• শিরোনাম



    কোন এলাকার খবর দেখতে চান...


    হলি আর্টিজানের এক বছর

    অগ্রবাণী ডেস্ক: | ৩০ জুন ২০১৭ | ১২:০৬ অপরাহ্ণ

    হলি আর্টিজানের এক বছর

    সন্ত্রাসীরা কোনো রেস্টুরেন্ট কিংবা ব্যাংকে ঢুকে অস্ত্রের মুখে সবাইকে জিম্মি করে ফেলে, সিনেমা-নাটকে এ দৃশ্য অনেকেই দেখেছেন। কিন্তু এ ধরনের হামলা কতটা ভয়াবহ হতে পারে তার বাস্তব চিত্র দেখা গেছে রাজধানীর গুলশানের হলি আর্টিজান রেস্তোরাঁয়। ভয়াবহ ওই হামলার এক বছর পূর্ণ হবে আগামীকাল শনিবার। গত বছরের ১ জুলাই ঘটে যাওয়া ওই হামলার পরই জিম্মি সংকটের ভয়াবহতা সম্পর্কে জানতে পারে দেশবাসী। আতঙ্ক ও শোকে স্তব্ধ হয়ে যায় গোটা জাতি।


    গত বছরের ওই দিনটিতে ঢাকার বাতাসে ছিল ঈদের আমেজ। নয় দিনের দীর্ঘ ছুটি পেয়ে নাড়ির টানে মানুষ শহর ছেড়ে বাড়ি ফিরছিলেন। ঢাকার স্বাভাবিক চাপ কমে গিয়েছিল অনেকটাই। শপিং মলগুলোতে চলছিল শেষ মুহূর্তের বেচাকেনা। ঠিক এমন সময়ই ঈদের ছয় দিন আগে জাতির জীবনে নেমে আসে ঘোর অন্ধকার।

    ajkerograbani.com

    দিনটি ছিল শুক্রবার। রাত সাড়ে আটটার দিকে হঠাৎ করেই গুলশান-২ এর হলি আর্টিজান বেকারি নামের স্প্যানিশ রেস্টুরেন্টে ঢুকে পড়ে অস্ত্রধারী ৫ যুবক। তারা রেস্টুরেন্টের সবাইকে জিম্মি ঘোষণা করে। খবর পেয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা অভিযান শুরু করে। রাত সাড়ে ১০টার দিকে সেখানে বড় ধরনের বিস্ফোরণ ও গোলাগুলির শব্দ পাওয়া যায়।

    তাৎক্ষণিক এই অভিযানে পুলিশের গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) সহকারী কমিশনার রবিউল ইসলাম ও বনানী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সালাউদ্দিন নিহত এবং ৫০ জনেরও বেশি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য আহত হন।

    এরপরের ঘটনা পুরোটাই রক্তাক্ত, জঙ্গিরা একে একে ২০ জিম্মিকে নিষ্ঠুরভাবে জবাই করে হত্যা করে। নিহতদের মধ্যে তিনজন বাংলাদেশি, একজন ভারতীয়, ৯ ইতালীয় এবং সাতজন জাপানি নাগরিক। প্রায় ১২ ঘণ্টার ওই ‘জিম্মি সংকট’ শেষ হয় সেনাবাহিনীর কমান্ডো অভিযান ‘অপারেশন থান্ডারবোল্ট’র মাধ্যমে।

    অভিযানে পাঁচ জঙ্গি ও রেস্টুরেন্টের বাবুর্চি সাইফুল ইসলাম চৌকিদার নিহত হন। নিহত জঙ্গিরা হলেন, নিবরাস ইসলাম, মীর সামিহ মোবাশ্বের, রোহান ইবনে ইমতিয়াজ, খায়রুল ইসলাম পায়েল ও শফিকুল ইসলাম উজ্জল ওরফে বিকাশ।

    পরে আক্রান্ত হোটেল থেকে উদ্ধার করা হয় হাসনাত করিম, তাহমিদ খানসহ ৩২ জিম্মিকে। ঘটনার তিন দিন পর ৪ জুলাই গুলশান থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা করে পুলিশ।

    পরবর্তীতে হলি আর্টিজানে জিম্মিদশার বিভিন্ন ফাঁস হওয়া ভিডিও চিত্রে হাসনাত করিম ও তাহমিদকে রহস্যজনকভাবে চলা ফেরা করতে দেখা যায়। এ সময় জঙ্গিদের সঙ্গে তাদের বেশ ঘনিষ্টভাবে কথা বলতেও দেখা যায়। রহস্যজনক আচরণের কারণে তাদের গোয়েন্দা কার্যালয়ে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।

