয়েছিল। তাই জায়গা না পেয়ে প্রথমে লাশের স্তূপের কাছে রাখা হয়। পরে কোনো ডাক্তার-নার্স না পাওয়ায় বাইরে এনে একটি ভ্যানে শুইয়ে রাখা হয়। ওই ভ্যানে করেই আমাকে সেন্ট্রাল হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে রাত ৯টা পর্যন্ত চিকিৎসার পর নেতারা আমাকে চাদর দিয়ে ঢেকে ও লুকিয়ে ট্রমা সেন্টারে নিয়ে যান। কেননা প্রকাশ্যে নিয়ে গেলে পুলিশের হয়রানির ভয় ছিল। ৪ সেপ্টেম্বর কলকাতায় গিয়ে এক মাস চিকিৎসা নিয়ে দেশে ফিরি।
    এরপর গত ১৫ বছরে দেশ-বিদেশে বহুবার চিকিৎসা নিয়েছি। এসব চিকিৎসার পর এখনও তিনশ’র বেশি স্পিল্গন্টার রয়ে গেছে শরীরে। অনেক স্পিল্গন্টার শিরার মধ্যেও ঢুকে গেছে। এগুলোর কারণে এখনও শরীরে সব সময় তীব্র জ্বালাপোড়া, কামড়ানো ও যন্ত্রণা হয়। স্বাভাবিক কাজকর্ম তো করতে পারিই না, রাতে ঘুমানোটাও কষ্টকর হয়ে পড়ে অনেক সময়। বাম পায়ের কার্যক্ষমতা প্রায় লোপ পাওয়ায় ডান পায়ের ওপর ভরসা করেই চলতে হয়।
    তার পরও একটিই চাওয়া জীবনে- যারা এই ঘৃণ্য ও নৃশংস ঘটনা ঘটিয়েছে তাদের বিচার এবং শাস্তি হিসেবে ফাঁসি দেওয়া হোক। ১৫ বছর হয়ে গেলেও এখনও আশা ছাড়িনি। কেননা এদেশে দীর্ঘ সময় পরও বঙ্গবন্ধুর খুনিদের ফাঁসি হয়েছে। যুদ্ধাপরাধীদের বিচার ও তাদের ফাঁসির রায়ও কার্যকর হচ্ছে। তাই যত সময়ই লাগুক না কেন, বঙ্গবন্ধুকন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনা ২১ আগস্টের গ্রেনেড হামলাকারীদের বিচার করবেনই। এই বিশ্বাস নিয়ে এখনও বেঁচে রয়েছি।

    Comments

    comments

    কোন এলাকার খবর দেখতে চান...

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    গৃহবধূ থেকে শিল্পপতি

    ২২ এপ্রিল ২০১৭

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০১১১২১৩
    ১৪১৫১৬১৭১৮১৯২০
    ২১২২২৩২৪২৫২৬২৭
    ২৮২৯৩০  
  • ফেসবুকে আজকের অগ্রবাণী