• শিরোনাম



    কোন এলাকার খবর দেখতে চান...


    স্কুলের ম্যানেজিং কমিটির নির্বাচনে ইউপি চেয়ারম্যানের বিতর্কিত কর্মকাণ্ড

    আলফাডাঙ্গা প্রতিনিধি (ফরিদপুর) | ১৪ জানুয়ারি ২০২০ | ৪:১৯ অপরাহ্ণ

    স্কুলের  ম্যানেজিং কমিটির নির্বাচনে ইউপি চেয়ারম্যানের বিতর্কিত কর্মকাণ্ড

    স্কুলের ম্যানেজিং কমিটির নির্বাচনে অযাচিত হস্তক্ষেপ করছেন ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা উপজেলার গোপালপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ইনামুল হাসান। নজিরবিহীনভাবে অভিভাবক ভোটারদের কার্যালয়ে ডেকে নিয়ে নিজ পছন্দের প্রার্থীদের পক্ষে ভোট চাইছেন। সামাজিকভাবে অস্বচ্ছলদের দেখাচ্ছেন প্রলোভন, দিচ্ছেন প্রতিশ্রুতি। আবার ভয়ভীতি দেখিয়েও ভোট চাওয়ার ঘটনা ঘটছে। এই অভিযোগ স্থানীয় বাসিন্দা ও ভোটারদের।

    স্থানীয়রা বলছেন, কামারগ্রাম কাঞ্চন একাডেমী প্রতিষ্ঠার পর থেকে গত আট দশকে এ ধরনের ঘটনা নজিরবিহীন। বরাবরই অভিভাবকরা তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করে পছন্দের অভিভাবক সদস্য নির্বাচন করেন। পরে সদস্যদের ভোটে সভাপতি নির্বাচিত হয়। এটি উৎসবের একটি উপলক্ষ। এবার এটি আতঙ্কের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। আগামী ২৩ জানুয়ারি ভোট হবে।
    এ ব্যাপারে ফরিদপুর স্থানীয় সরকার বিভাগেও অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা। সে অনুযায়ী চেয়ারম্যানকে সতর্কও করেছে জেলা প্রশাসনসহ স্থানীয় সরকার বিভাগ।
    স্থানীয় একজন প্রবীণ বাসিন্দা বলেন, চেয়ারম্যান ইনামুল হাসান ও আলফাডাঙ্গা উপজেলা আওয়ামী লীগের বহিষ্কৃত সাবেক সাধারণ সম্পাদক খান বেলায়েত হোসেনসহ বিতর্কিত ব্যক্তিরা সকাল থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে বসে স্কুলের ম্যানেজিং কমিটির নির্বাচনী প্রচারণা চালাচ্ছে। তারা ভোটারদের ডেকে এনে শাসাচ্ছে। তাদের কারণে বোর্ড অফিসে কোনো কাজের জন্য যাওয়া যাচ্ছে না। মানুষ সেবা পাচ্ছে না। একটা নাগরিকত্বের সনদ পাওয়ার জন্য এক সপ্তাহ অপেক্ষা করতে হচ্ছে।
    কাঞ্চন একাডেমীতে সন্তান পড়ছেন এমন একজন অভিভাবক অভিযোগ করে বলেন, গরিব ও অস্বচ্ছল অভিভাবক ভোটারদের চেয়ারম্যান নানা ধরনের প্রতিশ্রুতি ও প্রলোভন দেখাচ্ছেন। তার পছন্দের প্রার্থীদের ভোট দিলে বয়স্কভাতা কার্ড, শিশুকার্ডসহ নানা সুবিধা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন। আবার ইনামুল হাসান ও খান বেলায়েত রাতে নিরীহ মানুষের বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভয়ভীতিও দেখাচ্ছে। তাদের পছন্দের বাইরে অন্য কাউকে ভোট দিলে মারধরের হুমকি দিয়ে বেড়াচ্ছে।
    এর আগেও নানা অনিয়ম ও দুর্নীতিতে বিতর্কিত হয়েছেন চেয়ারম্যান ইনামুল হাসান। তার বিরুদ্ধে অসহায় ও দুস্থ মানুষের জন্য সরকারের বিনামূল্যের ঘর বরাদ্দে আর্থিক দুর্নীতির সুনির্দিষ্ট অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া বয়স্কভাতা, বিধবাভাতাসহ বিভিন্ন সরকারি সহায়তার চাল ও অর্থ লোপাটের অভিযোগ আছে। জেলা প্রশাসনসহ স্থানীয় সরকার বিভাগ এসব অভিযোগ তদন্ত করছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
    এ ব্যাপারে ফরিদপুরের জেলা প্রশাসক অতুল সরকার বলেন, ‘স্কুল কমিটির নির্বাচনে ইউপি অফিস ব্যবহারের কোনো নিয়ম নেই। সরকারি দপ্তর ব্যবহার করার অভিযোগ প্রেক্ষিতে আমরা তাকে সতর্ক করেছি। প্রয়োজনে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
    জানতে চাইলে ফরিদপুর জেলার স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ-পরিচালক মো. মনিরুজ্জামান বলেন, ‘নির্বাচনে প্রভাববিস্তার করার অভিযোগটি আমাদের কাছে এসেছে। আমরা অভিযোগ পাওয়া মাত্রই চেয়ারম্যানকে সতর্ক করেছি এবং নির্দেশনা দিয়েছি। এর পরও যদি এ ধরনের কাজ হয় তাহলে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
    বিষয়টি শুনেছেন জানিয়ে আলফাডাঙ্গা উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা রাশেদুর রহমান বলেন, ‘আমরা নজর রাখছি। ফের এ ধরনের কিছু হলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
    এ ব্যাপারে জানতে চাইলে গোপালপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ইনামুল হাসান বলেন, ‘এটা আমাদের এলাকার বিষয়। এসব নিয়ে আপনার এত দরকার কী?’ বলেই তিনি ফোনটি রেখে দেন।


    Comments

    comments

    কোন এলাকার খবর দেখতে চান...

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
    ১০১১১২১৩১৪
    ১৫১৬১৭১৮১৯২০২১
    ২২২৩২৪২৫২৬২৭২৮
    ২৯  
  • ফেসবুকে আজকের অগ্রবাণী