রবিবার ২৫শে জুলাই, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ | ১০ই শ্রাবণ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

হঠাৎ সরব ‘পলাতক’ ও বিতর্কিতরা

ডেস্ক   |   বৃহস্পতিবার, ১৬ জানুয়ারি ২০২০ | প্রিন্ট  

হঠাৎ সরব ‘পলাতক’ ও বিতর্কিতরা

ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে ‘পলাতক’ বা আত্মগোপনে থাকা বিতর্কিত রাজনৈতিক নেতারা হঠাৎ মাঠে সরব হয়ে উঠেছেন বলে জানা গেছে। বিশেষ করে গত বছরে অবৈধ ক্যাসিনো ও চাঁদাবাজি-দুর্নীতিবিরোধী অভিযানের সময় যারা ব্যাপক বিতর্কিত হন তারাও এখন নির্বাচনের মাঠে। তাদের কেউ কেউ পেয়েছেন দলীয় মননোয়ন। কেউ কেউ হয়েছেন বিদ্রোহী প্রার্থী। সব মিলে মাঠ দাপিয়ে বেড়াচ্ছেন নানা অপকর্মের হোতা হিসেবে আলোচিত সেসব প্রভাবশালী নেতারা।
জানা গেছে, সম্প্রতি গেন্ডারিয়ার আওয়ামী লীগ নেতা ক্যাসিনো-জুয়ারি দুই ভাই রুপন ও এনু সিআইডির হাতে গ্রেফতার হওয়ার পর আলোচনায় আসেন ক্যাসিনোর অন্যতম হোতা ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মমিনুল হক সাঈদ। সবার কাছে পলাতক হলেও নির্বাচনে ঠিকই প্রার্থী হয়েছেন তিনি। রহস্যজনক এ ঘটনার পর জানা যাচ্ছে, তিনি নাকি এখনও বিদেশেই আত্মগোপনে আছেন। তার ফোন নম্বর খোলা পাওয়ায় অনেকেই প্রচার করেন তিনি দেশে আছেন। তবে এই ফোন নম্বরটি তার স্ত্রী ব্যবহার করছেন বলে জানা যায়। মূলত সাঈদের পক্ষে তার স্ত্রীই ওই প্রার্থিতার বিষয়টি দেখভাল করেন বলেও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
এদিকে স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাকর্মী ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সূত্রে জানা গেছে, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) ২০ নম্বর ওয়ার্ডে ক্যাসিনো কান্ডে বিতর্কিত ফরিদ উদ্দিন রতন আওয়ামী লীগের দলীয় প্রার্থী হয়েছেন। দখলবাজি ও মাদক ব্যবসায় জড়িত অভিযোগে বিতর্কিত আওয়ামী লীগ নেতা আনিসুর রহমান আনিস ডিএসসিসির ২ নম্বর ওয়ার্ডের প্রার্থী। সন্ত্রাসী ও ক্যাডার নিয়ে চলার অভিযোগে আলোচিত নেতা ফরিদুর রহমান ইরান ২৭ নম্বর ওয়ার্ডে কাউন্সিলর প্রার্থী। এ ছাড়া বিভিন্ন গুরুতর অভিযোগে বিতর্কিত ডিএনসিসির ৩০ নম্বর ওয়ার্ডেও কাউন্সিলর আবুল হাশেম হাসু, ৫১ নম্বর ওয়ার্ডে হাবিবুর রহমান হাবু, ৬৯ নম্বর ওয়ার্ডে হাবিবুর রহমান হাসু, ১২ নম্বর ওয়ার্ডে বিদ্রোহী প্রার্থী শেখ সেকেন্দারসহ আরও বেশ কিছু আওয়ামী লীগের স্থানীয় নেতারা মাঠে সক্রিয়। যাদের মধ্যে কারও কারও বিরুদ্ধে হত্যা মামলা, মাদক ব্যবসা ও শেল্টার, মারামারি, অবৈধ ক্যাসিনো ও জুয়া নিয়ন্ত্রণসহ নানা অভিযোগ রয়েছে। এদের কেউ কেউ এলাকার চিহ্নিত সন্ত্রাসী, মাদক কারবারি ও জুয়ারিসহ বিতর্কিত লোকজন নিয়ে নিয়মিত মহড়া দিচ্ছেন বলে জানা গেছে। যাদের মধ্যে ইরান, আনিস, শেখ সেকেন্দারসহ আরও কয়েকজনের নাম বেশি শোনা যাচ্ছে।
