রবিবার, জানুয়ারি ২৩, ২০২২

স্কুলের গণ্ডি না পেরোলেও তারা ‘সচিব-পুলিশ সুপার’!

ডেস্ক রিপোর্ট   |   রবিবার, ২৩ জানুয়ারি ২০২২ | প্রিন্ট  

স্কুলের গণ্ডি না পেরোলেও তারা ‘সচিব-পুলিশ সুপার’!

কোথায় নেই প্রতারণা? নিয়োগ, পদোন্নতি কিংবা বদলি থেকে শুরু করে চাকরি শেষে পেনশন সর্বত্র চলছে প্রতারণা। মাধ্যমিকের গণ্ডি না পেরোলেও পরিচয় দেওয়া হচ্ছে সচিব, পুলিশ সুপারের। সামাজিক বিভিন্ন মাধ্যমও যেন তাদেরই দখলে। পুলিশ বলছে, অপরাধের সিংহভাগই এখন প্রতারণা। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আইনি দুর্বলতায় পার পেয়ে যাচ্ছেন অপরাধীরা।

তামার তার গলিয়ে গায়ে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির নাম খোদাই করে তৈরি করা হচ্ছে কয়েন। মাত্র সত্তর-আশি টাকা খরচে তৈরি করা সেই কয়েন শত শত বছরের পুরনো প্রত্নতাত্ত্বিক নির্দশন হিসেবে বিক্রি করা হচ্ছে কোটি কোটি টাকায়। প্রতারণার এমন চোখ ধাঁধানো ফাঁদে পড়ে নিঃস্ব হচ্ছেন অনেকেই।


সরকারি চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে প্রতারণা যেন নিয়মে পরিণত হয়েছে। ১৬ জানুয়ারি পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) রাজধানী থেকে প্রতারক চক্রের তিন সদস্যকে গ্রেফতার করে যারা দীর্ঘদিন ধরে সরকারি চাকরি দেওয়ার নামে ভুক্তভোগীদের কাছ থেকে লাখ লাখ টাকা আত্মসাৎ করেছিল।

গত মঙ্গলবার (১৮ জানুয়ারি) একই অপরাধে সিআইডি গ্রেফতার করে মির্জা মুকুল নামে এক প্রতারককে। বাংলাদেশ মেরিন একাডেমিতে প্রশিক্ষণের মাধ্যমে অস্ট্রেলিয়ার পোর্টে চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ তার বিরুদ্ধে।


এক মাসে বিনিয়োগ দ্বিগুণ, লাখ টাকার পণ্য ডিসকাউন্টে মাত্র কয়েক হাজার টাকায় এমন বাহারি এবং লোভনীয় অফার নিয়ে গ্রাহকের দোরগোড়ায় হাজির হয় বিভিন্ন ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান। হাজার হাজার কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে এসব প্রতিষ্ঠানের অধিকাংশ উদ্যোক্তাই এখন কারাগারে।

তথ্য প্রযুক্তির এই যুগে সবচেয়ে বেশি প্রতারণা হচ্ছে অনলাইনে। ফেসবুক-ইমো-মোবাইল ব্যাংকিং প্রতারণার জাল সবখানে। প্রতারণার ফিরিস্তি লম্বা হচ্ছে দিন দিন।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অবৈধভাবে কিছু পাওয়ার আকাঙ্ক্ষা থেকেই প্রতারণার ধরন পাল্টাচ্ছে প্রতারকরা। শাস্তি খুব সামান্য হওয়ায় এই সুযোগটি কাজে লাগাচ্ছে অপরাধীরা।