    তিন আগস্ট রাতে হাসনাত করিম এবং তাহমিদ হাসিব খানকে ৫৪ ধারায় গ্রেফতার করে পুলিশ। পরে তদন্তে তাহমিদের সম্পৃক্ততা না পাওয়ায় মামলা থেকে তাকে অব্যাহতি দেয়া হয়। আর হাসনাত করিমকে মূল মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়।

    ঘটনার তদন্ত করতে গিয়ে হামলার মাস্টারমাইন্ড তামিম চৌধুরী, নুরুল ইসলাম মারজান, চাকরিচ্যুত মেজর জিয়াউল হক, জোনায়েদ খানসহ বেশ কয়েকজনকে শনাক্ত করে গোয়েন্দারা। কবে হামলার পরিকল্পনা করা হয়, কারা অস্ত্র ও অর্থের যোগান দেয়, প্রযুক্তিগত সহায়তা কারা করে ‘সবকিছুরই ক্লু পায়’ পুলিশ।

    এরপর দেশব্যাপী জঙ্গিবিরোধী অভিযানে তামিম, মারজান, মেজর জাহিদ, তানভীর কাদেরীসহ ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্তত ৮ জন নিহত হন।

    জীবিত অবস্থায় গ্রেফতার করা হয় অনেককেই। তাদের মধ্যে গুলশান হামলার মামলায় গ্রেফতার করা হয় চারজনকে। যাদের কাছ থেকে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে হামলায় জড়িতদের বিষয়ে অনেক তথ্য পেয়েছে পুলিশ।

    এক বছরে গুলশান হামলার তদন্তের চিত্র
    মামলাটির তদন্ত সংস্থা কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিটের প্রধান মনিরুল ইসলাম পরিবর্তন ডটকমকে বলেন, ‘মামলাটি তদন্ত করতে গিয়ে আমরা গত এক বছরে অনেকগুলো পদক্ষেপ নিয়েছি। ওই ঘটনায় সরাসরি যারা জড়িত ছিলেন অর্থাৎ যারা হামলা করেছিলেন, তারা সবাই ঘটনাস্থলেই মারা গেছেন।’

    তিনি বলেন, ‘ওই ঘটনার পরিকল্পনা, সহযোগিতা করা বা নানাভাবে ভূমিকা রেখেছেন, এমন আটজন বিগত এক বছরের জঙ্গিবিরোধী অভিযানে নিহত হয়েছেন।’

    মনিরুল ইসলাম বলেন, ‘এ মামলায় গ্রেফতার চারজনের মধ্যে তিনজন স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। তদন্তে সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেছে এমন পাঁচজনকে খুঁজছি। তাদের মধ্যে সোহেল মাহফুজ, রাশেদ ওরফে র্যা শ ও বাশারুজ্জামান ওরফে চকলেট খুবই গুরুত্বপূর্ণ। তাদের ধরতে পারলেই তদন্তকাজ শেষ করতে পারব।’

    শিগগিরই গুলশান হামলার নির্ভুল অভিযোগপত্র
    স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল বলেছেন, ‘আমরা গুলশান হামলার তদন্ত শেষে একটি নির্ভুল অভিযোগপত্র দেব। কোনো ত্রুটি ছাড়া অভিযোগপত্র দেওয়ার ব্যবস্থা নিচ্ছি এবং আশা করছি খুব শিগগিরই অভিযোগপত্র দিতে পারব।’

    তিনি বলেন, ‘সেই দিনটি আমাদের জন্য একটা টার্নিং পয়েন্ট ছিল। আমরা বুঝতে শিখেছিলাম, এই জঙ্গিরা কী চায়, কী তাদের উদ্দেশ্য, কারা তাদের আশ্রয়-প্রশ্রয়দাতা, কারা অর্থায়ন করছে? সবই খুব সূক্ষ্মভাবে দেখেছি। সেজন্য অভিযোগপত্র দিতে একটু সময় নিচ্ছি।’

    Facebook Comments Box

    কোন এলাকার খবর দেখতে চান...

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০১১১২১৩১৪১৫১৬
    ১৭১৮১৯২০২১২২২৩
    ২৪২৫২৬২৭২৮২৯৩০
  • ফেসবুকে আজকের অগ্রবাণী


  • Notice: ob_end_flush(): failed to send buffer of zlib output compression (0) in /home/ajkerogr/public_html/wp-includes/functions.php on line 4757