• শিরোনাম

    কোন এলাকার খবর দেখতে চান...

    স্ত্রীর যৌন কেলেঙ্কারিতে ফকির হয়েছিলেন যে প্রভাবশালী বিচারপতি স্বামী

    ডেস্ক | ২৩ আগস্ট ২০১৯ | ১২:৩০ অপরাহ্ণ

    স্ত্রীর যৌন কেলেঙ্কারিতে ফকির হয়েছিলেন যে প্রভাবশালী বিচারপতি স্বামী

    সম্প্রতি #মিটু আন্দোলনকে কেন্দ্র করে নানা সেক্স স্ক্যান্ডালের কিচ্ছা কাহিনী ফাঁস হয়েছে ভারতে। এতে এমন সব ব্যক্তির নাম সামনে এসেছে জনগণের মনে যাদের ভাবমূর্তি বেশ উঁচু স্থানেই ছিল। তো ভারতের সবচেয়ে বড় সেক্স স্ক্যান্ডলের ঘটনাটি কিন্তু ঘটেছিলো ব্রিটিশ আমলে। তখন দেশটির সবচেয়ে বড় এবং ধনী রাজ্য হিসাবে পরিচিত হায়দ্রাবাদে হঠাৎ করেই ছড়িয়ে পড়েছিল ইংরেজিতে লেখা আট পৃষ্ঠার একটা পুস্তিকা। যার বিষয়বস্তু ছিলেন হায়দ্রাবাদের সম্ভ্রান্ত মুসলমান মেহেদী হাসান এবং তার ব্রিটিশ বংশদ্ভূত স্ত্রী এলেন গারট্রুড ডোনেলির নাম। আর এই ঘটনাকে কেন্দ্র করেই একসময় রাস্তার ফকির হয়েছিলেন ব্রিটিশ ভারতের এই প্রভাবশালী কর্মকর্তা।

    ১৯ শতকের ভারতে ভিন্ন বর্ণের মধ্যে প্রেম বা বিয়ে একেবারেই গ্রহণযোগ্য ব্যপার ছিল না। তাছাড়া সে সময়কার শাসক ব্রিটিশদের সঙ্গে দেশীয় কারো প্রেমকাহিনীর কথাও শোনা যায়নি।


    সে সময় হায়দ্রাবাদে পরিচিত মুখ ছিল এই সলমান মেহেদী হাসান এবং তার ব্রিটিশ বংশদ্ভূত স্ত্রী এলেন গারট্রুড ডোনেলি। সমাজের উঁচুতলার মানুষদের সঙ্গে ছিল তাদের ওঠাবসা।

    হায়দ্রাবাদের ‘নিজাম’ বা রাজ্য সরকারের পদস্থ চাকুরে মেহেদী এবং এলেনের ব্রিটিশ সংযোগ – এই দুই মিলে তারা হয়ে উঠেছিলেন ১৯ শতকের ভারতের অত্যন্ত ক্ষমতাধর এক দম্পতি। শোনা যায় রানী ভিক্টোরিয়া একবার তাদের লন্ডনে আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন। হায়দ্রাবাদের প্রশাসনিক দায়িত্ব পালন করতে করতে এক সময় গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠেন মেহেদী। অনেকেই তার সাফল্যে ঈর্ষান্বিত ছিলেন।

    হায়দ্রাবাদ হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি হয়েছিলেন মেহেদী। পরে রাজ্যের স্বরাষ্ট্র সচিব হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। স্বাভাবিকভাবেই ভালো মাইনে পেতেন তিনি। ফলে অনেকেই তার বিরুদ্ধে ঈর্ষাকাতর হয়ে উঠেছিলেন।

    অন্যদিকে তার স্ত্রী এলেনও সেই সময়কার রক্ষণশীল সমাজের অবগুণ্ঠন ভেঙ্গে বেরিয়ে এসেছিলেন। আর তার স্বামী এলিট শ্রেণির মানুষ হওয়ায় তার জন্য অবাধ মেলামেশাও সহজ ছিলো। কিন্তু অনেকেই এসব পছন্দ করতেন না। তবে মেহেদী এবং এলেনের তা নিয়ে ভ্রুক্ষেপ ছিলো না।

    এবার আসি সেই পুস্তিকার কথায়। ১৮৯২ সালে হাতে হাতে ছড়িয়ে পড়া সেই পুস্তিকার কারণে নাটকীয়ভাবে মেহেদী এবং এলেনের উজ্জ্বল ব্যক্তিত্ব এবং সুনাম হঠাৎ করেই মলিন হয়ে গিয়েছিল। ধারণা করা হয় মেহেদীর সাফল্যে ঈর্ষান্বিত ছিলেন পুস্তিকার বেনামী লেখক। মেহেদীর কাজে কোন ত্রুটি খুঁজে না পেয়ে তিনি এলেনকে টার্গেট করেন এবং পুস্তিকায় তিনটি অভিযোগ তোলেন।

    এক, মেহেদীকে বিয়ের আগে এলেনের পেশা ছিল পতিতাবৃত্তি, এবং এক সময় পুস্তিকার বেনামী লেখক ও তার কয়েকজন বন্ধুর রক্ষিতাও ছিলেন এলেন।

    দুই, পুস্তিকায় অভিযোগ তোলা হয় যে মেহেদী এবং এলেনের মধ্যে কখনোই বিয়ে হয়নি।

    আর সবশেষে অভিযোগ ছিল, মেহেদী হায়দ্রাবাদের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের কাছে নিজের স্ত্রী এলেনকে পাঠিয়ে নিজের স্বার্থ হাসিল করতেন ।