জানা যায়, গত বছরের ১৮ সেপ্টেম্বর অবৈধ ক্যাসিনো, চাঁদাবাজি-টেন্ডারবাজি ও দুর্নীতিবিরোধী অভিযান শুরু হলে নানা অপকর্মের হোতা হিসেবে পরিচিত ক্ষমতাসীন দলের ‘চিহ্নিত’ নেতারা লাপাত্তা হয়ে গেছে। অবৈধ ক্যাসিনোবিরোধী কঠোর অভিযান শুরুর পরপরই ‘ক্ষমতাধর’ ওইসব নেতারা আত্মগোপনে চলে যান। যাদের কেউ বিদেশে, কেউবা দেশের ভেতরেই অবস্থান করছে বলে জানা গেছে। তবে ৬ অক্টোবর বহুল আলোচিত ক্যাসিনো গডফাদার খ্যাত যুবলীগ নেতা ইসমাইল চৌধুরী সম্রাট ও তার সহযোগী যুবলীগ নেতা এনামুল হক আরমান গ্রেফতার হওয়ার পর অপকর্মে জড়িত নেতারা আরও বেশি আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে পড়ে। এ কারণে গ্রেফতার এড়াতে গা-ঢাকা দেন তারা। কিন্তু সম্প্রতি ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের নির্বাচনকে সামনে রেখে ‘পলাতক’ ওইসব বিতর্কিত নেতারা আবারও প্রকাশ্যে আসেন। স্বাভাবিকভাবেই রাজনীতির মাঠে অবস্থান করছেন তারা।
ক্যাসিনোবিরোধী অভিযান ও পলাতকদের প্রকাশ্যে আসার বিষয়ে কথা হয় র‌্যাবের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (অপারেশনস) কর্নেল তোফায়েল মোস্তফা সরোয়ারের সঙ্গে। তিনি বলেন, ক্যাসিনো কান্ডে জড়িতরা কেউ প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে এমন কোনো তথ্য আমাদের জানা নেই। এগুলো মিডিয়া থেকেই শোনা যাচ্ছে। এ ব্যাপারে কারও কাছে তথ্য থাকলে আমাদের জানাতে পারেন। আমরা ব্যবস্থা নেব। কর্নেল মোস্তফা সরোয়ার ক্যাসিনোবিরোধী অভিযান সম্পর্কে বলেন, বর্তমানে ক্যাসিনো তৎপরতা আর দেখা যাচ্ছে না। তবে এ বিষয়ে নজরদারিও অব্যাহত রয়েছে। কোথাও কেউ আবার ক্যাসিনো শুরু করলেই কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অবৈধ ক্যাসিনো, জুয়াসহ রাজধানীর বিভিন্ন সংস্থা বা প্রতিষ্ঠানে একছত্র আধিপত্য বিস্তার, চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজিসহ নানা অপকর্মে জড়িত প্রায় শতাধিক রাজনৈতিক নেতার বিরুদ্ধে অভিযান শুরু করে র‌্যাব। এরই মধ্যে গ্রেফতার হয়েছেন ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবলীগের সভাপতি ইসমাইল চৌধুরী সম্রাট, একই কমিটির সহসভাপতি এনামুল হক আরমান, সাংগঠনিক সম্পাদক খালেদ মাহমুদ ভ‚ঁইয়া, যুবলীগের কেন্দ্রীয় নেতা জিকে শামীম, কৃষক লীগের নেতা শফিকুল আলম শামীম, বিসিবির পরিচালক লোকমান হোসেন, সেলিম প্রধান, রুপন ও এনুসহ অন্তত ১৮ জন প্রভাবশালী। রুপন ও এনু চলতি সপ্তাহে সিআইডির হাতে গ্রেফতার হয়েছে। তবে অভিযান শুরুর সঙ্গে সঙ্গেই আত্মগোপনে চলে গেছেন যুবলীগ নেতা সম্রাটের অন্যতম সহযোগী কাউন্সিলর মমিনুল হক সাঈদ, যুবলীগের দফতর সম্পাদক কাজী আনিসুর রহমানসহ অনেকেই।

Facebook Comments Box


Posted ৯:৪৫ পূর্বাহ্ণ | বৃহস্পতিবার, ১৬ জানুয়ারি ২০২০

ajkerograbani.com |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

advertisement
advertisement
advertisement

আর্কাইভ

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০১১১২১৩১৪১৫১৬
১৭১৮১৯২০২১২২২৩
২৪২৫২৬২৭২৮২৯৩০
৩১