শনিবার ২৪শে জুলাই, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ | ৯ই শ্রাবণ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

স্ত্রীসহ জাতীয় মানবাধিকার ইউনিটের চেয়ারম্যান হারুনকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব-১১

আর এইচ রাকিব   |   বৃহস্পতিবার, ১২ মার্চ ২০২০ | প্রিন্ট  

স্ত্রীসহ জাতীয় মানবাধিকার ইউনিটের চেয়ারম্যান হারুনকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব-১১

নারায়ণগঞ্জ র‌্যাব-১১ এর একটি আভিযান চালিয়ে ডিএমপি, ঢাকার মোহাম্মদপুর হাউজিং এলাকা থেকে জাতীয় মানবাধিকার ইউনিটি নামের একটি নামসর্বস্ব প্রতিষ্ঠানের স্বঘোষিত চেয়ারম্যান মোঃ জিয়াউল আমিন ওরফে হারুন-অর-রশিদ ও স্ত্রী মোসাঃ দৌলেতুন নেছা(৪২) কে গ্রেফতার করেছে।
বৃহস্পতিবার (১২ই মার্চ) র‌্যাব-১১ এর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো.আলেপ উদ্দিন নিজস্ব কার্যালয়ে প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে সাংবাদিকদের জানান, প্রাথমিক অনুসন্ধান ও গ্রেফতারকৃতদেরকে জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায় যে, মোঃ জিয়াউল আমিন ওরফে হারুন-অর-রশিদ ও তার স্ত্রী মোসাঃ দৌলেতুন নেছার বাড়ী বরগুনা জেলার পাথরঘাটা থানাধীন কালমেঘা এলাকায়। জিয়াউল আমিন ১৯৮২ সালে পাথরঘাটা কেএম মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পাশ করে। সে ২০০৭ সালে বরগুনা জেলার পাথরঘাটার চ্যা ল্যকর দেবরঞ্জন কির্ত্তনীয়া হত্যা মামলার অন্যতম পলাতক আসামী সে ঢাকায় পালিয়ে এসে হারুন-অর-রশিদ থেকে জিয়াউল আমিন নাম ধারণ করে। এরপর কিছু উকিলের সাথে কোর্টে কাজ করার সুবাদে সে আইনী কিছু বিষয় রপ্ত করে ২০১১ সালে ‘জাতীয় মানবাধিকার ইউনিটি’ নামে একটি এনজিও শুরু করে। এই এনজিও’র মাধ্যমে বাংলাদেশের বিপুল সংখ্যক মানুষকে প্রতারিত করলে সমাজ কল্যাণ মন্ত্রণালয় ২০১৪ সালে এর লাইসে›স বাতিল করে দেয়। কিন্তু লাইসেন্স বাতিল করলেও জিয়াউল আমিন মানবাধিকার ইউনিটির নামে তার প্রতারণার মাধ্যমে দেশের সাধারণ জনগণের নিকট হতে বিপুল পরিমাণ অর্থ আত্মসাৎ করেছে। তদুপরি বিভিন্ন জাতীয় মানবাধিকার সংস্থা নানা পন্থায় এখনো প্রতারণা চালিয়ে যাচ্ছে এবং বেকার যুব সমাজকে চাকুরীর প্রলোভন, জায়গাজমি ও বিভিন্ন পারিবারিক সমস্যা মেটানোর নামে বিপুল পরিমাণ অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছে। জিয়াউল আমিন এই জাতীয় মানবাধিকার সংস্থাগুলোর সাইনবোর্ড ব্যবহার করে দেশের বিভিন্ন স্থানে ৪০টি কমিটি তৈরি করে প্রায় ২ হাজার কর্মী নিয়োগ করে যাদের প্রত্যেকের কাছ থেকে ৩ থেকে ১০ হাজার টাকা সদস্য ফি হিসেবে নিয়েছে।
এরই ধারাবাহিকতায়, প্রতারিত ও ভূক্তভোগী কর্তৃক প্রাপ্ত অভিযোগের ভিত্তিতে অনুসন্ধানে ঘটনার সত্যতা পেয়ে র‌্যাব-১১ এর একটি আভিযানিক দল গত ১১ মার্চ ২০২০ খ্রিস্টাব্দে দিবাগত রাতে ডিএমপি, ঢাকার মোহাম্মদপুর হাউজিং এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে জাতীয় মানবাধিকার ইউনিটি নামের একটি নামসর্বস্ব প্রতিষ্ঠানের স্বঘোষিত চেয়ারম্যানকে স্বস্ত্রীক গ্রেফতার করেন।
অভিযানের সময় প্রতারণা ও হয়রানির কাজে ব্যবহৃত মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন সীলসহ মোট ৪২টি ভুয়া সীল ও বিপুল পরিমান জাল/উদ্দেশ্য প্রণোদিত নথিপত্র, ০১টি লোহার চাকু ও ০১টি বাঁশের লাঠি উদ্ধার করা হয়। এবং গ্রেফতারকৃত আসামীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

Facebook Comments Box


Posted ৭:৩৮ অপরাহ্ণ | বৃহস্পতিবার, ১২ মার্চ ২০২০

ajkerograbani.com |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

advertisement
advertisement
advertisement

আর্কাইভ

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০১১১২১৩১৪১৫১৬
১৭১৮১৯২০২১২২২৩
২৪২৫২৬২৭২৮২৯৩০
৩১