    এই পুস্তিকা নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই ক্ষেপে গিয়েছিলেন মেহেদী। কিন্তা তার বন্ধুরা তাকে পরামর্শ দিয়েছিলেন বিষয়টিকে একেবারেই পাত্তা না দিতে এবং পাল্টা ব্যবস্থা না নিতে। কিন্তু তাদের কথায় কান না দিয়ে পুস্তিকার প্রকাশক এসএম মিত্রর নামে রেসিডেন্সি কোর্টে মামলা ঠুকে দেন মেহেদী।

    ওই আদালত পরিচালনা করতেন একজন ব্রিটিশ বিচারপতি। মামলার বাদী ও বিবাদী দুই পক্ষই মামলার জন্য বিখ্যাত ব্রিটিশ আইনজীবীদে নিয়োগ দিয়েছিলেন। সাক্ষীদের ঘুষ দেয়া, তাদের দিয়ে মিথ্যা বয়ান দেয়ানো এবং মামলা প্রভাবিত করার চেষ্টায় কেউ কারো চেয়ে কম যাননি। কিন্তু বিস্ময়কর হলো বিচারপতি প্রকাশক মিত্রকে পুস্তিকা প্রকাশের দায় থেকে অব্যাহতি দিয়েছিলেন।

    শঠতা, পতিতাবৃত্তিতে বাধ্য করা, অবৈধ সহবাস, মিথ্যা সাক্ষী দেয়া, ঘুষ দেয়াসহ বহু অভিযোগ থাকার পরও এসএম মিত্রর কোন সাজা হয়নি।

    আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সে সময় এ মামলা খুবই চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছিল। হায়দ্রাবাদে নিজাম বা রাজ্য সরকার, ব্রিটিশ ভারতের সরকার, লন্ডনে ব্রিটিশ সরকার এবং সারা পৃথিবীর খবরের কাগজের চোখ ছিল নয় মাস ধরে চলা সেই মামলার দিকে।

    মামলা শেষ হবার কয়েকদিন পরেই মেহেদী এবং এলেন উত্তর ভারতের লক্ষ্নৌ চলে যান, যেখানে তাদের দুজনেরই শৈশব কেটেছিল। পেনশন পাবার জন্য মেহেদী লক্ষ্নৌর স্থানীয় সরকারের কাছে চাকরি পাবার চেষ্টা করেন কয়েকবার, যেখানেএকসময় তিনি চাকরি করেছেন। কিন্তু তার চাকরি হয়নি সেখানে।

    শোনা যায়, রানী ভিক্টোরিয়াকে খুশি করার জন্য মেহেদী একবার ভারতের জাতীয় কংগ্রেস পার্টিকে ‘বিপজ্জনক’ বলে প্রকাশ্যে মন্তব্য করেছিলেন। কিন্তু তার বিপদের দিনে ব্রিটিশ শাসকেরা তাকে কোনোরকম সাহায্যই করেননি। বরং তার দিক থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছিল। হায়দ্রাবাদের নিজাম বা রাজ্য সরকারও তার পাশে দাঁড়ায়নি।

    ওই সেক্স স্ক্যান্ডালের ঘটনার প্রেক্ষিতে তাকে স্বরাষ্ট্র সচিবের পদ থেকে সরিয়ে দেয়া হয় এবং তাকে কোন পেনশন বা কোন রকম আর্থিক ক্ষতিপূরণ দেয়া হয়নি। ফলে ৫২ বছর বয়সে মেহেদী অনেকটা কর্দপশূন্য অবস্থায় মারা যান। তিনি প্রিয় স্ত্রী এলেনের জন্য কোনো সম্পদ রেখে যেত পারেননি।

    বয়স বাড়ার সাথে সাথে এলেনের অবস্থাও খারাপ হতে থাকে। বৃদ্ধ অবস্থায় নিজাম এবং হায়দ্রাবাদের প্রধানমন্ত্রীর কাছে অর্থ সাহায্য চেয়ে চিঠি লিখেছিলেন এলেন। সরকার দয়াপরবশ হয়ে সামান্য অর্থ বরাদ্দ দিয়েছিল জন্ম দিয়েছিল, সে সময়টি ছিল তৎকালীন উপনিবেশিক ভারতের রাজনীতির জন্য খুবই তাৎপর্যপূর্ণ। ১৮৮৫ সালে ভারতীয় কংগ্রেস পার্টির জন্ম হয় এবং এলেনের মৃত্যুর পরে মহাত্মা গান্ধী ভারতে ফিরে আসেন।

    ক্রমে ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলন চাঙ্গা হতে থাকে। আর এই আন্দোলনের নিচে চাপা পড়ে যায় ভিক্টোরিয়া যুগে ভারত কাঁপানো এক সেক্স কেলেঙ্কারি। তবে এই কেলেঙ্কারিতে পড়ে সব কিছু হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে ফেলেছিলেন ব্রিটিশ ভারতের এক সময়ের প্রভাবশালী কর্মকর্তা মেহেদী।

    Comments

    comments

    কোন এলাকার খবর দেখতে চান...

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০১১১২১৩
    ১৪১৫১৬১৭১৮১৯২০
    ২১২২২৩২৪২৫২৬২৭
    ২৮২৯৩০  
  • ফেসবুকে আজকের অগ্রবাণী