সমাজ ও অপরাধ বিশ্লেষক তৌহিদুল হক বলেন, মানুষের মধ্যে অবৈধভাবে কিছু পাওয়ার যে আকাঙ্ক্ষা অথবা অন্যায় করে কিছু নেওয়ার যে আকাঙ্ক্ষা, সেই জায়গাগুলো বাড়ছে। এই জায়গাগুলো বাড়ার পেছনে সমাজে যে সামাজিক বৈষম্য রয়েছে, আয় বৈষম্য রয়েছে কিংবা একজন নাগরিকের জন্য রাষ্ট্রের যা করণীয়, সেসব ক্ষেত্রে যে ঘাটতি, সেগুলোকেই মূলত এক্ষেত্রে দায়ী করে থাকি।

তিনি বলেন, যখন কোনো প্রতারণার ঘটনাগুলো ঘটে, আর সেই প্রতারণা থেকে মুক্ত হওয়ার জন্য বা জামিন পাওয়ার জন্য আইনি প্রক্রিয়াগুলো যখন সহজ হয়ে যায়, তখন সেই প্রতারণার জায়গাটি জমজমাট হতে থাকে। কারণ কেউ যদি প্রতারণা করে ১০ কোটি টাকা উপার্জন করতে পারে, সেখানে যদি তাকে ৬ মাস জেলেও থাকতে হয়, তাতেও তারা রাজি। এ রকম প্রতারকের সংখ্যা বাংলাদেশে অসংখ্য। এ রকম যদি সুযোগ দেওয়া হয়, তখন দেখা যাবে একটা সময় জেলখানায় জায়গা দেওয়া সম্ভব হবে না।

দীর্ঘদিন বিভিন্ন অপরাধ এবং অপরাধীদের নিয়ে কাজ করা ঢাকা মহানগরের গোয়েন্দা পুলিশের গুলশান বিভাগের উপপুলিশ কমিশনার মশিউর রহমান বলছেন, অপরাধের সিহংভাগই এখন প্রতারণা সর্ম্পকিত। দরকার যুগোপযোগী আইন।

পুলিশের এই কর্মকর্তা বলেন, কীভাবে উপার্জন করা যাবে, কীভাবে ভোগবাদীতার মধ্যে যাওয়া যাবে, সেটাই এখন অনেকের কাছে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। কোন পন্থায় এটা হয়ে যাচ্ছে, সেই বিষয়ে এখন আর প্রশ্ন করা হয় না। অনেকাংশেই মেধা এবং আত্মত্যাগের পরিবর্তে কখনো কখনো সত্যি এবং চাটুকারেরই জয় হয় বলে অনেকেই সেদিকে ধাবিত হতে থাকে। সর্বোপরি ১০ টাকা ছিনতাই করতে গেলে যে রকম শাস্তি আমাদের আইন এবং বিধানে আছে, ১০ হাজার কোটি টাকা প্রতারণা করতে গেলে সে রকম শাস্তির বিধান আইনে নেই। এসব কারণে প্রতারকরা সহজেই পরিত্রাণ পাওয়া যাবে, সহজেই জামিনে মুক্তি পাওয়া যাবে, সেই বিষয়গুলো মনে করতে গিয়ে তারা এই প্রতারণায় ধাবিত হন।

Posted ১:৪৬ অপরাহ্ণ | রবিবার, ২৩ জানুয়ারি ২০২২

ajkerograbani.com |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

advertisement
advertisement
advertisement

Archive Calendar

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০১১১২১৩
১৪১৫১৬১৭১৮১৯২০
২১২২২৩২৪২৫২৬২৭
২৮২৯৩০৩১  
মুহা: সালাহউদ্দিন মিয়া সম্পাদক ও প্রকাশক
মুহা: সালাহউদ্দিন মিয়া কর্তৃক তুহিন প্রেস, ২১৯/২ ফকিরাপুল (১ম গলি) মতিঝিল, ঢাকা-১০০০ থেকে মুদ্রিত ও প্রকাশিত।
বার্তা ও সম্পাদকীয় কার্যালয়

২ শহীদ তাজউদ্দিন আহমেদ সরণি, মগবাজার, ঢাকা-১২১৭।

হেল্প লাইনঃ ০১৭১২১৭০৭৭১

E-mail: [email protected] | [email protected]