শুক্রবার, জুলাই ২, ২০২১

হত্যার ঘটনায় বাবাকে ফাঁসিয়ে মামলা, চবি ছাত্রের আকুতি

  |   শুক্রবার, ০২ জুলাই ২০২১ | প্রিন্ট  

হত্যার ঘটনায় বাবাকে ফাঁসিয়ে মামলা, চবি ছাত্রের আকুতি

কক্সবাজার সদর উপজেলার খরুলিয়ায় তর্কের জেরে মোর্শেদ কামাল (২৪) হত্যার ঘটনায় তিনজনকে আসামি করে হত্যা মামলা হয়েছে। এতে জমি বিরোধের জেরে খরুলিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের দফতরি নুরুল হক ও তার ভাই সৈয়দুল হককে ফাঁসানোর অভিযোগ তুলেছে পরিবার।
বুধবার (৩০ জুন) বিকেল সাড়ে পাঁচটায় নিজ বাড়িতে সংবাদ সম্মেলন করে এই অভিযোগ করে পরিবারটি। এর আগে গত ২৬ জুন কথা কাটাকাটির জেরে খুন হয় ঘাটপাড়া এলাকার আবু ছৈয়দের ছেলে মোর্শেদ কামাল। পরে কফিল উদ্দিনকে প্রধান আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের তার মা মোস্তফা বেগম। এতে হত্যার নির্দেশদাতা হিসেবে নুরুল হক ও তার ভাই সৈয়দুল হককেও আসামি করা হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে নুরুল হকের ছেলে ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) বাংলা বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র শাহ রিয়াজ বলেন, হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে আমার বাবা ও চাচার ন্যুনতম সম্পর্ক নেই। এলাকার কিছু কুচক্রী মহলের ইন্ধনে নিহতের পরিবার উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হয়ে আমাদের জমি দখল এবং সামাজিকভাবে েপরিবারের মর্যাদাহানি ও অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিসাধন করার উদ্দেশে তাদেরকে হত্যা মামলায় অভিযুক্ত করেছে।
তিনি বলেন, নিহত মোর্শেদ কামাল আমার বাবার চাচাতো বোনের ছেলে। সম্পর্কে সে আমার ফুফাতো ভাই হয়। দীর্ঘদিন ধরে তার পরিবারের সঙ্গে আমাদের পরিবারের জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছিল। জমি সংক্রান্ত বিরোধ থাকলেও তাদের সঙ্গে আমাদের কোনো প্রকার শত্রুতার সম্পর্ক ছিল না। যার উদাহরণ আমরা একই ভিটায় সৌহার্দ্যপূর্ণভাবে বসবাস করে আসছি। ওই বিরোধ নিয় তাদের সঙ্গে আমাদের পরিবারের কোনো অপ্রীতিকর ঘটনাও ঘটেনি।
শাহ রিয়াজ আরো বলেন, আমার বাবা নুরুল হক খরুলিয়া এলাকার সনামধন্য বিদ্যাপীঠ খরুলিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা সদস্যদের একজন। ১৯৯৩ সাল থেকে এই প্রতিষ্ঠানের দফতরি হিসেবে সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে কর্মরত আছেন। আমার চাচা সৈয়দুল হক একজন রেমিট্যান্স যোদ্ধা হিসেবে দীর্ঘদিন যাবৎ সৌদি আরবে প্রবাসে জীবনযাপন করছিলেন। গতবছর ছুটিতে এসে লকডাউনের কারণে তিনি বিদেশে যেতে পারেননি। আমার বাবা ও চাচাসহ আমাদের পরিবারের কোনো সদস্যই আজ পর্যন্ত সমাজ ও রাষ্ট্র বিরোধী কোনো কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত নয় এবং কখনো ছিল না।
প্রসঙ্গত, গত ২৬ জুন বিকেল চারটার দিকে কক্সবাজার সদর উপজেলার খরুলিয়া ঘাটপাড়া এলাকায় ছলিমের দোকানে ওই হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। খরুলিয়া কোনার পাড়া এলাকার মোহাম্মদ ফরিদের ছেলে কফিল উদ্দিন ও মোর্শেদ কামালের মধ্যে ইয়াবা সংক্রান্ত বিষয়ে কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে কফিল উদ্দিন মোর্শেদের বুকে ছুরি দিয়ে আঘাত করে। পরে চিকিৎসার উদ্দেশে চট্টগ্রাম নিয়ে যাওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়। অভিযোগ রয়েছে, নিহত মোর্শেদের পিতা আবু ছৈয়দ একজন রোহিঙ্গা। তাছাড়া তিনি দীর্ঘদিন যাবৎ ইয়াবা ব্যবসার সঙ্গেও সম্পৃক্ত। এ নিয়ে তার নামে দেশের বিভিন্ন থানায় একাধিক মাদক মামলা রয়েছে।


Posted ১০:৩০ এএম | শুক্রবার, ০২ জুলাই ২০২১

ajkerograbani.com |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

advertisement
advertisement
advertisement